রায়হান হত্যা

চার্জশিটে যা বলা হয়েছে-

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

প্রথম পাতা ৬ মে ২০২১, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৭ অপরাহ্ন

দীর্ঘ ৭ মাস পর সিলেটের ‘আলোচিত’ রায়হান হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন করলো তদন্ত সংস্থা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। গতকাল দুপুরে সিলেটের আদালতে দেয়া চার্জশিটে পুলিশ রায়হান হত্যার কারণ তুলে ধরেছে। এতে পিবিআই জানিয়েছে- ইয়াবা বিকিকিনি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ছিনতাইয়ের ঘটনার কারণে কাস্টঘরের সুইপার চুলাই লালের ঘর থেকে রায়হানকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পিবিআই সিলেটের এসপি খালেদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘গোলাপগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুল শেখ ও রনি শেখ নামের দুই যুবক ইয়াবা কিনতে এসেছিল কাস্টঘরে। এ সময় ইয়াবা আসল না নকল দ্বন্দ্ব শুরু হলে রায়হান এসে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেয়। এক পর্যায়ে সে মারধর করে সাইদুল শেখের মোবাইল ফোন ও নগদ ৯ হাজার ৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে সাইদুল ও রনি নগরীর বন্দরবাজারে থাকা পুলিশ দলকে ঘটনা জানালে পুলিশ গিয়ে রায়হানকে আটক করে নিয়ে আসে।’ চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে এনে রায়হানকে মারধর করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়।
সিলেট পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর আওলাদ হোসেন গতকাল বেলা ১১টার দিকে আদালতে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিট গ্রহণ করেন কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাস। চার্জশিট গ্রহণের পর তিনি জানান, চার্জশিটটি পর্যালোচনার পর সেটি সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে প্রেরণ করা হবে। এরপর আদালতে চার্জশিটের উপর শুনানি হবে। এদিকে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর পিবিআই সিলেটের উপ-শহরস্থ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ূন কবির জানান, পিবিআই তদন্তকালে আলোচিত এ ঘটনার নানা দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে। এরপর আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। ঘটনায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন পুলিশ। দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে ৬৯ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।  সেই সঙ্গে আলোচিত এই মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি প্রদান করেন। ২২ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ঘটনার কারণও তুলে ধরা হয়। চার্জশিটে অভিযুক্তরা হচ্ছে- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, টুআইসি এসআই হাসান আলী, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও আব্দুল্লাহ আল নোমান। আসামিদের মধ্যে সবাই কারাগারে থাকলেও ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা রয়েছে কোম্পানীগঞ্জের আব্দুল্লাহ আল  নোমান। সে কোম্পানীগঞ্জের ‘কথিত’ সাংবাদিক। আসামি ৬ জনের মধ্যে এসআই হাসান আলী ও সাংবাদিক নোমানের বিরুদ্ধে রায়হান হত্যার আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা ও মামলার আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান আসামি এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র ও হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে- বন্দরবাজার ফাঁড়িতে থাকার সময় রায়হানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগকারী কনস্টেবল তৌহিদকে সাক্ষী করা হয়েছে। ঘটনার দিন কনস্টেবল তৌহিদ রায়হানের মা সালমা বেগমকে ফোন করে ১০ হাজার টাকা নিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসার কথা বলেছিলো। তার কাছ থেকে খবর পেয়েই রায়হানের পরিবারের সদস্যরা ফাঁড়িতে ছুটে এসেছিলেন। বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, পিবিআই রায়হান হত্যা মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর মহানগর পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য নেয়া, সাক্ষীদের জবানবন্দিসহ নানা বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে। অভিযোগপত্র সহ  মোট কেস ডকেট ১ হাজার ৯৬২ পৃষ্ঠা রয়েছে। পিবিআই তদন্ত করার সময় রায়হানের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের শত্রুতা ছিল কিনা সে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তবে এর সত্যতা  মিলেনি। এ ছাড়াও পিবিআই আকবরের কাছ  থেকে উদ্ধারকৃত ডিভাইসগুলো অ্যানালাইসিস করে প্রাপ্ত তথ্য অভিযোগপত্রে দাখিল করা হয়। সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে গত বছরের ১০ই অক্টোবর রাতে নগরীর নেহারীপাড়ার যুবক রায়হানকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে- এসআই আকবর সহ পুলিশ সদস্যরা বেতের লাঠি দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করে রায়হানকে আহত করে। এরপর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সকালে তার মৃত্যু হয়। বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতন চালিয়ে রায়হানকে হত্যার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করে পুলিশ। রায়হান নগরীর কাস্টঘরে গণপিটুনিতে খুন হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় রাতের ফুটেজ পর্যালোচনা করে জানা গেছে- রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে সুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছিল। এ ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন চালিয়ে মারধরের ঘটনায় সিলেটে বিক্ষোভ শুরু হয়। বৃহত্তর আখালিয়া ও ১২ হামছায়ার পক্ষ থেকে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে টনক নড়ে পুলিশের। অবশেষে পুলিশ রায়হান হত্যার ঘটনাটিকে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু ঘটনা বলে পুলিশ মামলা রেকর্ড করে। গ্রেপ্তার করা হয় পুলিশ সদস্যদের। ঘটনার এক মাসের মাথায় জেলা পুলিশের সহযোগিতায় সিলেটের কানাইঘাটের দুর্গম সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়া এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফলে সিলেটে আন্দোলন স্তিমিত হয়। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে বেরিয়ে আসে কোম্পানীগঞ্জের সাংবাদিক নোমানের নাম। নোমানের সহায়তায় এসআই আকবর হোসেন কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারত পাড়ি জমিয়েছিল। আকবর ধরা পড়লেও সাংবাদিক নোমান এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশের ধারণা- নোমান ভারতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সে আকবরের সঙ্গে অবৈধপথে ভারতে গিয়েছিল। আকবর ফিরলেও নোমান ফিরেনি। এদিকে- চার্জশিট প্রদানের পর গতকাল দুপুরে সিলেটের আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রায়হানের পরিবারের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবুল ফজল। তিনি জানিয়েছেন, হত্যা মামলার চার্জশিট পর্যালোচনা করা হবে। এরপর এ ব্যাপারে কী করা যায় সেটি চিন্তা-ভাবনা করা হবে। পিবিআই নিরপেক্ষভাবে রিপোর্ট দিলে অবশ্যই বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট হবে।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

