মানবিক ভিসি!

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) মে ৯, ২০২১, রোববার, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৬:১৫ অপরাহ্ন

মানবিক কথাটা আজকাল খুব শোনা যায়। বিশেষ করে ফেসবুকে অনেকেই এই শব্দ ব্যবহার করছেন। ‘মানবিক বিয়ের’ পর সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের ‘মানবিক নিয়োগ’ নিয়ে। শেষ কর্মদিবসে ১৪১ জনকে নিয়োগ দিয়ে তিনি এখন রীতিমতো আলোচনার শীর্ষে।

একটা সময় ছিল শিক্ষকদের বিদায়ের দিনে পুরো প্রতিষ্ঠান থাকতো বিষণ্ন। চোখের পানিতে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতেন শিক্ষার্থীরা। দিন অবশ্য এখন অনেকটাই বদলে গেছে। রীতিমতো পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়তে হচ্ছে হেভিওয়েট শিক্ষকদের। অবশ্য গত কয়েক বছরের ভিসিদের রেকর্ড দেখলে তাতে খুব বড় কোনো চমক নেই।
কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা সম্ভবত এখন অন্যতম প্রধান আলোচিত চরিত্র। বারবার তারা শিরোনামে আসেন। ছাত্র নেতাদের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনে নাম ওঠে কারো। কেউবা বছরের পর বছর ক্যাম্পাসে না গিয়েও ভিসির দায়িত্ব পালন করেন। কেউ কেউ বলছেন, তারা ডিজিটাল পীর। তাদের কর্মক্ষেত্রে যেতে হয় না। ছাত্র রাজনীতি থেকে যেন শিক্ষক রাজনীতিতেই এখন বেশি ভুগছে ক্যাম্পাস। আহমদ ছফার গাভী বৃত্তান্ত স্মরণ করছেন বহু মানুষ।

মানবিক ভিসির কথায় ফিরে আসি। শেষ কর্মদিবসে বড় নিয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। বলেছেন,  যারা ডিজার্ভ করে তারাই নিয়োগ পেয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই অনার্স-মাস্টার্স পাস এবং আওয়ামী পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে যাচ্ছিল। তাই আমি মানবিক কারণে ছাত্রলীগকে চাকরি দিয়েছি। যদিও তার এই দাবির সঙ্গে একমত নয় খোদ ক্ষমতাসীন বিভিন্ন মহলও। এরইমধ্যে এ নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। অনেকেই বলছেন, এটি কোনো মানবিক গল্প নয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, ভিসিরা কেন বারবার বিতর্কে জড়াচ্ছেন? বিতর্কিত ভিসিদের বিরুদ্ধে সেভাবে কেন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না? পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পুরো বিষয়টিই রাজনৈতিক। ক্ষমতার নানা মহলে যাতায়াত রয়েছে তাদের। তারা নিজেরাও ক্ষমতার রাজনীতিতে যুক্ত। যে কারণে ভিসিদের নিয়ে কথা হয় অনেক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়া হয় সামান্যই।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Abdul Mannan

২০২১-০৫-১০ ১৮:১৫:০৪

আমরা এমন একসময় পার করছি যখন আমরা যা ভাবি, তা বলতে পারি না। লিখতেও পারি না। এমন অসহায় দশার মধ্যে পড়ে শুধু মনঃকষ্ট ও মনোবেদনায় ভুগতে হয়। ফলে শিকার হতে হয় মনোদৈহিক রোগের। আমার মনে বারবার শুধু একটা প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে, আর তা হল- সমাজে মানুষের নীতি-নৈতিকতায় কি পচন ধরেছে?

A K M Imtiaz Ali

২০২১-০৫-১০ ১৪:১২:১৯

শুনেছি মাছের মাথায় নাকি আগে পচন ধরে । আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সত্যিই পচন ধরেছে টপ টু বটম সকল ক্ষেত্রে এর জন্য দায়ী কে ? আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি । এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে নিজেকে নিয়ে সবসময় গর্ব বোধ করতাম অথচ আজ কেন জানি নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে । সদ্য বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান স্যারের ছাত্র ছিলাম আমি । সময়ের সাথে স্বার্থ আর ক্ষমতার লোভে মানুষে চরিত্রের এত অধপতন হতে পারে এতোদিনও এটা বুঝতে পারি নাই । আমরা অসহায় তাই ............. আমায় ক্ষমা করে দিয়েন স্যার কথাগুলো বলে আপনাকে আঘাত দেয়ার জন্যে ।

Abdul Aziz

২০২১-০৫-১০ ০৯:৫০:০২

VC but acted as idiot.

