সরকারের মতের বিরোধিতা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

অনলাইন (১ মাস আগে) মার্চ ৩, ২০২১, বুধবার, ৪:৫৯ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৪ পূর্বাহ্ন

সরকারি কোনো মতের বিরোধিতা করলেই সেটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয় বলে বুধবার মন্তব্য করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি খারিজ করা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিলোপ করে সংবিধানের বিশেষ ৩৭০ ধারা। সেই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে সরব হয়েছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ফারুক আবুদল্লা। তার সেই সরব হওয়ার মধ্যে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা'র ইঙ্গিত পেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে বুধবার এমন মন্তব্য করে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ অগাস্ট ২০১৯ থেকে গৃহবন্দি ছিলেন ফারুক আবদুল্লা সহ জম্মু-কাশ্মীরের অন্য রাজনৈতিক কর্মীরা। অপর একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকেও রাখা হয়েছিল গৃহবন্দি করে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি দেওয়া হয় ফারুক আবদুল্লাকে।
মেহবুবাও মুক্তি পান।

এর আগে ২০১৬ সালেও সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল- সরকারি নীতি অর্থাৎ সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। এমনটা হলে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও আর নেওয়া যায় না।

সে সময় রাষ্ট্রদ্রোহিতা নিয়ে ভারত জুড়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছিল। রাষ্ট্রদ্রোহিতা আইনে একের পর এক মামলা করা হচ্ছিল। বিভিন্ন মহল থেকে ওই আইন বাতিলের দাবিও উঠতে শুরু করে। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এ নিয়ে হস্থক্ষেপ দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত এমন কথা বলেছিলেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Shobuj Chowdhury

২০২১-০৩-০৩ ২১:০১:১৪

We have courts here which are higher than Indian SC, so we don't have to learn anything from Indian SC. Our Digital Security Act is designed to size people digitally. The torture in custody will be recorded digitally and erased digitally, so what's the big deal?

আবুল কাসেম

২০২১-০৩-০৩ ০৫:১৫:৪৫

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করার জন্য অভিনন্দন। আমের ভেতর 'আঁটি' থাকে। অর্থাৎ 'আঁটি' মানেই আম নয়, বরং আমের মধ্যকার একটি উপাদান মাত্র। তেমনিভাবে সরকার মানেই রাষ্ট্র নয়, বরং রাষ্ট্রের একটি উপাদান মাত্র। সুতরাং, আমের আঁটি চিবানো মানে আম চিবানো নয়। তদ্রূপ সরকারের সমালোচনা করা মানে রাষ্ট্রের নয়। একই সঙ্গে একটা নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌমত্ব বিদ্যমান থাকলে সেটাই হবে রাষ্ট্র। আর সরকার হলো রাষ্ট্রের একটা উপাদান মাত্র। সরকার এক বা একাধিক রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি। আর রাষ্ট্র হলো একটা দেশের সকল রাজনৈতিক দলের ও সকল গণমানুষের। রাষ্ট্র হলো একটা ধারালো 'চুরি'র মতো যেটা সরকার ব্যবহার করে থাকে ও জনগণের কল্যানে এবং কখনো কখনো নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে জনগণের বিরুদ্ধেও সরকার রাষ্ট্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তখন রাষ্ট্রের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, প্রতিবাদী হয় এবং সমালোচনা করে। এই প্রতিবাদকেই বিভিন্ন দেশের সরকার রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। আর জনগণের মুখের ভাষা ও মতামত প্রকাশের এবং লেখার স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়। চালায় দমন-পীড়ন। এজন্য বিভিন্ন প্রকার ভয়ংকর সব কালাকানুন তৈরি করে। আসলে রাষ্ট্র সবসময়ই নির্দোষ। মানুষের মঙ্গলের জন্যই রাষ্ট্র গঠিত হয়। আর সরকার জনগণের কল্যানে যেমন হতে পারে, আবার অকল্যানেও হতে পারে। সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকারের রীতি হলো সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিের দ্বারা আইন সভা গঠিত হবে। সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যে কোনো বিষয়ে তুমুল বিতর্ক হতে পারে। হতে পারে আলোচনা এবং সমালোচনাও। জনগণও সরকারের অপছন্দের কাজের সমালোচনা করতে পারে। আবার রাষ্ট্রের আইন মানা ও আনুগত্য করা জনগণের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু বিশিষ্ট আইনটি যদি জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যায় তখনই ঘটে যায় বিপত্তি। সেজন্যই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জনস্বার্থ বিরোধী আইনের বিরোধিতা করে থাকেন। জনকল্যানমুখী আইন থাকলে সরকারের সমালোচনা করার দরকার পড়েনা। বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেছেন, "ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য ডিজিটাল আইনের দরকার নেই।" (সূত্র প্রথম আলো) অতএব সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ আছে এমন কোনো আইন না থাকাটাই ভালো এবং আইন কানুন এমনই হওয়া বাঞ্ছনীয় যা দ্বারা জনগণ উপকৃত হয়।

ফারুক হোসেন

২০২১-০৩-০৩ ১৮:১৩:৩৩

ভারতে অপরাধ না হলেও আমাদের দেশে কিন্তু চরম অপরাধ। জীবনও চলে যেতে পারে, এবং অহরহ যাচ্ছে।

আনিস উল হক

২০২১-০৩-০৩ ০৪:২৯:০৬

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কিন্তু বাংলাদেশের মামলার বিচারের প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে নজির হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়।

Salam

২০২১-০৩-০৩ ১৭:২২:৩৩

এখানে বিরুদ্ধে বল্লে, গুম বা গায়েবি মামলা হয়।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

‘অ্যাকুয়াকালচার সেক্টর স্টাডি বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা

করোনা পরিস্থিতিতে সঙ্কটে মাছ চাষীরা

২১ এপ্রিল ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



রণক্ষেত্র বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র

শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ৫

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠক-

গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবি

করোনায় আক্রান্ত পুরো পরিবার

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

DMCA.com Protection Status