সত্যকে কখনও আড়াল করে রাখা যায় না: ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) মে ১০, ২০২১, সোমবার, ২:৪২ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অবশেষে বেগম খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট রিপোর্টে তার আসল জন্মদিনের সঠিক তথ্য প্রকাশিত হলো। তিনি আরও বলেন, একাধিক জন্মদিনের নামে জাতিকে এতোদিন বেগম জিয়া অন্ধকারে নিমজ্জিত করে রেখেছিলো, প্রকৃত অর্থে তার জন্মদিন করোনা টেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী ৮ই মে।
ওবায়দুল কাদের আজ সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ১৩টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাঝে করোনা সুরক্ষা সামগ্রী ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
দীর্ঘদিন মানুষ অসত্যের সাথে চলতে পারে না, পারে না সত্যকে লুকিয়ে রাখতে, হাতের তালু দিয়ে যেমন আকাশ ঢাকা যায় না, তমনি সত্যকেও কখনো আড়াল করে রাখা যায় না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এক নির্মম, বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ড ১৫ই আগস্ট। অথচ কতটা নিষ্ঠুর হলে এই দিনে বেগম জিয়া এতোদিন তার ভুয়া জন্মদিন পালন করে আসছিলো। ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বেগম খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন করা জাতির পিতার হত্যাকারীদের উৎসাহিত করা এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডকে উপহাস করারই শামিল বলে জনগণ মনে করেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন,  বিএনপির নেত্রী কি পারতেন না শোকাবহ ১৫ আগস্টে ভুয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠান না করতে?
বিভিন্ন সময়ে জন্মদিন পালনকারী বেগম জিয়ার জন্মদিন বিষয়ক আসল সত্য তিনি নিজেই উন্মোচন করেছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বেগম জিয়া কেক কেটে উৎসবের সাথে ভুয়া জন্মদিন পালন করতেও দেখেছে জাতি।
বেগম জিয়ার মেট্রিকুলেশন সনদ অনুযায়ী জন্মদিন ৯ই আগস্ট ১৯৪৫, বিবাহ সনদ ৫ই সেপ্টেম্বর ১৮৪৫, পাসপোর্ট সনদ ১৯শে আগস্ট ১৯৪৫, আবার দাবি করেন ১৫ই আগস্ট ১৯৪৫ তার জন্মদিন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন,  একজন মানুষের এতগুলো জন্মদিন থাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য এখন নতুন করে বেগম জিয়াই উন্মোচন করেছেন।
তিনি বলেন, অবশেষে করোনা টেস্টের জন্য দেয়া তথ্যে জানা গেল বেগম জিয়ার জন্মদিন ৮ই মে ১৯৪৬।
স্বপরিবারে জাতির পিতার হত্যা দিবসে ভুয়া জন্মদিন পালন করা কতটা নিষ্ঠুর ও বিদ্বেষ প্রসূত রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  বিএনপি নেতারা বেগম জিয়ার মুক্তি এবং চিকিৎসা নিয়ে এর আগেও রাজনীতি করেছেন এখনে করছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন আমরা তার রোগমুক্তি অবশ্যই কামনা করি, তার বয়স বিবেচনায় এবং চিকিৎসার সুবিধার্থে মানবিক নেতৃত্ব শেখ হাসিনা সাজা সাময়িক স্থগিত করেছিলেন।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি নেতারা এখনো বেগম জিয়ার চিকিৎসার চেয়ে রাজনীতিকে অধিক মনোযোগ দিচ্ছেন।
ওবায়দুল কাদের বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বলেন, তার বিদেশ যাত্রার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্য সবাই জেনেছে। তাই এ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মানুষকে  করোনায়  সচেতন হতে সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের ক্যাম্পেইন পরিচালনা করার আহবান জানিয়ে বলেন, সবাইকে  শতভাগ মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
তিনি ঈদ উৎসব যাতে অন্তিম উৎসবে পরিণত না হয় সেদিকেও সবাইকে খেয়াল রাখতে অনুরোধ করেন। দেশ বিদেশে মিডিয়ার একটি অংশ ও কোন কোন নেতা  প্রতিনিয়ত সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অন্ধ সমালোচনা করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির এবং  সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

saad ahmed

২০২১-০৫-১২ ০৬:৫৫:৫৪

Zia was directly involve killing Bongo bondhu and his Family Also corneal Ibrahim knew about that conspiracy.

Advocate Md. Abdus S

২০২১-০৫-১০ ১৬:২৩:৩৫

করোনা টেষ্টে নাকি মানুষের জন্ম তারিখও বের করা যায়। নতুন আবিষ্কার কাদের সাহেব এর।

Shahab

২০২১-০৫-১০ ০২:৫৪:৫৭

Hayre! Mr. Kader.....

Kazi

২০২১-০৫-১০ ০২:৪৫:৪৩

I trust Borno TV news

Md. Abbas Uddin

২০২১-০৫-১০ ১৫:৪৪:৪১

সরকার ব্যস্ত হেফাজত ও বিরোধীদলকে নিয়ে, করনা ব্যস্ত মানুষের জীবন সংহারে ! কঠোর লকডাউন দেয়ার পর জনগন ভুল সঙ্কেত পাচ্ছে না তো ? বিরোধী দল সহ চারিদিকে সাধারন জনগনের মুখে শুনা যাচ্ছে- "হেফাজত ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের জন্যই লকডাউন দেয়ার উদ্দেসশ্য" ! যদি তাহাই সত্য হয় তবে ভবিষ্যতে যেকোন জরূরী প্রয়োজনে সরকার কোন ঘোষনা দিলে মানুষ তাহা বিশ্বাস করতে চাইবে না এবং জনগনের মধ্যে আইন ভঙ্গ করার একটা প্রবনতা গড়ে উঠার আশংকা রয়েছে যাহা দেশের জন্য কখনো মঙ্গলজনক হবে না। লকডাউনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনগনের মধ্যে সন্দেহ থাকার যুক্তিও রয়েছে। কারন নুতন ষ্ট্রেইনের শক্তিশালী করনা মোকাবিলায় যেইরকম প্রশাসনিক কঠোরতা ও শক্তিশালী প্রচারনা থাকা উচিত ছিল তাহা দেখা যাচ্ছে না। করনার মত মহামারীর ক্ষেত্রে "মাইকিং" একটি গুরুত্বপূর্ন অস্ত্র হিসাবে কাজ করে আসলেও তাহা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না। অথচ করনায় জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য রুট লেভেল পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে সহজ ভাষায় মাইকিং করা অতীব জরূরী ছিল। করনায় স্বাস্থ্যবিধি সহ আবেগময় গান তৈরী করে প্রচার করা উচিত ছিল। করনার ক্ষেত্রে সরকারের মেধা ও অর্থ বিনিয়োগ লোকসানের নয় বরং লাভের। এতে যেমনি মানুষের জীবন রক্ষা পাবে অন্যদিকে প্রচারনার মাধ্যমে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি (বিশেষ করে ১০০% মানুষ্কে সঠিক নিয়মে মাস্ক পরিধান) মানাতে পারলে লকডাউন দিয়ে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রয়োজন হবে না।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

ক্যাপশন নিউজ

১৮ জুন ২০২১

শনাক্তের হার ১৮.৫৯

একদিনে আরও ৫৪ জনের মৃত্যু,শনাক্ত ৩৮৮৩

১৮ জুন ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

নাসির উদ্দিনসহ গ্রেপ্তার ৩

DMCA.com Protection Status