বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতন-ফি সবই নেয়া হচ্ছে

পিয়াস সরকার

প্রথম পাতা ১ মে ২০২১, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০২ অপরাহ্ন

ফাইল ছবি
এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকলেও শিক্ষার্থীদের পরিশোধ করতে হচ্ছে সকল ফি। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অভিভাবকদের চাপ দিয়ে ফি আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত নভেম্বরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নিতে পারবে। কিন্তু টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ এবং অ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত কোনো ফি নেয়া যাবে না। এ ছাড়াও যেসব অভিভাবকদের করোনাকালে অবস্থা শোচনীয় তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিতে দেখার কথা বলা হয়। এরআগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একাধিকবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতনের বিষয়টি সমন্বয়ের কথা বলেছিলেন।

কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব খুব একটা লক্ষ্য করা যায়নি।
আবার অভিভাবকদের মাঝেও দেখা গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন না দেয়ার প্রবণতা। অভিযোগ আছে, রাজধানীর ওআইডব্লিইউসি স্কুলে সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রিএডমিশন ফি নেয়া হয়েছে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়াও প্রতিমাসে নেয়া হচ্ছে পূর্বের ন্যায় ১৬০০ টাকা করে মাসিক বেতন। সরকারি নির্দেশনায় বলা হলেও নেয়া হচ্ছে সকল ধরনের ফি। এই স্কুলটির মতো রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায় একইভাবে বেতন, ভর্তি ফিসহ আনুষঙ্গিক সকল অর্থ নেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, মর্নিং সাইন স্কুল, ন্যাশনাল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল এন্ড কলেজ, ব্রিটেনিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা, প্রিমিয়ার স্কুল ঢাকা, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার ও বোস্টন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ছাড়াও আরো নামকরা অনেক স্কুলের বিরুদ্ধে অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন।

ওআইডব্লিইউসি স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আলিম খান বলেন, সরকারি নির্দেশনার পরেও ওই স্কুল এক টাকাও কমায়নি। আমরা আন্দোলন করেছি, স্মারকলিপি দিয়েছি কিন্তু কোনোভাবেই কোনো উপকারে আসেনি।
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জেসমিন জারা বলেন, আমার ছেলে এবার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার প্রতিমাসে বেতন বাবদ স্কুলে দিতে হয় ৩২০০ টাকা। করোনা আসার আগেও একই পরিমাণ অর্থ দিতে হতো। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রিএডমিশন ফি নিয়েছে ১৬০০০ টাকা।

এসবের বাইরে ২০২১ সালের এসএসসি’র ফরম পূরণে রাখা হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ অর্থ। অধিক অর্থ আদায় করা যাবে না এমন নির্দেশনা দেয়ার পরেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানবিকতার পরিচয়ও দিয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক আল মিজান করোনাকালে চাকরি হারিয়েছিলেন। পরিবার নিয়ে মাগুরায় চলে গিয়েছিলেন তিনি। পুনরায় চাকরি পাওয়ায় ঢাকায় ফেরেন তিনি। বলেন, ভেবেছিলাম আর ঢাকায় আসা হবে না। এরপর চাকরি পেলাম আবার। স্কুলে যোগাযোগ করে জানতে পারি ৯ হাজার টাকা বকেয়া হয়েছে। অবস্থা জানিয়ে আবেদন করার পর তারা চার হাজার টাকা মওকুফ করে দেয়।

সার্বিক বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, আমরা অভিভাবকরা আসলে অসহায়। আমরা বলেছিলাম, যেহেতু শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষা নিতে পারছে না সেহেতু ৫০ শতাংশ কমানো হোক। একাধিকবার দাবি জানানোর পরে তারা সিদ্ধান্ত নিলেন শুধুমাত্র আনুষঙ্গিক অর্থ বন্ধ নেয়া হবে না। কিন্তু সেটাও মানা হচ্ছে না স্কুলগুলোতে। আমরা অভিভাবকরা নির্যাতিত। এর কারণ হচ্ছে মাউশি থেকে কোনো মনিটরিং করা হয় না। নেই কোনো জবাবদিহি। তারা নির্দেশনা দিলেন তাদের বেঁধে দেয়া অর্থ আদায় করতে হবে। নির্দেশনা দিয়েও কোনো স্কুল তা মানে না। তাহলে এই নির্দেশনার প্রয়োজন কি?  

