বীভৎস! মর্মান্তিক! নদীতে ভেসে এলো ৪০/৪৫ লাশ (ভিডিও)

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) মে ১০, ২০২১, সোমবার, ৮:০১ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১২ অপরাহ্ন

বীভৎস এক দৃশ্য। গঙ্গার পানিতে ভেসে এসেছে গলিত, অর্ধগলিত, পচনধরা লাশ। তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। লাশের কাছে পানিতে নেমে গেছে কুকুর। স্থানীয়রা সোমবার সকালে এ দৃশ্য দেখে শিউরে উঠলেন। এ কি দেখছেন তারা! একটা দু’টা নয়। ৪০ থেকে ৪৫টি লাশ! কেউ কেউ বলছেন, লাশের সংখ্যা ১০০ হবে। এত্ত লাশ কোথা থেকে এলো গঙ্গায়! কিছুতেই নিজেদের  বিশ্বাস করতে পারছিলেন না বিহারের বাক্সার এলাকার মানুষজন।
তারা কানাঘুষা করতে লাগলেন। চোখ বড় বড় করে তাকান এ-ওর দিকে। এমনিতেই করোনা মহামারিতে চারদিকে মৃত্যু আর্তনাদ, তার ওপর এতগুলো লাশ ভেসে এসেছে একসঙ্গে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তারা। এ ঘটনা ভারতের উত্তর প্রদেশের বিহার সীমান্ত এলাকার। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় লাশ পানি থেকে তুলে তীরে নিয়ে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। অনলাইন এনডিটিভি এ খবর দিয়ে জানিয়েছে, ভারতে করোনা মহামারি কি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তার আরেকটি চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে এই ঘটনা। এসব মানুষ করোনায় মারা গিয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসন মনে করছে মৃত এসব মানুষের আত্মীয়রা হয়তো লাশ দাহ করার বা কবরস্তানে দাফনের কোনো ফাঁকা স্থান পাননি। তাই তারা এসব লাশ গঙ্গার পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। সেই লাশ ভেসে এসেছে উজানের উত্তর প্রদেশ থেকে। এতে আরো বলা হয়েছে, সোমবার সকালে বিহারের চৌসা শহরের পাশে গঙ্গা নদীতে এসব লাশ ভাসতে দেখা যায়। হরর মুভি বা ভৌতিক সিনেমার মতো এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাস্থল চৌসা’র মহাদেব ঘাটে। সেখানে তীরে দাঁড়িয়ে চৌসা জেলা কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, আমরা ৪০ থেকে ৪৫ টি লাশ ভেসে আসতে দেখেছি। তার মতে, এসব দেহ পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, এমন লাশের সংখ্যা হতে পারে ১০০ পর্যন্ত। আরেকজন কর্মকর্তা কে কে উপাধ্যায় বলেছেন, লাশগুলো ফুলে উঠেছিল। সম্ভবত এগুলো কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ দিন আগে পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা এখন এসব মৃতদেহের সৎকারের ব্যবস্থা করছি। কোথা থেকে এই লাশগুলো এসেছে আমাদেরকে তা তদন্ত করে বের করতে হবে। আমাদেরকে বের করতে হবে উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ অথবা বারানসি না এলাহাবাদ থেকে এসব লাশ এসেছে। তবে এ লাশগুলো এখানকার নয়।

ওদিকে এসব দেহ থেকে এলাকায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আতঙ্কে রয়েছেন ওই শহর ও আশপাশের মানুষজন। তারা মনে করছেন গঙ্গার পানিতেও এই দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। মৃতদেহগুলোর পাশে পানিতেই কুকুর দেখা গেছে বিচরণ করতে। এসব মিলেই আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। নরেন্দ্র কুমার নামে এক গ্রামবাসী বলেছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে মানুষজন ভীতশঙ্কিত। এসব মৃতদেহ আমাদেরকে মাটিচাপা দিতে হবে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন একজন জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, এই দেহগুলো পানি থেকে তুলে সৎকার করতে তিনি ৫০০ রুপি দেবেন। কিন্তু দেহগুলো কোথাকার তা নিয়ে উত্তর প্রদেশ এবং বিহারের মধ্যে ব্লেমগেম চলছে। ওদিকে শনিবার আংশিক মারাত্মকভাবে পোড়া কিছু মৃতদেহ ভাসতে দেখা গেছে হামিরপুর শহরে যমুনা নদীতে। ভারতের বিরোধী কংগ্রেস দল অভিযোগ করেছে, করোনায় যে পরিমাণ মানুষ মারা যাচ্ছেন তার সংখ্যাকে গোপন করছে সরকার। এসব মৃতদেহ তারই প্রমাণ। উল্লেখ্য, গত তিন সপ্তাহে ভারতে রেকর্ড পরিমাণ মানুষ করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু বরণ করেছেন। গত সপ্তাহে সেখানে মারা গেছেন দিনে ৪ হাজারের ওপরে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Anwarul azam