Shamsun Naher

২০২১-০৫-১০ ০৭:৫৩:২৬

সত্যি ডক্টর আবদুস সোবহান একজন মানবিক ভিসি তিনি তার নাপিত থেকে শুরু করে মাংস সরবরাহকারী, মালি এবং আরো অনেককে চাকরি দিয়ে গেছেন তার বিদায় বেলায় এমন নজির কজন স্থাপন করতে পারেন । তাই দুঃখ করে আমার কাজের বুয়া বলেছিলেন আপা আপনার বাসায় যদি কাজ না করে ভিসি স্যারের বাসায় কাজ করতাম তাহলে হয়তো আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী হতে পারতাম এর চেয়ে সম্মানের আর কি থাকতে পারে আমার কাছে । মানুষ জানত আমি বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি করি ।

ঊর্মি

২০২১-০৫-০৯ ১৯:২৮:২২

আগামী নির্বাচনে এদের অনেক্টাকে হয়তো দেখা যাবে মহান সমাজ এবং জাতির সেবক হিসাবে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী !

মোঃ মনিরুজ্জামান

২০২১-০৫-০৯ ০৫:২৩:০১

শিক্ষক জানোয়ার শিক্ষক জানোয়ারের শিক্ষায় জানোয়ার জন্মেছে তাইতো দলের লোক হয়ে চাকুরী নিয়েছে আজীবন কলঙ্কিত অভিশপ্ত ও ঘৃণীত হয়ে থাকবে সে সে তো মরা যারা জীবিত (চাকুরীরত) তারা কে কতটুকু নির্ভেজাল তা দেখার দায়িত্ব কার? বিসমিল্লাহ যখন দূর্নীতি রাষ্ট্রের মহানায়কের কর্ম শুরু হয় তাহলে বাকিদের ধরার অধিকার থাকে না

Jesmin

২০২১-০৫-০৯ ১৭:১৬:৩৬

আওয়ামীলীগ সরকার 2008 সালে সরকার গঠন করেছিলো দূর্ণনীতি মুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। আর এখন! সময়ের আবর্তে সেই আওয়ামীলীগ সরকারের এমন কোনো জায়গা নেই যেথানে দূর্ণনীতি নাই। এই দুষ্ট লোকদের কঠিন ভাবে আইনের আওতায় আনতে পারলেই তবে দেশ থেকে দূর্ণনীতি কমতে পারে।

কামাল ভূইঁয়া

২০২১-০৫-০৯ ০৩:০০:৪৯

বর্তমানের বেশিরভাগ শিক্ষকদের শিক্ষকতার নৈতিকতা নেই। শিক্ষকতা পেশাকে এরা ধ্বংস করেছেন। আমিও একসময় শিক্ষক ছিলাম। কিন্তু নীতি নৈতিকতা পরিবেশ চিন্তা করে ঘৃণার সাথেই এই পেশা ত‍্যাগ করেছি। ভাল লাগছে।

zahangir hossain

২০২১-০৫-০৯ ১৪:৫৪:৪৪

" যারা ডিজার্ভ করে তারাই নিয়োগ পেয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই অনার্স-মাস্টার্স পাস এবং আওয়ামী পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে যাচ্ছিল। তাই আমি মানবিক কারণে ছাত্রলীগকে চাকরি দিয়েছি।" বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চার নীতির অন্যতম হচ্ছে জাতীয়তাবাদ যার অর্থ বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রদানকারী সকল নাগরিকের সমান সুযোগ ভোগ। এখানে শুধু ছাত্রলীগদের জন্য মানবিক হওয়া সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও সংবিধান লঙ্ঘন রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল এবং সংবিধান মতে এর সর্ব্বোচ্য শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

No name

২০২১-০৫-০৯ ০১:৫২:২৯

All sector collapsed? During our childhood we respect our primary school teachers... Now we can't respect vice chancellors. Mr.khairul hoque..deleted Caretaker system???

