শেখ হাসিনাকে ঘিরে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ১৮ মে ২০২১, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৪ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনাকে ঘিরে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। আপন কর্ম মহিমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা, হিমাদ্রি শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক, উন্নয়নের কাণ্ডারি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন দলের নেতারা। তারা বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছেন বলে আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম। তার কারণেই মুক্তিযুদ্ধের কথা, বঙ্গবন্ধুর কথা জানতে পেরেছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। সামপ্রদায়িক ধারা থেকে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ধারা ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনা নিরলস সংগ্রাম করে আসছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। বিশ্বে বাংলাদেশ এক মডেল রাষ্ট্র।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি ভার্চ্যুয়ালি আলোচনা সভায় যুক্ত হন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাদেক খান। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রান্তে বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দীন ফরাজী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচিসহ অনেকে। সভা পরিচালনা করেন মহানগর উত্তরের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো অন্ধকারের বিরুদ্ধে, দুর্যোগের বিরুদ্ধে, ঝড়ের মধ্যে, সংকটে অপ্রতিরোধ্যভাবে অকুতোভয় এগিয়ে যাওয়ার এক বিরল রাজনৈতিক নেতৃত্ব শেখ হাসিনা। সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে বঙ্গবন্ধুর রক্ত ভেজা মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন তার সুকন্যা শেখ হাসিনা। সেদিন সব রাস্তা মিছিলে মিশেছিল রাজধানী ঢাকার সঙ্গে। মিছিলে মিছিলে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল ঢাকা শহর। ঝড়-ঝঞ্ঝাপূর্ণ পরিবেশে লাখ লাখ মানুষের মিছিল সেদিন প্রতিরোধ করতে পারেনি সামরিক স্বৈরশাসক। দেশে ফিরেই তিনি দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে ছুটে বেড়ালেন সারা দেশ। কোন্দল আর কলহপূর্ণ আওয়ামী লীগকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে শৃঙ্খল মুক্ত করতে তিনি লড়েছেন আপোষহীনভাবে। শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, চার দশকে তিনি অতিক্রম করেছেন দীর্ঘ পথ। মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে জীবনের জয়গান গেয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বারবার সৃষ্টির পতাকা উড়িয়েছেন। তিনি দল ও নিজেকে অতিক্রম করে গেছেন। পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়কের নাম শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে সৎ রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। সবচেয়ে সাহসী ও মানবিক রাষ্ট্রনায়কদের নাম শেখ হাসিনা। ’৭৫ পরবর্তী রাজনীতির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা। সাত দশক বয়সী আওয়ামী লীগের চার দশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে শেখ হাসিনা আজও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। সংগ্রামী নেতা থেকে শেখ হাসিনা এক কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবেন না। তার মাথা কাজ করে পরবর্তী জেনারেশন নিয়ে। সে কারণে তিনি রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়ে রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তরিত হয়েছেন। তিনি সারা বিশ্বে আজ উন্নয়নের নেতা হিসেবে পরিচিত। করোনার মধ্যেও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আজকে করোনা অনেক কিছুই থামিয়ে দিয়েছে। জীবনের চাকাকে অচল করে দিয়েছে। কিন্তু পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম নদীর নিচে টানেল এটাও শেখ হাসিনার অবদান। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। এ সময় বিএনপি’র কঠোর সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য শুনে আজ দুঃখ লাগে। ১২ বছর ধরে আপনারা আইনি লড়াইয়ে রাজপথের লড়াইয়ে, নির্বাচনের লড়াই সহ সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। নেত্রীর মুক্তির জন্য এই ঢাকা সিটিতে আপনারা কার্যকর একটি বিক্ষোভ করতে পারেননি। সেই অবস্থায় মানবিকতা আছে বলেই শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা স্থগিত করে মুক্তি দিয়েছেন। এই মানবিকতার প্রশংসা আপনারা করেননি। অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেদিন ফিরে এসেছিলেন বলেই এই করোনা সংকটেও বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের অগ্রনায়ক শেখ হাসিনা। তাকে ঘিরে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এই দিনটি বাঙালি জাতি তথা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুসারী ও  স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি আপামর জনতার জন্য একটি বিশেষ দিন। কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি যদি না আসতো তাহলে বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবের নাম এদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হতো। স্বাধীনতাবিরোধী চিহ্নিত রাজাকার, আলবদর ও ধর্মীয় উগ্রবাদীরা জাতীয় পতাকা গাড়িতে উড়িয়ে ঘুরে বেড়াতো। বিদেশে অবস্থান করার কারণে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বেঁচে থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নানক বলেন, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাত্র ২৭ বছর ১০ মাস ১৭ দিন বয়সে পিতা-মাতা, ভ্রাতৃবধূ, একমাত্র চাচাসহ পরিবারের ১৭ জন আপনজনকে হারিয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে প্রবাসে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে থাকেন। তিনি নীরবে মাতৃভূমির রাজনৈতিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে জগদ্দল পাথরের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় চেপে বসা সামরিক স্বৈরশাসকদের মামলা-হামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নে দিশাহারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে থাকে নানা গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে বিভক্ত নেতৃত্ব, নেতৃত্বশূন্য দলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতার অশুভ কার্যক্রম। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজও মুখোমুখি এক অদৃশ্য ঝড়ের। নানান সূচকে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, সতিকারের সোনার বাংলা হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই বৈশ্বিক মহামারির বাধা এসে হাজির। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এখন পুরো জাতি। এর মধ্যেও থেমে নেই এর করালগ্রাস থেকে উত্তরণের চেষ্টা। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের সেই নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা, সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। আর এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে যার নেতৃত্বে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। প্রসঙ্গত পঁচাত্তরের মর্মান্তিক ঘটনায় দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের এই দিনে স্বদেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পর থেকে শেখ হাসিনা টানা ৪০ বছর ধরে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন এ দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়া প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে। সেইসঙ্গে তার যোগ্য নেতৃত্বে চার চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে দলটি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনাকে এ দীর্ঘ সময় দলের প্রধানের দায়িত্বে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কারাবরণ, জীবনের ঝুঁকি, এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া ছাড়াও অনেক চড়াই-উৎরাই, ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন। তার সফল নেতৃত্বের কারণেই আওয়ামী লীগ চার চারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছেন এবং বর্তমানেও ক্ষমতাসীন।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ৫২৯১ কোটি টাকা

১৯ জুন ২০২১

নাম-পরিচয় গোপন রেখে অর্থ জমা রাখার জন্য ধনীদের আকর্ষণীয় গন্তব্য হলো সুইজারল্যান্ড। সুইস ব্যাংকে থাকা ...

আরও ৫৪ জনের মৃত্যু

শনাক্তের হার বাড়ছে

১৯ জুন ২০২১

দেশে একদিনে করোনার শনাক্তের হার ফের প্রায় ১৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ...

প্রার্থীরা মুখোমুখি

সিলেটে ভোটের আগেই উত্তাপ

১৮ জুন ২০২১

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে সাত ধাপ এগিয়ে ৯১তম বাংলাদেশ

১৮ জুন ২০২১

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বড় অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। গত বছরের তুলনায় এক লাফে ৭ ধাপ এগিয়ে ...

আরও ৫৩ হাজার গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে নতুন ঠিকানা

১৮ জুন ২০২১

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৫৩ হাজার ৩৪০টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর দিচ্ছে সরকার। ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের গাড়িতে হামলা

জুড়ীতে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব চরমে

প্রার্থীরা মুখোমুখি

সিলেটে ভোটের আগেই উত্তাপ

DMCA.com Protection Status