২০২১-০৫-১০ ১৬:১৪:৩১

সত্যিই অনেক পীড়াদায়ক।। খোদা তাদের এ বিপদ থেকে মুক্ত করে দাও। আমিন।

Professor Dr.Mohamme

২০২১-০৫-১০ ২৩:৪০:২৭

হিন্দি কবি সূর্য কান্ত ত্রিপাথি যার ছদ্ম নাম নিরালা, তার লেখা থেকে জানা যায় ১৯১৮ সালে এত মানুষ যে স্পানিশ ফ্লুতে মারা গিয়েছিল, গঙ্গায় মানুষের লাশ ধারনের জায়গা ছিল না । নিরালা তার পরিবারের অনেক সদস্যকে হারান কিন্ত তাদের লাশ পোরানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যায় নি । তা ছাড়া শে সময়ে, অনাবৃষ্টির জন্য দুর্ভিক্ষ দেখা গিয়েছিল যে ব্যাপারে পুর প্রশাশন উদাসিন ছিল । নিরব দুর্ভিক্ষ মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করাতে ভারতের জনসংখ্যার ২৫% মানুষ মারা গিয়েছিল । কিন্তু , অত্তান্ত পরিতাপের বিষয় , জলে , স্থলে , অন্তরীক্ষে বিচরণ কারি শক্তিশালী ভারতীয়রা গত ১০০ বছরেও তাদের স্বাস্থ্য বাবস্থার যে কোন উন্নয়ন করতে পারেনি গঙ্গায় শবদেহের গাঁদা দেখে তাই মনে হয়। আমি জানিনা, আমরা প্রতিবেশীর এই মারাত্মক বিপর্যয় থেকে রেহাই পাব কি না? আবার শারতাবনেশি মহলের মহামারীতে দাঙ্গা বাধিয়ে মেরে ফেলচে না তো? ১৯৯২ সালে বাব্রি মসজিদ ধ্বংসের কারনে সৃষ্ট দাঙ্গায় বহু মুশল্মাঙ্কে বম্বাইতে তাদের নিজেদের বাড়িতেই মেরে বস্তা বন্দি করে পুড়ে ফেলা হয়। ভারতীয়রা, অসহিসনু বলে তাদের দুরনাম আছে।

খোকন

২০২১-০৫-১০ ১০:১১:৩৫

এই হলো হিন্দু ধর্মের অন্ধত্বের পরিণতি। মুদি সরকার হিন্দুরতের বুলি দিয়ে গরুর প্রসাব পর্যন্ত মানুষকে পান করিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে ? এখন আবার ওই লাশ গুলো যে নদীতে ফেলা হচ্ছে, সেই নদীর পানি পান করিয়ে হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবে ? আর মুদিরা ক্ষমতায় থেকেই যাবে ? এভাবে মৌলবাদের দোহাই দিয়ে জনগনকে শেষ করার ক্ষমতা কত দিন ? জাগো জাগো হিন্দু সমাজ, কুসংস্কার থেকে মুক্ত হও ! লড়াই করো, মুক্তি চাই, মুক্তি হও, আগে বাঁচো, পড়ে ধর্ম !!

kaiyom

২০২১-০৫-১০ ২৩:০২:৫০

punishment of allah is being start now.

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৫-১০ ২১:৪৯:২৫

ভাগ্যহত এ সব শব দেহের সাথে এমন অমানবিতা ও নিষ্ঠুরতা কেবল ধর্মান্ধ সরকারের দ্বারাই সম্ভব।

রাহমান

২০২১-০৫-১০ ০৮:৩২:৪০

ধর্ম প্রেমিক নেতা না হয়ে দেশ প্রেমিক নেতা হওয়া দরকার ভারতে চা বিক্রতা মুদি

Kazi

২০২১-০৫-১০ ০৮:০৭:৩৫

বাংলাদেশীরা কি ধারণা করতে পারছেন ভারতের ভয়াবহ অবস্থা ? না কি বিশ্বাস হচ্ছে না। ঈদ করতে গিয়ে এমন অবস্থা সৃষ্টি করতেছেন লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিতে ও পারে। বর্ষায় গোরস্থানে পানি উঠলে কি হবে ?

Kazi

২০২১-০৫-১০ ০৮:০১:০৩

Narendra Modi, and majority Indian people has no common sense. If it had been impossible to bury dead body separately, the could bury all in one big grave. Throwing in the river polluted water and environment to expeditite spreading. Thus majority of Indian proved they have no common sense and they will accelerate their suicide process.

MD SELIM RAHMAN

২০২১-০৫-১০ ২০:৪৩:৩৮

মূর্খ মোদির নষ্ট ভারত!!!

Mohd. Nazrul Islam

২০২১-০৫-১০ ২০:৪১:৩৬

Where is now Noredra Modi? Where is said humanity? Where is now said human rights organizations? Where? Where? Where? No where. Every where there is Almighty Allah only.

unknown

২০২১-০৫-১০ ০৭:০৪:০৫

Narendra Modir Varot

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status