ডিজিটাল আইন প্রত্যাহার করতে হবে: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে মুশতাকের মৃত্যুর তদন্ত দাবি ড. কামালের

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) মার্চ ৩, ২০২১, বুধবার, ৬:১২ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়। ড. কামাল হোসেন স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর তদন্ত দাবি করেন। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ডিজিটাল আইন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তাদের উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখার কথা ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তারা সেখানে উপস্থিত হতে না পেরে লিখিত বক্তব্য পাঠান। ড. কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্য বলেন, প্রতিনিয়ত আমরা মানবাধিকার লংঘন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিবেদন পড়ছি। অতি সম্প্রতি লেখক মুশতাক আহমেদের কাশিমপুর কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংবাদ পড়েছি। তার জামিন আবেদন ছয় বার নামঞ্জুর করা হয়।
শেষবার যখন তাকে আদালতে আনা হয় তখন তার শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট অবনতি ঘটেছিল। কিন্তু তার পরও তাকে জামিন দেয়া হয়নি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে মুক্ত চিন্তা, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো সংশোধনের জন্য বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সরকার এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বরং এর অপব্যবহার বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। এইভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সরকারের অত্যাচার ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। এই কালো আইনটির অপব্যবহারের চরম বহিপ্রকাশ হচ্ছে লেখক মুশতাক আহমেদের কারা হেফাজতে মৃত্যু। একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুর সার্বিক অবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত অপরিহার্য। এ ঘটনা নাগরিকদের বিবেককে আহত করেছে ফলে আজ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে যাতে করে মুশতাকে মৃত্যুর সঠিক তদন্ত করা হয় ও তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো সমন্ধে নাগরিক সমাজ তাদের যে মতামত ব্যক্ত করেছে তার আলোকে এই আইনটির সংশোধন একান্ত অপরিহার্য।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী লিখিত বক্তব্য বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যখন চালু করা হয় তখন সরকার ও তার সমর্থক ছাড়া সকল মহল থেকেই শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে এর অপ্রয়োগ ঘটবে। মতপ্রকাশের অধিকার আরও ক্ষুন্ন হবে। হয়তো কণ্ঠরোধের ঘটনাই ঘটবে। প্রতিবাদ করা হয়েছিল। কাজ হয়নি। দেখা গেল আশঙ্কাটা মিথ্য ছিল না। ইচ্ছা মতো মামলা দেওয়া হচ্ছে। মানুষ গ্রেপ্তার হচ্ছে, নাজেহাল হচ্ছে। সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলতো গুমই হয়ে গিয়েছিলেন। সীমান্ত এলাকায় যখন দেখা গেল তাকে, তখন অসুস্থ মানুষটিকে ধরে এনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গেপ্তার দেখনো হলো। জামিনের চেষ্টা হলো কাজ হলো না। শেষে দেশ বিদেশের বিভিন্ন মহল থেকে যখন প্রতিবাদ হলো, লেখালেখি হলো তখন কোনো  মতে জামিন পেলেন। মুশতাক আহমেদতো তাও পেলেন না। ছয় হয় বার জামিনের আবেদন করেছেন, গ্রাহ্য হয়নি, সপ্তমবার আর করার প্রয়োজন হলো না, তিনি চিরমুক্ত হয়ে চলে গেলেন।

বললে কি অন্যায় হবে যে মুশতাক হচ্ছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের প্রথম শহীদ? ঘটনাটা সেরকমেরই। আশা করবো এটাই শেষ ঘটনা। ভরসা হচ্ছে প্রতিবাদ। মুশতাক আহমেদ একজন লেখক, তিনি একজন উদ্যোক্তাও। তিনি কারও কোনো ক্ষতি করেননি। ফৌজদারী বা দেওয়ানী কোনো অপরাধে অপরাধী নন। দেশের সম্পদ পাচার করেননি, কাউকে ঘুম করেননি। বলা হচ্ছে তিনি রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর লেখা লিখেছিলেন। রাষ্ট্র কি এতই দুর্বল যে একজন লেখকের সামান্য কিছু লেখার জন্য বিব্রত বোধ করবে? সরকার কী নিজের জনসমর্থক বিষয়ে এতটাই আশাহীন যে মনে করবে ওই লেখাতে তার ভাবমুর্তির ভীষণ ক্ষতি হয়ে গেছে। সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্যতো নাগরিকদের চিন্তার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নিরাপত্তা দেওয়া। রাষ্ট্রের দায়িত্বতো সেটাই। পাকিস্তান আমলে আমরা দুঃসহ এক নব্য ঔপনিবেশিক জুলুমের মধ্যে ছিলাম। সেকালেও শুনিনি যে লেখার জন্য কেনোা লেখককে আটক করা হয়েছে এবং হেফাজতে তার মৃত্যু ঘটেছে। লেখার জন্য ধরে এনে জেলে এবং বন্দী অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটতে দেওয়া দুটোই ভয়ংকর অন্যায়। সেটা কোনো মতে মেনে নেওয়া যায় না, মেনে নেওয়া উচিৎ নয়। এতে করে দেশে এবং বহির্বিশ্বে রাষ্ট্রের ও সরকারের ভাবমূর্তি যে উজ্জ্বল হবে এমন আশা নিতান্ত দূরাশা। মুশতাক আহমেদের এই অকালে চলে যাওয়া পর্যাপ্ত যুক্তি ও প্রমান কী জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অবিলম্বে বাতিল করা দরকার। মুশতাক আহমেদের প্রাণত্যাগের ঘটনায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচারতো আমরা চাইবোই, সে সঙ্গে ভীতিপ্রদ আইনটির প্রত্যাহার ও চাইবো অবিলম্বে । ডিজিটাল অপরাধের জন্য প্রচলিত ফৌজদারী আইন যথেষ্ট। পয়োজনে তার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। মতপ্রকাশের ভীতি চিন্তার স্বাধীনতার কষ্ঠরোধ করে সেটা গণতন্ত্রের ওপর তা অবশ্যই মানুষের মনুষত্বের ওপরও আঘাত। আমরা আমাদের মনুষত্বের রক্ষা করতে চাই। যে জন্য দীর্ঘকাল ধরে আমরা লড়ছি।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

md.Shahjahan Siraj

২০২১-০৩-০৩ ০৭:২৯:০২

মন দিয়ে পড়লাম। কিন্তু মন খোলে মন্তব্য করতে ভয় পাচ্ছি। কারণ -- আইনটি এখনও বহাল আছে যে!!!!!!!!!.

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

‘অ্যাকুয়াকালচার সেক্টর স্টাডি বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা

করোনা পরিস্থিতিতে সঙ্কটে মাছ চাষীরা

২১ এপ্রিল ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



রণক্ষেত্র বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র

শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ৫

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠক-

গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবি

করোনায় আক্রান্ত পুরো পরিবার

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

DMCA.com Protection Status