বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য, মানতে নারাজ বিজেপি

জয়ন্ত চক্রবর্তী, কলকাতা

ভারত (১ মাস আগে) জুন ৩, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১১:২১ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৪:১৮ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ যে এখন অর্থনীতিতে ভারতকে পিছনে ফেলে দিয়েছে, তা মানতে নারাজ দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল বিজেপি। তাদের সাফ বক্তব্য, অর্থনীতিতে বাংলাদেশ এত পোক্ত হলে ভারত সীমান্তে বাংলাদেশ থেকে এত অনুপ্রবেশ ঘটতো না। ‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’ লিখেছে, কানাডা থেকে মিশিসিপিতে যেভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে বাংলাদেশ থেকেও ভারতে সেই ভাবেই অনুপ্রবেশ হচ্ছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’ লিখেছে, বিজেপি বাংলাদেশের জিডিপি নিয়ে যেভাবে সরব হয়েছিল, এবারও ব্লুমবার্গের রিপোর্ট নিয়েও তারা সরব হয়েছে। তাদের আপত্তি স্ফীত সংখ্যা নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়াও চুপ করে বসে নেই। কেউ কেউ তো ফিগারগুলিকে কাল্পনিক বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও ধর্মের দ্বারা অনুশাসিত কিছু রাজ্যের অর্থনীতির থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্বল বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি তোলা হয়েছে।

৫০ বছর আগে, ১৯৭১ সালের মার্চে দেশটির পুনর্ঘটনের জন্যে ইউনিসেফের উদ্যোগে পন্ডিত রবিশঙ্কর এবং জর্জ হ্যারিসনকে তাদের দল নিয়ে বিশ্বজুড়ে কনসার্ট করে অর্থসংগ্রহ করতে হয়েছিল।
আর আজ ২০২১ সালের জুনে সেই দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার নতুন অর্থনৈতিক তারকা। বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক রেটিং সংস্থা ব্লুমবার্গের এই মূল্যায়নে হইচই পড়ে  গেছে কলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্র পত্রিকায়। ব্লুমবার্গ জানাচ্ছে যে, দক্ষিন এশিয়ার অর্থনৈতিক জায়ান্ট ভারতের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ, পিছনে ফেলে দিয়েছে পাকিস্তানকেও। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে যে, একটি দেশের মোট জনসংখ্যা যত, সেই দেশের মোট আয়কে জনসংখ্যা  দিয়ে ভাগ করলেই সেই দেশের মাথাপিছু আয় বা পার ক্যাপিটা ইনকাম বেরিয়ে আসে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক হিসেব জানাচ্ছে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার। ভারতের মাথাপিছু আয় সেখানে ১ হাজার ৯৪০ ডলার, পাকিস্তানের ১ হাজার ৫৪৩ ডলার। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১০ বছরে নয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রেটিং সংস্থাটি জানিয়েছে। কিন্তু, কি ভাবে বাংলাদেশের এই উন্নতি?  ব্লুমবার্গ সেটিও জানিয়েছে। তারা বলেছে, রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি। সামাজিক অগ্রগতি এবং আর্থিক সংযম বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ম্যাজিকের মত  কাজ করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় বিত্তে তাদের থেকে ৭০ শতাংশ এগিয়েছিল পাকিস্তান। এখন বাংলাদেশ পাকিস্তানের থেকে ৪৫ শতাংশ বিত্তবান। ২০১১ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বিশ্বের রপ্তানি যেখানে ০.৪ শতাংশ, বাংলাদেশের রপ্তানি সেখানে ৮.৪ শতাংশ। পোশাক রপ্তানি এ ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। শ্রমিক, বিশেষ করে মহিলা শ্রমিকের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারত ও পাকিস্তানকে। ঋণ ও আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেখানে নিজেদের ৪০ শতাংশে বেঁধে রাখতে পেরেছে, ভারত বা পাকিস্তান তা পারেনি। দুটি দেশেরই ঋণ ও আয় প্রায় নব্বই শতাংশ। ঋণ ও লগ্নির ক্ষেত্রেও বিদেশী সংস্থার অংশগ্রহণে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। ব্লুমবার্গ অবশ্য এই আগ্রগমনে একটি অশনি সংকেতও দেখছে। বাংলাদেশ এতদিন পর্যন্ত মাশুল মুক্ত বাণিজ্যের সুবিধা পেত। এবার পাবে কি? নাকি তাদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আসতে হবে? বাংলাদেশ সরকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করার ব্যাপারে অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনসের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

