পিএইচডির গল্প (২)

আল্লাহর ফয়সালা ছিল অন্যরকম

আসিফ নজরুল

বই থেকে নেয়া ২৬ মার্চ ২০২১, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৪০ অপরাহ্ন

আমি ছিলাম দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অথচ ততোটা দরিদ্র হওয়ার কথা ছিল না আমাদের। বাবা বাংলাদেশ বেতারে প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করতেন। গর্ব করে নিজেকে বলতেন ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার। তবু আমরা দরিদ্র জীবন যাপন করতাম বাবার অতি মিতব্যয়ী ও ভীতু স্বভাবের কারণে। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি টাকা জমা রাখতেন। সামান্য টাকায় চলতো ছয় ভাইবোন সহ আমাদের আটজনের পরিবার।
এমন একটা পরিবারেও ছিল নানা বৈষম্য।
বড় ভাই অসাধারণ মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেজন্য তার ছিল ভিআইপি ধরনের মর্যাদা। সে আমার মায়ের অতিপ্রিয়, আর ছোটভাই বাবার। মেঝ বোন দেখতে দাদীর মতো, এজন্য বাবার কাছে ছিল তার স্পেশাল কদর। ছোট বোন আজন্ম অসুস্থ, তার স্থান ছিল তাই আলাদা। কুতকুতে চোখ, উঁচু হাড়ের গাল, বাটকু আর শীর্ণদেহী আমি ছিলাম মেঝ ছেলে। ভীতু, অন্তর্মুখী, নির্বিরোধী, অনুজ্জ্বল।
ক্লাস নাইনে ওঠার পর সেই আমিই নিজে উপার্জন করা শুরু করি। সারা বছর তখন মাত্র একটা ভালো কাপড় পেতাম, সেটা রোজার ঈদে। বেলবটমের যুগ বলে এক ঈদে খুব ঢোলা বেলবেটম পেলাম। বাটকু শরীরে প্রায় বুকের কাছে বেলবেটম পড়ে বের হলাম গলিতে। আমাকে দেখে চারিদিকে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। একে একে বহু ছেলেমেয়ে হাজির হলো।
বেলবটম প্যান্ট নিম্নমানের কাপড়ের বলে সেখানে কিরিচ বা ভাঁজ পড়েনি। ফলে তা ফুলে একদম গোল হয়ে আছে। বেশি চাল্লু ছিল যে ছেলেগুলো, তারা সেটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে, আর ‘প্যান্ট পরছস না লুঙ্গি’ বলে হাসাহাসি করে। মন খারাপ করে বাসায় ফিরলাম। কাপড় বদলে আগের বছরের হাফ-প্যান্ট পরলাম। একটু পর আব্বা এসে ধিক্কার দিলেন আমাকে। পরিষ্কার বাক্য তার, আজো মনে আছে। ‘নিজে কামাই কর, তারপর ফুটানগিরি করো।’
এঘটনার কয়েক মাস পর ‘কামাই’ করার সুযোগ এলো।  ভালো ছাত্র হিসেবে পোস্তার ডাকঘরের গলিতে আমার নাম ছিল। সেখানে বড়লোক মামার ভাড়াটে থাকতো আমাদের দুটো বাড়ির পাশে। বিউটি নামের তার ক্লাস ফাইভের কন্যাকে পড়ানো শুরু করলাম। বিউটি ছয় ভাইয়ের ছোট বোন। সেই ছয় ভাইয়ের তিনজন আমার খেলার সঙ্গী। তাছাড়া বিউটির মা আমার মা-এর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাকে পড়ানোর জন্য কতো টাকা পাবো বা আদৌ পাবো কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। কিন্তু মাস শেষ হওয়ার সাথে সাথেই টাকা পেলাম। পঞ্চাশ টাকা, এখনকার হিসেবে প্রায় ১ হাজার টাকা। ১৯৭৮ সালের পঞ্চাশ টাকা আমার জন্য যথেষ্ট ছিল। সেদিন থেকে জীবনে কখনো আমি বাসা থেকে টাকা নেইনি। পড়েছি বিনা বেতনে স্কুলে, ঢাকা কলেজেও। টিউশনির টাকা পেতাম, স্কলারশিপের টাকাও পেতাম পরে।
পড়ানো আমার জন্য আশীর্বাদ ছিল আরেকটি বড় কারণে। পড়ানো হলে পড়তে হয়। যতো একঘেয়ে, দুর্বোধ্য আর নিরস হোক বিদ্যশিক্ষা করার একটা মন গড়ে ওঠে। ক্লাস নাইনে ওঠার পর থেকে আমাকে কেউ পড়াতো না, কেউ আমাকে পড়তেও বলতো না। কিন্তু একটা শিক্ষা মনে গেঁথে গিয়েছিল। আমরা সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া মানুষ না। আমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের পড়তে হবে। টিকে থাকতে হলে, সম্মান নিয়ে বাঁচতে হলে পড়তে হবে, ভালো রেজাল্ট করতে হবে।


