রমজানের চাঁদ দেখা গেছে রোজা শুরু কাল

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (৬ মাস আগে) এপ্রিল ১৩, ২০২১, মঙ্গলবার, ৭:০২ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

পবিত্র রমজান মাসের ১৪৪২ হিজরি সনের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে রোজা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে রোজার আনুষ্ঠানিকতা। এশার নামাজের পর তারাবি পড়বেন রোজাদাররা। শেষ রাতে সেহেরি খেয়ে রোজা রাখবেন তারা। তবে করোনা মহামারি কারণে অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় এবার শুরু হচ্ছে রোজা। আগামীকাল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হচ্ছে।
ফলে ওয়াক্তের নামাজসহ তারাবির জামাতে ২০ জনের বেশি মুসল্লি অংশগ্রহণে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২১-০৪-১৩ ০৭:৪৬:১৪

আহলান সাহলান মাহে রমাদান। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও সিয়াম সাধনার মাস আমাদের সামনে এসে হাজির হয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো সিয়াম পালনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ও বৈষয়িক উন্নতির সুযোগ হাতছাড়া না করা। রোজা অতীতের প্রত্যক উম্মতের ওপর ফরজ ছিলো। আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে আয়াত নাজিল করে আমাদের ওপর রোজা পালনের আদেশ জারি করেন। ইরশাদ হচ্ছে, "হে ঈমানদার লোকেরা তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে তেমনিভাবে পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ ছিলো। যেনো তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।" সূরা আল বাক্কারা-১৮৩। আল্লাহ তায়ালা ইনসাফের মূর্ত প্রতীক। তিনি দয়াময়। কারো সামর্থ্যের বাইরে তিনি তাঁর বিধান চাপিয়ে দেননা। তাই অক্ষম ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ নয়। ইরশাদ হচ্ছে, "রোজা কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনের জন্য। কেউ যদি সেদিন গুলোতে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে সে সমপরিমাণ রোজা পরবর্তীতে আদায় করে নেবে। যারা একেবারে অক্ষম তাদের জন্য এর বিনিময়ে ফিদিয়া থাকবে। তা হচ্ছে একজন গরীব মানুষকে তৃপ্তি সহকারে খাবার খাওয়ানো। অবশ্য কোনো লোক যদি এর চেয়ে ভালো কিছু করতে চায় তার জন্য সেটা কল্যানকর। তবে তোমরা যদি রোজা রাখতে পারো তবে সেটাই তোমাদের জন্য ভালো, তোমরা যদি রোজার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে!" সূরা আল বাক্কারা-১৮৪। রোজার সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ হলো মহাগ্রন্থ আল কুরআন। বস্তুত কুরআন মজিদ মানব জাতির সকল সমস্যার সমাধান বাতলে দেয়। এই রমাদান মাসেই কুরআন নাজিল হয়েছে। তাই এ মাসে বেশি বেশি কুরআনের চর্চা করা আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "মাহে রমাদান! এ মাসেই কুরআন নাজিল করা হয়েছে। আর এ কুরআন মানব জাতির জন্য পথের দিশা, সৎ কাজের সুস্পষ্ট নিদর্শন, হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে সে রোজা রাখবে। যদি সে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে সে পরবর্তীতে সমপরিমাণ দিন পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের আহসান করে দিতে চান।আল্লাহ তায়ালা কখনো তোমাদের কঠিন করে দিতে চাননা। আল্লাহর উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমরা যেনো গুনে গুনে সংখ্যাগুলো পূরণ করতে পারো। