বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৩ অপরাহ্ন

বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে জাতি। করোনা মহামারির মধ্যেও নানা আয়োজনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পালিত হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গান গেয়ে শহীদদের স্মরণে বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে, শ্রদ্ধার ফুল হাতে মানুষের ঢল নামে শহীদ বেদিতে। স্মৃতির মিনারে শ্রদ্ধায় অবনত হয় লাখো মানুষ। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করা হয় একুশের আত্মত্যাগ ও মহিমা। ফেব্রুয়ারি মাস একুশের শহীদের স্মৃতিবাহী শোকাবহ মাস হলেও আত্মত্যাগ ও আত্মজাগরণের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের কারণে দিনটিকে উদ্‌যাপন করা হয় পরম মমতায়। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি
করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এ বছরের উদ্‌যাপনে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে।
তবুও স্মৃতির মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
দিনের কর্মসূচি শুরু হয় একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে। এ সময় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে হাজারো মানুষের ঢল নামে। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে থাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষ আসতে থাকেন। তবে ভোরের আলো পূর্ব দিগন্তে উঁকি মারার সঙ্গে সঙ্গে মানুষজন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজিমপুর কবরস্থান ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছুটে যান। বেলা গড়াতেই বাড়তে থাকে মানুষের ঢল। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের অদূরে পলাশীর মোড়ে জড়ো হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি শেষে তারা সারিবদ্ধভাবে ভেতরে প্রবেশ করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকে। ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানাতে একা কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর একুশের প্রথম প্রহরে মানুষের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। এ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবার শহীদ মিনারের মূল বেদিতে একসঙ্গে পাঁচজন শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন- এমন নিয়মে রাতে ভিড় কম হয়। প্রতি বছর একুশের প্রথম প্রহরে প্রেসিডেন্ট ও সরকার প্রধানের তরফ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় বাঙালির শ্রদ্ধা জানানোর পর্ব। মহামারির মধ্যে এ বছর তাদের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তাদের সামরিক সচিবরা। রাষ্ট্রপতির পক্ষে ফুল দেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম। আর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সারি দেখা যায় শহীদ মিনারে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের এই পালায় সকালে নামে মানুষের ঢল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের সারি আরো দীর্ঘ হয়। ফুল আর ছোট ছোট পতাকা হাতে লাইন বেঁধে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের এবং  নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সন্তানদের নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ বেদি। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় দিনভর মুখরিত শহীদ মিনারে বড়দের হাত ধরে এসেছিল শিশুরাও। অনেক স্কুল থেকেও খুদে শিক্ষার্থীরা হাজির হয়েছিল ব্যানার নিয়ে।
মহামারি কালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সর্বোচ্চ দু’জন একসঙ্গে শ্রদ্ধা জানানো শর্ত আরোপ করা হলেও তা মানতে দেখা যায়নি কাউকে। দুপুর ২টায় শহীদ মিনারের ঘোষণা মঞ্চ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। তবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারবে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় শহীদ মিনারেও একুশের প্রথম প্রহর থেকে ফুল দেয়ার পালা শুরু হয়। এ ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আলোচনা সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, প্রতিযোগিতাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শ্রদ্ধা নিবেদনের দৃশ্য দেখাতে পলাশীর মোড়ের অদূরে ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হয়। ওদিকে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো দিবসটি পালন করে। আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজনসহ দেশের সব উপাসনালয়ে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।  সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবারের মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক করে ‘শিক্ষায় এবং সমাজে বহু ভাষার অন্তর্ভুক্তি সযত্নে লালন করি’। ভাষা শহীদদের স্মরণে এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২১-০২-২১ ১৮:৪২:২২