 লেখাপড়ার পেছনে আরেকটা তাড়না ছিল আমার আম্মা। তিনি পুরানো ঢাকার এক রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। পড়াশোনা করতে ভালোবাসতেন। কিন্তু ধর্মীয় অজুহাত দেখিয়ে ক্লাস ফাইভ পাস করার পর তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়া হয়। কয়েক বছর পর বড়লোক এক ব্যবসায়ীর (আমার খালুর ভাই) সাথে তার বিয়ে ঠিক হলো। কিন্তু তিনি প্রতিজ্ঞা করেন শিক্ষিত কাউকে ছাড়া বিয়ে করবেন না। জেদ করে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিলেন। বিয়ে ভেঙে গেল, খালুর চক্ষুশূলে পরিণত হলেন তিনি।
তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলো। তিনি মুখ গোমড়া করে রইলেন। অবশেষে মাসখানেক পর আরেকজন পাত্রের খবর এলো। পাত্র কুমিল্লার হোমনা থানার মিঠাইভাঙ্গা গ্রামের, নাম মো. নূরুল ইসলাম। পাত্র হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের, দেখতেও ভালো না তেমন। কিন্তু তিনি শিক্ষিত। আম্মার মামার বাসায় জায়গীর থেকে পড়াশোনা করছেন। কোন একটা স্কুলে শিক্ষকতাও করছেন তখন। শোনামাত্র রাজি হলেন আম্মা।  তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হলেও আব্বাকে মেনে নিলো নানার পরিবার।  
 ষোল বছর বয়সে এমন জেদ কেন করেছিলেন আম্মা? স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার গলিতে বসে কি স্বপ্ন দেখতেন তিনি? আম্মাকে জিজ্ঞেস করতাম। তিনি বলতেন, তার ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হবে শুধু এটাই ছিল তার স্বপ্ন। তার মেয়েরা পড়তে চাইলে কেউ বাধা দিবে না এটাই ছিল তার আশা। ছোটবেলায় তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এটা বলতে বলতে বৃদ্ধ বয়সেও তিনি কেঁদে বুক ভাসাতেন।
আমার বোনরা পড়াশোনা করেছিলেন। বাধা দেয়া দূরের কথা, আব্বা নিজেই বরং তাদের পড়াতেন। তারা তেমন মেধাবী ছিলেন না। তবু দুজনই কষ্ট করে স্নাতক পাস করেছেন। বোনদের মধ্যে প্রখর মেধাবী ছিল সবার ছোটবোন লিলি। ভাইবোনরা সবাই প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতাম তাকে। সে জন্মেছিলো হৃদপিন্ডে অনেকগুলো ফুটো নিয়ে। ডাক্তার বললো অপারেশন করলে ঝুঁকি আছে। তবু সে অপারেশন করতে চাইলো। সাড়ে দশ বছরের মেয়ের জেদ, ধুঁকে ধুঁকে বাঁচতে চায় না সে। তার ওপেন হার্ট সার্জারি হলো ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে। করলেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কয়েক মাসের জন্য আসা জাপানি ডাক্তার। অপারেশন সাকসেসফুল!
প্রশান্ত মনে আমরা টেলিভিশনে একদিন সকাল-সন্ধ্যা সিরিজ নাটক দেখছি। হঠাৎ শুনি তার অবস্থা খারাপ। বড় বোন আর আম্মা দিনরাত হাসপাতালে থাকতেন। এবার বাসা তালা দিয়ে আমরা সবাই গেলাম। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বেঞ্চে কাটলো কয়েকটা দিন। অপারেশনে যাওয়ার আগে করিডোর ধরে হেঁটে গিয়েছিল আমার ছোট বোনটা। সেই শূন্য করিডোরে তাকে খুঁজি বারবার। তিনদিন পর নিষ্প্রাণ তাকে আইসিইউ থেকে বের করে আবার রাখা হলো সেখানে। ১৯৮৪ সালের ২রা নভেম্বর সেদিন। আমরা নিয়ে এলাম তাকে। তার মৃত্যুসংবাদ বিশ্বাস হলো না আমাদের। সংসারে প্রথম মৃত্যু, সেটা কেন সবচেয়ে ছোট্ট, সবচেয়ে কোমল মানুষটার?  
তাকে সাদা একটা চাদরে ঠেকে রাখা হলো বাসার বারান্দায়। তার পাশে বসে রইলাম। ভেজা সেই চাদর জড়িয়ে রাতে ঘুমালাম। ভোররাতে দেখি আমাকে ডাকছে সে। বাইরে কুয়াশার আবছায়া, দূরে আজানের শব্দ, শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে আমার। আজিমপুরে এসে দেখি তার ছোট্ট কবর মেখে আছে ভোরের শিশির আর কোমল বাতাসে।
আমার বোনটা মারা যাওয়ার পর তার চিঠি পাওয়া যায় হাসপাতালের বিছানার নিচে । হয়তো খুব অপ্রাসঙ্গিক তা। তবু তার প্রথম অংশটা হুবহু তুলে দিচ্ছি এখানে।