তবে রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর শোচনীয় অবস্থা। মিলন আহমেদ একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। তার দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে পড়তো অর্কিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। আদাবরে অবস্থিত স্কুলটিতে প্রথম শ্রেণিতে পুরো বছর বেতন দিলেও এ বছর আর দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, মেয়ের স্কুলে যাওয়ার বয়স হইলো আর করোনা শুরু হইলো। শুরুতে কয়েকটা দিন স্কুলে যায়। এরপর থেকে ওর মায়ের কাছে যা শেখার শিখছে। তাহলে স্কুলে অর্থ পাঠানোর প্রয়োজন দেখছি না।

আবার অভিযোগ আছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার ঘটনা ঘটলেও বঞ্চিত করা হচ্ছে শিক্ষকদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থী ২০২০ সালে ছিল ৭৪২ জন। এ বছর তা কমে হয়েছে ৬৯২ জনে। তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু আমাদের বেতন দেয়া হয় না ঠিকমতো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর ঠিকমতোই দেয়া হতো বেতন। এরপর অক্টোবর মাস থেকে ডিসেম্বরে বেতনই দেয়া হয়নি। এরপর অর্থ দেয়া হয়। হিসাব করে দেখলে তিন মাসের বেতনের ৪০ শতাংশ করে হয় তা। আর এখন ২৫ শতাংশ কম করে বেতন দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন স্কুল এন্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, আমাদের অধিকাংশ শিক্ষকরা করুণ অবস্থার মধ্যে আছে। অধিকাংশ স্কুলে যেখানে বেতন আদায় করতে পারছি সেখানে ৬০ শতাংশ অর্থ আদায় করছি। আর কেউ যদি বেতন ওঠানোর পরেও যদি শিক্ষকদের বেতন না দিয়ে থাকেন তবে সেটা অমানবিক। আমরা জানলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। আমাদের দেশব্যাপী শিক্ষকদের এমনই অবস্থা হয়েছে যে আমাদের শিক্ষকদের অর্থ সহযোগিতা দেয়ার জন্য আবেদন জানিয়ে আসছি আমরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি’র মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, করোনার সময়ে শিক্ষক, অভিভাবক দুই শ্রেণিই ক্ষতিগ্রস্ত। তাই আমরা একটা সমন্বয়ের ব্যবস্থা করেছি। এরপরও যদি অতিরিক্ত ফি আদায় করে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

MAJUMDER SANTOSH

২০২১-০৫-০২ ০৮:৪১:০৭

সরকার যদি একটা আদেশ দিত অন্তত 30 %-40% বেতন কম নেওয়ার জন্য এতে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতেi

হিরন

২০২১-০৫-০১ ০৩:১১:৩২

ক্যডেট কলেজে ছাত্র/ছাত্রি নেই,কিন্তু আবাসিক হিসেবে দেয় টাকা নেয়া হচ্ছে।এটা অন্যায়,অর্ধেক টাকা ফেরত দেয়া উচিৎ। সরকার ভেবে দেখবে আশা করি... পরিচালনা পর্ষদ ভেবে দেখবেন, মনে করি।

