বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ১৩ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৯ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবের এই সময়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের নতুন সংকট নিরসনে বিশেষ করে করোনাভাইরাসের মতো অদৃশ্য শত্রুর মোকাবিলায় শান্তিরক্ষীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আয়োজিত অনুশীলন ‘শান্তির অগ্রসেনা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে দেয়া প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভার্চ্যুয়ালি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুশীলন শান্তির অগ্রসেনা’র ওপরে অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ স্বাগত ভাষণ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সেনাপ্রধান অংশগ্রহণকারী চার দেশ বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার অংশগ্রহণকারী ১২৩ জন সেনা সদস্যদের পক্ষে প্রত্যক দেশের দু’জন করে সেনা সদস্যকে অনুষ্ঠানে সনদপত্র প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি শান্তিরক্ষীদের প্রাণহানির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এ যাবৎ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীগণের মধ্যে ১৫৮ জন প্রাণ উৎসর্গ করেছেন এবং ২৩৭ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অপারেশনে আগামী দিনের নতুন সংকটগুলো মোকাবিলায় শান্তিরক্ষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদি দিয়ে প্রস্তুত করা এখন সময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাভাইরাসের মতো অদৃশ্য শত্রুর আবির্ভাব, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার এবং সময়ের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন হুমকির উপাদান সৃষ্টি হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, ‘অনুশীলন শান্তির অগ্রসেনা’য় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সাম্প্রতিক সময়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কিছু ঘটনা অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে করে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমাদের ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষীরা সুপ্রশিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে। এই অনুশীলনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অপারেশনে নারীদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮শ’ নারী শান্তিরক্ষীসহ ১ লাখ ৭৫ হাজারের অধিক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৫টি মহাদেশের ৪০টি দেশের ৫৪টি মিশনে অংশগ্রহণ করেছে। বর্তমানে ৭ হাজারের অধিক বাংলাদেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য ১০টি মিশনে শান্তিরক্ষার উদ্দেশ্যে মোতায়েন আছে। তিনি বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীগণ যে মিশনেই গেছেন, সেখানে জাতিসংঘের পতাকাকে সমুন্নত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করেছেন। এ কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘অনুশীলন শান্তির অগ্রসেনা’ আয়োজন করেছে। আমি উল্লেখ করতে চাই- যে সকল বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র অনুশীলনটিতে অংশগ্রহণ করেছে, সেসব দেশের প্রধানমন্ত্রীগণ আমাদের সরকারের আমন্ত্রণে মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আমাদের আরো গর্বিত ও মহিমান্বিত করেছেন। আমি ‘অনুশীলন শান্তির অগ্রসেনা’য় অংশগ্রহণকারী অতিথি সামরিক সদস্যদের মাধ্যমে আপনাদের দেশের সরকার এবং বন্ধুপ্রতিম জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। নিশ্চয়ই আপনাদের মাধ্যমে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো সমৃদ্ধ হবে। যেকোনো দেশের জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী অপরিহার্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সক্ষমতা যাচাইয়ে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশে একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি অত্যাধুনিক সামরিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি বলেন, গত ১২ বছরে আমরা আমাদের তিন বাহিনীর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছি। আমাদের সামরিক বাহিনীতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তির সংযোজন করেছি। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিরসনে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। মহামারির সময়েও ৫ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি এবং বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতি সম্প্রতি ভারত সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ‘গান্ধী শান্তি ’পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এসব পুরস্কার বাংলাদেশের জনগণের পাশাপাশি বিশ্ব মানবতার শান্তি ও সমৃদ্ধিতে জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের স্বীকৃতি বহন করে। ভারত সরকারকে এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

পুণ্যময় রজনী লাইলাতুল কদর

৯ মে ২০২১

আজ ছাব্বিশতম রমজান। পুণ্যময় রজনী লাইলাতুল কদর। রমজান মাসের শেষ দশকের কোনো না কোনো বেজোড় ...

বিশিষ্ট নাগরিকদের সংবাদ সম্মেলন

ঈদের আগে কারাবন্দি ছাত্রদের মুক্তি দাবি

৯ মে ২০২১

গবেষণায় আরো তথ্য

ফুসফুস আক্রান্তের পাশাপাশি রক্তও জমাট বাঁধায়

৯ মে ২০২১

করোনাভাইরাস শুধু ফুসফুসকে মারাত্মকভাবে অকেজোই করে দেয় এমন নয়। একই সঙ্গে এই ভাইরাস প্রাণঘাতী হয়ে ...

‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন নেই’

৯ মে ২০২১

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এ মুহূর্তে বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের ...

করোনায় আরো ৪৫ জনের মৃত্যু

৯ মে ২০২১

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে ...

ঈদের আগে দূরপাল্লার গণপরিবহন চালুর দাবি

৯ মে ২০২১

ঈদের আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ ...

একদিনে শনাক্ত ১৬৮২

মৃত্যু কমেছে

৮ মে ২০২১

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৩৭ জনের মৃত্যু  হয়েছে। এ নিয়ে সব মিলিয়ে করোনায় মারা ...

আত্মসংশোধনের মাস রমজান

৮ মে ২০২১

আজ পঁচিশ রমজান। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ঘোষণা করেন যে, আল্লাহ্‌ পাক তোমাদের চোখের চুরি ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



বিশ্বনাথে সুমেল হত্যা

‘ঘাতক’ সাইফুলের দুই পাসপোর্ট জব্দ

বিটিসিএল কর্মকর্তা সুমনের মৃত্যু

সাড়ে তিন মাসেও রহস্যের কিনারা হয়নি

DMCA.com Protection Status