আমি একটা মেয়ে। আমার নাম লিলি। আমার বয়স সাড়ে দশ বৎসর। আমার জীবনে কোন আনন্দ নেই। আমি মুখে প্রকাশ করি না, আমাকে দেখলে মনে হয় না আমার মনে অনেক দুঃখ। শুধু একটি কারণের জন্যই। আমার জন্ম থেকেই একটা মারাত্মক রোগ আছে। সেটা হলো হার্টের রোগ এবং এটা অপারেশন না করলে হয়তো আমি মরে যাবো, না হলে লেখাপড়া শিখতে পারবো না। এছাড়াও আমার মনে অনেক দুঃখ আছে। আমিও হয়তো জানি না আমার অপারেশন হলে আমি ভালো হবো কিনা। তবে আমার মনে একটা সান্ত¡না আছে আমার অসুখ সারবেই। না হলে আমার বেঁচে থেকে কি লাভ। এর চাইতে মরে যাওয়া অনেক অনেক ভাল- এটা ভেবেই আমি অপারেশন করতে রাজি আছি। যদি আল্লাহ আমার হায়াত দেন তাহলে আমি বাঁচবোই এবং ইনশাল্লাহ ভাল হয়েই বাঁচবো।

আমার বোনটা বাঁচেনি। আল্লাহর ফয়সালা ছিল অন্যরকম।

(আসিফ নজরুলের আলোচিত গ্রন্থ ‘পিএইচডির গল্প’ থেকে। এবারের বইমেলায় গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে বাতিঘর থেকে। তৃতীয় পর্ব আগামীকাল।)

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Dr.Md.Kabiruzzaman

২০২১-০৪-০৮ ১১:০২:৩০

Most congratulations sir , come on.

