দিনাজপুর কারাগারে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর ফাঁসি কার্যকর

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে

অনলাইন (১ সপ্তাহ আগে) জুন ১০, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫০ অপরাহ্ন

দিনাজপুর কারাগারে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১২ টা ০১ মিনিটে দিনাজপুর জেলা কারাগারে আব্দুল হক নামে একব্যক্তির এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ছাড়াও রংপুর ডিআইজি (প্রিজন) আলতাফ হোসেন, কারা চিকিৎসকসহ পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিকেলে আব্দুল হকের পরিবারের ১৫ সদস্য (নিকটআত্মীয়) শেষ সাক্ষাত করেন। তারা তার সাথে দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কথা বলেন এবং  খাবার খাইয়ে চলে যান। এরপর সন্ধ্যায় জেলা কারাগার মসজিদের ইমাম কারা অভ্যন্তরে গিয়ে আব্দুল হককে অজু, গোসলের পর তওবা পাঠ করান। ফাঁসি কার্যকরের পর মৃত্যু নিশ্চিত হলে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
কারা সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসি কার্যকর হওয়া আব্দুল হক রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভক্তিপুর চৌধুরীপাড়া এলাকার মৃত আছির উদ্দীনের ছেলে। আব্দুল হক ২০০২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে তার স্ত্রীকে হত্যা করে।
পরে আব্দুল হকের শাশুড়ি বাদী হয়ে ২০০২ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০৭ সালের ৩রা মে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আব্দুল হককে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে সাজা বহাল থাকায় সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেন আব্দুল হক। রাষ্ট্রপতি সবকিছু বিবেচনায় গত ১৮ই মে প্রাণভিক্ষার আবেদন না মঞ্জুর করলে ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। গতকাল ৯ই জুন দিনাজপুর জেলা কারাগারে আব্দুল হকের ফাঁসি কার্যকর করা হলো।
একটি সূত্র জানায়, দিনাজপুর জেলা কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অহিদুল ইসলাম নামে এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে জল্লাদ হিসেবে আনা হয়। দিনাজপুর জেল সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন লাল রুমাল ফেলে ফাঁসির সংকেত দেন বলে জানা যায়।
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ২৮শে আগস্ট থেকে আব্দুল হক কারাগারে বন্দি ছিলেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

সুমন

২০২১-০৬-১০ ২১:১১:০৬

যদি সঠিকভাবে প্রমানিত হয়ে যায় যে,কোন ব্যাক্তি খুনি,তাহলে তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে সবার সামনে কতল করার বিধান।আর এই বিধান দিয়েছে স্বয়ং মানুষের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ তা'লা।আল্লাহ্ তা'লা সৃষ্টকর্তা হিসেবে মানুষের প্রকৃতি বা স্বভাব সম্পর্কে পুরাপুরি অবগত।তিনি ছাড়া মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কে কেউই পুরাপুরি অবগত নয়। তিনি জানেন এভাবে প্রকাশ্যে শাস্তি দিলে,যখন মানুষ তা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করবে,এবং এই একটা শাস্তি নিজ চোখে দেখে লাখো কোটি মানুষের অন্তরে ভয় ঢুকে যাবে যে,আরে আমি যদি এই অপরাধ করি তাহলে আমাকেও তো এভাবে কতল করা হবে। অর্থাৎ প্রকাশ্যে শাস্তি না দিলে বা গোপনে শাস্তি দিলে মানুষের মনে এই রকম ভয় কখনই ধরেনা। যার কারনে সমাজ থেকে অপরাধও দূর হয়না। তো যেকোন অপরাধের কারনে রাষ্ট্র যদি আল্লাহ্ তা'লার বিধান অনুযায়ী বিচার করে,তবে সমাজ থেকে অটোমেটিক অপরাধ দূর হয়ে যাবে।আর যে যারা এভাবে শাস্তিকে মানবািকার লঙ্ঘন বা অমুলক কিছু মনে করে,তবে তারা যেন,পরোক্ষভাবে এটা বলতে চায় যে,আমি আল্লাহ তা' লার চেয়ে বেশি বুঝি( নাউযুবিল্লাহ্)।

লাজুক

২০২১-০৬-১০ ১৪:৪৮:১২

আমি মৃত্যু দন্ডের বিপক্ষে

কাজি

২০২১-০৬-০৯ ২১:৪৩:৩০

কারো মৃত্যু কাম্য নয় । কিন্তু যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হত্যা করে তার সর্বোচ্চ সাজা না হলে অপরাধ বাড়তেই থাকবে । এমনিতেই বাংলাদেশে এখন তুচ্ছ ঘটনায় খুন করা হয় ।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

ক্যাপশন নিউজ

১৮ জুন ২০২১

শনাক্তের হার ১৮.৫৯

একদিনে আরও ৫৪ জনের মৃত্যু,শনাক্ত ৩৮৮৩

১৮ জুন ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

নাসির উদ্দিনসহ গ্রেপ্তার ৩

DMCA.com Protection Status