এপির রিপোর্ট

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, বাংলাদেশে উদ্বেগ, টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) মে ৯, ২০২১, রোববার, ১২:১৯ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৬:২০ অপরাহ্ন

ভারতীয় করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ এক প্রভাব পড়ছে প্রতিবেশী বাংলাদেশে। অধিক মাত্রায় সংক্রমণের বৈশিষ্ট্যযুক্ত এই ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট সবেমাত্র শনাক্ত শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে যখন করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি জোরালো করা উচিত, তখনই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অত্যাসন্ন টিকা সঙ্কটের সতর্কতা দিচ্ছেন। বার্তা সংস্থা এপির রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে। শনিবার স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভারতে উৎপত্তি এমন একটি করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশে। তবে এ বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের নমুনাগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের বিষয়টি আধিপত্য বিস্তার করে আছে। উদ্বেগের বিষয় হলো ভাইরাসের এসব ভ্যারিয়েন্ট অতি সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে।
প্রথম পর্যায়ে যেসব টিকা এসেছে তা এসব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কমই কার্যকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মার্চ এবং এপ্রিলের প্রথমদিকের তুলনায় গত দু’সপ্তাহের বেশি বাংলাদেশে সংক্রমণ তুলনামূলক কমে এসেছে। এর প্রকৃত কারণ এখনও পরিপূর্ণভাবে জানা যায়নি। তবে এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কাছে টিকাদান প্রক্রিয়াকে জোরদারের একটি প্রকৃত সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একজন বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা বলেছেন, টিকা দেয়ার উপযুক্ত সময় এখনই। এর মধ্য দিয়ে সংক্রমণকে কমিয়ে রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে যে, নতুন ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব যেন না ঘটে এখানে।

ওদিকে নিজের দেশে করোনা সঙ্কটে ভারত হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন অবস্থায় টিকা রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। জুনের মধ্যে বাংলাদেশে মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে মোট ৩ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার কথা ছিল সেরাম ইনস্টিটিউটের। কিন্তু তারা মাত্র ৭০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির পর থেকে তারা সব রকম শিপমেন্ট স্থগিত করে রেখেছে। বাংলাদেশ সরকারের ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্সের (আইইডিসিআর) বিজ্ঞানী ড. এএসএম আলমগীর বলেছেন, এ অবস্থাই আসল সমস্যা সৃষ্টি করেছে। টিকা সঙ্কটের আশঙ্কায় গত মাসে প্রথম ডোজ টিকার জন্য নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়াও বিঘ্নিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের এক ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ভারত ছাড়াও টিকা আমদানির জন্য অন্য উৎসগুলোর দিকে মরিয়া হয়ে ছুটছে সরকার। রাশিয়া এবং চীনের টিকা তৈরির প্রযুক্তি বাংলাদেশে এনে এখানে টিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। বেইজিং থেকে আগামী সপ্তাহে উপহার হিসেবে চীনা টিকার ৫ লাখ ডোজ পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চাওয়া রয়েছে। ঢাকাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়া ডিজিজ রিসার্সের (আইসিডিডিআর) বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, নতুন ভ্যারিয়েন্ট থেকে যে ঝুঁকি আসছে তা বিরাট উদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে, বিশেষ করে যখন টিকা পর্যাপ্ত নেই।

যদিও ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ, মানুষ এপাড়-ওপাড় যাওয়া আসা বন্ধ, তবু পণ্য পরিবহন কিন্তু অব্যাহত আছে। যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশে ভাইরাস শনাক্ত করার সুযোগ অনেক কম। এর অর্থ হলো, সহজেই অনেক ‘ব্লাইন্ড স্পট’ থাকতে পারে। অর্থাৎ এমন সব স্থান বা এলাকা থাকতে পারে যেখানে করোনা ভাইরাস বিদ্যমান থাকলেও কেউ তা জানে না। ড. আলমগীর বলেন, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট যে বাংলাদেশে নতুন করে করোনার ঢেউ তুলবে না, এমনটা আমরা বলতে পারি না। কারণ, ভারতের সঙ্গে আমাদের রয়েছে অনেক স্পর্শকাতর সীমান্ত। গত বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তারপর থেকে এখানে কমপক্ষে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এতে মারা গেছেন ১১ হাজার ৮৩৩ জন।

১৬ই মে পর্যন্ত দেশজুড়ে লকডাউন দেয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায় মানুষের গাদাগাদি অব্যাহত আছে। যদিও আন্তঃজেলা পরিবহন নিষিদ্ধ, তবু লাখ লাখ মানুষ তাদের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন। তাদের উদ্দেশ্য পবিত্র ইদুল ফিতরে গ্রামের বাড়ি গিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করা। ড. আলমগীর বলেন, যদি দেশজুড়ে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা রক্ষায় ব্যর্থ হই আমরা, তাহলে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, এই ভাইরাস তার প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী ছড়িয়ে পড়বে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Abbas Uddin