Md.nurul alam

২০২১-০৪-০৭ ০৪:১৫:২৪

স্যার আপনি আরো আরো লিখুন আপনার লেখা পরে হূমায়ুন স্যারকে মনে পরছে।

Dr.Md.Kabiruzzaman

২০২১-০৪-০৫ ১১:২১:৪৩

আমি একটা মেয়ে। আমার নাম লিলি। আমার বয়স সাড়ে দশ বৎসর। আমার জীবনে কোন আনন্দ নেই। আমি মুখে প্রকাশ করি না, আমাকে দেখলে মনে হয় না আমার মনে অনেক দুঃখ। শুধু একটি কারণের জন্যই। আমার জন্ম থেকেই একটা মারাত্মক রোগ আছে। সেটা হলো হার্টের রোগ এবং এটা অপারেশন না করলে হয়তো আমি মরে যাবো, না হলে লেখাপড়া শিখতে পারবো না। এছাড়াও আমার মনে অনেক দুঃখ আছে। আমিও হয়তো জানি না আমার অপারেশন হলে আমি ভালো হবো কিনা। তবে আমার মনে একটা সান্ত¡না আছে আমার অসুখ সারবেই। না হলে আমার বেঁচে থেকে কি লাভ। এর চাইতে মরে যাওয়া অনেক অনেক ভাল- এটা ভেবেই আমি অপারেশন করতে রাজি আছি। যদি আল্লাহ আমার হায়াত দেন তাহলে আমি বাঁচবোই এবং ইনশাল্লাহ ভাল হয়েই বাঁচবো। আমার বোনটা বাঁচেনি। আল্লাহর ফয়সালা ছিল অন্যরকম।

জাকির হোসেন

২০২১-০৩-২৯ ০৯:৪৬:৩৪

আল্লাহ আপনার বোনকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমীন।

Abdul Malek

২০২১-০৩-২৯ ০৫:১০:০৭

অসাধারণ স্যার,,,

MD. SHAHADAT HOSSAIN

২০২১-০৩-২৯ ১৬:৪০:৪৭

so nice, we are proud of you

তহিমা

২০২১-০৩-২৮ ১৪:১৩:১৫

আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে পুরো বই টি পড়তে কিন্তু আমি তো বিদেশীনি কোন এক সময়ে আপনার সবগুলো বই কিনে পড়বো ইনশাআল্লাহ

মোঃ আবদুল আউয়াল

২০২১-০৩-২৮ ১০:৩৪:১২

মাশাল্লাহ। লেখার অসাধারণ বাচনভঙ্গি। আইনের শিক্ষক হিসেবে যেমন দক্ষ।তেমনি সাহিত্য রস অপরিমেয়। আপনার সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনা করি।

