মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ৫ এপ্রিল ২০২১, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

লকডাউনের প্রতিবাদে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন রাজধানীর নিউমার্কেটসহ আরো কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে দোকান মালিকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা গুলিস্তান থেকে ধামরাইগামী সাহদাত পরিবহনের একটি বাসসহ ৩টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ছাড়াও মৌচাক এলাকার একাধিক মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও লকডাউনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সেখানে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী, দোকান মালিক ও পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে নিউমার্কেট সড়কে ‘লকডাউন চাই না, দোকান খোলা রাখতে চাই,’ লেখা একটি ব্যানার নিয়ে নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নূর ম্যানশন ও ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের আট শতাধিক ব্যবসায়ী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি নিউমার্কেট থেকে শুরু হয়ে ঢাকা কলেজ ঘুরে আবার নিউমার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ দোকান মালিক ও কর্মচারীরা সড়কে বসে পড়েন এবং লকডাউন বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
তাদের অবরোধের কারণে দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। খবর পেয়ে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত হয়। পুলিশ তাদের সড়ক ছেড়ে পাশে অবস্থান করতে বলেন। এ সময় দোকান মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ঘটে। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ব্যবসায়ীরা পুলিশকে ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ব্যবসায়ীদের ধাওয়া খেয়ে পুলিশ ঢাকা কলেজের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে আরো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরে পুলিশ ব্যবসায়ীদের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষুব্ধ দোকান মালিক ও কর্মচারীরা একটি বাসসহ তিন গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয়পক্ষের সংঘর্ষের কারণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। নিউমার্কেট এলাকার সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন ওই সড়কে চলাচলকারী পথচারীরা। সংঘর্ষের কারণে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ যান চলাচলের জন্য সড়ক উন্মুক্ত করে দেয়।  
হাজী ফ্যাসনের মালিক মো. শামসুদ্দীন জানান, গত বছরের লকডাউনে আমরা ঋণগ্রস্ত হয়েছি। পরিবার ও পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে ছিলাম। এবার সরকার লকডাউন দিয়েছে বলে এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা সড়কে নেমে এসেছেন। আমরা লকডাউন চাই না।
সবুজ নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিলাম। পুলিশ এসে আমাদের ওপর হামলে পড়ে। তিনি আরো জানান, লকডাউনে আমরা ৪ ঘণ্টা মার্কেট খোলা রাখতে চাই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি বইমেলা চলতে পারে তাহলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা কেন ব্যবসা চালাতে পারবো না- প্রশ্ন রাখেন তিনি।
নিউমার্কেটের ফুটপাথের ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, গত লকডাউনে পুলিশ আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। আমার পরিবার গ্রামে চলে গেছে। আর আসতে পারেনি। এবার লকডাউন দিলে আবার একই অবস্থা হবে। আমরা লকডাউন চাই না।
এ বিষয়ে পুলিশের নিউমার্কেট অঞ্চলের এডিসি ইহসানুল ফেরদৌস জানান, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হয়। তিনি আরো বলেন, পরে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আর উত্তপ্ত না হয় এজন্য পুলিশ ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে।
এদিকে, একই দাবিতে রাজধানীর একাধিক মার্কেটের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী লকডাউনের প্রতিবাদে  মৌচাক মোড়ে অবস্থান নেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন ওই সড়কে যাতায়াতকারী পথচারীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রমনা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

পহেলা বৈশাখ আজ

১৪ এপ্রিল ২০২১

আরো ৬৯ জনের মৃত্যু

১৪ এপ্রিল ২০২১

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সেনা নামানোর পরামর্শ সিপিডি’র

১৩ এপ্রিল ২০২১

মহামারি করোনাভাইরাস রোধে আসন্ন লকডাউনে শিল্প-কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ...

ওয়াক্ত ও তারাবির নামাজে ২০ জনের বেশি মুসল্লি নয়

১৩ এপ্রিল ২০২১

মসজিদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ছাড়া ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status