খাগড়াছড়িতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ সপ্তাহ আগে) এপ্রিল ৬, ২০২১, মঙ্গলবার, ১১:৩৩ অপরাহ্ন

খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ও তাইন্দং এলাকাস্থ শুকনাছড়ি, ইসলামপুর, লাইফুপারা ও পংবাড়ী এলাকায় গত রবিবার ও সোমবার স্থানীয় বাঙালিদের ওপর ইউপিডিএফ (প্রসিত) দলের সন্ত্রাসীরা নৃশংস হামলা করেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। বাঙালিদের আশঙ্কা সেখানে সেনাক্যাম্প পুনর্বহাল না করা হলে যে কোনো মুহূর্তে আবারও হামলা হতে পারে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এ সন্ত্রাসী দলটি স্থানীয় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি এবং বাঙালিদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে আসছিল। এর চূড়ান্ত রূপ নেয় গত রবিবার। এদিন আনুমানিক সকাল সাড়ে দশটার দিকে লাইফুকারবারি পাড়া এলাকায় কচু ক্ষেতে কর্মরত ২০ থেকে ২৫ জন বাঙালিকে আকস্মিকভাবে ১২ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঘেরাও করে মারধর করে এবং ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় চারজন স্থানীয় বাঙালি গুরুতর আহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

এরপর গত সোমবার সন্ত্রাসীরা সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আবার বাঙালি গ্রামে প্রবেশ করে বাঙালিদের বেধড়ক মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। একই দিনে রাত ৯ টার দিকে আবারও বাঙালি গ্রামে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী হানা দেয় এবং বাঙালিদের মারধর ও ঘরবাড়ি হতে বের করে দেয়। পরে খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মুসলিমপাড়া, ইসলামপুর, শুকনাছড়িসহ আশে পাশের গ্রাম থেকে বাঙালিরা একত্রিত হয় তাইন্দং বাজারে এবং তারা ধাওয়া দিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মুসলিমপাড়ার পংবাড়ী এলাকার বাঙালি মফিজ মিয়ার দখলীকৃত সেগুন বাগানের তিন শতাধিক সেগুন গাছ কেটে দেয়। এরপর নিরীহ আনু মিয়ার চায়ের দোকান রাত সাড়ে ১২ টার সময় পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে তবলছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি।
স্থানীয় বাঙ্গালিরা মনে করেন, সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে পাহাড়ে এই সন্ত্রাসী দলের হামলা বেড়েছে। পাহাড়ে বর্তমানে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে বাঙালিদের ওপর হামলা করার সাহস পাচ্ছে।
 প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ২৪০টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়। জানা যায়, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও পেট্রোলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আজ স্থানীয় সংসদ সদস্য, রিজিয়ন কমান্ডার, জোন কমান্ডার ও জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Mahmud

২০২১-০৪-০৬ ১৭:৫৮:৫৭

আপনারা পরিদর্শন করতে থাকুন আর ক্ষমতা ও ভোগ বিলাসের জন্য প্রভুদের পা চাটতে থাকুন।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

রিজভী করোনামুক্ত

১৭ এপ্রিল ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



রণক্ষেত্র বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র

শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ৫

করোনায় আক্রান্ত পুরো পরিবার

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

DMCA.com Protection Status