নারীদের মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধকরণের প্রস্তাব ভোটে পাস সুইজারল্যান্ডে

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) মার্চ ৮, ২০২১, সোমবার, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৫৫ অপরাহ্ন

সুইজারল্যান্ডে নারীদের মুখ ঢেকে রাখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে উগ্র ডানপন্থি একটি প্রস্তাব সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে। রোববার এই ভোটের আয়োজন করেছিল সেই গ্রুপ, যারা ২০০৯ সালে নতুন মিনার নির্মাণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আয়োজন করেছিল। সর্বশেষ মুখ ঢেকে রাখার ওই প্রস্তাব পাস হয় শতকরা ৫১.২-৪৮.৮ ভাগ ভোটের ব্যবধানে। এর ফলে সেখানকার সংবিধান সংশোধন করতে হবে বলে প্রাদেশিক ফলাফলে বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সুইজারল্যান্ডের সরাসরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে এই পদক্ষেপে সরাসরি ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়নি। মুখে মাস্ক পরে রাস্তায় সহিংস প্রতিবাদ বন্ধের কথা বলা হয়েছে। তবে স্থানীয় রাজনীতিক, মিডিয়া ও প্রচারকর্মীরা একে রোবকা নিষিদ্ধকরণ বলে অভিহিত করেছেন।
সুইস পিলস পার্টির সদস্য ও মুখ ঢেকে রাখা নিয়ে গণভোট কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াল্টার ওবম্যান বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে আমাদের রীতি হলো আপনাকে মুখ দেখাতে হবে। এটাই হলো আমাদের মৌলিক স্বাধীনতার প্রতীক। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক ও কট্টর ইসলামের প্রতীক হলো মুখ ঢেকে রাখা। ইউরোপে এই ইসলাম ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে। তবে সুইজারল্যান্ডে এর কোনো স্থান নেই। ওদিকে মুসলিমদের বিভিন্ন গ্রুপ এমন ভোটের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তারা এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাবে। সুইজারল্যান্ডের সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব মুসলিমস বলেছে, এই সিদ্ধান্ত পুরনো ক্ষতকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে। আইনগত অসমতার নীতিকে আরো বিস্তৃত করবে এবং এর মধ্য দিয়ে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বাইরে রাখার একটি পরিষ্কার বার্তা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরুদ্ধে তারা কথা বলবে এবং কোনো মুসলিম নারীকে জরিমানা করা হলে তাদের সহায়তার জন্য তহবিল গঠন করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১১ সালে পুরো মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ করেছে ফ্রান্স। জনসম্মুখে পুরো মুখ ঢেকে রাখা অথবা মুখের অংশবিশেষ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ করেছে ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং বুলগেরিয়া।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২১-০৩-০৮ ০০:০৫:০৫

