১৫ই আগস্টের দায় তাহেরের ওপর আসে: সিরাজুল আলম খান

স্টাফ রিপোর্টার

মত-মতান্তর ৮ মার্চ ২০২১, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:২০ অপরাহ্ন

একটা প্রশ্ন কিন্তু উঠছে। জাসদ এবং ১৫ আগস্ট। এখন রেকর্ডে যেসব কথা আসছে, কর্নেল তাহের ওয়াজ ভেরি মাচ আ পার্ট অব ফিফটিনথ অগাস্ট। হি হ্যাড অল দ্য লিয়াজোঁ উইথ ডালিম, রশিদ। এবং ওই সময় উনি মুভও করেছেন জিয়াকে প্রেসিডেন্ট বানানোর জন্য। এ জিনিসগুলো এখন আসতেছে। এবং নূর-টুর এদের সবার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বিকজ অব হিজ ওল্ড অ্যাসোসিয়েশন। আবার একইসঙ্গে তিনি সেনাবাহিনীর কাছে জাসদের রিপ্রেজেন্টেটিভ।
কর্নেল তাহেরকে জাসদ যদি ক্যারি করে, তাহলে ১৫ আগস্টের একটা...

লেখক, গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ এ প্রশ্ন রাখেন সিরাজুল আলম খানের কাছে। জবাবে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক, এদেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত্র চরিত্র সিরাজুল আলম খান বলেন, ইন্টারপ্রিটেশন?

মহি: একটা লায়বাবিলিটি চলে আসে।
সিরাজ: চলে আসে?

মহি: অবভিয়াসলি চলে আসে।
সিরাজ: জাসদের ওপর না আসলেও কর্নেল তাহেরের ওপর আসে।

মহি: জাসদের ওপর আসে, যেহেতু জাসদ তাহেরকে ওউন করেছে।
সিরাজ: হতে পারে। একজনের একটা ইনডিভিজুয়াল রোল থাকতে পারে না?

মহিউদ্দিন আহমদের লেখা সদ্য প্রকাশিত ‘ প্রতিনায়ক: সিরাজুল আলম খান’ শীর্ষক বইতে এই বিবরণ পাওয়া যায়। বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা। তাদের আলাপ এভাবে এগুতে থাকে-

মহি: কর্নেল তাহেরতো সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টি করত।
সিরাজ: সেটাইতো বলছি। আলাদা রোল হতে পারে। আলাদা আইডেন্টিটি থাকতে পারে।

মহি: ইভেন তাহের যেদিন অ্যারেস্ট হন, চারজন একসঙ্গে অ্যারেস্ট হয়েছিলেন-তাহের...
সিরাজ: এস এম হল থেকে, হাউস টিউটরের বাসা থেকে।

মহি: হ্যাঁ। মোস্তফা সরোয়ার (বাদল) ছিলেন হাউস টিউটর। যেহেতু তার ওখানে মিটিং হচ্ছিল, সেখান থেকে তাহের অ্যারেস্ট হলেন। বাদল ভাইও অ্যারেস্ট হলেন। তার সঙ্গে সৈনিক সংস্থার জোবায়ের আনসারি ছিলেন। তিনি পরে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। তিনিও অ্যারেস্ট হন। আরেকজন যিনি অ্যারেস্ট হয়েছিলেন তিনি সর্বহারা পার্টির লোক। ফাররোখ আহমদ নাম। তিন বছর জেলে ছিলেন। তার মানে ওখানেও তার সঙ্গে সর্বহারা পার্টির লোক ছিল। জিনিসটা খুব...
সিরাজ: সিম্পল ইকুয়েশন।

মহি: সিম্পল না। বেশ জটিল। উনি অনেক দিকে হাত দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জিয়া তো জাসদকেই টার্গেট করল। এজন্যই আমি বলি, ১৫ আগস্টে জাসদের কোনো ভূমিকা নাই- এটা ১৫ আগস্ট থেকে নভেম্বরের সেকেন্ড উইক পর্যন্ত, জিয়ার সঙ্গে হানিমুন পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত জাসদের যে সমস্ত লিটারেচার-সেখানে ১৫ আগস্ট সম্পর্কে কোনো ক্রিটিক্যাল কথাবার্তা নাই।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Mahmud

২০২১-০৪-০১ ০৫:৩০:৫৭

সিরাজুল আলম খানের লেখা "আমি সিরাজুল আলম খান" বইটি আমি পড়েছি । এ লোকটি যেমন ভুঁয়া , তার বইটিও তেমনই ভুঁয়া । সব কিছুই ভাসা ভাসা । কোন কিছুতেই গভীরতা নেই । কী আশ্চর্য যে এমন একটি লোকের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে হাজার হাজার যুবককে জীবন দিতে হয়েছে , নির্মম অত্যাচার সইতে হয়েছে । স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে পুরো একটি জেনারেশন পথভ্রান্ত হয়েছে । অথচ এই লোকটিকে কোন বিচারের সম্মুখীন করা হলো না । এখনও তাত্বিক ভাব নিয়ে চলেন । নিজেকে মনে করেন বিরাট কিছু । এই লোকটিই বাংলাদেশের রাজনীতির সবচাইতে বড় ক্রিমিনাল ।

