এ দৃশ্য মানবাত্মাকে কাঁদিয়ে ছাড়ে

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) মে ৫, ২০২১, বুধবার, ৩:২৩ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মানুষের মানবতাকে কত নিচে নামিয়ে দিয়েছে তা ফুটে উঠেছে অন্ধ্র প্রদেশের একটি ভিডিওতে। সেখানকার শ্রীকাকুলাম গ্রামের এক ব্যক্তি কাজ করতেন বিজয়ওয়াদায়। করোনা ধরা পড়ার পর তিনি ফিরে আসেন নিজের গ্রামে। কিন্তু মানুষ কত নিষ্ঠুর! তাকে গ্রামবাসী গ্রামে পর্যন্ত ঢুকতে দেয়নি। আর তো বাড়িতে উঠার প্রশ্নই আসতে পারে না। এমন অবস্থায় পিতার জন্য অস্থির হয়ে পড়েন তার মেয়ে। তাকে পানি পান করাতে তার মেয়ে ছুটে যেতে থাকেন। কিন্তু তাতে বাধা দেয় তার মা।
এ নিয়ে মা-মেয়ের প্রচণ্ড বচসা হয়। তাতে চিৎকার করে, বুক ফাটিয়ে কাঁদেন মেয়ে। এ দৃশ্য সম্বলিত ভিডিওই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলেছে, অসংখ্য এমন ঘটনার এটি একটিমাত্র। এতে ফুটে উঠেছে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ভারতকে কিভাবে পর্যুদস্ত করে দিয়েছে। যে স্বামীর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধা, মন্ত্র জঁপে তার সঙ্গে পিতার সংসার ছেড়ে আসা, যে স্বামী নিজের জীবনের দিকে না তাকিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের একটু সুখী করার জন্য কাজ করে যান- শেষ বেলায় তিনি তার গ্রামে ঠাঁই পান না। তার সেই স্ত্রী তাকে বাড়িতে ঠাঁই দেয় না। ঠাঁই দেয়া দূরে থাক, তাকে এক গ্লাস পানি দিতে বাধা দেন। আলোচিত ব্যক্তির বয়স ৫০ বছর। রোববার তিনি নিজের গ্রামে ফিরেছিলেন। কিন্তু গ্রাম, বাড়ি কোথাও ঠাঁই হয়নি তার। শেষ পর্যন্ত তিনি আশ্রয় নিয়েছেন গ্রামের বাইরে একটি মাঠের কাছে এক কুঁড়েঘরে। তাকে সেখানেই থাকতে বাধ্য করা হয়। তার ১৭ বছর বয়সী কন্যা তাকে এক বোতল পানি দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তার মা। তার ভয়, তাকে পানি দিতে গেলে মেয়েও সংক্রমিত হয়ে পড়বে। ওই মেয়েটি তার পিতার জন্য পানি নিয়ে দৌড়ে যেতে চেষ্টা করে। মার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে করতে সে মাটিতে পড়ে যায়। সেখান থেকে কোনোমতে উঠে দাঁড়িয়ে পিতার কাছে পানি পৌঁছে দিতে সক্ষম হয় সে। প্রত্যক্ষদর্শী কেউ একজন এই দৃশ্য ধারণ করেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতালে কোনো বেড খালি নেই। তাই তাকে হাসপাতালে নেয়া যাবে না। এর কিছুক্ষণ পরেই মারা যান বাড়িতে আশ্রয় না পাওয়া ওই ব্যক্তি। উল্লেখ্য, তার পরিবারের সদস্যরাও করোনা পজেটিভ।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

জাফর আহমেদ

২০২১-০৫-০৫ ০৮:০৯:১০

করোনা তুই অনেক মানুষের প্রান নিয়েছিস , তার জন্য তোকে ঘৃনা করি, কিন্তু তোকে একটা জায়গায় পছন্দ করি সেটা হলো তুই মানুষ আর অমানুষ কে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দিলি , সমাজের রাষ্ট্রের ভিতরে মানুষ রুপি অমানুষ কে আর চূফি দরবেশ রূপের চোর লুটেরা দের চিনতে সাহায্য করেছিস,

Jahangir

২০২১-০৫-০৫ ০৮:০০:০১

এ সব দৃশ্য সহ্য করা যায় না। একদিকে মানবতার উজ্জ্বলতা আর তার পাশেই অমানুষ। আলো আর আধার

Almamun

২০২১-০৫-০৫ ০৬:১২:০০

COVID-19 taking away almost everything. Family and villagers remind us the inhumane character of the greatest creation of Allah. Even many animals do take care of sick members of the family or clan. We really lost the human values in every profession and Allah is punishing us.

Kazi

২০২১-০৫-০৫ ০৫:১৪:৫৩

ভারত বাংলাদেশের লোক হাসপাতাল নির্ভরশীল চিকিৎসায় বিশ্বাসী। নিজে বাঁচার জন্য কোন তদবির করতেই চায় না । করোনা কে ঠেকাতে ঘরোয়া অনেক চিকিৎসা আছে গরম জলের ভাপ উষ্ণ জলের গড়গড়া। উষ্ণ আদা ও মশলার চা পান লেবু দিয়ে। মশলা - আদা, রসুন অথবা পেঁয়াজ। সব সময় উষ্ণ জল এক চুমুক করে গলা ভিজিয়ে রাখা। গরম জলের ভাপ শ্বাস প্রশ্বাসের সহায়তা করে। যত বেশি বার সম্ভব ভাপ নেওয়া উত্তম। পেরাসিটামল খাওয়া, গায়ের জ্বর ব্যথা ও রক্ত পাতলা রাখার জন্য। এছাড়া আর্থিক অবস্থা ভালো হলে- লেবুর শরবত, ভিটামিন সি ও ডি খাওয়া । আশা করি এই ব্যবস্থা নিলে হাসপাতালে না গিয়ে অনেকেই সুস্থ হয়ে যেতে পারেন।

AMIR

২০২১-০৫-০৫ ১৭:০১:০৫

অবশ্যই অযোগ্যের অপশাসন! হারুন সাহেবের সাথে একমত পোষণ করি!

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৫-০৫ ১৫:৩৮:১৬

মানুষের টাকায় পারমানবিক অস্র তৈরী হয় মানুষ মারার জন্য। প্রান বাঁচানোর জন্য হাসপতালের জন্য বরাদ্ধ নাই। বিশ্বব্যাপী মেগা প্রকল্প তৈরী হয় গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে যেতে। এ সব তামাশা বন্ধ না হলে মানুষ এ ভাবেই মরবে। খবরের শিরনাম হবে এমন আবেগময়। করোনায় নেতৃত্বের ব্যর্থতা খোঁজা হয়- ব্যর্থতা থেকে মুক্তির পদক্ষেপ নেয়া হয় না। এটাই অযোগ্যের অপশাসন!

পাগল

২০২১-০৫-০৫ ১৫:৩১:২৭

করোনা ছুয়াছে রোগ। এই কুশিক্ষাই এসবের কারণ।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status