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যে পদ্ধতি শিখিয়েছে সে জন্য তোমরা তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারো।" সূরা আল বাক্কারা-১৮৫। রোজার কল্যান অপরিসীম। হাদিসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে, "আল্লাহ বলেন, বনি আদম সন্তানের প্রত্যেক আমলের সওয়াব দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। তবে রোজা এর ব্যতিক্রম। কারণ, বান্দা রোজা আমার জন্যেই পালন করে, তাই আমি নিজে এর প্রতিদান দেবো।" সহিহ মুসলিম হাদিস নংঃ১৫৮। কিন্তু, রোজা রাখা অবস্থায় কোনোও নিন্দাসূচক কাজ করলে সব অর্জন বিফল হয়ে যাবে। রোজা কেবল উপোস থাকার নাম নয়। "হজরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসুল সা. এরশাদ করেছেন, কতক রোজাদারের সারা দিন উপোস থাকা ছাড়া আর কোনো লাভ হয় না এবং অনেক রাতের নামাজ আদায়কারীর জাগ্রত থাকা ভিন্ন কোনো ফায়দা হয় না। নাসায়িঃ৩২৩৯। মিথ্যা বলা, পরনিন্দা করা, গীবত করা, হিংসা করা, ঝগড়া বিবাদ ও মারামারি করা, জেনা ব্যভিচার ইত্যাদি সকল প্রকার অন্যায় ও অশ্লীল কাজ রোজার মাহাত্ম্য খর্ব করে দেয়। সুতরাং, রোজা রাখা অবস্থায় আত্মসংযমী হওয়া আবশ্যক। রোজার রয়েছে এক বিশাল শারীরিক উপকারিতা। এবং এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও রয়েছে। ১৭৬৯ সালে মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডঃ পিটার ভেনিয়ামিনভ রোজা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। সেই রিপোর্টে তিনি মানুষকে রোজা রাখার উপদেশ দেন। তার যুক্তি ছিল রোজার কারণে পরিপাকতন্ত্র একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশ্রাম পায়। ফলে সুস্থ হবার পর তা ঠিক মতো নিজের কাজ চালাতে পারে। মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডঃ পিজি স্পাসকি বলেন, রোজার মাধ্যমে কালাজ্বর ও শরীরের অন্যান্য পুরাতন রোগ কোন মেডিসিন ছাড়াই ভালো হয়ে যায়। জার্মান ডাক্তার ফেডারিক হ্যানিম্যান বলেন, রোজার মাধ্যমে মৃগী রোগ ও আলসারের চিকিত্‍সা করা যায়। এছাড়াও পেটের অসুখ, অজীর্ণ, বদহজম, গ্যাস্ট্রিকের চিকিত্‍সাও করা যায়। ইতালির বিখ্যাত শিল্পী মাইকেল এঞ্জেলা ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। ৯০ বছর পার হবার পরও তিনি কর্মক্ষম ও কর্মঠ ছিলেন। এর রহস্য জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'আমি বহু বছর আগে থেকে মাঝে মাঝে রোজা রেখে এসেছি। আমি প্রত্যেক বছর এক মাস ও প্রতি মাসে এক সপ্তাহ রোজা পালন করতাম। এতেই প্রতীয়মান হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার তথা কুরআন মজিদের বিধান মানব জাতির কল্যানের জন্য নাজিল করা হয়েছে। এই রমাদান মাসেই রয়েছে একটি রাত। এই রাতের ফজিলত ও মর্যাদা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। কুরআনের বাচনভঙ্গি থেকে বুঝা যায় হাজার মাসের উপমা প্রয়োগ করে এর অসীম নেয়ামতের গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে মাত্র। আসলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লাই ভালো জানেন এ রাতের মর্যাদা কতোটা অসীম। ইরশাদ হচ্ছে, "আমি এটি (কুরআন) নাজিল করেছি এক মর্যাদাপূর্ণ রাতে। তুমি কি জানো সেই রাতটি কি? মর্যাদাপূর্ণ এ রাতটি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও 'রূহ' তাদের রবের সব রকমের আদেশ নিয়ে অবতরণ করে। ঊষার আবির্ভাব হওয়া পর্যন্ত শুধু প্রশান্তি বিরাজমান থাকে।" সূরা আল ক্কাদরঃ১-৫। শবে কদরের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে রয়েছে, হজরত আবু হোরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. এরশাদ করেন, "যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত কর। রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে তবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে। সহিহ বুখারি, হাদিস নংঃ৬৭২। হাদিস থেকে জানা যায় লাইলাতুল ক্কদর রোজার শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতে হবে। "একদা হযরত উবায়দা রা. নবী করীম সা. কে লাইলাতুল কদরের রাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তখন নবীজী সেই সাহাবিকে বললেন রমজানের বেজোড় শেষের দশ দিনের রাতগুলোকে তালাশ করো।" সহিহ বুখারি, হাদিস নংঃ২০১৭। অতএব রোজার শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে আমরা লাইলাতুলক্কদর তালাশ করতে যেনো ভুল না করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রমাদান মাসের পুরোপুরি ফজিলত অর্জন করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status