MOHAMMED M ISLAM

২০২১-০৬-১৫ ১৬:৫১:০৮

""বাংলাদেশ যে এখন অর্থনীতিতে ভারতকে পিছনে ফেলে দিয়েছে, তা মানতে নারাজ দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল বিজেপি। তাদের সাফ বক্তব্য, অর্থনীতিতে বাংলাদেশ এত পোক্ত হলে ভারত সীমান্তে বাংলাদেশ থেকে এত অনুপ্রবেশ ঘটতো না। ‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’ লিখেছে, কানাডা থেকে মিশিসিপিতে যেভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে বাংলাদেশ থেকেও ভারতে সেই ভাবেই অনুপ্রবেশ হচ্ছে।"" ছাগলে কি না খায়, পাগলে কি না বলে? ১০ লক্ষ বা তার চেয়ে বেশী ভারতীয় কাংগাল বাংলাদেশে কাজ করে পরিবার চালায়। অনুপ্রবেশ?? বাংলাদেশীরা টাকা খরচ না করলে তোদের শপিংমল, হাসপাতাল, হোটেল, রেস্টুরেন্ট গুলো ভাতে মরে। চিকিৎসা নেই শ্মশানে জয়াগা নেই। নদীতে লাশ ভাসে। হাসপাতালে বেড নেই, রোগীরা পথে ঘাটে মরে।

লেনিন

২০২১-০৬-০৯ ১১:২৩:৫৪

আহ্হারে ভারত, চিকিৎসা নেই শ্মশানে জয়াগা নেই। নদীতে লাশ ভাসে। হাসপাতালে বেড নেই, রোগীরা পথে ঘাটে মরে। ঠিকমত টয়লেট নেই, দুনিয়ার অন্যতম বেশী গরীব মানুষ এখানে বসত্ করে। ক্ষুধার রাজ্যে এখানে পৃথিবী গদ্যময়, পুর্নিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি মনে হয়। তবুও।,এদেশের রাজা নিজেদের অক্ষ শক্তি(সুপার পাওয়ার) ভাবে,হায়্্্্

Abdur Rahim

২০২১-০৬-০৩ ০৫:০০:০৩

বাংলাদেশে কর্মরত ১০ লক্ষ্য ভারতীয়কে ফেরত নেয়া হোক।

ওবাইদুল

২০২১-০৬-০৩ ১৬:০৬:১০

বোধ-বুদ্ধিহীন ধর্মউম্মাদ ও ধর্মান্ধরা যখন ক্ষমতায় যায় তখন দেশের সব ক্ষেত্রেই ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই জুটে না । ভারতের এই ধর্মান্ধ বিজেপি সরকার তাঁদের পূর্বের সরকারের উন্নয়নের গতি নিজেদের দেখিয়ে নিজ দেশের জনগণকে ধোকা দিয়েছে বহুদিন। এখন তাঁদের ব্যার্থতার আসল চিত্র উঠে আসছে।

DIN ISLAM

২০২১-০৬-০৩ ১৫:৫১:০১

The Indian government is having a hard time

iqbal

২০২১-০৬-০৩ ১৩:৪১:৪৬

100% correct.Tks

মোস্তফা সুলতান

২০২১-০৬-০৩ ০০:২১:১০

একটি সাম্প্রদায়িক সরকার তো এটা মানতে পারবে না সেটাই স্বাভাবিক। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দৌড়ে আমরা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বহুদূর এগিয়ে গিয়েছি এটাই বাস্তবতা এটাই সত্যতা, তা কেউ মানুক আর না মানুক।

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৬-০৩ ১৩:১৮:১৪

প্রতিযোগিতায় অর্জিত উন্নয়নকে উপেক্ষা করে প্রতিবেশীর প্রতি শ্লেষাত্বক মন্তব্যে বিদ্বেষকে উসকে দেয়া একটা রাজনৈতিক দলের দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কি হতে পারে?

Kazi

২০২১-০৬-০২ ২৩:৩১:১৮

ভারতের মন্তব্য যাই হোক বাংলাদেশের এতে কোন কিছু যায় আসে না । এখন ১৯৭১ সন নয়। ২০২১ সাল।

আপনার মতামত দিন

ভারত অন্যান্য খবর

হু-র চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

ভারত থেকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছে বিশ্বের ১২৪টি দেশে

৩০ জুলাই ২০২১



ভারত সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status