বিশ্বসেরা এমবিএ স্কুলের র‍্যাংকিং-এ নতুন মুখ; নেই হার্ভার্ড, ওয়ার্টন

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১, শনিবার, ২:৪৭ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৩ অপরাহ্ন

বহু বছরের প্রথা ভেঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শীর্ষ বিজনেস স্কুল এ বছর বিভিন্ন প্রকাশনার এমবিএ র‍্যাংকিংয়ে অংশ নেয়নি। সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া দ্য ইকোনমিস্ট ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের র‍্যাংকিংয়ে অন্য শীর্ষ বিজনেস স্কুলগুলোর পাশাপাশি অংশ নেয়নি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ার বিখ্যাত ওয়ার্টন স্কুল, কলম্বিয়া বিজনেস স্কুল ও স্ট্যানফোর্ড স্কুল অব বিজনেস। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, করোনা মহামারির কারণে র‍্যাংকিংয়ে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ায় নিজেদের বিরত রেখেছে তারা। এ খবর দিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
খবরে বলা হয়, র‍্যাংকিং অনেক সময় স্কুলগুলোকে নিজেদের অর্জন ও সাফল্য নিয়ে বড়াই করার সুযোগ দেয়। পাশাপাশি টেনে আনে মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও। র‍্যাংকিংয়ে কোনো স্কুলের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে স্কুলটিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতেও পারে, বাড়তেও পারে। এছাড়া, পাস হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রশংসা বা সমালোচনাও আকর্ষণ করতে পারে র‍্যাংকিং।
গ্রাহাম হোল্ডিংস কোম্পানির শিক্ষা বিষয়ক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান কাপলানের করা এক জরিপ অনুসারে, মোটাদাগে এ বছর ৬২ শতাংশ বিজনেস স্কুল কোনো না কোনো র‍্যাংকিংয়ে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
একইসঙ্গে র‍্যাংকিংয়ে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকবে বলে জানিয়েছে ১০ শতাংশ স্কুল।    
প্রধান তালিকাগুলোর মধ্যে এবার র‍্যাংকিং প্রকাশ স্থগিত রেখেছে ব্লুমবার্গ বিজনেসউইক। অন্যদিকে গত মাসে প্রকাশিত ইকোনমিস্টের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বেশ কয়েকটি বিখ্যাত স্কুল। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক মুখপাত্র জানান, সচরাচর তাদের র‍্যাংকিংয়ে অংশ নেওয়া স্কুলগুলো এবার বিরত থেকেছে।
বেশকিছু বড় স্কুল অংশ না নেওয়ায় অন্যান্য স্কুলগুলো তালিকার উপরের দিকে উঠে এসেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সেরা এমবিএ প্রোগ্রামের র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে ফ্রান্সের ইনসিড। গত বছরের তালিকায় স্কুলটির অবস্থান ছিল চতুর্থ। চলতি বছর হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডের মতো স্কুলগুলো র‍্যাংকিংয়ে অংশ নেয়নি।
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের মুখপাত্র ব্রায়ান কেনি বলেন, র‍্যাংকিংয়ের বিরোধী নয় স্কুলটি। কিন্তু মহামারির মধ্যে 'রিমোট লার্নিং' পদ্ধতিতে ক্লাস চলার কারণে সকল প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংগ্রহ করতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে স্কুলটির। যে কারণে, এবারের র‍্যাংকিংয়ে অংশ নেয়নি হার্ভার্ড। সাধারণত তালিকার শীর্ষে থাকে স্কুলটি। তাই এক বছর র‍্যাংকিংয়ে না থাকলেও স্কুলটির উপর এর খুব একটা প্রভাব পড়বে না।
কেনি বলেন, আমাদের উপর র‍্যাংকিংয়ের প্রভাব অন্য স্কুলগুলোর মতো পড়বে না। যারা হয়তো সেরা ৫০-এ আসার জন্য হিমশিম খাচ্ছে। তবে আগামী মার্চে প্রকাশিতব্য ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট র‍্যাংকিংয়ে অবশ্য অংশ নিচ্ছে হার্ভার্ড।
এদিকে স্ট্যানফোর্ডের এক মুখপাত্র জানান, ইতিমধ্যে চাপযুক্ত একটি বছরে কেবল র‍্যাংকিংয়ের জন্য আলাদা করে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের উপর নানা জরিপের বোঝা চাপাতে চায়নি স্কুলটি।
একইভাবে ফিন্যান্সিয়ালন টাইমসের প্রকাশিত তালিকায় চতুর্থ স্থানে ইয়েল স্কুল অব ম্যানেজম্যান্ট জানিয়েছে,  গত বছরের বসন্তে উপাত্ত সংগ্রহের সক্ষমতা না থাকায় ইকোনমিস্টের র‍্যাংকিংয়ে অংশ নেয়নি তারা।