এ এফ এম মকসেদুল ইসলা

২০২১-০৩-২৮ ১০:৩০:৩৯

আমি পুর লেখাটি পড় লাম।মদধবৃকত পরিবার।আমি এবং আমার ৪ভাইও ১ বোন।আমরাও অনেক যষ্ঠ করেছি।আমাদের বাবা সরকারি চাকরি জীবি ডিসি ওফিসে করতেন দিনাজপুর।আমরা পুর ফেমেলি ছিলাম ধামিক।নবী রাসুল এবং পীর মোর্শেদ ভক্ত।আল্লাহ আছেন বিশ্বাস করতাম তবে কোথায়।আল্লাহ প্রতেক মানবে অন্তরে বাস করেন তা বুঝতাম না।তাই আল্লাহ অলি বন্ধুর সন্ধ্যান করতাম মনে মনে।একদিন একজনের মাধ্যমে সন্ধান পেলাম।উনি খুব কামেল ব্যক্তি।কামেল ব্যক্তির সন্ধানে বেরহলাম।সেই কামেল ব্যক্তির কাছে গেলাম।আমাকে খুব আদর করলেন আমার বাডী কোথায় কয় ভাই বন বাবা কি করেন মা আছেন কি না আমি কি করি।কেন আমি ওনার কাছে এসেছি।ওনার কথা কার কাছ থেকে জেনেছি।সব কিছু শুনার পর আমাকে নামাজ পড়তে কাছে ডাকলেন।এক সঙে আছরের নামাজ আদায় করলাম।তার পর আমাকে কালবে আল্লাহ নামের জিকির সবক দেখিয়ে বললেন সব সময় আল্লাহ নামের জিকির করবেন।আর মাঝে মাঝে আমার সঙে দেখা করবেন।আমি হঠাৎ একদিন মালিকের সঙে মত বিরধ হওয়ায় চাকরী ছেড়ে দিলাম।কিন্তু আমার ঢাকায় থাকার খাওয়ার মত কোন যাযগা ছিলনা।কি করি রাত দিন কান্না কাটি করতাম।হঠাৎ আমার বন্ধ দেখা হল রাস্তায় সে তার ওফিসে যোগাযোগ করতে বলল।আমি যোগাযোগ করলাম আমার নতুন চাকরী হল।আমার ছোট ৫ নং ভাই বতমানে আমেরিকায় আছে।সে ভিষন অসুস্থ ডাক্তার ঔষদে কোন কাজ হচ্ছে না।সে একদিন হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।হাসপাতাল ভর্তি করান হল।দিনাজপুর হাসপাতাল চিকিত্সা নাই রেফার করল রংপুর হাসপাতাল ।রংপুর হাসপাতাল নেওয়া হল।সেখানে ৩ দিন জ্ঞান ছিল না।আমি ঢাকায় খবর পেয়ে রংপুর মেডিকেল হাসপাতাল পৌঁছালাম।দেখি জ্ঞান ফেরেনি তখন। আমি দোয়া দরুদ পড়তেছি সমানে।ছোট ভাই সুস্থতার জন্য কিছু জান মানত করলাম দরবার শরীফে।আসতে আসতে চোখ খুলল ছোট ভাই আমাকে দেখে আমার হাত চেপে ধরল।আমি আসছসথ করলাম তুমি ভাল হয়ে যাবে।আল্লাহ তোমাকে সুস্থ করে দিবেন।আমি প্রতি দিন নামাজ পড় তাম মোরাকাবা করতাম আল্লাহ ,রাসুল সা:,এবং আমার মোর্শেদ কে স্বরন করতাম।আল্লাহ অশেষ দয়ায় আমার ছোট ভাই ধীরে ধীরে সুস্থ হতে লাগল।আমরা ছোট ভাইকে ঢাকায় নিউরলজিষট ডাক্তার আনিসুল হক।সাহেব কে দেখালাম।তিনি ৯ মাসের চিকিত্সা ও ঔষধ দিলেন।রংপুরে ডা: লতিফ সাহেব খুব ভাল চিকিত্সা করেছিলেন।বতমানে আমার ছোট ভাই সুস্থ আছেন আমেরিকায়।জীবনে বেঁচে থাকার জন্য দোয়া ও দাওয়া দুটিরই প্রয়োজন আছে।আর লাগবে আল্লাহ রাসুল সা:ও অলিআললাহ গনের সহবত।আমিন।তাহলে এহকাল ও শান্তি পরকাল ও শান্তি ।

Amirul Islam Sobuz

২০২১-০৩-২৮ ০৯:৩৭:৫৯

জীবনটা আসলে বড়ই কঠিন। আল্লাহর ফয়সালার কারনে অনেক প্রিয় প্রিয় মানুষকে হারিয়ে মেনে নিতে হয়। আপনার জীবনে যেমন আপনি আপনার ছোটবোনকে হারিয়ে নিরবে মেনে নিয়েছেন। ঠিক তেমনি আমিও ছোটবেলায় আমার দাদীকে হারিয়ে কষ্ট পেয়েছিলাম, কিন্তু আল্লাহর ফয়সালা ছিল অন্য রকম। তাই মেনে নিলাম। আপনার বোনের কথা শুনে আমার দাদীর কথা মনে পড়ে গেলো, কিছুদিন আগে আমার একমাত্র দুলাভাইও আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আজ সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। লেখক সবাই কিন্তু সত্য সবাই লিখতে পারেনা। আপনি যেভাবে নিজের কষ্টের কথা বললেন তাি আপনার প্রতি স্যালুট, আপনার জন্য দোয়া রইল স্যার।

এনায়েত

২০২১-০৩-২৮ ০৮:৩০:৫৭

অনেক সুন্দর কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে গেল। আপনার বোনের জন্য দোয়া রইলো সে যেন জান্নাত লাভ করেন।

Md.Balayet Hossain

২০২১-০৩-২৮ ০৮:০৩:৩০

Excellent.

Saiful

২০২১-০৩-২৮ ০৩:৪৪:১৯

I have pr-ordered the book and finished reading in a single breath like all other wrotings of Asif sir. It was a wonderful one. Happy to think that I am one of the very few of the first readers.