প্রকৌশলী মোহাম্মদ হা

২০২১-০৫-০৮ ২৩:৫৯:০৮

বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। এটা দেশের 16 কোটি মানুষের সম্পত্তি। তিনি নিয়ম-নীতির মধ্য দিয়ে আমাদের সন্তানদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন নীতি জ্ঞান দেবেন ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হিসেবে সৃষ্টি করবেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের সময় শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ দেবেন। কোনক্রমেই তথাকথিত মানবিক নিয়োগ কিংবা দুর্নীতির প্রশ্রয় দেয়ার সুযোগ নেই। নিয়মনীতি বহির্ভূত কলঙ্কিত কাজ করার জন্য এই ভিসি কে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

Shobuj Chowdhury

২০২১-০৫-০৯ ১২:৫৬:১৫

An authoritarian regime anywhere is a threat to justice and democracy everywhere.

advocate iqbal akhte

২০২১-০৫-০৯ ১২:৫৫:০৪

ghuskhor V.C. ki moja ki moja .ei sorkarer amoleri niyog prapto VC.amra sobai mujib sena voy korina ghuser taka.

এ,টি,এম,তোহা

২০২১-০৫-০৮ ২৩:৩৯:৫৯

পানি নিচের দিকে গড়ায়। প্রতিটি সেক্টরের ক্ষমতাবানরা এখন ক্ষমতার চর্চা করেন। কেউ গণতান্ত্রিক আচরণে নেই। যে যখানে আছেন, এমনকি পাড়া মহল্লার ক্লাব,সমিতি, মসজিদ, মন্দির সবাই চান বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় পদ পদবি। বিচির (!) দোষ কী?

Razzak (From, KSA)

২০২১-০৫-০৯ ১২:৩৯:০২

deahay shudu awamilig chakri pabay are baki logki panir banay vashay easaysay?

Citizen

২০২১-০৫-০৯ ১২:৩৭:৪৬

I have telling this for quite long. Anyone believes or not, the problem is in the Head.

জামশেদ পাটোয়ারী

২০২১-০৫-০৯ ১২:২০:১১

আমি মনে করি এসব কান্ডের জন্য ভিসিরা দায়ী নন। দীর্ঘ সময় নিয়ে সুনিপূন পরিকল্পনা এবং ঠান্ডা মাথায় পুরো সিস্টেমকেই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি জায়গাতেই স্তুতিবাক্যে পারিদর্শীদের বসিয়ে একাজটি করা হয়েছে। শুধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বলে কথা নয়, একেবারে লোয়ার লেবেলেও তাই করা হয়েছে। একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য যা যা করা দরকার সবই করা হয়েছে। এসব করার কথা কিন্তু কোন শত্রু, এখন আমরাই আমাদের আগামীকে ধ্বংস করছি।

Tasmin

২০২১-০৫-০৮ ২৩:১৯:৫২

শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে লাভ কার? কোন দেশের লোকজন বেশি বেশি চাকরি পাবে। সকলের হীরক রাজার দেশে ছবিটা দেখা দরকার।

মামুন

২০২১-০৫-০৮ ২৩:০৭:৪৫

শিক্ষা এখন শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয় ব্যাবসায় পরিনত হয়েছে

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৫-০৯ ১২:০৫:৫৫

দূর্নীতির হালাল সংস্করণ- "মানবিক দূর্নীতি(?) "!

Mahmud

২০২১-০৫-০৮ ২২:৪৬:৩৪

একটা সময় ছিলো যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচাইতে সম্মানিত শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগ পেতেন । এখন সরকারের সবচাইকে চাটুকার শিক্ষকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে নিয়োগ পান । এটার জন্য মুলত সরকার দায়ী । সরকার ভিসি পদের যোগ্যতার যে মানদন্ড (চাটুকারিতা) তৈরী করে দিয়েছে , শিক্ষকদের একটা অংশের মধ্যে এ পদে নিয়োগ পাবার প্রতিযোগিতায় যিনি জয়ী হন তিনিই নিয়োগ পান । চাটুকার চ্যাম্পিয়ন যখন ভিসি হন তখন এর চাইতে বেশী কিছু আশা করা কি ঠিক ?

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

বাড্ডায় বাসের ধাক্কায় মা নিহত, মেয়ে আহত

১৯ জুন ২০২১

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু নজরভ্যালি শপিংমলের বিপরীতে বাসের ধাক্কায় মা শেখ ফৌজিয়া (৪৭) নিহত হয়েছেন। ...

ক্যাপশন নিউজ

১৮ জুন ২০২১

শনাক্তের হার ১৮.৫৯

একদিনে আরও ৫৪ জনের মৃত্যু,শনাক্ত ৩৮৮৩

১৮ জুন ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

নাসির উদ্দিনসহ গ্রেপ্তার ৩

DMCA.com Protection Status