দূরপাল্লার যোগাযোগ বন্ধ রাখা ভালো ব্যবস্থাপনা নয়-অধ্যাপক বেনজির

মরিয়ম চম্পা

শেষের পাতা ১৮ মে ২০২১, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০১ অপরাহ্ন

এখনই নিশ্ছিদ্র নজরদারি না বাড়ালে সামনে বিপর্যয় অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ডা. বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, আমাদের নজরদারি খুব কঠোরভাবে বাড়ানো দরকার। ঈদ শেষে যারা ঢাকায় ফিরছে তারা কোথায় ফিরছে? বিশেষ করে গার্মেন্টসকর্মী ২০ থেকে ৩০ লাখ এটা বড় একটি অংশ। এক্ষেত্রে তাদের কর্মস্থল, যেখানে বসবাস করেন এসকল জায়গাতে আমাদের সর্বাত্মক নজরদারি করা দরকার। তারা কেউ অসুস্থ বা আক্রান্ত হলে তৎক্ষণাৎ তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা। যদি কোভিড পজিটিভ হয় তাহলে তাদেরকে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা। যাতে অন্যরা আক্রান্ত না হয়। তাদের সংস্পর্শে যারা আসবে তাদের নজরদারিতে রাখা।
এক্ষেত্রে নজরদারিটা হবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। যাতে হঠাৎ করে বিস্ফোরণ না ঘটে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
ঈদকে কেন্দ্র করে এক কোটি মানুষ শহর থেকে গ্রামে এবং গ্রাম থেকে শহরে আসার পরবর্তী প্রভাব উল্লেখ করে এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, এটা নির্ভর করে কতজন সংক্রমণ নিয়ে গেলেন এবং কতজন সংক্রমিত হয়ে ফিরলেন। সংক্রমণ নিয়ে গেলে তারা অন্য কারোর মধ্যে এটা ছড়াতে পারে। এখন যাওয়ার সময় তারা কতজনের মধ্যে ছড়ালেন এবং যেখানে গেলেন সেখানে গিয়ে কতজনের মধ্যে ছড়ালেন। একই ঘটনা ঘটবে যখন তারা ফিরে আসছে। আসার সময় রাস্তায় কতজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ালো এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরগুলোতে সেখানে কতটা সংক্রমণ নিয়ে এসেছে। এটার পরিসংখ্যান প্রকৃতপক্ষে কতটা সংক্রমণ বাড়বে সেটা নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, দূরপাল্লার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা একেবারেই ভালো ব্যবস্থাপনা নয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর চরম অব্যবস্থাপনার নজির তৈরি করেছে। তারা যদি এ বিষয়ে মনোযোগ দিতেন এবং ব্যবস্থা নিতেন তাহলে সাধারণ মানুষগুলো প্রথমত, সুরক্ষিত থেকে যেতেন। দ্বিতীয়ত, যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে তাদের দুর্ভোগ কমানো যেতো। নিম্নবিত্ত মানুষেরা প্রচুর টাকা খরচ করেছেন সেটা কমানো যেত। এখানে ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতা রয়েছে। প্রফেসর বেনজির বলেন, আমাদের দুই ঈদে কোটি কোটি মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে যাতায়াত করে। এই যাতায়াতগুলো যাতে আরামদায়ক, ঝুঁকিপূর্ণ, সময়ক্ষেপণ না হয় সামগ্রিকভাবে এগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তা করা দরকার আগে থেকেই। আমাদের চিন্তা করতে হবে মোট কত কোটি লোক যায়। তাদের মধ্যে বাসে, লঞ্চে, ট্রেন এবং বিমানে কতজন যাবে এবং সেখানে কোনো ঘাটতি থাকছে কিনা? থাকলে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যবস্থা যুক্ত করা। সেটাকে বরং আমাদের কর্তৃপক্ষ আয়োজন করেই পাঠাতে পারেন। এতে করে যতলোক দরকার তারা যেতে পারেন। এছাড়া ঈদের আগে ছুটিগুলো এমনভাবে বিন্যাস্ত করতে হবে যেন সবগুলো প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বন্ধ না হয়। কোনোটা দুইদিন, পাঁচদিন এবং সাতদিন আগে বন্ধ হবে। ঈদের পরেও ঠিক একইভাবে খুলবে। এ রকম যদি পুরো ব্যবস্থাটাকে একটি পরিকল্পনার আওতায় আনা যায় তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের যাতায়াতগুলোকে নির্বিঘ্ন, আনন্দদায়ক, আরামদায়ক করা যেতে পারে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ৫২৯১ কোটি টাকা

১৯ জুন ২০২১

নাম-পরিচয় গোপন রেখে অর্থ জমা রাখার জন্য ধনীদের আকর্ষণীয় গন্তব্য হলো সুইজারল্যান্ড। সুইস ব্যাংকে থাকা ...

আরও ৫৪ জনের মৃত্যু

শনাক্তের হার বাড়ছে

১৯ জুন ২০২১

দেশে একদিনে করোনার শনাক্তের হার ফের প্রায় ১৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ...

প্রার্থীরা মুখোমুখি

সিলেটে ভোটের আগেই উত্তাপ

১৮ জুন ২০২১

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে সাত ধাপ এগিয়ে ৯১তম বাংলাদেশ

১৮ জুন ২০২১

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বড় অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। গত বছরের তুলনায় এক লাফে ৭ ধাপ এগিয়ে ...

আরও ৫৩ হাজার গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে নতুন ঠিকানা

১৮ জুন ২০২১

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৫৩ হাজার ৩৪০টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর দিচ্ছে সরকার। ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের গাড়িতে হামলা

জুড়ীতে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব চরমে

প্রার্থীরা মুখোমুখি

সিলেটে ভোটের আগেই উত্তাপ

DMCA.com Protection Status