পরিবেশ রক্ষায় হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

সোলায়মান তুষার

শেষের পাতা ৮ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১০ অপরাহ্ন

পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। খারিজ করে দিয়েছেন রিট পিটিশন। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। জানা যায়, রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় নজরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে আলকাতরা ও ন্যাপথলিন নামক পদার্থ  উৎপাদন করে আসছিলো।

স্টিচওয়েল ডিজাইন লিমিটেডের (গার্মেন্টস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন এবং এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ আলকাতরার বাই প্রোডাক্টসের গন্ধে পরিবেশ দূষিতকরণ এবং গার্মেন্টসের বিদেশি গ্রাহক আলকাতরার দুর্গন্ধজনিত ক্ষতির কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরে দরখাস্ত করেন। এর প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোপলিটন অফিস ২০১৬ সালের ৮ই ডিসেম্বর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২২শে ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন দেন। তাতে আলকাতরা ও ন্যাপথলিনের উদ্ভট গন্ধ অনুভূত ও কারখানার বিরুদ্ধে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনের অভিযোগ করেন। এ ছাড়া আলকাতরা কারখানা সংলগ্ন গার্মেন্টস কারখানার আলকাতরা ও ন্যাপথলিনের উদ্ভট গন্ধে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও অবস্থানরত অন্যদের স্বাস্থ্যহানি সহ ও অসুবিধা সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন।
এর প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ১০ই জানুয়ারির মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র কেন বাতিল করা হবে না সেজন্য নজরুল ব্রাদার্সকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়। নজরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স সঠিকভাবে  পরিবেশ অধিদপ্তরের দেয়া বিভিন্ন নির্দেশনা পালন না করায় পরিবেশ অধিদপ্তর সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটিকে ২০১৭ সালের ১লা নভেম্বর শর্ত পালন না করলে ছাড়পত্র বাতিল হবে বলে সতর্ক করে দেয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের দেয়া বিভিন্ন নির্দেশনা পালন না করার কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর অফিস ২০১৮ সালের ১১ই জুন একটি মেমোর দ্বারা আলকাতরা কারখানাটির অনুকূলে দেয়া পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন করার অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেন।  আলকাতরার বাই প্রোডাক্টস হিসাবে উৎপন্ন ন্যাপথলিনের গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কার্যকরী প্রযুক্তি ব্যবস্থা স্থাপন ও অত্র দপ্তর কর্তৃক কার্যকারিতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। নজরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে উক্ত আদেশটি চ্যালেঞ্জ করে  রিট পিটিশন নং-৮৬৪৪/২০১৮ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে স্টিচওয়েল ডিজাইন লিমিটেডের পক্ষে তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন ৬ নং প্রতিপক্ষ (রেসপনডেন্ট) হিসেবে পক্ষভুক্তির দরখাস্তের মাধ্যমে পক্ষভুক্ত হন। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে শুনানি করেন। হাইকোর্ট বিভাগ, রিট পিটিশনার কর্তৃক বিশেষত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ এর ১৪ নম্বর ধারায় বর্ণিত বিধিবদ্ধ আপিল না করায় এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে আপিল না করার কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করায় বর্ণিত আইনের ১৪ ধারা এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত রায় যা ৪৪-ডিএলআর (এডি)-৩০৫ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত রায় এবং অন্যান্য অসংখ্য রায় পর্যালোচনা ও নির্ভর করে মাননীয় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের এ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠিত নীতির আলোকে রিট পিটিশনটি অচল মর্মে অভিমত প্রকাশ করেন। এ ছাড়া পরিবেশ সংক্রান্ত এবং মানুষের জীবন রক্ষার্থে কিছু নীতিমালা ও বিধানাবলী সংবলিত মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রায় ৫৫-ডিএলআর-৬৯ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত রায়ে বর্ণিত নীতিমালার আলোকেও রিট পিটিশনটি খারিজ করে দিয়ে ২০২০ সালের ২২শে নভেম্বর রায় প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই  রায়ের বিরুদ্ধে নজরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ পিটিশন নং-৩৪০/২১ দায়ের করেন। যা স্থিতাবস্থা সহ বিচারাধীন আছে। রিট পিটিশনারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তার সঙ্গে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার মাহবুব সফিক ও এডভোকেট আজিজুল বাসার। ৬ নং প্রতিপক্ষের (রেসপনডেন্ট) পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট এম. খালেদ আহমেদ। তার সঙ্গে সহায়তা করেন এডভোকেট মৃদুল দত্ত এবং সরকার পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী মামলা পরিচালনা করেন। স্টিচওয়েল ডিজাইন লিমিটেডের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী  আইনজীবী এডভোকেট এম. খালেদ আহমেদ মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের সার্বিক দিক উল্লেখ করে বলেন, যেকোনো বিবেচনায় রায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য এবং করোনাকালীন সময়ে তেজগাঁও এলাকার  সর্বসাধারণের স্বাস্থ্যরক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে আলকাতরা কারখানাটি  অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। নজরুল অ্যান্ড ব্রাদার্সের পক্ষে রিট পরিচালনাকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব সফিক বলেন, আমরা এখনো রায়টি হাতে পাইনি। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করাটা ঠিক হবে না। নজরুল অ্যান্ড ব্রাদার্সের পক্ষে বর্তমানে মামলা পরিচালনাকারী এডভোকেট সারোয়ার আহমেদ বলেন, আইন অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপ-পরিচালক। এটা আইন অনুযায়ী হয়নি। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকলেও আপিল না করায় রিটটি চলে না বলে হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দেন। আপিল চলাকালে আলকাতরা উৎপাদনে কোনো আইনি বাধা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

পহেলা বৈশাখ আজ

১৪ এপ্রিল ২০২১

আরো ৬৯ জনের মৃত্যু

১৪ এপ্রিল ২০২১

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সেনা নামানোর পরামর্শ সিপিডি’র

১৩ এপ্রিল ২০২১

মহামারি করোনাভাইরাস রোধে আসন্ন লকডাউনে শিল্প-কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ...

ওয়াক্ত ও তারাবির নামাজে ২০ জনের বেশি মুসল্লি নয়

১৩ এপ্রিল ২০২১

মসজিদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ছাড়া ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status