এখনো অনিশ্চয়তায় বহু বিদেশগামী

নূরে আলম জিকু

প্রথম পাতা ১৯ এপ্রিল ২০২১, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৩ অপরাহ্ন

আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। আজকের মধ্যে সৌদি আরব পৌঁছাতে না পারলে, আমি শেষ হয়ে যাবো। ১৪ই এপ্রিল রাতে সৌদি থাকার কথা ছিল আমার। অথচ আমি ফ্লাইট ও টিকিট জটিলতার কারণে যেতে পারিনি। এয়ারলাইন্সের অফিসে এসে টিকিটের জন্য অপেক্ষায় আছি। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় যাচ্ছে। সকালে আসছি, এখনো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরিনি। আজ টিকিট না পেলে আমার জীবনটা এলোমেলো হয়ে যাবে।
গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মানবজমিনকে কথাগুলো বলছিলেন পিরোজপুর থেকে আসা সফিজল হক। তিনি বলেন, শনিবার লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট মেলেনি। রোববার সকাল থেকে বাহিরে অপেক্ষা করেছি। তারা গেট খোলেনি। দুপুরের দিকে গেট খুললেও সৌদি প্রবাসীদের ভীড় অনেক বেশি থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। মানুষের মধ্যে ঠেলাঠেলি করে টিকিটের আশায় আছি। ১৯শে এপ্রিল আমার ভিসার সময় শেষ। জানি না আল্লাহ আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যে কি রেখেছেন।
টাঙ্গাইলের নেয়ামুল হক। লকডাউন উপেক্ষা করে গতকাল রাতেই ঢাকায় আসেন। রাত কাটান ফুটপাথে। ভোর থেকেই দুপুর ১০টা পর্যন্ত সোনারগাঁও হোটেলের সামনে অবস্থান করেন। তখনো গেট বন্ধ। নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিস না খুললে ভিতরে প্রবেশ নিষেধ। পরে অফিস খুললে কয়েক সহস্রাধিক লোক একসঙ্গে ভীড় করেন। শুরু হয় টিকিটের জন্য হট্টগোল। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। কয়েকজেনর সহযোগিতায় পাশে নির্মাণাধীন একটি রুমে তাকে শুইয়ে দেয়া হয়। পরে কিছুটা সুস্থ হলে ফের লাইনে দাঁড়ান তিনি।
সরজমিন দেখা যায়, সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসের সামনে অবস্থান করেছেন প্রায় সহস্রাধিক সৌদি প্রবাসী যাত্রী। টিকিটের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। অনেকের ফ্লাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।  কারো এক-দুই দিনের মধ্যে। কারো বা আগামী সপ্তাহে। দেশের চলমান কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে অনেকেই আসছেন তথ্য জানতে। কেউ বা আসছেন লাগেজ হাতে প্রবাসে পাড়ি দেয়ার জন্য। ভীড় থাকায় ইমারেজেন্সি টিকিট প্রয়োজন হলেও পাচ্ছেনা তারা। গতকাল অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কেউ কেউ।
অনেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে কিংবা ভবনের এদিক-ওদিক বিশ্রাম নিচ্ছেন। খোঁজ নিচ্ছেন কোন তারিখের টিকিট দেয়া হচ্ছে। কখন টিকিট দেখা হবে। আদৌ কি সৌদি এলারলাইন্সের টিকিট পাবেন। টিকিট পেলেও ভিসার মেয়াদ থাকতে নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাসে পাড়ি দেয়া সম্ভব হবে কিনা। এসব নিয়ে চিন্তিত প্রবাসীরা। আলাউদ্দিন মাঝি তাদের একজন। তিনি জানান, ,শুক্রবার মধ্যরাতে নোয়াখালী থেকে ঢাকায় এসেছেন। আসার সময় বিভিন্ন স্থানে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ১৫ তারিখে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে যেতে পারেননি। বিশেষ ফ্লাইট চালুর সংবাদ পেয়ে এয়ারলাইন্সের অফিসে আসছেন। গত ২ দিনেও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি দেখা করতে পারেননি। এদিকে, ১৮ই এপ্রিল তার ভিসার মেয়াদ শেষ। তাই শেষদিনেও টিকিটের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তিনি আরো জানান, আগে নৌকার মাঝি ছিলেন। গ্রামের প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ৩ বছর আগে সৌদি আরব গেছেন।  চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে তিনি দেশে আসছেন। চলতি মাসের ১৫ই এপ্রিল তার ছুটি শেষ। ১৬ তারিখে চাকরিতে যোগ দিয়ে নতুন করে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর কথা। করোনা পরিস্থিতি আর লকডাউনের কারণে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার প্রবাসে যাওয়া আটকে গেছে। বিকালের মধ্যে টিকিট না পেলে আর সৌদি যাওয়া হবে না। মানুষের ধারের টাকা শোধ করতে জায়গা জমি বিক্রি করতে হবে। একটু সুখের জন্য বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসছি। আমার স্বপ্ন আর পূরণ হবে না।
টিকিটের অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী যাত্রীরা জানান, বিদেশ যাত্রা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় পড়েছেন তারা। সৌদি থেকে ফেরার সময় রিটার্ন টিকিট কেটেও এখন তারা সংকিত। বিশেষ ফ্লাইট চালু হলেও প্রবাসী যাত্রীদের তুলনায় তা খুব নগণ্য। এর ফলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ একজনের স্থানে অন্যজনকে টিকিট দিচ্ছেন। এতে যারা ২/৩ দিন পরে বিদেশ যাবেন তারা সেই নির্দিষ্ট দিনের টিকিট পাচ্ছেনা। এতে আটকে আছে তাদের প্রবাস যাত্রা। তাদের দাবি সৌদি আরবে লকডাইন নেই। সেখানে বিভিন্ন দেশে থেকে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করে। বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত ফ্লাইট চালু না করা হলে আগামী এক সপ্তাহে অর্ধলক্ষাধিক প্রবাসী যাত্রী আটকা পড়বেন। গত কয়েকদিনে ১০ হাজারে বেশি প্রবাসী দেশে আটকে গেছেন। তাদের বেশিরভাগের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। প্রবাসী যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, গত দুইদিনে সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসে টিকিটের জন্য আসা প্রবাসী যাত্রীদের ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষ দিকে। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সৌদি পৌঁছতে চান তারা।
চাঁদপর থেকে আসা মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, আমার ২০ তারিখে ফ্লাইট। আমার ফ্লাইট ঠিক আছে কিনা জানতে আসছি। এখন আমি অনিশ্চয়তায় দিনপার করছি। ঢাকায় এসে দেখি নির্দিষ্ট দিনের ফ্লাইটে কেউ যেতে পারছে না। আমার ভিসার মেয়াদ ২৫ তারিখে শেষ হবে। এর আগে সৌদি যেতে না পারলে বিপদে পড়ে যাবো।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

SJ

২০২১-০৪-১৮ ২০:২০:১১

বাংলাদেশ নগদ লাভে অতীত ও ভবিষ্যত ভুলে গিয়ে ক্ষতি ডেকে আনে।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে

৯ মে ২০২১

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া

সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ

৯ মে ২০২১

প্রণোদনা নিয়েও গার্মেন্টের ২৫ ভাগ কর্মী ছাঁটাই

৯ মে ২০২১

করোনা মহামারির শুরুতে শ্রমিকের বেতন বাবদ প্রণোদনা নিয়েও ২৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে পোশাক কারখানাগুলো। ...

সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়লো আরো ১৪ দিন

৯ মে ২০২১

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত বন্ধের মেয়াদ আরো ১৪ দিন বাড়ানো হয়েছে। শনিবার পররাষ্ট্র ...

ঘরমুখো মানুষ

৮ মে ২০২১



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status