অন্য নারীকে যৌন নির্যাতন সমর্থন করেন স্ত্রী!

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) মে ৬, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী মহিমা তখনও বুঝতে পারেননি কী হতে যাচ্ছে। বিদেশের মাটিতে আসার পর দুই দিনের মধ্যেই ঘটে ঘটনাটি। বাসায় কেউ নেই। সকালে গাড়িতে করে অ্যারাবিয়ান পরিবারের সবাই বেড়াতে গেছেন আত্মীয়ের বাসায়। এরমধ্যেই একটা জরুরি কাজে বাসায় ফিরেন বাড়ির কর্তা। তিনি ব্যবসায়ী। বাসায় ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই মহিমাকে ডাকেন নিজের রুমে। শরীর খারাপ লাগার অজুহাতে শরীর ম্যাসাজ করতে বলেন।
অ্যারাবিয়ান পঞ্চাশ বছর বয়সী ব্যক্তি বিছানায় কাত হয়ে আছেন। সুঠাম দেহে পায়জামা ছাড়া কোনো বস্ত্র নেই। মহিমা লাজুক প্রকৃতির। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। এরমধ্যেই আবার ডাকেন। শয়ন কক্ষে গিয়েও দাঁড়িয়ে থাকেন মহিমা। এরমধ্যেই হাতটা ধরে টেনে পাশে বসিয়ে ম্যাসাজ করতে বলেন আরবিয়ান। অনিচ্ছাসত্ত্বেও মহিমা ম্যাসাজ করার চেষ্টা করেন।
তার কিছুক্ষণ পরই ঘটে অঘটন। প্রথমে হাতটা ধরেন আলতো করে। তারপর একটানে খাটে শুইয়ে দেন তাকে। মহিমা অনুনয় করেন। তিনি এরকম কিছু চান না। আধো আধো আরবি ভাষা জানেন মহিমা। যা বিদেশে যাওয়ার আগে শিখেছিলেন। ওই ভাষাতেই অ্যারাবিয়ান পুরুষকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। স্বামী ছাড়া কারও সঙ্গে এমন সম্পর্ক চান না তিনি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। মহিমা আপ্রাণ বাধা দেন। বাধা দিতে দিতে ক্লান্ত। অ্যারাবিয়ানের সঙ্গে হেরে যান। সর্বস্ব লুটে নেয় মহিমার। মহিমা কান্না করেন।  সৌদি আরবের রিয়াদে ঘটে ঘটনাটি।
কয়েক মাস নিরবে সহ্য করছিলেন এই অত্যাচার। বাসায় অন্য কেউ না থাকলেই মহিমাকে যৌন নির্যাতন করা হতো। দিন-দিন তা বাড়তে থাকে। এবার ওই ব্যবসায়ীর বন্ধুদের ডেকে আনা হয় বাসায়। রাতভর পার্টি হয়। সেই পার্টির আকর্ষণ হন মহিমা। কখনও কখনও ইন্দোনেশিয়ার এক তরুণী স্বেচ্ছায় অংশ নিতেন ওই পার্টিতে। নাচ, গানের আয়োজন থাকতো এতে। বিষয়টি জানতেন গৃহকর্ত্রী। তার কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন মহিমা। মহিমা হতভম্ব হয়ে যান। ওই নারী তার স্বামীর যৌন নির্যাতনের বিষয়টি জানার পর উল্টো মহিমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। চাকরি করতে হলে পুরুষদের এই আচরণ মেনেই চলতে হবে বলে জানিয়ে দেন তিনি।
সর্বশেষ যৌন নির্যাতনের শিকার মহিমা (ছদ্মনাম) দেশে ফিরেছেন গত বছর। দেশে মা-বাবাকে নির্যাতনের বিষয়টি জানানোর পর সৌদি আরবস্থ দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফিরেন তিনি। মহিমার মতো যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকেই দেশে ফিরেছেন শূন্যহাতে। করোনা শুরুর আগে গত বছরে জানুয়ারি থেকে মার্চে ১০ হাজার নারীকর্মী সৌদি আরব যান। আর গত চার বছরে অন্তত দশ হাজার নারী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সে দেশে নারীকর্মী পাঠানোর চুক্তির পর থেকেই নারীকর্মীরা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শুরু করে। ওই বছরেই সৌদি আরবে যায় ২১ হাজার নারী শ্রমিক। ২০১৬ সালে যায় ৬৮ হাজার। ২০১৭ সালে ৮৩ হাজার। ২০১৮ সালে ৭৩ হাজার। ২০১৯ সালে যায় ৬২ হাজার। নারী কর্মীদের যৌন নির্যাতনের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে গত বছরের আগস্টে একটি প্রতিবেদন পাঠায় মন্ত্রণালয়। তাতে সৌদি আরব ফেরত ১১০ নারী গৃহকর্মীর তথ্য দিয়ে বলা হয়, ৩৫ শতাংশ নারী শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন।
অনেকের মৃত্যু ঘটেছে। ২০১৬ সাল থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৭৩ নারীর লাশ দেশে ফিরেছে। এরমধ্যে সৌদি আরবে ১৫৩ জন। জর্ডানে ৭৫ জন, লেবাননে ৬৬ জন, ওমানে ৪৫ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৭ জন এবং কুয়েতে ২০ জন মারা গেছেন। অন্যান্য দেশ থেকে এসেছে ৬০ নারীর লাশ। নিহতদের মধ্যে ৮১ জনই আত্মহত্যা করেছেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোঃ জাহিদুল ইসলাম

