আলোচনায় বৃটিশ আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, কী আছে এ আইনে-

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) মে ১৮, ২০২১, মঙ্গলবার, ১১:০২ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৯:০৬ অপরাহ্ন

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার পর আলোচনায় এসেছে বৃটিশ আমলের বাংলাদেশের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩। ওই আইনের ৩.এ(১) ধারায় বলা হয়েছে- কোন ব্যক্তি নিষিদ্ধ এলাকার বা বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কোন এলাকাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে সরকারি কর্তৃপক্ষ অথবা সরকারের লিখিত অনুমোদন ব্যতীত অথবা সরকারি পক্ষের অনুমোদন ব্যতীত ওইসব এলাকার কোন ছবি, স্কেচ, প্লান, মডেল, নোট বা অন্য কোনো প্রকার শনাক্তরণের উপযোগী কোন কিছু তৈরি বা অঙ্কন করতে পারবেন না। এরকম কোন ছবি, স্কেচ, প্লান, মডেল, নোট বা প্রতিনিধিত্বকারী কোনো অনুরূপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে অনুমোদন পাওয়ার আগে প্রকাশ করা যাবে না। এসব ডকুমেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সাধারণভাবে বা বিশেষ নির্দেশে বিধান করতে পারবে। অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বিনষ্ট করতে পারবে। যদি কোনো ব্যক্তি এই ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহলে শাস্তি হিসেবে জেল দেয়া যাবে। এই শাস্তি তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে অথবা জরিমানা করা যেতে পারে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
এই আইনের ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি কোনো নিষিদ্ধ এলাকার কাছে গিয়ে, পরিদর্শন করে, অতিক্রম করে সান্নিধ্যে গিয়ে অথবা ভিতরে প্রবেশ করে অথবা কোনো স্কেচ, প্লান, মডেল অথবা নোট তেরি করেন, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শত্রুপক্ষের উপকারে আসবে বলে মনে হয়, ধারণা করা যায় অথবা নিশ্চিত হওয়া যায় অথবা যদি কোনো ব্যক্তি শত্রুপক্ষের ব্যবহারে আসতে পারেন, আসবেন বলে ধারণা করা যায় অথবা নিশ্চিত হওয়া যায়, এমন কোনো অফিসিয়াল গোপন কোড অথবা পাসওয়ার্ড, অথবা নোট অথবা অন্য কোনো দলিলপত্রাদি অথবা তথ্য আহরণ করেন, সংগ্রহ করেন, রেকর্ড করেন, প্রকাশ করেন অথবা কোনো ব্যক্তির কাছে পাচার করেন- তাহলে তিনি এই আইনে অপরাধী হবেন।
চৌদ্দ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান সম্বলিত এই ধারায় অভিযোগ আনয়নের জন্য অভিযুক্ত যেকোন একটি বিশেষ কার্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থীমূলক উদ্দেশ্যে করেছেন, তার প্রমাণ প্রয়োজন নাই। উক্ত বিশেষ কার্যটি তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও এই ধারায় তাকে শাস্তি প্রদান করা যাবে। যদি মামলার অবস্থা অথবা তার আচরণ অথবা তার জ্ঞান কার্যাবলী প্রমাণ করে যে, তার উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যাহত অথবা নিষিদ্ধ এলাকা সম্পর্কিত কোনো বিষয়ের কোন স্কেচ, প্লান, মডেল, আর্টিকেল, নোট, দলিল বা তথ্য অথবা কোনো গোপনীয় কোড বা পাসওয়ার্ড তৈরি, আহরণ, সংগ্রহ, রেকর্ড ও প্রকাশ করে বা আইনগত অধিকার প্রাপ্ত না হয়ে পাচার করে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

TAWHID MOLLAH

২০২১-০৫-১৮ ২০:১৮:২০

এসব ব্রিটিশ মান্দাতার আমলের আইন এখন অকার্যকর, তার পর ও সরকার নানা তালবাহানায় পুরাতন পচা আইন আবার জনগনের উপর প্রয়োগ করছে।

Borno bidyan

২০২১-০৫-১৮ ০৫:১৫:২২

ডিজিটাল মামলা তো আছেই ۔۔۔এখন দেখছি , বৃটিশ আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট তো দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য চড়ুইভাতি۔۔۔۔۔

এ কে এম মহীউদ্দীন

২০২১-০৫-১৮ ১৭:২৫:০৭

চমতকার স্বাধীনতা! ১৯২৩ সালের ব্রিটিশদের স্বার্থে তৈরি করা আইন এখনও চলে আমাদের এই স্বাধীন রাষ্ট্রে এর চেয়ে লজ্জা ও দুঃখজনক আর কী হতে পারে?

Md. Abdus Salam

২০২১-০৫-১৮ ১১:২৪:০৫

দেশ স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালে অথচ আইন চলে ১৯২৩ সালের তাও ব্রিটিশে। হায়রে দেশ প্রেমিকরে!

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৫-১৮ ১১:২০:২৩

এক জন পরলোকগত প্রধানমন্ত্রী সঞ্জিবনীবারি ভেবে নিয়মিত নিজ মূত্র ডুকু ডুকু করিতেন। ভবিষ্যতে কে জানে সে দেশের আভ্যন্তরীন চাহিদা মেটাতে গোমূত্র আমদানী করা জরুরী হয়ে পড়তে পারে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status