প্রশাসন ক্যাডারে ২৬ শতাংশ নারী

সিরাজুস সালেকীন

শেষের পাতা ৮ মার্চ ২০২১, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৩ অপরাহ্ন

প্রশাসনে বাড়ছে নারীদের অংশগ্রহণ। একসময় হাতেগোনা দু’একজন নারী সচিব দায়িত্ব পালন করলেও তা এখন দুই ডিজিটে উন্নীত হয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পেছনে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দৃষ্টিভঙ্গিকেই মুখ্য মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও এর পেছনে ভূমিকা পালন করছে বলে তাদের ধারণা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন ক্যাডারে বর্তমানে কর্মরত ৫ হাজার ৪৪৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১ হাজার ৪৪৭ জন নারী। যা শতকরা হিসাবে প্রায় ২৬ শতাংশ। প্রশাসনের শীর্ষপদ সিনিয়র সচিব, সচিব ও সমমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন ৭৪ জন কর্মকর্তা।

এরমধ্যে সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন ১০ জন নারী।
গ্রেড-১ কর্মকর্তা ১৬ জনের মধ্যে নারী কর্মকর্তা রয়েছেন ২ জন। অতিরিক্ত সচিব ৪২০ জনের মধ্যে নারী ৬১ জন। যুগ্ম সচিব রয়েছেন মোট ৬১০ জন। এর মধ্যে নারী কর্মকর্তা রয়েছেন ৯৬ জন। উপ-সচিব পদে রয়েছেন ১ হাজার ২৯৭ জন। যার মধ্যে নারী রয়েছেন ৩০৪ জন। সিনিয়র সহকারী সচিব রয়েছেন ১ হাজার ৪৯৯ জন কর্মকর্তা। যার মধ্যে নারী রয়েছেন ৪৫০ জন। এবং সহকারী সচিব রয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জন। এর মধ্যে নারী কর্মকর্তা রয়েছেন ৪৫০ জন। বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি ও খাদ্য সচিব ড. মোসাম্মৎ নাজমানারা খানুম মনে করেন এখন প্রশাসন ক্যাডারে নারী কর্মকর্তাদের কাজ অনেকটা সহজ হয়েছে। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের জন্য আমরা কাজ করি। তাদের কাছে নারী কর্মকর্তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। এখন কর্মকর্তা নারী নাকি পুরুষ এটা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। অন্যদিকে সরকারের যে নীতি সহায়তা বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা হচ্ছে- মেয়েরা যেখানে যোগ্য সেখানে দিতে হবে। আমাদের ক্যারিয়ারের শুরুতে এরকম চিন্তা তৎকালীন নীতিনির্ধারকদের ছিল না। যোগ্যতা থাকলেও নারী বিধায় উপযুক্ত স্থানে পদায়ন না করে অন্যত্র দেয়া হতো।

বর্তমানে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নীতি সহায়তা আগের চেয়ে এখন অনেক অনুকূলে। যোগ্যতা অনুসারে যেখানে উপযুক্ত সেখানে পদায়নের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তাগিদও আছে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব তারা যোগ্যতা বিষয়টিই সবসময় বিবেচনা করেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নও প্রশাসনে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উল্লেখ করে বিসিএস প্রশাসনের ৮ম ব্যাচের কর্মকর্তা ড. নাজমানারা খানুম বলেন, এখন দেশের আনাচে-কানাচে রাস্তাঘাট অনেক ভালো। উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের মানসিকতাও বদলেছে। সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, জনপ্রতিনিধি সবার মানসিকতা বদলেছে। আগে যেমন নারীকে অনেক কষ্ট করে মাঠ প্রশাসনে কাজ করতে হতো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় প্রচুর হাঁটতে হয়েছে। অনেক জায়গায় গাড়ি যেত না। হেঁটে যেতে হয়েছে। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণে আমাদের নারী সহকর্মীদের অনেক স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে। তারা যেকোনো জায়গায় কাজ করতে প্রস্তুত। এখন সামাজিক, রাজনৈতিকসহ কাজের পরিবেশ নারীদের অনুকূলে। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান (সচিব) জাকিয়া সুলতানা। চাকরি জীবনের শুরুতে তিনি মাঠ প্রশাসনে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রশাসন ক্যাডারে কাজের পরিবেশ অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় ভালো বলে মনে করেন বিসিএস (প্রশাসন) ১০ম ব্যাচের কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের নারী কর্মকর্তাগণকে অন্যান্য সেক্টরের তুলনায় কম বাধার সম্মুখীন হতে হয়, আমার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। তাছাড়া আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম, উদ্যোগ, চেষ্টা, সততা ও একাগ্রতার মাধ্যমে সর্বক্ষেত্রে বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে কর্মক্ষেত্রে স্বাক্ষর রাখার চেষ্টা করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে নারী কর্মকর্তাগণের কর্মক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধি, পুরুষ কর্মকর্তাগণের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব কর্মপরিবেশ উন্নয়নের ফলে নারী কর্মকর্তাগণের কর্মপরিবেশ যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। জাকিয়া জানান, প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯১ সালে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে। শৈশব থেকেই স্বপ্ন ছিল মানুষের কল্যাণে কাজ করার। সে স্বপ্নই আমাকে বর্তমান পদে আসার কঠিন পথকে সফলতার সঙ্গে অতিক্রম করার শক্তি যুগিয়েছে। তবে তার ক্যারিয়ারের শুরুটা তেমন কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না।

প্রশাসনের নারী সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জিং একটি ক্যাডারকে আমরা পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছি। দেশের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পরিচালনাই আমাদের মূল দায়িত্ব। কর্তব্য পালনের সময় আমাদের মনে রাখতে হবে ব্যক্তির চেয়ে সংস্থা বড়, সংস্থার চেয়ে দেশ। কর্মক্ষেত্রে লোভ- লালসা ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে এবং দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স থেকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে কিংবা চলার পথে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সৃষ্টি হলে, প্রশাসনিকভাবেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

‘খালেদা জিয়া ভালো আছেন’

১৬ এপ্রিল ২০২১

করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভালো আছেন। তবে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার রাতে বেগম ...

করোনা নিয়ে এখন কারো রাজনীতি করা সমীচীন নয়

১৬ এপ্রিল ২০২১

বিএনপি তাদের ব্যর্থ রাজনীতি ঢাকতে জনগণ ও পুলিশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ...

লকডাউনে সরকার চালাচ্ছে ক্র্যাকডাউন

১৬ এপ্রিল ২০২১

লকডাউনকে কেন্দ্র করে সরকার ক্র্যাকডাউনে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ...

রোজা হলো সকল ইবাদতের রুহ

১৬ এপ্রিল ২০২১

আজ তৃতীয় রমজান। কোনো সুস্থ ব্যক্তির রোজা ভঙ্গ করা যাবে না। শুধু মাযুর অসুস্থ হলে ...

বাইডেনকে চিঠি

ভ্যাকসিনের মেধাস্বত্ব বাতিলের আহ্বান ড. ইউনূসসহ ১৭০ সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান ও নোবেল জয়ীর

১৬ এপ্রিল ২০২১

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ওপর থেকে মেধাস্বত্ব বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন ১৭০ জনেরও ...

লাইফ সাপোর্টে কবরী

১৬ এপ্রিল ২০২১

করোনায় আক্রান্ত বরেণ্য অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। গতকাল বিকালে তাকে লাইফ ...

পহেলা বৈশাখ আজ

১৪ এপ্রিল ২০২১



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status