লকডাউনেও সিলেটে বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যু

ওয়েস খছরু, সিলেট থেকে

প্রথম পাতা ২৩ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৭ অপরাহ্ন

ফাইল ছবি
নয়দিনের লকডাউন। স্থবির সবকিছু। জীবনযাত্রা আটকে গেছে। উদ্দেশ্য, করোনার লাগাম টেনে ধরা। কিন্তু দশদিন হতে চললেও এখনো সিলেটে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই শনাক্ত হচ্ছে একশ’র উপরে। মৃত্যুর মিছিল একদিন কমলে আরেকদিন বাড়ে। গতকালও সিলেটে করোনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে লকডাউনে এটাই স্বস্তি যে- সিলেটে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে করোনা পরিস্থিতি। অন্তত ট্রান্সমিশনের ব্যাপকতা কমেছে। এদিকে, সিলেটের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ কিছুটা কমেছে। গত দুইদিনে ভর্তির সংখ্যা কমেছে। আইসিইউ’র জন্য লড়াই চলছে। সিলেটে চলমান লকডাউনের আগের ১০ দিনের পরিস্থিতি মোটেও স্বস্তিকর ছিলনা। প্রতিদিনই জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাচ্ছিল রোগীর সংখ্যা। হঠাৎ করেই সিলেটে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যায় কয়েকগুণ। সেইসঙ্গে শুরু হয় মৃত্যুর মিছিলও। এতে করে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সবখানেই উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। এখনো বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে আক্রান্তের হারও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা মনে করছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের তথ্যমতে, গত এক বছরে করোনায় সিলেটে মোট আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে সিলেট জেলাতেই আক্রান্ত বেশি। গত বছরের মার্চ থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত সিলেটে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এরপর আগষ্ট থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল খুবই কম। মৃত্যু ও শনাক্তের হার কমে আসে। কিন্তু গত মার্চ মাস থেকে সিলেটে ফের শুরু হয় করোনার তাণ্ডব। এই তাণ্ডব আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন। এরা ৪ জনই সিলেট জেলার বাসিন্দা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১১৩ জন। যার মধ্যে ৭০ জন সিলেটের। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়ার তরফ থেকে পাঠানো পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেটের ৪টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ১১৩ জন করোনা শনাক্ত হন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ৭০, সুনামগঞ্জের ৪, মৌলভীবাজারের ১৪, হবিগঞ্জে ১০, ওসমানী মেডিকেলে আরো ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। সিলেট জেলায় এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৭১১ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৬৯৮, হবিগঞ্জে ২ হাজার ২৮৪  ও মৌলভীবাজারে ২ হাজার ২৫৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৪১ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১১ হাজার ৫৪১ জন। গত এক বছরে সিলেটে করোনায় মারা গেছেন ৩১৯ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ২৪৯, সুনামগঞ্জের ২৬, হবিগঞ্জের ১৮ ও মৌলভীবাজারের ২৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সিলেটের করোনা হাসপাতালে অনেক আগে থেকেই রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না। সুস্থ হওয়া রোগীদের ছাড়পত্র দিয়ে এখন রোগীদের ভর্তি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আরএমও ডা. সুশান্ত মহাপাত্র। তিনি জানিয়েছেন, তার হাসপাতালে এখন ৮৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৫১ জনই হচ্ছেন করোনা আক্রান্ত। বাকিরা সন্দেহভাজন রোগী। তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসিইউতে রোগীর জায়গা হচ্ছে না। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, সিলেট জেলায় বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী। সবমিলিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০৬ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৮৭ জন, সুনামগঞ্জে ৪ জন, হবিগঞ্জে ১৩ জন, মৌলভীবাজারে ২ জন। এবার বেসরকারি হাসপাতালের বেশিসংখ্যক রোগী করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও রোগীরা ভালো চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। সিলেটের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম আহমদ জানিয়েছেন, ‘আমরা কোনো করোনা রোগীকে ফিরিয়ে দিচ্ছি না। যথাসম্ভব কম মূল্যে বেশি সেবা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামীতেও এ সেবা অব্যাহত থাকবে।’ সিলেটের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলেও ব্যাপকহারে না বাড়ায় সন্তুষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা জানান, লকডাউনের মাঝখানে দুইদিন সংক্রমণ কমেছিল। ওই দুইদিন কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। আর লকডাউনের প্রথমদিন যে পরিস্থিতি ছিল এখনো সেই পরিস্থিতি রয়েছে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় মানবজমিনকে জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি একদিন বাড়লেও আরেক দিন কমে। ফলে এখনই স্বস্তি মিলছে না। আরো অপেক্ষা করতে হবে। তবে, ব্যাপকহারে না ছড়ানোর কারণে সিলেটে আমরা কিছুটা স্বস্তিতে আছি। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

করোনাকালে ঈদ

দরিদ্রদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

১২ মে ২০২১

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

কঠিন বিপদ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

১২ মে ২০২১

ঈদ শুভেচ্ছা

১২ মে ২০২১

ছুটির নোটিশ

১২ মে ২০২১

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২ থেকে ১৪ই মে দৈনিক মানবজমিন অফিস বন্ধ থাকবে। এজন্য ১৩ ...

৮ বছর আগের সেই টুইট পাত্তা দেয়নি কেউ

১২ মে ২০২১

এখন থেকে প্রায় ৮ বছর আগে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন এক টুইটার ব্যবহারকারী। কিন্তু তখন ...

শিক্ষা ঝুঁকিতে ৫৯ লাখ শিক্ষার্থী

১১ মে ২০২১

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাব ব্যাপকভাবে ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

কঠিন বিপদ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া

সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ

DMCA.com Protection Status