ঘরমুখো মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ৮ মে ২০২১, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৭ অপরাহ্ন

দেশজুড়ে চলছে কঠোর লকডাউন। কয়েকদিন পরই ঈদ। বন্ধ দূরপাল্লার গণপরিবহন। ঈদকে সামনে রেখে সরকারের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। কেউ প্রাইভেটকার, ভাড়া করা গাড়ি, পিকআপ ভ্যানে। কেউ বা মোটরসাইকেলে অথবা অটোরিকশায়, যে যেভাবে পারছে ছুটছে নিজ গন্তব্যে। এতে সড়ক পথ ও ফেরিঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই।
দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ থাকায় চাপ বেড়েছে সড়ক ও ফেরিঘাটে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর প্রবেশদ্বার মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা। মানুষের উপস্থিতির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে ফেরি চলাচল। গতকাল সকাল থেকেই ঘুরমুখো হাজারো মানুষের ঢল নামে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে। কার আগে কে উঠবেন এ নিয়ে চলে ঠেলাঠেলি ও বাকবিতণ্ডা। মানুষের চাপের কারণে ফেরিতে মালবাহী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়ি উঠতে হিশশিম খেতে হচ্ছে। কিছু সংখ্যক যানবাহন উঠলেও সেগুলোর উপরে মানুষ অবস্থান করতে দেখা গেছে। একই চিত্র মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে।

স্টাফ রিপোর্টার মানিকগঞ্জ থেকে জানান, করোনা মহামারির ভেতর স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের স্রোত নামতে শুরু করেছে গতকাল সকাল থেকেই। সারাদিনই ব্যস্ত ছিল পাটুরিয়া ফেরিঘাট। এক জেলার যাত্রীবাহী বাস অন্য জেলায় প্রবেশ করতে না পারলেও কয়েক দফা পরিবহন পরিবর্তন করে ঢাকা থেকে পাটুরিয়া আসছে হাজারো মানুষ। এসব মানুষজন পাটুরিয়া ঘাটে এসেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ফেরি পারাপারের জন্য। কে কার আগে ফেরিতে উঠবে দিনভর এ নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা ছিল পাটুরিয়া ঘাটে। প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের জট লেগেছে বেশ কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। প্রতিটি ফেরিতে থাকছে ভরপুর মানুষ। তাদের কারো মধ্যে করোনার ভয় লক্ষ্য করা যায়নি। আলফাডাঙ্গার ফারুক হোসেন নামের এক ফেরি যাত্রী মানবজমিনকে বলেন, করোনার এই দুঃসময়ে পথে ঘাটে দুর্ভোগের মধ্যেও ঈদে প্রিয়জনদের কাছে যেতে হবে। এজন্য স্বাস্থ্যবিধির কথা ভুলে গিয়ে ছুটে চলেছি আপন ঠিকানায়। এতে করোনা কোনো প্রভাব ফেললেও কিছুই করার নেই। গোয়ালন্দ এলাকার আকরাম মিয়া বলেন, ঢাকা থেকে কয়েক দফা গাড়ি পরিবর্তন করে পাটুরিয়া এসেছি। ভাড়া গুনতে হয়েছে আগের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। কিন্তু কিছুই করার নেই। ঈদের দুই-একদিন আগে আসলে ভোগান্তি বেশি পোহাতে হতো, তাই আগেই ঢাকা ছেড়েছি। বিআইডাব্লিউটিসির ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম জিল্লুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, গতকাল সকালে যাত্রী ও ছোট গাড়ির চাপ বেশি ছিল। যার কারণে ৮-৯টি ফেরি দিয়ে ওইসব যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হয়েছে। তবে দুপুরের পর চাপ কিছুটা কমে গেলে ৪-৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী, ছোট গাড়ি ও ট্রাক পারাপার করা হয়। গতকাল সরকারি ছুটির পাশাপাশি ঈদে ঘরমুখো মানুষ রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করায় পাটুরিয়া ঘাটে চাপ বেশি পড়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঈদ সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও  শিবচরের বাংলাবাজার নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ফেরিতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই ফেরিতে করে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিমুলিয়া ফেরিঘাট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল থেকেই ঘাটে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ঘাটে মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। এই নৌপথে দক্ষিণ অঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ যাতায়াত করছে। সকালে ঘাটে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বেলা ১১টা নাগাদ ঘাটে যানবাহন ও মানুষের জটলা বেধে যায়। শিমুলিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আছে আট শতাধিক যানবাহন। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকলেও মানুষের মধ্যে তেমন সতর্কতা নেই। প্রতিটি ফেরিতে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। গায়ে গা ঘেঁষে, কেউ মাস্ক পরে, আবার কেউ মাস্ক ছাড়া পদ্মা পার হওয়ার জন্য ফেরিঘাটে অপেক্ষা করছেন। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি। ঢাকা থেকে আসা বরিশালগামী আবদুল রহমান খান বলেন, ঈদে বাড়ি তো যেতে হবে। আর বাড়ি যেতে হলে পদ্মা পার হইতে হবে। ঘাটে তো আবার লঞ্চ-স্পিডবোট সবই বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে একমাত্র ফেরিতে উঠতে হলো। ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে খুলনাগামী কবির মিয়া বলেন, একদিকে ভিড় অন্যদিকে প্রচণ্ড রোদ আর গরম। মাস্ক পরে থাকা যায় না। তবুও মাস্ক পরে আছি। এত গাদাগাদির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি কী আর ঠিক রাখা যায়।
শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়াত আহম্মেদ বলেন, ঈদ সামনে রেখে ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ প্রচণ্ড। যাত্রীদের কারণে ফেরিগুলোতে গাড়ি লোড করা যাচ্ছে না। ফেরিঘাটে এলেই যাত্রীরা তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। ১৩টি ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পার হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে খেতে হচ্ছে হিমশিম। মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। এত বলাবলি করেও যাত্রীদের সচেতন করা যাচ্ছে না।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২১-০৫-০৭ ১৬:৫২:২৩

কভিড বিস্তৃত করার মুখি মানুষ। আল্লাহ্ মাফ করুন। যেভাবে সমবেত জড়ো হয়েছে এখানে তো লেনদেন করে বাড়ি নিয়ে যাব।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যা

সিলেটে পুলিশের কব্জায় হিফজুর

২০ জুন ২০২১

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাইসির ভূমিধস জয়

২০ জুন ২০২১

ইরানের ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন কট্টর রক্ষণশীল প্রার্থী ইব্রাহিম রাইসি। প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ...

করোনাকালেও রিজার্ভে নয়া রেকর্ড

২০ জুন ২০২১

করোনাভাইরাস মহামারিকালেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েই চলেছে। হচ্ছে একের পর এক রেকর্ড। বর্তমানে ...

স্বাস্থ্যবিধি মানাবে কে?

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

১৯ জুন ২০২১



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



নাসির অল কমিউনিটি ক্লাবেরও সদস্য

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা

স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যা

সিলেটে পুলিশের কব্জায় হিফজুর

বাসযোগ্য শহরের তালিকা

ঢাকা কেন তলানিতে?

পুলিশ বলছে, আত্মগোপনে ছিলেন

৮ দিন পর খোঁজ মিললো আবু ত্ব-হার

DMCA.com Protection Status