দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

কাজী সোহাগ

এক্সক্লুসিভ ৮ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫১ অপরাহ্ন

দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্য নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি আফ্রিকা মহাদেশে বাংলাদেশের কয়েকটি নতুন দূতাবাস খোলা হয়েছে এবং বর্তমানে এ মহাদেশে বাংলাদেশের ৯টি আবাসিক দূতাবাস রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় ১৩টি দেশের মধ্যে শুধু ব্রাজিলে বাংলাদেশের আবাসিক দূতাবাস রয়েছে। তবে আফ্রিকার ৯টি দেশ ও দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে বাংলাদেশের আবাসিক দূতাবাসসমূহের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় সমবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত বেশ কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যাদের সঙ্গে বাংলাদেশের দূতাবাসসমূহের সীমিত আকারে যোগাযোগ আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে-এই দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক যেমন- বাণিজ্য, বিনিয়োগ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য বিষয়গুলো ছাড়াও কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের বিষয়ে আমাদের যোগাযোগ বাড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ কৃষিক্ষেত্রে সন্তোষজনক উন্নতি সাধন করেছে।
জনসংখ্যার তুলনায় স্বল্প জমিতে কৃষিকার্যের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন তারই প্রমাণ। অথচ পৃথিবীতে বহু দেশ রয়েছে যেখানে জনসংখ্যা কম, আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রচুর এমনকি বহু উর্বর জমি লোকবলের অভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে এ রকম বেশকিছু দেশ রয়েছে যেখানে উপযুক্ত লোকবল নিয়োগ করলে সেই দেশসমূহের আবাদযোগ্য জমিকে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে সদ্ব্যবহার করা সম্ভব। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আপেক্ষিক গুরুত্ব বিবেচনায় আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশসমূহ কম অগ্রাধিকার পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-কোভিড মহামারির কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য বিনিয়োগ ও অনুরূপ সম্পর্ক যথেষ্ট বাধাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোভিড সমস্যা উত্তরণের পরও ক্ষতির প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব বেশ কিছুদিন পর্যন্ত বিরাজমান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশের একটা নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় পর্যালোচনা করা যেতে পারে তা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, মরিশাসে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের মতে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের বিষয়টি তার অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিলম্ব হলেও এখনো সময় আছে। এই দেশসমূহে তারা বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে। দেশগুলো বিশেষ করে মরিশাস, সেনোল ও কোমোরস আয়তনে ও লোকসংখ্যায় ক্ষুদ্র হলেও আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার রয়েছে। এই তিনটি দেশে তারা বিদেশি বিনিয়োগ ও কন্ট্রাক্ট ফার্মিংকে উৎসাহিত করে। এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক, বিদেশি বিনিয়োগের পরিস্থিতি সহজতর এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভাবনাময়। তাছাড়া দেশগুলো আফ্রিকার আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য বিধায় তারা কর্পোরেট ট্যাক্স মুক্ত। উল্লেখ্য, মরিশাস ও সেনোলের মাথাপিছু আয় বেশি হলেও তাদের খাদ্য উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত এবং তারা খাদ্য, শাকসবজি ও ফলমূল উচ্চমূল্যে অন্য দেশ থেকে আমদানি করে। কোমোরস একটি ক্ষুদ্র ও স্বল্পোন্নত দেশ এবং তারা বিদেশি বিনিয়োগে উৎসাহী ও বিনামূল্যে ৯৯ বছরের জন্য জমি ইজারা দিতে প্রস্তুত। মাদাগাসকার আয়তনে বড় দেশ হলেও তা স্বল্পোন্নত এবং বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরিশাস ও তার সমবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনটি দেশে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মরিশাসস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকেও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আহ্বান করা যেতে পারে। এতে আরো বলা হয়, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় দশ বছর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ কন্ট্রাক্ট ফার্মিংসহ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আইভরী কোস্ট, লাইবেরিয়া, সেনেগাল ও ঘানা সফর করেন এবং সফরে প্রাপ্ত তথ্যসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে মতামত দেন যে-এই দেশগুলোতে ধান, গম, তুলা, কোকো, কফি ইত্যাদি কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে লাভজনকভাবে চাষ করার সুযোগ রয়েছে। তারা আরো জানান যে, গবাদি পশুপালন, মাছচাষ, ফলমূল চাষেরও সুযোগ রয়েছে। এই সফরের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দেয়। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/মন্ত্রণালয়সমূহ, বিনিয়োগকারী, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইত্যাদির সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করা এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সফর করা, সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর করা ইত্যাদি। রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ সম্প্রতি জানান যে, সুদানে ও জাম্বিয়ায় কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের ক্ষেত্রে দেশগুলো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিলি, ব্রাজিল আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, পানামা, জামাইকা ও কলম্বিয়া সফর করেন। সেই সময় ল্যাটিন আমেরিকায় বাংলাদেশের কোনো আবাসিক দূতাবাস ছিল না। বর্ণিত সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিবৃন্দ উক্ত দেশগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কৃষি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপন ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা করেন ও সুপারিশমালা প্রণয়ন করেন। তার কয়েক বছর পর ব্রাজিলে বাংলাদেশের আবাসিক দূতাবাস পুনঃস্থাপন করা হয় ও মেক্সিকোতে বাংলাদেশের নতুন আবাসিক দূতাবাস খোলা হয়। ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা অপেক্ষাকৃত কম সময়ের জন্য হয়েছে। বিধায় সেখানে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের ব্যাপারে এখনো কোনো সম্ভাবনাময় সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এই ব্যাপারে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থান ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো জানা যেতে পারে। ব্রাজিল ও মেক্সিকোতে বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুরূপ তথ্যসমূহ জানা যেতে পারে। তার পরিপ্রেক্ষিতে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়-আফ্রিকা মহাদেশ ও ল্যাটিন আমেরিকার যে দেশগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করেন, তারা মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদেরকে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের কাজে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এই ব্যাপারে ব্রাজিল ও মেক্সিকোতে বাংলাদেশের দূতাবাসকে তাদের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকার দেশগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে ও সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত রিপোর্ট দেয়ার জন্য জানানো যেতে পারে। এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য অনুসারে সুদান ও জাম্বিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ করা যেতে পারে। সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এরইমধ্যে তারা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Nasim Ali

২০২১-০৪-০৮ ০৯:৩৫:৩১

I am very proud. I want to invest agriculture perpose.

আনিস উল হক

২০২১-০৪-০৭ ১৯:২৮:৫২

খুবই ইতিবাচক ভাবনা।

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

এসএসসি’র রেজিস্ট্রেশন

দুই থেকে তিনগুণ অর্থ আদায়

১৪ এপ্রিল ২০২১

বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষার ফল শিগগিরই

এ বছরই পরবর্তী এমসিকিউ পরীক্ষা

১৪ এপ্রিল ২০২১

আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষার ফল শিগগিরই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ ...

‘বোঙার’ মহিষ নিয়ে সিলেটে তোলপাড়

১৩ এপ্রিল ২০২১

‘বোঙার’ মহিষ নিয়ে সিলেটে তোলপাড় চলছে। এক সপ্তাহ ধরে হচ্ছে নানা নাটকীয়তা।  চোরাই পথে আনা ...



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status