সুইজারল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর আরএসএস মদতপুষ্ট উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি কর্তৃক বাবরি মসজিদ ধ্বংস গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের সম্মানকে ম্লান করেছিলো। জাতিসংঘে বিষয়টি নিন্দিত হয়েছিলো। জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশ নিজের ভূখণ্ডের সীমার মধ্যে ধর্মীয়, ভাষাগত, জনগোষ্ঠীগত, সংস্কৃতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থকে রক্ষা করবে এবং তাদের পরিচিতির প্রকাশ ও উন্নয়ন ঘটাতে উৎসাহ দান করবে। বহু আগেই জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদে সংখ্যালঘুদের অধিকারের কথা বলা হয়। জাতিসংঘ তার মানবাধিকার সনদের ৩০ নম্বর ধারায় এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির ২৭ নম্বর ধারায় ধর্মীয়, ভাষাগত, জাতিগোষ্ঠীগত ও সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘু জনগণের অধিকারের বিষয়টিকে নিশ্চিত করার কথা বলেছে। জাতিসংঘ ১৯৯২ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঘোষণা করে যে, প্রতি বছর এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক সংখ্যালঘু অধিকার দিবস হিসেবে পালন করা হবে। এখানে সংখ্যালঘু বলতে জাতিসংঘ বলেছে, ধর্মীয়, ভাষাগত, জাতিগত ও সংস্কৃতিগত সংখ্যালঘুদের বুঝিয়েছে। সুইজারল্যান্ড সহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার হরণ করা জাতিসংঘের ঘোষণার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশ্বের সকল দেশের অভিভাবক হিসেবে জাতিসংঘকে এর একটা বিহিত করা জরুরী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠী আজ বৈষম্যের শিকার এবং স্বাধীন ভাবে ধর্মীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত। এই কারণে মুসলিম জনগোষ্ঠী বিক্ষুব্ধ এবং হতাশ। ইসলাম ধর্মে পর্দা করে চলাফেরা করা মহিলাদের মৌলিক অধিকার। এমনকি পুরুষদের বেলায়ও চক্ষু ও লজ্জা স্থানের হেফাজতের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, "(হে নবী) তুমি মুমিন পুরুষদের বলে দাও তারা যেনো তাদের দৃষ্টিকে নিম্ন গামী করে ও সংযত করে রাখে এবং তাদের লজ্জা স্থান সমূহের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য উত্তম পন্থা। তারা যা কিছু করে আল্লাহ তায়ালা পূর্ণভাবে তা অবহিত রয়েছেন। (আর হে নবী একইভাবে) তুমি মুমিন নারীদেরও বলে দাও তারা যেনো তাদের দৃষ্টিকে নিম্ন গামী করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জা স্থান সমূহের হেফাজত করে। তারা যেনো তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে না বেড়ায়। তবে তার শরীরের যে অংশ এমনিতেই খোলা থাকে তার কথা আলাদা। তারা যেনো তাদের বক্ষদেশ মাথার কাপড় দিয়ে আবৃত করে রাখে। তারা যেনো তাদের স্বামী, তাদের পিতা, তাদের শ্বশুর, তাদের পুত্র, তাদের স্বামীর আগের ছেলে, তাদের ভাই, ভাইয়ের ছেলে ও বোনের ছেলে, তাদের মেলামেশার মহিলা, নিজেদের অধিকারভুক্ত সেবিকা, নিজেদের অধিনস্থ পুরুষ যাদের কোনো কিছু কামনা করার নেই, কিংবা এমন শিশু যারা মহিলাদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে কিছুই জানেনা, এদের ছাড়া অন্য কারো সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। জমিনের উপর তারা যেনো এমনভাবে পা না ফেলে যাতে তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ হয়ে পড়ে। হে ঈমানদার লোকেরা তোমরা সবাই আল্লাহর দরবারে তাওবা করো। আশা করা যায় তোমরা নাজাত পেয়ে যাবে।" সূরা আন নূরঃ৩০-৩১। জিনা ব্যভিচার পাপাচার অনাচার সহ যে সকল কারণে দুনিয়াতে আল্লাহর আজাব অবধারিত হয়ে পড়ে সে সকল অশ্লীল ক্রিয়াকর্ম থেকে আত্মরক্ষা করে চলতে ইসলামের পর্দার বিধান একটি মাইলফলক। পবিত্র জীবন যাপনের জন্য এটি অপরিহার্য। অপবিত্রতা অশ্লীলতা বেহায়াপনা নোংরামী নিশ্চয়ই নিন্দাসূচক কাজ এবং সভ্যজগতে নিন্দনীয় কার্যকলাপের স্থান হতে পারে না। সুতরাং মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার হরণ না করে পাশ্চাত্যের উচিত ইসলামের পর্দার বিধানের অনুসরণ করা। পাপাচারের কারণেই দুনিয়াতে আল্লাহর গজব নাজিল করা হয়। করোনা মহামারি দিয়ে আল্লাহ তায়ালা সবাইর মুখে মাস্ক পরতে বাধ্য করেছেন। এর থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে ব্যর্থ হলে চূড়ান্ত ধ্বংসলীলা অনিবার্য। অতএব মানবজাতিকে চূড়ান্ত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে ইসলামের বিধান মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। মহিলারা মুখে মাস্ক পরতে না পারলে করোনা সংক্রমণের গতি রোধ হবে কিভাবে? ইসলামোফোবিয়ায় আক্রান্ত পাশ্চাত্য জগৎ ইসলাম বিদ্বেষ থেকে বিরত থাকতে হবে। নাহলে অচিরেই আসমানী আজাব গজব সবকিছু ধ্বংস করে ছাড়বে।

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৩-০৮ ১২:০১:০৯

এখনই সংবিধান সংশোধন করে বিলটি আইনে পরিনত করলে সুইজারল্যান্ডের নারীরা আর কখনোই মাস্ক পরতে পারবেন কি। তা ছাড়া সল্প বসনা ইউরোপের নারীদের মুখ ঢেকে রাখার অযুহাতে এ আইন নয় -ইহা কেবলই শালিন পোশাকে আবৃত মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে প্রনীত। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের দেশ সুইজাল্যান্ডের স্খলিত নগ্ন রুপ।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status