মোঃ জাকিরুল ইমলাম

২০২১-০৩-২৮ ০৩:১৫:০৬

আমার সালাম নিবেন।

Aklima amin

২০২১-০৩-২৮ ০১:৫৭:৪৩

অসাধারণ।আপনার রেখার মধ্যে সত্যতা ার সরলতার স্পষ্টটা অনুভব করি প্রচন্ডভাবে।

MD Atiqul Islam

২০২১-০৩-২৭ ২৩:২৪:০৩

Very sorry for your sister may Allah consider her Jannat.

ফেরদৌস আলম চৌধুরী কা

২০২১-০৩-২৭ ২১:২৫:১৪

আপনার লেখা পড়লে অনেক সময় নিজকে ধরে রাখতে পারি না।আপনার পরিচয় জেনে খুব ভালো লাগলো।

A K M Ashraf Uddin K

২০২১-০৩-২৮ ০৪:১৭:৩৭

বোনের চিঠিটি অ-সাধারণ !

Mahbub alam

২০২১-০৩-২৭ ১২:০৭:৩৩

সফল মানুষের দুঃখগাথা কথাগুলো শুনলে/জানলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। ধন্যবাদ স্যার

Shenaz Ara

২০২১-০৩-২৭ ১১:১২:২০

আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন লেখক ডঃ আসিফ নজরুল উনার লেখাটা পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলামনা।

Nusrat sarmin

২০২১-০৩-২৭ ০৯:১৮:০৭

লিখাটা পড়ে খুব খারাপ লাগলো। আপনার বোন নিশ্চয় অনেক ভালো আছেন।

Liakat Hossain

২০২১-০৩-২৭ ২১:২৪:১০

আসিফ নজরুল আপনি আমাকে কষ্ট দিচ্ছেন।

অপু খান

২০২১-০৩-২৭ ০৮:০২:২৯

আসিফ নজরুল সাহেব যে আমাদের ওয়েষ্ট এন্ড স্কুলের ছাত্র জানার পর উনার প্রতি অন্যরকম একটা মমতা অনুভব করছি।সেই রশীদ স্যার,সেই জুনায়েদ স্যার..... আহা! তাঁর লেখার প্রতিটি শব্দই যেন আজ আমাকে আচ্ছন্ন করে এক বিমূর্ত বেদনায়!!!!

সৈয়দ মাহফুজুর রহমান

২০২১-০৩-২৭ ০৭:৩৮:১৬

আপনার পরিচয় পেয়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।

সালেহ আহমদ খান।

২০২১-০৩-২৭ ০৫:০০:০৪

খুব ভালো লেগেছে।

এহতেশাম বিল্লাহ

২০২১-০৩-২৭ ০৪:১২:১৪

আইনের ছাত্র তাই আপনার লেখা পেলেই অত্যন্ত আগ্রহসহকারে পড়ি স্যার , আপনার দর্শনের সাথে একমত।আজকের লেখা বাস্তব কাহিনীতে মনেহয় কেউই অশ্রু ঠেকাতে পারেননি। অন্যান্য বিষয়ের মত সাহিত্যেও অনন্য আপনি।দোয়া করি আল্লাহ যেন আপনাকে সুস্থ ওদীর্ঘজীবন দান করেন আমীন।

-রশিদ আহমেদ তালুকদার

২০২১-০৩-২৭ ০৩:২৯:২০

যতটুকু পড়লাম মন ভিজে গেছে। শ্রাবণ ধারার মত জল পড়ছে মন চুইয়ে চুইয়ে। কষ্ট পেলে চোখ ভিজে যায়,লিখাটার শব্দে শন্দে চোখ কেঁদেছে খুব টাচি আর আবেগী লিখায় চোখই শুধু কাঁদে না মনও কাঁদে। বিখ্যাত মানুষগুলো র বেশিরভাগের ছেলেবেলার জীবন ভীষণ সংগ্রামী হয়। দারিদ্র্যের বাধনে জীবন বয়ে বেড়ানো তিক্ত অভিজ্ঞতায় মাখা থাকে।লেখক আসিফ নজরুল এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। ছোটবোন লিলি ত তবুও জাপানি চিকিৎসক এর চিকিৎসা পেয়েছিল,ফুটো হ্রদপিন্ড তার সারেনি,কুয়াশার জলে কবর আর্দ্র ছিল লিলির,মরে গিয়েও সে আজও ভাইদের মনে বেঁচে আছে।সংসারের অভাবি মানুষ গুলোকে ভালোবাসার শক্ত বন্ধনে বেঁধে সে অনন্তের পথে পাড়ি দিলেও সে মরেনি। আসিফ নজরুলের মত কোটি জনতার লিলি ফুল হয়েগেছে সে। বইটা দাগ কাটবে বোঝাই যায় সবাই ত সুখের জন্য নির্দৃষ্ট ক্ষুধার জন্যে বই পড়ে,এই বই যারা পড়বে পাবে আত্মতৃপ্তি। মানুষের মন বুঝে লিখার অসম্ভব যাদু ক্ষমতা আসিফ নজরুল সাহেবের আছে। তাই ত নিঃসন্দেহে তিনি স্বার্থক জীবনীকার। পাঠিকের হ্রদয় ছোঁয়া লিখার জন্যে ধন্যবাদ প্রিয় আসিফ নজরুল কে।

