করোনার বিরুদ্ধে গোবর-গোমূত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কতা চিকিৎসকদের

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) মে ১১, ২০২১, মঙ্গলবার, ১১:০১ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪৩ অপরাহ্ন

গোশালায় লাইন। গোবর আর গোমূত্রের জন্য অপেক্ষা। এসব হাতে এলে তা একসঙ্গে মিশ্রিত করে পুরো গায়ে লেপন করে তা শুকানো হয়। এরপর গরুর কাছে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। গরুকে সম্মান করা হয়। তারপর দুধ দিয়ে পুরো শরীর গোসল করার মতো পরিষ্কার করা হয়। ভারতের কিছু হিন্দুর মধ্যে এমন রীতি প্রচলিত। তারা বিশ্বাস করেন, গোবর, গোমূত্র করোনা সারায়।
তাদের এমন বিশ্বাস বা ধারণার বিরুদ্ধে সতর্কতা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, গোবর ও গোমূত্র কোভিড-১৯ সারায় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ নেই। এর কার্যকারিতা সম্পর্কেও কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। উল্টো এর ফলে অন্যান্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। উল্লেখ্য, করোনা মহামারি ভারতকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এ যাবত সেখানে কমপক্ষে ২ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন দুই লাখ ৪৬ হাজার ১১৬ জন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে এসব সংখ্যা ৫ থেকে ১০ গুন বেশি। কারণ, সারাদেশে আক্রান্ত ব্যক্তিরা, তাদের স্বজনরা হাসপাতালে একটি বেড, অক্সিজেন, ওষুধের জন্য লড়াই করছেন। অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। এসব খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।


ওদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটে অনেকে বিশ্বাস করছেন গোবর বা গোমূত্র করোনা ভাইরাস সারায়। তাই অনেকেই গরু রাখার স্থান বা গোয়ালঘরে সপ্তাহে কমপক্ষে একবার ঢুঁ মারছেন। তারা সারা গায়ে গোবর ও গোমূত্র লেপন করছেন। তাদের বিশ্বাস এতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তাদেরকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রেহাই দেবে। এমন বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে রয়টার্স। তাতে দেখা যায় কেউ গোয়ালঘরে গিয়ে সারাগায়ে গোবর লেপন করেছেন। এরপর গরুর কাছে গিয়ে প্রার্থনা করছেন যেন তারা নিরাপদে থাকেন। দলবদ্ধভাবে লাইন দিয়ে বসে গেছেন একদল মানুষ। তাদের সামনে বালতিতে গোবর রাখা। তা তারা পুরো গায়ে লেপন করছেন। তারপর তারা দু’হাত তুলে প্রার্থনা করছেন।

হিন্দুদের কাছে গরু হলো জীবন এবং পৃথিবীতে একটি পবিত্র প্রতীক। তাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাড়ি পরিষ্কার করার কাজে এবং প্রার্থনার আনুষ্ঠানিকতায় হিন্দুরা গোবর ব্যবহার করে আসছেন। তাদের ধারণা, এতে ওষুধি গুন আছে। এন্টিসেপটিক ক্ষমতা আছে। ভারতে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির এসোসিয়েট ম্যানেজার গৌতম মনিলাল বরিসা বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি এই গোবর লেপন বা গোমূত্রের ব্যবহার করছেন চিকিৎসরা পর্যন্ত। তাদের বিশ্বাস এই থেরাপি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে। একবার গোবর, গোমূত্র গায়ে মাখলে তাদের আর কোনো ভয় থাকে না। তারা নিরাপদ হয়ে যান। গত বছর করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন মনিলাল বরিসা। তিনি বলেছেন, এই রীতি অনুসরণ করে কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়েছেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত শ্রীস্বামীনারায়ণ গুরুকুল বিশ্ববিদ্যা প্রতিষ্ঠানম-এ যান। এটি পরিচালনা করেন হিন্দু পুরোহিতরা। ভারতে নিজেদের মতো টিকা উৎপাদনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জিডাস ক্যাডিলা নামের প্রতিষ্ঠান। এর ঠিক বিপরীতে অবস্থিত শ্রীস্বামীনারায়ণ গুরুকুল বিশ্ববিদ্যা প্রতিষ্ঠানম। সেখানে যেসব মানুষ গোবর, গোমূত্র ব্যবহারের জন্য যান তারা অপেক্ষা করেন। এক সময় গরু গোবর দেয়, গোমূত্র ত্যাগ করে। এই দুটি উপাদান মিশ্রিত করে তারা শরীরে মাখেন। তারপর তা শুকাতে দেন। এক পর্যায়ে সেখানে থাকা গরুগুলোকে আলিঙ্গন করেন অথবা গরুর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। শেষ পর্বে তাদের গায়ের এই মিশ্রণ দুধ বা বাটারমিল্প দিয়ে ধুয়ে ফেলেন।

কিন্তু ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীরা বার বার সতর্ক করেছেন এই রীতি চর্চার বিরুদ্ধে। তারা বলেছেন, গোবর-গোমূত্র নিরাপত্তা বাড়ায় এমন ধারণা ভুল। উল্টো এতে স্বাস্থ্যগত সমস্যা জটিল থেকে জটিল হতে থাকে। ইন্ডিয়ান মেডিকেল এসোসিয়েশনের ড. জেএ জয়লাল বলেন, গোবর ও গোমূত্র যে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এমন কোনো সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ নেই। যা করা হচ্ছে তা একান্তই ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকে। এর ফলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। পশুর দেহ থেকে নানা রকম রোগের বিস্তার ঘটতে পারে মানবশরীরে। আহমেদাবাদে আরেকটি গোশালার ইনচার্জ মধুচরণ দাস বলেন, এই চর্চায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত হয়ে আসছে।  

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Nizam

২০২১-০৫-১২ ০০:৫৭:২২

প্রথমে দেখে ভাবছিলাম ওরা মানুষ - কিন্তু বাস্তবে দেখি ওরা নিজেরাই গরু, ভারতীয় মানুষ রুপি এই গরুদের এই ভাবে অধপতনের এক মাত্র কারণ হচ্ছে কু-শিক্ষা...

