‘হাইকমান্ডের নির্দেশে ঘর গোছাতে সক্রিয় সিলেট বিএনপি

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

শেষের পাতা ২ মার্চ ২০২১, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৫ অপরাহ্ন

বছর ঘুরলেও ঘর সাজাতে পারেনি সিলেট বিএনপি। জেলার কার্যক্রম চলছে ‘কচ্ছপ’ গতিতে। আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম। ঝিমিয়ে পড়েছে মহানগর বিএনপি’র কার্যক্রমও। নেতাদের গা-ছাড়া ভাব। এই অবস্থায় দল পুনর্গঠনে হস্তক্ষেপ করছে হাইকমান্ড। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সম্মেলনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ১৪ই মার্চ হাইকমান্ড বসছে মহানগর বিএনপিকে নিয়ে।
ভেঙে দেয়া হচ্ছে মহানগর বিএনপিকেও। ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রশ্ন- সিলেট বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী নয়। এই অবস্থায় মাঠের রাজনীতিতে তারা কতোটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে জেলার নেতারা জানিয়েছেন- সিলেট বিএনপি দল গোছানো ও মাঠের রাজনীতি সমান্তরালভাবেই এগিয়ে নেবে। এরই মধ্যে জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির ভেতরকার দ্বন্দ্ব মিটে গেছে। ফলে এখন আরো বেশি গতি নিয়ে জেলা বিএনপি এগিয়ে যাবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে গণতান্ত্রিকভাবে জেলার সম্মেলন করা সম্ভব বলে জানান তারা। সিলেটে প্রধান দু’টি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ঘর গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল প্রায় একই সময়ে। ২০১৯ সালের শেষদিকে দু’টি দলেই তাদের দল গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ দল গোছানোর পর্ব শেষ করেছে অনেক আগেই। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে শক্তি নিয়েই তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু বিএনপি এখনো সেই প্রক্রিয়ার অর্ধেকও করতে পারেনি। ২০১৯ সালের অক্টোবরে জেলা বিএনপি’র মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে কামরুল হুদা জায়গীরদারকে আহ্বায়ক করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল- ওই আহ্বায়ক কমিটি ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি উপহার দেবে। কিন্তু ১৭ মাসেও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন শুরু করতে পারেনি। আগামী সপ্তাহ থেকে জেলা বিএনপি তাদের ইউনিয়ন সম্মেলন শুরু করবে বলে জানিয়েছেন জেলার আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার। তিনি জানান- জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির ভেতরে কিছুটা ‘মনোমানিল্য’ ছিল। সেটি দূর করা হয়েছে। ইউনিয়ন, উপজেলা সম্মেলন শেষ করে আগামী দুই মাসের মধ্যে জেলা সম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন- গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির নেতারা ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় আহ্বায়ক কমিটির ভেতরে মনোমালিন্যের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামগ্রিক বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সম্মেলনের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশের পর জেলা বিএনপি’র নেতারা দল গোছাতে সক্রিয় হয়েছেন। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে দল গোছানোর একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে যাচ্ছেন। ওই রোডম্যাপ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের ভেতরে তারা ইউনিয়ন ও উপজেলা, পৌর সম্মেলন করবেন। জেলার আহ্বায়ক জানান- তাদের ৪০টি ইউনিয়নে সম্মেলনের কার্যক্রম প্রায় প্রস্তুত। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করলে রমজানের আগেই সম্মেলনের মাধ্যমে জেলার নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে। এদিকে- ভেঙে ফেলা হচ্ছে সিলেট মহানগর বিএনপি’র কমিটিও। জেলা বিএনপি’র পর মহানগর বিএনপি ভেঙে দেয়ার গুঞ্জন শুরু হলেও করোনার কারণে সেটি স্থিমিত হয়ে যায়। অবশেষে দলের হাইকমান্ড সিলেট জেলা বিএনপি’র নেতাদের ঢাকায় ডেকেছেন। ১৪ই মার্চ ঢাকায় সিলেট মহানগর বিএনপি’র সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে কিংবা তার পরে মহানগর বিএনপি ভেঙে দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হতে পারে। মহানগর বিএনপি সভাপতি নাসিম হোসাইন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- মহানগর বিএনপি’র বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। দলের হাইকমান্ড যেভাবে নির্দেশ দেবেন সেভাবেই কার্যক্রম শুরু করা হবে। এদিকে- সিলেট বিএনপি’র ঘর গোছানোপর্ব এবং আন্দোলন এক সঙ্গে চলবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তারা বলেন, মাঠের আন্দোলনে বিএনপি সব সময়ই সোচ্চার। বিগতদিনে মামলা মোকাদ্দমায় জর্জরিত হয়েছে সিলেট বিএনপি। এরপরও নেতারা আন্দোলনে পিছিয়ে নেই। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে পালন করা হচ্ছে। জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘর গোছানো ও আন্দোলন একসঙ্গে চলবে। বিএনপি গণমানুষের দল হিসেবে মানুষের প্রয়োজনে যখন যা প্রয়োজন তাই করা হবে বলে জানান তিনি। ছাত্রদলের সড়ক অবরোধ: গতকাল বিকালে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল কর্মীরা। তবে, পুলিশ আসার আগেই তারা পালিয়ে গেছেন। বিকাল ২টা ৫৫ মিনিটে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলটি জিন্দাবাজার পয়েন্টে এসে শেষ করে তারা। পরে জিন্দাবাজার পয়েন্টে জড়ো হয়ে নেতাকর্মীরা ৫ মিনিট সড়ক অবরোধ করে রাখে। তবে পুলিশ আসার খবর পেয়ে চলে যায়। রাস্তা অবরোধ করলেও কোনো ভাঙচুর করা হয়নি। ঢাকায় ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদল সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতারা এই কর্মসূচি পালন করে।
 

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

পহেলা বৈশাখ আজ

১৪ এপ্রিল ২০২১

আরো ৬৯ জনের মৃত্যু

১৪ এপ্রিল ২০২১

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সেনা নামানোর পরামর্শ সিপিডি’র

১৩ এপ্রিল ২০২১

মহামারি করোনাভাইরাস রোধে আসন্ন লকডাউনে শিল্প-কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ...

ওয়াক্ত ও তারাবির নামাজে ২০ জনের বেশি মুসল্লি নয়

১৩ এপ্রিল ২০২১

মসজিদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ছাড়া ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status