স্বাস্থ্যবিধি মানাবে কে?

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

১৯ জুন ২০২১

বাসযোগ্য শহরের তালিকা

ঢাকা কেন তলানিতে?

১৯ জুন ২০২১

পুলিশ বলছে, আত্মগোপনে ছিলেন

৮ দিন পর খোঁজ মিললো আবু ত্ব-হার

১৯ জুন ২০২১

‘ঢাকায় শনাক্তের ৬৮ ভাগই ভারতীয় ধরন’

১৮ জুন ২০২১

রাজধানীতে শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীদের ৬৮ শতাংশই ভারতীয় ধরনে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে এক গবেষণায় উঠে ...

নাসির অল কমিউনিটি ক্লাবেরও সদস্য

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা

১৮ জুন ২০২১



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



রহস্যঘেরা অমির কর্মকাণ্ড

নাসিরকে নিয়ে বিব্রত স্বজনরা

পরীমনির মামলায় নাসিরসহ গ্রেপ্তার ৫, বিচার দাবি সংসদে

কী ঘটেছিল বোট ক্লাবে

নাসির অল কমিউনিটি ক্লাবেরও সদস্য

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা

দুই শিশু ও মায়ের লাশ উদ্ধার

গোয়াইনঘাটে নৃশংসতা নেপথ্যে কী

DMCA.com Protection Status