প্রসঙ্গত, ইকোনমিস্টের র‍্যাংকিংয়ে এবার নয় স্থান এগিয়ে শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে স্পেনের আইইএসই বিজনেস স্কুল। এছাড়াও, শীর্ষ পাচে আছে, মিশিগানের রস স্কুল অব বিজনেস, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেস ও জর্জিয়া টেক এর শেলার কলেজ অব বিজনেস।
ইকোনমিস্টের র‍্যাংকিংয়ে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসন এর বিজনেস স্কুল চলতি বছর ২৭ স্থান এগিয়ে চলে এসেছে ১৯ নম্বরে। স্কুলটির সহকারী ডিন ব্লেয়ার স্যানফোর্ড বলেন, র‍্যাংকিংয়ে এই উন্নতি প্রোগ্রামটিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো র‍্যাংকিংয়ের সেরা ২০ এর মধ্যে থাকা আমাদের প্রভাব কিছুটা বাড়ায়। স্কুলগুলোর র‍্যাংকিং করা হয় বেশকিছু তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করে। এর মধ্যে রয়েছে, পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর, পাস করা শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্টি নিয়ে জরিপ, চাকরির সম্ভাবনা, ইত্যাদি। ইকোনমিস্টের র‍্যাংকিংয়ে অংশ না নেওয়া কিছু স্কুল জানিয়েছে, 'রিমোট লার্নিং'-এর উপর জোর দিতে হয়েছে তাদের। বাকিরা উপাত্তের ঘাটতির কারণে অংশ নেয়নি বলে জানিয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের মুখপাত্র ক্যাটরিনা ফেডসজুক জানান, ডিগ্রি সম্পন্ন করতে উচ্চ খরচ বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা কোথায় পড়তে চান সে বিষয়ে সহায়ক তথ্য আগ থেকেই তাদের কাছে থাকা উচিত। যে কারণে, এবার আগেভাগেই সেরা স্কুলের তালিকা প্রকাশ করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, র‍্যাংকিংয়ের সঙ্গে বিজনেস স্কুলগুলোর সম্পর্ক অনেকটা ভালোবাসা আর ঘৃণার সংমিশ্রণ। কোনো স্কুলের মতে, র‍্যাংকিংয়ে তাদের প্রোগ্রামের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না ও এতে আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রভাবিত হয়।
তা যাইহোক, এমবিএ-তে ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে র‍্যাংকিং। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুসারে, কোনো বিজনেস স্কুলের ওয়েবসাইটে তাদের র‍্যাংকিং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হিসেবে উপস্থিত থাকে, কখনো কখনো ক্যারিয়াস সেবা, স্বীকৃতিরও আগে।
ব্যবসন কলেজের স্নাতক শিক্ষার্থী ভর্তির সাবেক ডিন এবং ভর্তি বিষয়ক পরামর্শদানকারী সংস্থা এমবিএ প্যাথ-এর প্রতিষ্ঠাতা পেশিয়া হোয়াইটমোর বলেন, র‍্যাংকিং স্কুলগুলোর জন্য বাইরের একটি বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরো বলেন, আমি বেশ কয়েকবার শুনেছি যে, কোনো স্কুল র‍্যাংকিংয়ে নিচে নেমে আসলে সেটির প্রভাবশালী সাবেক শিক্ষার্থীরা স্কুলটির অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
কিছু স্কুলের আশঙ্কা যে, করোনা মহামারির কারণে এ বছরেরর রযাং  কিংগুলোর ফলাফলগুলো ভিন্ন হতে পারে। যেমন, মন্দার সময়য় স্কুলগুলোর জন্য নির্ধারিত চাকরির সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। দ্য গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজম্যান্ট এডমিশন কাউন্সিল অ্যান্ড দ্য এডভান্স কলেজিয়েট স্কুলস অব বিজনেস ইতিমধ্যেই সকল র‍্যাংকিং প্রকাশ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।  
ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের প্রধান উপাত্ত কৌশলবিদ রবার্ট মর্স জানান, আগামী মার্চে তাদের জনপ্রিয় সেরা স্কুলের তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে তাদের র‍্যাংকিংয়ে কোনো স্কুল অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকছে কিনা এ বিষয়ে মন্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।  
সাধারণত সেরা ১০ এ অবস্থানকারী হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড ও কলম্বিয়া জানিয়েছে, তারা ইউএস নিউজ র‍্যাংকিংয়ে অংশ নিচ্ছে, কারণ এটায় সময় কম লাগে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



রেডিও ফ্রি এশিয়ার রিপোর্ট

মিয়ানমারে রক্তের বন্যা, নিহত কমপক্ষে ৬০

DMCA.com Protection Status