Atiqur Rahman Shaik

২০২১-০৩-২৭ ০৩:১৬:৩৬

Sir, It's a tragedy for your family life but I have learnt a real fact. How can carry it? Middle class always carry the sad story from the life. Sir it's a real PhD. Fellow IBS University of Rajshai

কামরুন নাহার মিতা

২০২১-০৩-২৭ ০৩:১১:৩৩

অনেক সুন্দর

Mohammed Hashem

২০২১-০৩-২৭ ১৫:৫৬:৩৫

"আমি ছিলাম দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অথচ ততোটা দরিদ্র হওয়ার কথা ছিল না আমাদের। বাবা বাংলাদেশ বেতারে প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করতেন। গর্ব করে নিজেকে বলতেন ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার। তবু আমরা দরিদ্র জীবন যাপন করতাম বাবার অতি মিতব্যয়ী ও ভীতু স্বভাবের কারণে "- আপনার বাবা ছিলেন অতি মিতব্যয়ী , হতেই পারেন । এটাতো একজন ভাল মামূষের গুনাগুন । কিন্তু ভীতু স্বভাবের ? যার জন্যে আপনারা দরিদ্র জীবন যাপন করতেন ! এর মানেটা বুঝা গেলোনা ! তিনি একজন সৎ অফিসার ছিলেন , ঘুষ বা অবৈধ কণ রোজগার করতেননা , করতে ভয় পেতেন -এমন কিছু কি ? কেননা ঘুষ না খাওয়া বা অসৎ কোন কামাই না করা, সকল অফিসারদেরইতো আপনাদের মতোই জীবন যাপন হবাওই কথা ।

Dhali Abdur Rahman

২০২১-০৩-২৭ ০২:২৯:৫৫

পড়েছি।ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে,,আমার গল্প, আমাদের গল্প, লিলি আমাদের বোন হয়ে তার না বলা কথা, আমাদের অন্তরে জানান দেয়।

Wasimul Nohad

২০২১-০৩-২৭ ০২:২৪:২৮

একেকটি মানুষ একেকটি জীবন্ত লাইব্রেরি। কত প্রতিটি পাতায় রক্ত,ঘাম,আর চোখের পানিতে লেখা একেকটি অভিজ্ঞতা। মাথাটায় ঘুরে গেলো

ভালো লাগছে

২০২১-০৩-২৭ ০২:২০:৪৭

go ahead sir

আফনান ইবরাহিম

২০২১-০৩-২৭ ০২:০৩:৩৫

সবপগুলো পর্ব পড়তে চাই। স্যারকে জানার অনেক আগ্রহ আমার। দেখি, সুযোগ পেলে বইটাও সংগ্রহ করব।

মোঃ রাশিদুল ইসলাম

২০২১-০৩-২৭ ০২:০০:১২

জানিনা ভালো লেগেছ কিনা। তবে চোখেরজল ধরে রাখতে পারিনাই

md Abdus Salam

২০২১-০৩-২৬ ১৪:৪৭:৪৪

Sir, Apnar moto Ekoi chintar Samosamoeik manus ami. Anar bastobota R amar Basbota kasaksi. Apnar Prokash Vongi khub Valo Laglo Jodio Apnake Purbo thake E Posondo kori. Becha thakun Anek Bosor Sotota, Sanman O Morjada Nia Ekjon Adorsa Manus/ Teacher Hisebe Kamona Kori.