২০২১-০৫-০৮ ২১:৪৬:৫৪

সৌদিতে এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে , আমাদের দেশের সরকার এবিষয়ে অবগত আছেন । দুঃখের বিষয় হচ্ছে সরকার এ ব্যাপারে কোন পদখেপ নিবে না

ঊর্মি

২০২১-০৫-০৬ ২১:০৫:৪৬

সরকার কেনো বন্ধ করতে যাবে? ঐ মহিলারা মাসে মাত্র ১০ ডলার করে পাঠালেও উপরের হিসেব অনুযায়ী গড়ে মাসে আসে ৩০ লাখ ৭০ হাজার ডলার(আসলে ফেলে থুয়েও ৫ গুণ বেশী হবে)। তাহলে বছরে কত ডলার পাচ্ছে সরকার? কানাডার বেগমপাড়া আর মালয়েশিয়ার বিবিপাড়া গুলোও তৈরীর উন্নয়নের কথাটাওতো মাথায় রাখতে হবেনা? সাংবাদিকেরা শুধু খারাপ দিকটাই দেখেন, ভালো দিকটা দেখতে চান না!!!

আবুল এইচ ভুঁইয়া

২০২১-০৫-০৬ ০২:০৩:৩০

মহিলা, মেয়েদের বিদেশে চাকুরি করার এত শখ কেন? দেশে হাজারো গার্মেন্টস আছে এখন বলছে আমার........ এদের লজ্যা থাকা উচিত।

Md. Rabiul Islam

২০২১-০৫-০৬ ১৪:৩২:২৩

আমি মনে করি মেয়েদের পাঠিয়ে সরকার লাভবান হয়.....তা না হলে এতো কিছু জানার পর কেন মেয়েদের সৌদি পাঠাতে হয়। অনেকই লাশ হয়ে ফিরে.এইতো জন.. এর চেয়ে ভাল প্রত্যক জেলে একটি করে পতিতালয় খুলে দিক

জামশেদ পাটোয়ারী

২০২১-০৫-০৬ ১৪:১৬:৩৭

এই বিষয়ে লিখতে লিখতে তিক্ত বিরক্ত। আরব দেশে আগে শ্রীলংকা ইন্দোনেশিয়া ফিলিপাইন এই দেশগুলি নারী কর্মী পাঠাতো। আরবীদের এমন আচরণে তারা নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। তারপর সৌদি আরবসহ বিভিন্ন আরব দেশ বাংলাদেশ থেকে নারী কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বাংলাদেশের সরকারের দরকার ছিল আরব দেশ গুলির সমর্থন। কারণ আগে থেকেই জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন অবদানের কারণে আরব দেশগুলি বিএনপির দিকে ঝুকে ছিল। নারী কর্মী দেয়ার বিনিময়ে সরকার তাদের সমর্থন পেতে সমর্থ হয়েছে ঠিকই কিন্তু নারী কর্মীদের সাথে এমন আচরণে দেশের সম্মান মারাত্বকভাবে নষ্ট হয়েছে, বিদেশের মাটিতে দেশের নারীদের ইজ্জত আভ্রুর সাথে দেশের মান সম্মান জড়িত। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে, এই বিষয়ে আমাদের সরকার মহাশয় মনে হয় কাণে তুলো এবং চোখে কালো চশমা পড়ে থাকাতেই শ্রেয় মনে করছে।

Samsulislam

২০২১-০৫-০৬ ০০:২৯:০৩

হেরেম খানা অনেক আগেই ছিল,এ আর নতুন কি?

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

নাসির উদ্দিনসহ গ্রেপ্তার ৩

DMCA.com Protection Status