ক্যান্সার আক্রান্ত ‘মা’-এর চিকিৎসার জন্য খেলতে চান নিষিদ্ধ রাজীব

স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, রোববার

গত দুইদিন ধরেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করেছেন শাহাদাত হোসেন রাজীব। কিন্তু ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। সেই হিসেবে দেশের কোনো ধরনের ক্রিকেটে তিনি অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বিসিবি’র কোনো স্টেডিয়াম, জিম, একাডেমির মাঠও তিনি ব্যবহার করতে পারবেন না। তাহলে তিনি কেন বিসিবিতে! জানা গেছে, গত সপ্তাহে তিনি বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী বরাবর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও খেলার আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। তবে তাকে এখনো অনুমোদন দেয়া হয়নি বলেই জানা গেছে বিসিবি’র কয়েকটি সূত্র থেকে। এ বিষয়ে এই ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- নিয়মটি তিনি জানতেন না। দৈনিক মাবজমিনকে তিনি বলেন, ‘আমি ২৩শে ফেব্রুয়ারি বিসিবি’র সিইও বরাবর খেলার জন্য আবেদন করেছি।
তাই অনুশীলন শুরু করেছি মিরপুর মাঠে। কিন্ত আমি জানতাম না যে, নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় আমি এই মাঠ ব্যবহার কারতে পারবো না। না জেনেই ভুল করেছি। আমার আসলে কোনো উপায় নেই। আমার মা ক্যান্সার আক্রান্ত, তৃতীয় স্টেজে আছেন। তাকে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু চিকিৎসাতো চালাতে হবে। আমি নিষিদ্ধ হয়েছি প্রায় ১৫ মাস চলছে। আর কোনোভাবেই পারছি না মাঠের বাইরে থাকতে। ক্রিকেটই আমার আয়ের পথ। আমিতো আর অন্য কোনো কাজ জানি না। আর করোনার কারণে সব ধরনের উপার্জন বন্ধ। তাই মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে নিতে আমার টাকার প্রয়োজন। এই কারণেই খেলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি। আমি আসলে খুব ভুল করেছি। আশা করবো বিসিবি আমাকে ক্ষমা করবে।’ ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ সতীর্থ আরাফাত সানি জুনিয়রকে মারধর করে ৫ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন শাহাদাত হোসেন। এর মধ্যে ২ বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সঙ্গে আছে এক লাখ টাকা জরিমানা। ক্যারিয়ার জুড়েই নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন এই পেসার। এর আগেও গৃহকর্মীকে মারধর করার অভিযোগে তার জেল খাটতে হয়েছে সস্ত্রীক। পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে তাকে সেই মামলা থেকে ২০১৬-তে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। ২০০৫ সালে জাতীয় দলে টেস্ট অভিষেক এই পেসারের, খেলেন ২০১৪ পর্যন্ত। এরপর বাদ পড়েন দল থেকে। তবে ২০১৫-তে পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারো সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু সেটিই তার দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ। ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে পড়েন। এরপরই জড়িয়ে যান শিশু নির্যাতন মামলাতে। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩৮ ম্যাচে তুলে নিয়েছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ উইকেট। পেসারদের মধ্যে ৭৮ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাদের রেকর্ড এখনো কোনো পেসার স্পর্শ করতে পারেনি। এছাড়াও রাজীব দেশের হয়ে ৫১ ওয়ানডে ও ৬ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। এই দুই ফরম্যাটে তার শেষ ম্যাচ ২০১৩-তে। অন্যদিকে ১১২ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ২৫৮ উইকেট শিকার করেছেন তিনি শাহাদাত। দেশের চারদিনের ক্রিকেটে তিনি সব শেষ ম্যাচ খেলেছেন ১৬ই নভেম্বর ২০১৯ এ। খুলনায় সেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিতে ঢাকা বিভাগের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে আরাফাতকে মারার অপকর্ম ঘটান। ম্যাচ চলাকালীন সতীর্থ অফ স্পিনার সানিকে বল ঘষে দিতে বলেন সিনিয়র এই ক্রিকেটার। কিন্তু তা করে দিতে অস্বীকৃতি জানান সানি। এর পরই তাকে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করেন রাজীব। এই অপরাধেই তাকে নিষিদ্ধ করে বিসিবি। কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়ে চরম অনুশোচনায় রাজীব বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। আমি জানি ক্ষমা চাইলেই পাবো না। কিন্তু আবারো আমি এনসিএল-এ ফিরতে চাই। যদি আমাকে সুযোগ দেয়া হয় আমি আমার মায়ের চিকিৎসা চালাতে পারবো। খেলার অনুমতি পাই বিসিবি’র কোনো টুর্নামেন্ট না হলেও বাইরে খেলে কিছুটা হলেও উপার্জন করতে পারবো।’

 

আপনার মতামত দিন

খেলা অন্যান্য খবর



খেলা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status