২০২১-০৫-০৯ ১৩:৩৮:০৭

বিশেষজ্ঞদের মতে দৌড়াতে হবে করনা আগে আগে। কিন্তু আমরা দেখছি বাংলাদেশ সরকার দৌড়াচ্ছে করনার পিছনে পিছনে। করনার ভয়ংকর ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অনেক আগেই বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। তাই এই মুহূর্তে হাসপাতাল, আইসিইউ, অক্সিজেন বৃদ্দি করে লাভা হবে না। কারন, রোগীর চাপ হাসপাতাল সহ্য করতে পারবে না। তাই- (১) হাসপাতাল, আইসিইউ, অক্সিজেন বৃদ্দি না করে সর্বাগ্রে প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্দির জন্য সারাদেশে ব্যাপক মাইকিং (২) লকডাউন না দিয়ে সর্বাগ্রে প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্দির জন্য সারাদেশে ব্যাপক মাইকিং (৩) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে জনসচেতনতা বৃদ্দির জন্য সারাদেশে ব্যাপক মাইকিং

Md. Abbas Uddin

২০২১-০৫-০৯ ১৩:২৩:২৮

করনাকে জিইয়ে রেখে আমরা পারিবারিক, সামাজিক, শিক্ষা, কর্মস্থল কোন কিছুতেই পূর্বের মত স্বাভাবিক পরিবেশ আশা করতে পারি না। তাই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় আল্লাহর রহমতে একমাত্র সঠিক নিয়মে “মাস্ক” পরিধানই পারে করনা মহামারী নিয়ন্ত্রন করতে এবং লকডাউনকে বিদায় করতে। তাই আসুন, “ সারাবছর মাস্ক পরার অভ্যেস করি, ভাইরাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি”-এই স্লোগানটিকে ধারন করি ও তাহা বাস্তবায়ন করি। জাতি হিসাবে মাস্ক পরার অভ্যেস যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি তবে শুধু বর্তমান করনাই নয়, করনার নুতন-নুতন শক্তিশালী ভার্সন এমনকি ভবিষ্যতে অজানা অন্যান্য আরও ভয়ংকর ভাইরাস থেকেও মুক্তি পেতে পারি ইনশাল্লাহ। তাছাড়া, মাস্ক পরিধানে ফুসফুসও ভাল থাকে (যাহা বিজ্ঞানীদের গভেষনায় প্রমানিত)। মাস্ক একটি বড় নিয়ামক শক্তি। যুগে-যুগে মহামারী নিয়ন্ত্রনে মাস্কের অবদান প্রমানিত হয়ে আসছে।

Md. Abbas Uddin

২০২১-০৫-০৯ ১৩:২২:১০

করনায় বাংলাদেশের এই বিপদের মুহূর্তে যাহারা মাস্ক পরবেন না তাদেরকে জাতির দুষমন হিসাবে ঘোষণা করা হউক এবং মাস্ক না পরলে তাদের থেকে বড় অংকের জরিমানা আদায় করে গরীবের জন্য ফান্ড তৈরী করা হউক।

Md. Abbas Uddin

২০২১-০৫-০৯ ১৩:১৬:২৯

করনার এই বিপদের সময় ফেরি, শপিংমল, দোকান, গনপরিবহন সর্বত্র মানুষের ঢল দেখে মনে হচ্ছে আগে মানুষের মানষিক চিকিতসার ব্যবস্থা করতে হবে।

LISA

২০২১-০৫-০৯ ১৩:১৬:১০

লকডাউনটা যথাযত কার্যকার করা হয়নি কিছু খোলা কিছু বন্ধ যার কারণে সব কেউ মানছে কারো কথা। সরকার যেমন জনগণও তেমন। সদয় এবং সুন্দর সহযোগিতা নাই। ক্ষমতা আর অর্থের জন্য সব ভুলে যায় নৈতিকতা, মূল্যবোধ নীতিকতা সব ক্ষমতার আড়ালে আখেরাত পরকালও ভুলে যায় ক্ষমতালিপ্সায়।

Shobuj Chowdhury

২০২১-০৫-০৯ ১৩:০৯:৪১

We are stronger than Corona, where are those strong people now? Even in vaccine import and distribution... there is business by these axis of evils. Every other day, some clowns find BNP connections to Corona and make no mistakes making mockery to justice and democracy in every instance.

LISA

২০২১-০৫-০৯ ১৩:০৭:০২

লকডাউনটা যথাযত কার্যকার করা হয়নি কিছু খোলা কিছু বন্ধ যার কারণে সব কেউ মানছে কারো কথা। সরকার যেমন জনগণও তেমন। সদয় এবং সুন্দর সহযোগিতা নাই। ক্ষমতা আর অর্থের জন্য সব ভুলে যায় নৈতিকতা, মূল্যবোধ নীতিকতা সব ক্ষমতার আড়ালে আখেরাত পরকালও ভুলে যায় ক্ষমতালিপ্সায়।

সোহেল

২০২১-০৫-০৮ ২৩:৩৫:২১

আমাদের সরকার কে ভারত প্রীতি বাদ দিতে হবে। টাকা যখন লাগবেই তাহলে অন্য দেশ থেকে টীকা আনার ব্যাবস্থা করলে এতদিন টিকাদান কর্মসূচী ব্যাহত হতোনা।টাকা আমার আমি কোথায় থেকে টীকা এনে আমার জনগণকে দিবো সেটা আমার ব্যাপার। ভারত কে?

আনিস উল হক

২০২১-০৫-০৮ ২৩:৩৩:২৯

সংবাদ শিরোনামের নীচে দেয়া ছবিটি তো বলে দিচ্ছে বাংলাদেশে জুন মাসে করোনার চালচিত্র কেমন হবে !

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

টিকটকের আয় কত?

১৯ জুন ২০২১



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status