Mohammad Monirul ISL

২০২১-০৩-২৬ ০১:১৩:৪১

Heartbreaking! Very sorry event in life.

এডভোকেট এস এম মনিরুল

২০২১-০৩-২৬ ০০:৫৪:২২

আল্লাহর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যারা আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নে তারাই প্রকৃত মুসলমান। আর আল্লাহর সিদ্ধান্তের বাইরে পৃথিবীর কোন কিছু ঘটেনা। এই কথা বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।

Masum Chowdhury

২০২১-০৩-২৬ ০০:০৩:২১

Style of describing the history is excellent.

মোহাম্মদ খাইরুজজামান

২০২১-০৩-২৬ ০০:০২:০২

আপনার ছোট বোনের লেখাটা পড়ে আমি অজর ধারাই কেঁদেছি আর আপনি আমার একজন পছন্দের মানুষ কদিন আগেই আর এক পছন্দের মানুষ মওদুদ স্যার জিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন

Md. Fazlul hoque

২০২১-০৩-২৫ ২৩:৩৭:০৪

আল্লাহর ফয়সালা-ই চুড়ান্ত ফয়সালা, আপনার বোন লিলি কে আল্লাহ যেন বেহেশতে নসীব করেন এ দোয়া করি। আমি ও আমার বুকের ধন, কলিজার টুকরা আড়াই বছরের মেয়েকে হারানো এক হতভাগ্য পিতা।খুব জটিল রোগের চিকিৎসা দেশে ও দেশের বাইরে করিয়ে ও বাঁচাতে পারিনি, আল্লাহর ফয়সালা ছিল তাই।মানুষ বলে পৃথিবীতে সবচাইতে ভারি বস্তু পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ, আমি ও সেই ভারি বস্তু বহন করে চলা একজন মানুষ।শোকর আলহামদুলিল্লাহ।

didarul islam

২০২১-০৩-২৬ ১১:৫৬:৫৫

we cane feel your pain,we love you waiting for your next speech.

samsulislam

২০২১-০৩-২৫ ২২:১২:৫৮

বিভিন্ন কারণে আপনার সাথে আমার মতবিরোধ আছে।তবে আমি রাজনীতি করিনা বা বুঝিও না।তবে আপনার এই লেখাটা হৃদয় ছুয়ে গেল।ধন্যবাদ আপনাকে।

Shobuj Chowdhury

২০২১-০৩-২৬ ১০:৪৫:০০

Please don't write this way... it breaks our heart. We pray for you and your family.

আপনার মতামত দিন

বই থেকে নেয়া অন্যান্য খবর

মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৯২)

‘আমি ছিলাম এক দুরভিসন্ধিমূলক চক্রান্তের শিকার’

৪ জুলাই ২০২১

মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৯১)

‘প্রাণভরে মুক্তির বাতাস নেওয়ার অপেক্ষায় আছি’

৩ জুলাই ২০২১

মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৮৯)

‘আমাকে নিয়ে ওরা এত ভীত কেন?’

১ জুলাই ২০২১

মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৮৮)

গোটা জাতি এক ভগ্নদশায় পতিত হতে চলেছে

২৯ জুন ২০২১

মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৮৭)

‘আমার স্ত্রী হাসনা ১৮ মাস নিদারুণ অর্থকষ্টে ভুগেছে’

২৭ জুন ২০২১

মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৮৬)

‘আসল দেনদরবার হয় পর্দার অন্তরালে’

২৬ জুন ২০২১

মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৮৩)

‘রিমান্ডে ওবায়দুল কাদেরকে নির্দয়ভাবে প্রহার করে’

২৩ জুন ২০২১



বই থেকে নেয়া সর্বাধিক পঠিত



মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৮৬)

‘আসল দেনদরবার হয় পর্দার অন্তরালে’

মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৮১)

‘আমাকে জেলে আসতে হয়েছে অন্য লোকজনের দোষে’

মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৬৫)

‘আমাকে কোনো খবরের কাগজ পড়তে দেওয়া হয়নি’

মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৮০)

‘এখন সবকিছু নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের ওপর’

DMCA.com Protection Status