‘মানুষ খেতে পায় না, অথচ তাদের ঘরে বসে থাকতে বলছে সরকার’

স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও থেকে

অনলাইন (১ মাস আগে) মে ১৭, ২০২১, সোমবার, ২:২২ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার নামে মাত্র লকডাউন দিয়েছে। কিন্তু এর আড়ালে তারা ক্র্যাকডাউন দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ খেতে পায় না, অথচ তাকে আপনারা ঘরের মধ্যে বসে থাকতে বলছেন। বসে থাকবে আগে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিন। আমরা সরকারকে তাদেরকে এককালীন ৩ মাসে ১৫ হাজার করে টাকা দেয়ার প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম। আপনারা জানেন বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। আর বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ কোটি মানুষ কর্মহীন।
এই ৬ কোটি মানুষের জন্য কিন্তু প্রণোদনা দেয়নি সরকার। প্রণোদনা গেছে গার্মেন্ট, ইন্ডাস্ট্রির মালিকদের জন্য। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। তারা ৭৭ শতাংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এই কথাগুলো সরকারকে বলে কোন লাভ হয় না। সরকারের নীতি নির্ধারকেরা বলছেন, সরকারের নির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই। পরিকল্পনা বিহীন সাধারণ মানুষজন লকডাউন মানবে কিভাবে।  

সোমবার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ২৬ শে মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সরকার নিজেরাই বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে সেটি বিরোধিদের উপর চাপাচ্ছে। বিরোধীদের উপরে মামলা দিয়ে গণগ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ঈদের মধ্যেও জামিন দেয়া হয়নি।

মির্জা আলমগীর বলেন, ঈদের জন্য সরকার মাত্র ৩ দিন ছুটি ঘোষণা করেছে। কিন্তু মানুষ তো থেমে নেই। দুর্ভোগের মধ্যে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে তারা বাড়িতে রাওনা হয়েছে ও ছুটি শেষে তাড়াহুড়ো করে ঢাকায় ফিরছে। যাদের নিজেদের গাড়ি আছে তাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে সাধারণ জনগণ। আমরা সরকারকে অনেক আগে থেকেই বলে আসছি করোনা মোকাবেলায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। এখানে সরকারের চরম ব্যর্থতা, উদাসীনতা শুধু বলবো না এটা হচ্ছে তাদের অজ্ঞানতা এবং সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। তাদের ব্যর্থতার কারণেই আজকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

 মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, কোনো আইনগত বাঁধা না থাকা সত্ত্বেও গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে দিচ্ছে না সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহ-সভাপতি মামুন উর রশীদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদসহ নেতাকর্মীরা

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Abbas Uddin

২০২১-০৫-১৭ ২২:৩৬:৫৯

@কাজি সাহেব, আপনি হয়তো মাইকিং-এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন নাই। করনায় মোবাইলে ভয়েস ম্যাসেজ-এর আবেদন আর মাইকিং-এর আবেদন এক নয় (ধরে নিতে পারেন আকাশ-পাতাল পার্থক্য)। যদি আপনার ধারনাই সত্য হতো তবে এত সতর্কতার পরও ঈদের আগে ও পরে অজ্ঞ মানুষের হুড়ো-হুড়ির এই আচরন আমাদেরকে দেখতে হত না।

কাজি

২০২১-০৫-১৭ ০৪:০৪:৩৬

যারা টিকার বিরোধিতা করে তারা করোনা ভাইরাস কতটুকু সার্থকভাবে মোকাবিলা করতো তা বোধগম্য। প্রথম দিকে সরকার সব যোগান দিতে অপ্রস্তুত থাকায় অপারগ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সব প্রস্তুতি নিয়ে সঠিক ভাবে মোকাবিলা করছে আমরা প্রবাসে বসে দেখতে পাচ্ছি পত্রিকায় খবর পড়ে। যারা টিকার বিরোধীতা করে জনগণকে টিকা নিতে নিরুৎসাহিত করে তারা করোনায় মানুষ মরুক, সরকার বেকায়দায় পড়ুক এই স্বপ্ন দেখে। মানুষ মরলে তাদের দুঃখ নেই। সরকার বেকায়দায় পড়বে এটা তাদের জন্য আনন্দ দায়ক। Md. Abbas Uddin মাইকিং এর যোগ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রত্যেকের হাতে স্মার্ট মোবাইল ফোন। গৃহকর্মী মহিলাদের হাতেও। তাই ফোনে বিধি ঘোষণা যথেষ্ট।

এস এম ফরিদ আহমেদ

২০২১-০৫-১৭ ০২:৩৬:১৮

জনাব ফকরুল সাহেব সমালোচনা করাতো খুবই সহজ কাজ। এ-ই করোনা কালে কিছুইকি করার ছিলনা আপনাদের জনগনের জন্য? শুধুই তো বকবগ করছেন জনগন তোদেখছে আপনারা জনগনের জন্য কি করছেন?

ক্ষুদিরাম

২০২১-০৫-১৭ ১৪:৪৬:১০

সেই সত্য কহনই যদি কহিবার সামর্থ্য রাখেন তাহলে দেরিতে কেন ? কেন এতোদিনে ইহা উপলব্ধি হইলো না ? মানুষ মরছে না খেয়ে তাতে সরকারের কি ? সরকার আছে হেফাজত আর জামাত নিয়ে ! রাস্ট্র ধ্বংস হইলেও কি এই অবৈধ সরকারের কিছু যায় আসে ?! তবে যেভাবে ক্ষুধার্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়িতেছে তাহাতে জনগন খাদ্য হিসাবে এই সরকারকেই বেছে নিবে, কোন সন্দেহ নাই !! সাধু সাবধানে ফেলিও পা, নচেৎ কেও ভূগেনি আগে তেমনি ভুগিবে তুমি !!

Babul Chowdhury Hm

২০২১-০৫-১৭ ০১:৪৪:৩৯

শুধুমাত্র বিরোধিতার জন্য বিরোধীদলীয় রাজনীতিকে জনগন এখন আগের মতো গ্রহন করতে রাজী নয় যেহেতু সরকারের বৃহত্তর জনসুরক্ষামূলক পদক্ষেপকেও সমর্থনের বদলে সমালোচনার মাধ্যমে বিরোধীতা করা একমাত্র বাংলাদেশেই দেখা যায়, যেখানে লকডাউনের মাধ্যমে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে তাই ঘটনার নিরিখে বাংলাদেশেও ইহা অতীব প্রযোজ্য, ভালোকিছু পাওয়ার জন্য কিছু ত্যাগ স্বীকারও করতে হয় তাই বিরোধীদলকে জনকল্যানমূলক কাজে সরকারী পদক্ষেপকে সমর্থন জনবিরোধী কাজের বিরোধিতা করা উচিত।

Md. Abbas Uddin

২০২১-০৫-১৭ ১৪:৩৫:০০

সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্দে আপনার বলতে থাকেন, তাতে জনগনের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সচেতন জনগনের সমস্যা তখনই হচ্ছে যখন দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের এই বিপদের সময়ে আপনারা স্বাস্থ্যবিধি বিশেষ করে মাস্ক পরার ব্যাপারে জনগনের উদ্দেশ্যে কিছুই বলছেন না। আর সরকারতো মাইকিং করে করনায় স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে অনেকে আগে থেকেই চরমভাবেই ব্যর্থ হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



কদমতলীতে পিতা-মাতা ও বোনকে হত্যা

মেহজাবিন ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

DMCA.com Protection Status