কাশিমপুর কারাগারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১১:২৩ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক এবং কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদ (৫৩) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মারা যান।
মানবজমিনকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য হাসনাত কাইয়ুম। এছাড়া গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ শরীফ মুশতাকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, বন্দীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
র‍্যাবের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গত বছরের মে মাস থেকে কারাবন্দী মুশতাক গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। কারা সূত্রমতে, মুশতাক আহমেদ কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে যান। হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পারিবারিক সূত্রমতে, আজ (শুক্রবার) মুশতাকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মুশতাকের স্ত্রী লিপা আক্তার সম্প্রতি মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
কুমির চাষের ডায়েরি নামে বইয়ের লেখক মুশতাক ‘মাইকেল কুমির ঠাকুর’ নামে একটি ফেসবুক পাতাও পরিচালনা করতেন, যাতে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য উঠে আসতো। লালমাটিয়ায় স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন তাদের একমাত্র পুত্রসন্তান মুশতাক।
তিনি ছিলেন বাণিজ্যিকভাবে দেশে কুমির চাষের অন্যতম প্রবক্তা।
এ বছরের ১১ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, লেখক মুশতাক আহমেদ এবং রাষ্ট্রচিন্তার কর্মী দিদারুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। গত বছরের মে মাসে রমনা থানায় মুশতাকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে র‍্যাব তিনটি মামলা করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জাতির জনক, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহামারি করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, তারা রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধ করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মুশতাক আহমেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আই অ্যাম বাংলাদেশি (ইংরেজি হরফে লেখা) নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনা, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির’ অভিযোগ আনা হয়েছিল। এজাহারে র‍্যাব দাবি করে- মুশতাক আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদে দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মিনহাজ মান্নানের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। অবশ্য গত সেপ্টেম্বরে এই মামলায় গ্রেপ্তার মিনহাজ মান্নান ও দিদারুল ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু কার্টুনিস্ট কিশোর ও লেখক মুশতাকের জামিন হয়নি। মোট ছয় বার মুশতাকের জামিন আবেদন নাকচ হয়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Nurun Nabi

২০২১-০২-২৬ ১০:৪৪:৩৪

Is Digital security law helping us. OR will kill us.

Kazi

২০২১-০২-২৫ ২০:৪২:৪৮

Digital security law is not applicable for writing against government. But it is misused. أنا اللله و أنا اليه راجعون

Mohiuddin Palash

২০২১-০২-২৬ ০৯:০৬:০৮

বর্তমানে চারদিকে একটি দৃশ্য ফুটে উঠেছে- দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার।জুলুমকারী বা অত্যাচারী কিছুকালের জন্য নিজেকে ক্ষমতাবান বা বড় শক্তিশালী কিছু ভেবে থাকে। অত্যাচারী বা জালিম যতই শক্তিশালী হোক না; তার পরাজয় নিশ্চিত। আল্লাহ বলেন, 'অতএব জালিম সম্প্র্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হলো।' [সূরা আল-আনয়াম :৪৫] জালেমদের জন্য দুনিয়াতে যেমন বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি মৃত্যুর পর তাদের ভয়ানক পরিণতি হবে। আল্লাহতায়ালা জালেমদের আখিরাতে ভয়ানক শাস্তি দেবেন। সূরা বুরুজের ১০নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'নিশ্চয় যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের নির্যাতন করে, তারপর তাওবা করে না, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব। আর তাদের জন্য রয়েছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার আজাব।'

আবুল কাসেম

২০২১-০২-২৫ ১৯:৩৯:৫০

বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে জানা যায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বহু মানুষের ক্ষতি হয়েছে। কেউকেউ হয়রানির শিকারও যে হয়নি তা নয়। সব অপকর্মের সূচনা করে গেছে ২০০১ থেকে ২০০৬ এর লোকেরা। তারাই 'RAB' গঠন করেছিলো। 'ডিজিটাল' নিরাপত্তা আইনও তারাই করে গেছে। পরবর্তীরা তাতে আরেকটু শান দিয়েছে আরকি। যে আইন মানুষের কল্যান করে না সেটা স্বাধীন দেশের জন্য প্রযোজ্য হতে পারেনা। আইন তো মানুষের জন্য। মানুষ আইনের বলি হওয়ার জন্য নয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রয়োজনেও আইন লাগে। কিন্তু, রাষ্ট্র তো মানুষের জন্যই। আমাকে কে কি বলছে, সব কথা যদি ধরি তাহলে একদিনও চলা সম্ভব হবেনা। অনেক সময় মনে করতে হয় পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়। কবি বলেছেন, 'কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়েছে পায়, মানুষের কি তা শোভা পায়? আমি আছি, তাই আমাকে নিয়ে মানুষ আলোচনা করে, আবার সমালোচনাও করে। তাই বলে আমি কারো মৃত্যুর কারণ যেনো না হই। আল্লাহ তায়ালার কাছে পানাহ চাই।

কালাম ফয়েজী

২০২১-০২-২৬ ০৬:৫৬:৩৭

ফ্যাসিবাদী শাসনের আরেক বলি লেখক মুশতাক আহমেদ।আমরা এই অকালপ্রয়াত লেখকের জন্য শোক প্রকাশ করছি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামের বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশ বিরোধী এ আইনের বিলুপ্তি কামনা করছি।

Nurun Nabi

২০২১-০২-২৬ ০১:২৭:৪৫

Is it real death or DIGITAL DEATH ???

mohammad monirujjam

২০২১-০২-২৫ ২৩:৪৯:২১

this is example and warning for writer and journalist?

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



রণক্ষেত্র বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র

শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ৫

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠক-

গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবি

করোনায় আক্রান্ত পুরো পরিবার

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

DMCA.com Protection Status