Z Hossain

২০২১-০৫-০১ ১৫:১৮:২৭

সবচেয়ে বেশি ফি নিচ্ছে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ 2020 সালের বেতন ছিল 1000 টাকা 2021 সালে বেতন বাড়িয়ে তারা করেছে 1200 টাকা পরীক্ষার নামে ফি নিচ্ছে 1200 টাকা করে দুঃখজনক এবং তারা ভর্তি ফি নিচ্ছে 14000 টাকা কোন সেক্রিফাইস তারা করেনি কাউকে অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা কোনো সরকারি নিয়ম কারণ মেনে চলেনা। অথচ তাদের স্কুল এমপিওভুক্ত স্কুল সরকার থেকে বেতন পাচ্ছে।। এই স্কুলে শিক্ষা মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি। এই বিদ্যালয়টিকে আপনারা বাচান সব লুটে পুটে খাচ্ছে ।স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টি কামনা করছি এই বিদ্যালয়ের প্রতি।

sohrab

২০২১-০৫-০১ ০৯:৫৫:১১

রংপুর কারেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজেও একই অবস্থা

ফিরোজ

২০২১-০৪-৩০ ২০:৪৬:০৭

শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজেও নেওয়া হচ্ছে বেতন। সেখানেতো কোন প্রশ্নই করা যায় না। ক্লাশ নাই পরীক্ষা নাই এমনিতেই শিক্ষার্থীদের মন ভাল নেই, করোনাকালে অভিভাকরা আছেন মানসিক ও আর্থিকচাপে তারপরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অমানবিক, অন‍্যায় জুলুম চলছেই। মানুষের বিবেক মরে গেছে। কার কাছে সমাধান চাইবো আমরা। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারও বলার জায়গা নাই।

Golam Masum

২০২১-০৪-৩০ ১২:৪৩:১০

স্কুল গুলো একটাকাও বেতন কমায়নী বরং কয়েকদিন পরপর এসাইনমেন্ট এর নামকরে বেতনের বই দেখে বেতন পরিশোধ সাপেক্ষে প্রশ্ন দেয় রি এডমিশন ফি দিতে হইছে শুধু তাই নয় এস এস সি পরিক্ষা যেই মাসে হবে সে মাস পয্যন্ত বেতন পরিশো করতে হবে জুনিয়র ল্যাবরেটরী হাইস্কুলে এবং এ বছর থেকে বেতনের সাথে লেইট ফিও প্রদান করতে হবে দেশে এতবড় একটা পেনডেমিক সময় আমরা দুই তিন মাস পরপর স্কুলের বেতন পরিশোধ করতেছি এবং সম্পূর্ণ টাকা কিন্ত তারা এটা কোন ভবেই মানে না বেতনের জন্য অনলাইনের ক্লাস করতে দেয় না সরকার যদি একটা আদেশ দিত অত্যন্ত ২০ % বেতন কম নেওয়ার জন্য এতে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতে অনেক ছেলে মেয়েই এ বছর পূর্ণ ভর্তি হতে পারেনাই

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

স্বাস্থ্যবিধি মানাবে কে?

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

১৯ জুন ২০২১

বাসযোগ্য শহরের তালিকা

ঢাকা কেন তলানিতে?

১৯ জুন ২০২১

পুলিশ বলছে, আত্মগোপনে ছিলেন

৮ দিন পর খোঁজ মিললো আবু ত্ব-হার

১৯ জুন ২০২১

‘ঢাকায় শনাক্তের ৬৮ ভাগই ভারতীয় ধরন’

১৮ জুন ২০২১

রাজধানীতে শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীদের ৬৮ শতাংশই ভারতীয় ধরনে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে এক গবেষণায় উঠে ...

নাসির অল কমিউনিটি ক্লাবেরও সদস্য

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা

১৮ জুন ২০২১



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



রহস্যঘেরা অমির কর্মকাণ্ড

নাসিরকে নিয়ে বিব্রত স্বজনরা

পরীমনির মামলায় নাসিরসহ গ্রেপ্তার ৫, বিচার দাবি সংসদে

কী ঘটেছিল বোট ক্লাবে

নাসির অল কমিউনিটি ক্লাবেরও সদস্য

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা

দুই শিশু ও মায়ের লাশ উদ্ধার

গোয়াইনঘাটে নৃশংসতা নেপথ্যে কী

DMCA.com Protection Status