জামশেদ পাটোয়ারী

২০২১-০৩-১১ ১৯:৩২:৫৫

১৫ই আগষ্টের দায় তাহেরের উপর আসলেও তাতে কারো কিছু করার নাই। করার থাকলেও করে লাভ নাই। কারণ তাহেরের কোন রাজনৈতিক দল নাই। জিয়ার নিজের গড়া একটি রাজনৈতিক দল আছে, যে দলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে। এটিই কারো মাথা ব্যথার কারণ, তাই জিয়ার দিকেই সবার তীর নিক্ষেপ। জিয়াকে হেয় করা মানেই মানুষের মনে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমিয়ে দেয়ার চেষ্টা।

Md. Emdadul Haque Ba

২০২১-০৩-১১ ০৫:৩৬:৪৬

মরার আগে সত্য বলে যান--তাহলে হয়তো আল্লাহপাক মাফ করবেন--ন্তুবা খবর আছে--সিরাজুল আলম খান অনেক কিছুর সাক্ষী আপনি--পরকালের নাজাতের জন্য প্রকৃত সত্য বললে ভাল হয়

Dibbendu Dwip

২০২১-০৩-০৯ ০০:৫২:০১

খুব বেশি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথাবার্তা। কোনো রেফারেন্স নেই। কোনো যুক্তিও নেই।

Golam Mostanjir Bin

২০২১-০৩-০৮ ২৩:০৩:২৪

সময় বয়ে গেছে অনেক দূরে , কাসন্দি ঘেঁটে কি হচ্ছে , খান সাহেবের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগের একটি, সময় মতো উনি কিছুই করেন নাই ।সত্য কথা গুলো কি -সেটি বলতে হবে ! সাহসী কাউকে চাই , যিনি বলবেন - আসলে এমন হয়েছিল ! কেউ আছেন নাকি ?

আবুল কাসেম

২০২১-০৩-০৮ ০১:০৪:২১

১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারী মিলিটারি একাডেমির প্রথম ব্যচের সমাপনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যে এই কথগুলে বলেছিলে। "এরা বিদেশি অর্থে বাংলর স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে চায়। রাতের অন্ধকে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে। এরা বিদেশি আদর্শ বাংলার মাটিতে চালু করতে চায়। তাদের বাংলার মাটিতে স্থান হবেনা। মনে রেখো তোমারা তাদের বাংলার মাটিতে শেষ করতে হবে। কেমন করে একটা লোক নিজের দেশের মাতৃভূমিকে বিক্রি করতে পারে পয়সার লোভে ভাবতে আমি শিহরিয়া উঠি।" বিদেশি অর্থ আর বিদেশি আদর্শ। আদর্শের কথা ধরলে তখন চীন ও রাশিয়া আলোচনায় ছিলো। এটা সবাই জানে, জাসদের গণবাহিনী, সিরাজ সিকদারের গুপ্তহত্যার বাহিনী দেশের ভেতর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। বঙ্গবন্ধু কি এদের দিকেই ঈঙ্গিত করেছিলেন? স্বপরিবারে তাঁর নির্মম ও নিন্দনীয় হত্যাকাণ্ডের জন্য কারা দায়ী এবং এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পটভূমি কারা তৈরি করছিলো। সিআইএ, কেজিবি ও র মোসাদের মধ্যে কারা জড়িত ছিলো তার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া আবশ্যক। নাহলে এই রক্তের ঋণ শোধ হবেনা। যারা প্রত্যক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলো তাদের বিচার হয়েছে। কিন্তু, পর্দার আড়ালের খলনায়কদের চিহ্নিত করাও জরুরি।

আনিস উল হক

২০২১-০৩-০৮ ০০:৫০:৩১

এ ধরণের কর্ণরোচক কথাবার্তায় বই লিখে তার কাটতি বাড়ে।মুড়ি মুড়কির মত বইয়ের বিক্রি হয়।কিন্তু তাতে অহেতুক বিরোধ বাড়ে এ বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিৎ।সিরাজুল আলম খাঁন কে আমাদের দেশের রাজনীতির একজন অতি বিশেষ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।যেহেতু যথাকথামালা তিনি যথাসময়ে প্রকাশ করেননি তাই তাঁর কথাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে প্রকাশ না করে তা বই আকারে লিপিবদ্ধ করেরেখে তাঁর অবর্তমানে তা প্রকাশ করার অসিয়ত করে রাখা। মওলানা আবুল কালাম আযাদ যা করেছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

২০২১-০৩-০৮ ১২:০৪:৩৯

সত্যিকার অর্থে দেশের স্বাধীনতার প্রতি এদের না ছিল আবেগ না ছিল কোনো দায়বদ্ধতা।

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৩-০৮ ১১:০১:৫৪

সকল রাজনৈতিক ঘটনার একক বা একাধিক উপকারভোগী থাকে। এদের প্রভাব বলয় যতদিন সক্রিয় থাকে ততদিন সঠিক ইতিহাস জানা কঠিন হয়ে যায়।

আপনার মতামত দিন



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status