Masud

২০২১-০৫-১১ ১৫:৪৯:৪১

পৃথিবী যতটা সভ্যতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ভারত ঠিক উলটো রথে অন্ধকারের পথে পা বাড়াচ্ছে।

রঙ্গন

২০২১-০৫-১১ ০২:২৫:০৫

যাদের ধর্ম টা পানির মত টলমল করে তারা যেকোন কিছু তে ই বিশ্বাশি

আহাদ

২০২১-০৫-১১ ১৪:১৯:৫৩

ভারত কতটুকু সভ্যদেশ আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

MOHAMMAD PARVEZ KHAN

২০২১-০৫-১১ ১২:৩৮:৫৬

ভারত যে কুসংস্কারাচ্ছন্ন দেশ এটা তারই প্রমান।

আনিস উল হক

২০২১-০৫-১০ ২৩:২১:৫৯

আমরা হয়ত ভুলে গেছি ভারতের পুর্বতন এক প্রধানমন্ত্রী মোরাজি দেশাই সাস্থ্য রক্ষায় স্ব-মূত্র সেবন করতেন। এখন মোদীজি ও আদিত্যনাথ যোগীজি শরীরে গোময় লেপন করে হাতে গ্লাস ভরা গোমূত্র নিয়ে করোনার মকরধ্বজ হিসাবে ভারতীয় গোময় ও গোমূত্রের আন্তর্জাতিক প্রচারণার জন্য মিডিয়ার সামনে এসে এ দুটো মহা পবিত্র জৈব ঔষধের আন্তর্জাতিক বাজার তৈরী করতে পারতেন !

Ashraf Chowdhury

২০২১-০৫-১০ ২৩:০৫:৪৭

আজ থেকে ৫০০০ বছর আগে ও মানুষ এত গন্ডমুর্খ ছিলনা।মানুষ যখন পাথরে পাথরে ঘষে আগুন জালাত,পশু শিকার করত,আরো পরে যখন পশু পাখি পোষ মানাত,পাথর পুজা,গাছ পুজা,সু্য্য,চন্দ্র পুজা করত কিম্বা অসভ্য সমাজে ও গরুর গোবর ব্যাবহারের ইতিহাস নাই।এই গন্ড মুর্খরা হিন্দুত্ত ও হিন্দু ধর্মকে হাস্যকর করে তুলেছে।এই গরুর গোবরে সকল জীবানু আছে।আরো চিনাদের মত মানব জাতির জন্য আরো নতুন অভিশাফ ডেকে আনবে।

MD.ABDUL BAREK

২০২১-০৫-১১ ১২:০০:৫৫

যতই বলা হোক এরা মানুষ হবেনা। এটা ভারতের লজ্জা

shah Alam pramanik

২০২১-০৫-১১ ১১:৩৩:৫৬

গোবর ও গোমূত্র খাদকরা মূর্খ। এটা ভারতের লজ্জা!!!!

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৫-১১ ১১:২৯:২২

অবাক লাগে এই দেখ যে এরা কুসংস্কার ও কুপ্রথাকে বিশ্বাস বলছে। এদের কাছে ধর্মিয় রাজনীতির উন্মাদনা কত ভয়ংকর হয়ে সংখ্যালঘু ধর্মিয় সম্প্রদায়ের উপর পড়তে পরে তা ভাবলেও শিহরিত হতে হয়। সুশিক্ষা এখানে "হুনজ দূর আস্ত"।

কাজি

২০২১-০৫-১০ ২২:২৪:৫২

মরার পথ অন্ধকার। মানুষ উল্টো পথে হাটে।

জামশেদ পাটোয়ারী

২০২১-০৫-১১ ১১:১৮:০১

বিভিন্ন ফলমূল শাকসব্জি বা বিভিন্ন খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেই হিসাবে তাদের বিশ্বাস মতে এবং যুক্তিমতে গোবর এবং গোমূত্রের মিশ্রণ খেলে বুঝতাম তাদের মতে সঠিক পথে আছে। তার তারা করছে না। তারা তা শুধু শরীরে মাখছে। আমার মনে হয় তারা শরীরে না মেখে এক চামচ মূত্র, এক চামচ গোবরের মিশ্রণ খেয়ে দেখতে পারে। যাতে করে এই আপদকুল তারাতারি দুনিয়ে থেকে বিদায় হয়। পশু এবং মানবকুল শরীর থেকে যা ত্যাগ করে তা বর্জ্য ছাড়া কিছুই নয়, তা থেকে উপকার পাবার মত কোন উপদান সেখানে অবশিষ্ট থাকেনা। সুতরাং তা শতভাগ বর্জনীয়। যারা এসব করে তারা ভয়ানক কুসংস্কার আচ্ছন্ন বিকৃত রুচির মানুষ।

ক্ষুদিরাম

২০২১-০৫-১১ ১১:১৬:২৩

একেতো ভারতীয় তারপরে হিন্দু !! যতই বলা হোক এরা মানুষ হবেনা।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status