আলাপন

মূল সমস্যা হলো সবাই চায় নেতা হতে -বাপ্পারাজ

মাজহারুল তামিম

বিনোদন ৩০ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:২৪ অপরাহ্ন

ঢাকাই চলচ্চিত্রের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা বাপ্পারাজ। ১৯৮৬ সালে বাবা নায়করাজ রাজ্জাকের পরিচালনায় ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। নিজ অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন। সর্বশেষ তাকে ‘পোড়ামন-২’ সিনেমায় দেখা গিয়েছে। অভিনয়ে তিনি এখন আগের মতো নিয়মিত নন। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে। গত বছর আপনি ও আপনার পরিবার করোনার কবলে পড়েছিলেন। এখন কেমন আছেন? বাপ্পারাজ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ।
ভালো আছি।
সবাই নিরাপদে আছি। অভিনয়ে আগের মতো দেখা যায় না কেন? বাপ্পারাজ বলেন, অন্যান্য দেশে শিল্পীদের বয়স হয়ে গেলেও তাদের উপর বেস করে চরিত্র ঠিক করা হয়। আমাদের এখানে ঐ ট্রেন্ডটা নেই। গড়পড়তা গল্প লেখা হয়। এখন গড়পড়তা সিনেমা করে লাভ নেই। অনেক তো করলাম। ভিন্নধর্মী কিছু হলে করবো। ‘কার্তুজ’ নামে একটি সিনেমাও পরিচালনা করেছিলেন। এরপর নির্মাণেও দেখা যায়নি। কেন? উত্তরে বাপ্পারাজ বলেন, ওটা তো নিজেদের প্রোডাকশন হাউজের কাজ ছিল। আব্বা (নায়করাজ রাজ্জাক) বলেছিল বলে করেছিলাম। ঐ ছবির পর আব্বা অসুস্থ হয়ে গেলো। এরপর নানা কারণে আর প্রোডাকশনও হয়নি, পরিচালনাও করা হয়ে ওঠেনি। বাপ্পারাজ মানেই প্রেমে ব্যর্থ কোনো লোক, দর্শকদের এই ধারণাকে আপনি কীভাবে দেখেন? বাপ্পারাজ বলেন, মজার ব্যাপার হলো, আমি ১০০ টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছি। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ১৫/২০ ছবিতে এরকম চরিত্র ছিল। কিন্তু ঐ ছবিগুলোই মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। এরপর ধারণা হয়ে গেছে সব ছবিতে আমি এরকমই। নিজের কাছেও অবাক লাগে। চলচ্চিত্রের এখনকার অবস্থা কেমন দেখছেন? বাপ্পারাজ বলেন, সিনেমায় টিমওয়ার্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী মিলেই একটা কাজ দাঁড়ায়। এখন হয়ে গেছে যার যার কাজ আলাদা। দুঃখের ব্যাপার হলো আমাদের সিনেমার সব কিছুই সমিতি নির্ভর হয়ে গেছে। সমিতি সব কিছুর সিদ্ধান্ত নিবে। এটা ঠিক না। এসব করে সংগঠনগুলো আমাদেরকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। কিছুদিন আগে আমাদের একটা পরিবার গঠন হলো, হেন হলো তেন হলো। পরে কিন্তু কিছুই হলো না। তারপর শিল্পী সমিতি নিয়ে আলাদা একটা শিল্পী ঐক্যজোট হলো। ঐটাও টিকলো না। ভাগ হয়ে গেলো সবাই। পরিবার তো আমরা সবাই ছিলামই। নতুন করে পরিবার গঠনের দরকার ছিল না। মাঝখান দিয়ে তৃতীয় পক্ষ ফায়দা লুটে চলে গেছে। আমরা আমাদের জায়গাতেই পড়ে আছি। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কী? এ নায়ক বলেন, চলচ্চিত্রে মূল সমস্যা হলো সবাই চায় নেতা হতে। চেয়ার পেতে চায়। এর জন্য মারামারিও হয়। অযোগ্য লোকজন পজিশন নিয়ে বসে আছে, তাই এই দুরাবস্থা। আর এখন চলচ্চিত্র নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বড় ব্যাপার হচ্ছে নেতা কয় বালতি সিন্নি বিতরণ করলো, গরু জবাই দিল কিনা, ইফতারি দিল কিনা এগুলো। গরুর গোস্তের তো দরকার নেই, আমাদের দরকার সিনেমা। ইন্ডাস্ট্রির লোকদের কাজ দরকার। আব্বাদের সময় দেখতাম শিল্পীরা টাকা তুলে দান করতো। এখন নিজেদেরকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছি যে আমরাই দুঃস্থ, আমাদেরকেই মানুষজন ডোনেট করছে। আমি মনে করি এতটুকু জায়গার মধ্যে এত সংগঠনের দরকার নেই। এসব কারণেই কি এফডিসিতে যান না? বাপ্পারাজ বলেন, আমার আর ঐদিকে মন টানে না। যাদেরকে আপন ভাবতাম আর নিজেদের লোক মনে করতাম, একটা সময় দেখলাম তারা আমাদের আপন না। শুধু ব্যবসার খাতিরেই সম্পর্ক ছিল। আপনার বাবা নায়করাজ রাজ্জাকের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে তেমন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এ নিয়ে আক্ষেপ আছে? এ অভিনেতা বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো মানুষকে মূল্যায়ন করা বা স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা আমাদের এখানে নেই বললেই চলে। শুধু আমার আব্বা না, দেশে অনেক গুণী লোকজন ছিলেন, তাদের চলে যাওয়ার পর ওখানেই সব শেষ। তারপর কিছু হয় না। অথচ দেশের জন্য, ইন্ডাস্ট্রির জন্য তিনি অনেক বড় অবদান রেখেছিলেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Murad Ahmed

২০২১-০৪-৩০ ২৩:৫১:৩৪

অত্যন্ত ভদ্রলোক তিনি। মার্জিত কথা দেখেই শ্রদ্ধা জাগে মনে।

তপু

২০২১-০৪-২৯ ২২:২১:৪৯

চমত্কার কথা বলেছেন।

আপনার মতামত দিন



বিনোদন সর্বাধিক পঠিত



পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা

বিচার চাইলেন সহকর্মীরা

DMCA.com Protection Status