২১ শে ফেব্রুয়ারীর ভাষা শহীদদের স্মরণের মুহূর্তে কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানকেও স্মরণ করছি। একটি দেশ- একটি সংসার- একটি চাবির গোছা- একটি আন্দোলন- একটি চলচ্চিত্র। একজন কর্তৃত্ববাদী নারী স্বৈরাচারী কায়দায় পরিবারের সবাইকে দাবিয়ে রাখে এবং চাবির গোছাটিও নিজের দখলে রাখে। সেই মহিলার ছোটো ভাই ছাত্র আন্দোলনের কর্মী। অমিত সাহসী। প্রতিবাদী যুবক। তার দেখাদেখি পরিবারের বাকিরাও সাহসী এবং প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আইনজীবী স্বামীর আইনি লড়াই। ডিক্টেটর বোনের বিরুদ্ধে ভাইয়ের স্বাক্ষী। সেই পরিবার দুটো দলে বিভক্ত। এক দলে সেই কর্তৃত্ববাদী মহিলা। অন্য দলে পরিবারের নির্যাতিত বাকিরা সবাই। কর্তৃত্ববাদী মহিলাটি পরিবারের সবাইকে অবৈধভাবে নিজের শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট করে যাচ্ছে। প্রতিবাদী যুবক ছোটো ভাইটি সেই কর্তৃত্ববাদী বোনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং চাবির গোছা ও পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে দেয় তার বড়ো ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে। কর্তৃত্ববাদী মহিলা প্রতিশোধ পারায়ণ হয়ে ওঠে। ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে। অবশেষে পানিতে বিষ মিশিয়ে তার ছোটো ভাইয়ের বউকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিতে চায়। কিন্তু, বিধি বাম। মহিলার আইনজীবী স্বামী-ই আদালতে প্রমাণ করে, মহিলা-ই ছিলো হত্যা চেষ্টার ষড়যন্ত্রকারী। এটি অমর চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের কালজয়ী সৃষ্টি 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রের সংক্ষিপ্ত কাহিনি। কিন্তু, ঘটনার আড়ালে যেমন ঘটনা থাকে তেমনি এই চলচ্চিত্রে একজন কর্তৃত্ববাদী বদমেজাজি নারীর ওই পরিবারের কর্তৃত্ব ও চাবির গোছা নিজের অধিকারে রাখা এবং কালক্রমে পরিবারের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠার ভেতর দিয়ে জহির রায়হান দেখিয়েছেন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে স্বাধিকার আদায়ের স্বপ্ন। বুঝিয়ে দিয়েছেন অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে হবে। ২১ শে ফেব্রুয়ারীর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ১১দফার ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদের মিছিলে গুলি, কারারুদ্ধ করা এবং মাতৃভূমির প্রতি অগাধ প্রেম ও ভালোবাসাকে তিনি ছায়াছবির উপজীব্য করেছেন। অনবদ্য দেশপ্রেমে দর্শকদের উদ্বেলিত করেছিলো 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি' এবং 'ও আমার স্বপ্ন ঝরা আকুল করা জন্মভূমি' এই গান দু’টির চিত্রায়ণ। আমি তখন কিশোর বয়সী। ছাত্র আন্দোলন তুঙ্গে। গণআন্দোলনের ঊর্মিমালা ছোটো বড়ো সবাইকে আন্দোলিত করেছে। ছাত্রদের রাজপথ কাঁপানো মিছিল ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। বড়ো ভাইদের পেছনে মিছিলে গগনবিদারী স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হতাম। মাঝেমধ্যে দল বেঁধে কয়েকজন সিনেমা দেখতাম। এর-ই মধ্যে ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পেলো 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রটি। ছবিটি দেখার পর নিজের স্বাধীন সত্ত্বার একটা সতন্ত্র অস্তিত্ব মনের ভেতর অনুভব করলাম। পরাধীনতার বিরুদ্ধে মন বিদ্রোহী হয়ে ওঠেছে। মনের ওপর সবচেয়ে বেশি রেখাপাত করেছিলো ভাষা শহীদ স্মরণে আবদুল গাফফার চৌধুরীর 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি'? গানটি এবং জেলখানার মধ্যে আনোয়ার হোসেনের ডায়ালগ, 'উদয়ের পথে শুনি কার বাণী/ভয় নাই ওরে ভয় নাই/নিঃশেষে প্রাণ, যে করিবে দান/ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই' এবং কারাবন্দীদের যৌথ কণ্ঠে, 'কারার ঐ লোহ কপাট ভেঙে ফেল কর রে লোপাট' গানটি। 'এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে' খান আতার এগানটিতে স্বৈরশাসকের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার আকুতি দারুন ভাবে ফুটে উঠেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও আবশ্যকতা খুবই নিপুণ কৌশলে তিনি চিত্রিত করে দর্শকদের মনে আন্দোলনের এবং বিদ্রোহের তরঙ্গ সৃষ্টি করেছেন। একটি চলচ্চিত্র একটি জাতিকে কিভাবে অধিকার আদায়ের এবং স্বাধীনতার জন্য উজ্জীবিত করতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রটি। এই চলচ্চিত্রটি আমাদেরকে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে দিক্ষা দিয়েছে এবং আমাদের মনে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপন করে দিয়েছিলো। স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের আগাম প্রস্তুতি নিতে জাতির মনমানসিকতা গঠন করে দিয়েছিলো। 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রটি বলা চলে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের প্রেরণার বাতিঘর। কালজয়ী নির্মাতা জহির রায়হান এজন্যই আমাদের মাঝে অমর হয়ে আছেন। তাঁর অমর কীর্তিগাঁথা অম্লান হয়ে থাকবে চিরকাল। কিন্তু, যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো সেই বৈষম্যের দেয়াল তো খাটো হলোনা বরং আরো উঁচু হয়েছে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ। তাতে বলা হয়েছে, "পারস্পরিক আলোচনা করিয়া, এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থ, সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করিলাম এবং তদ্দ্বারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ইতোপূর্বে ঘোষিত স্বাধীনতা দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করিলাম।" দেখতে দেখতে ৫০ টি বছর কেটে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা পত্রের অঙ্গীকার কতোটুকু পূরণ হয়েছে সে প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক। কোনো মহৎ কাজ সফল করতে হলে একটা জাতির অধিক সংখ্যক জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থন ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দরকার। সেজন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐকমত্য। জাতিকে বিভক্তির মধ্যে রেখে কোনো মহৎ কাজই সফল হয়না। বঙ্গবন্ধুর ডাকে জনগণের প্রায় ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ স্বাধীনতার প্রশ্নে এক কাতারে শামিল হয়েছিলো বলেই পাকিস্তানিরা সুবিধা করে ওঠতে পারেনি। অভাবনীয় ভাবে মাত্র নয় মাসে বিশ্ব মানচিত্রে আমরা স্বাধীন জাতির মর্যাদা লাভে সমর্থ হয়েছি। তখন ছিলো স্নায়ুযুদ্ধের সময়। আলাদা আলাদা দর্শনে দেশ গড়তে গিয়ে একজনের রূপরেখা পরবর্তী অন্য জনের কাছে গৌণ হয়ে পড়ে। এভাবে হারিয়ে গেলো একটা জাতির জীবন থেকে মূল্যবান পাঁচটি দশক। স্কুলে রচনা লিখেছি- 'সময়ের মূল্য'। আমাদের অজান্তে আমাদের মূল্যবান সময় হারিয়ে গেছে। রাস্তায়, বাসে, ট্রেনে যখন ভিক্ষুকের ভিড় দেখি তখন বেদনার কালিতে বুকের ভেতরটা ছেয়ে যায়। মনে মনে ভাবি, এই বৃদ্ধ ভিক্ষুক মানুষটিও কোনো না কোনো ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছিলেন হয়তো। সরকারি, বেসরকারি ও নারী শ্রমিকের মধ্যে বেতন ও সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য এবং কোটি কোটি শিক্ষিত অশিক্ষিত বেকারের ভিড়ে কোনো উন্নয়নই সেভাবে অর্থবহ সুফল দেয়না। অন্যদিকে বেকার ও রোজগারহীন লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে এর কুপ্রভাব পড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে। ফলে সাম্যের বদলে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। এতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার থেকে গণ মানুষ বহুলাংশে বঞ্চিত থেকে যায়। প্রায় সময় পত্রিকায় খবর হয় অমুক লোক বিনা দোষে এতো বছর জেল খাটছে। এরপর খবরটি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয় এবং আদালতের আদেশে সেই নির্দোষ ব্যক্তি জেল থেকে মুক্তি পায়। এসকল রিপোর্ট থেকে বোঝা যায়, আমাদের ভুলে মানুষ কিভাবে মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আজ অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে একটি কথা না বললেই নয়, জীবন যৌবন বিসর্জন দিয়ে যিনি বাংলার মানুষকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো বহু আগেই আমরা উন্নত জাতির মর্যাদা লাভ করতে পারতাম এবং মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার অনেক আগেই বাস্তবায়ন হয়ে যেতো। বঙ্গবন্ধুর হৃদয় ছিলো খোলা আকাশের মতো বিশাল এবং মহা সমুদ্রের মতো কুল-কিনারাহীণ। বাংলার দুঃখী মানুষের কষ্ট তাঁর চেয়ে বেশি অন্য কেউ উপলব্ধি করতে পেরেছেন কিনা জানা নেই। তবে বিদায় হজ্জের ভাষনে রাসুলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের এক অনুপম দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "মহান আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তায়ালা তোমাদের পরস্পরের রক্ত ও ধন-সম্পদ পরষ্পরের জন্য হারাম করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের সম্মানের বস্তুতে পরিণত করে দিয়েছেন। সুতরাং, তোমরা পরষ্পরের প্রতি জুলুম নির্যাতন করা থেকে বিরত থাকো।" বুখারী-৪৪০২। সবল দুর্বলের ওপর ও ক্ষমতাশালী ক্ষমতাহীনের ওপর যখন জুলুম করে তখন মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার ভুলুন্ঠিত হয়। আল্লাহ তায়ালা হাদিসে কুদসীতে ইরশাদ করেন, "আবুযর গিফারি রাদিআল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এবং তিনি আল্লাহ তায়ালা থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ হে আমার বান্দরা! আমি জুলুম করাকে আমার জন্যে হারাম করেছি। তোমাদের পরষ্পরের জন্যেও তা হারাম করে দিয়েছি। সুতরাং, তোমরা একজন আরেক জনের ওপর জুলুম করো না।" বুখারী,মুসলিম। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার পেছনে সবচেয়ে বড়ো অন্তরায় পরষ্পরের ওপর জুলুম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায় অবৈধভাবে আত্মসাৎ করো না। জেনে বুঝে অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভোগ করার জন্য এর একাংশ বিচারকদের সামনে ঘুষ হিসেবেও পেশ করো না। "সূরা আল বাক্কারাঃ১৮৮। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর যারা মুমিন পুরুষ ও নারীদেরকে কোনো অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা একটি বড়ো অপবাদ ও সুস্পষ্ট গুনাহের বোঝা নিজেদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে।" সূরা আল আহযাবঃ৫৮। রাসুল সা. বলেছেন, "সেই ব্যক্তিই হচ্ছে প্রকৃত মুসলমান, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।" বুখারী-৬৪৮৪। রাসুলে আকরাম স. আরো বলেছেন, "নিশ্চয়ই যারা মানুষকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয় আল্লাহ অবশ্যই তাদের শাস্তি দেবেন।" মুসলিমঃ২৬১৩। আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে সবসময় সদাচরণ করতে আদেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, "অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অশ্লীলতা, অসৎ কাজ কর্ম ও সীমালঙ্ঘন জনিত সকল প্রকার কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যেনো তোমারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারো।" সূরা আন নাহলঃ৯০। নির্যাতিত মানুষের জন্য রীতিমতো লড়াই করতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিচ্ছেন এভাবেঃ "তোমাদের এ কি হয়েছে, তোমরা আল্লাহর পথে সেসব অসহায় নরনারী ও শিশুদের জন্য লড়াই করছোনা কেনো, যারা দুর্বল হওয়ার কারণে নির্যাতিত হচ্ছে? তারা ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের রব! জালেমদের এই জনপদ থেকে আমাদের বের করে নিয়ে যাও। অতপর তুমি আমাদের জন্য তোমার পক্ষ থেকে কোনো বন্ধু, অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাঠিয়ে দাও।" সূরা আন নিসাঃ৭৫। মানুষ মানুষকে আল্লাহর কথা স্মরণ করে যখন ভালোবাসে তখন কেউ কারো ওপর জুলুম করতে পারেনা। এই ভালোবাসার পুরষ্কার হলো আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয়। হাদিসে কুদসীতে বর্ণনাটি এসেছে এভাবেঃ "আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলে করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা ডেকে বলবেন, (পৃথিবীতে) আমার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য যারা পরষ্পরকে ভালোবেসেছো তারা কোথায়? আমি আজকে তাদেরকে আমার ছায়ার নিচে আশ্রয় দেবো। আজ আমার ছায়া ব্যতিত আর কোনো ছায়া নেই।" সহীহ মুসলিম। একটি মানবিক মর্যাদার সমাজ গঠনের নিমিত্তে ঋণ গ্রাহিতাকে অবকাশ অথবা ক্ষমা করার পুরষ্কার সম্পর্কে হাদিসে কুদসীতে আল্লাহর ঘোষণা এসেছে এভাবেঃ "হুযাইফা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্বেকার কোনো এক ব্যক্তির রূহের সঙ্গে ফেরেশতারা সাক্ষাৎ করে। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি কোনো ভালো কাজ করে এসেছো? সে বললো, না, আমি কোনো ভালো কাজ করে আসিনি। তারা বললো, স্মরণ করে দেখো। সে বললো, আমি মানুষকে ঋণ প্রদান করতাম। অতপর আমার কর্মচারীদের ঋণ আদায়ের জন্য পাঠানোর সময় বলতাম, যাদের অসুবিধা আছে তাদের সময় বৃদ্ধি করে দিও। আর যারা অক্ষম তাদেরকে মাফ করে দিও। (একথা শুনে) আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের বললেন, আমার বান্দার জন্যেও দোযখ মওকুফ করে দাও।" সহীহ মুসলিম। টাকা ধার দিয়ে মাফ করে দেয়া একটি অতি বড়ো সাহসিক মানবিক গুণাবলি। অথচ, আমরা দেখি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সূদ সহ পরিশোধের চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। অসুস্থের সেবা করা, ক্ষুধার্তকে আহার্য দেয়া, বিপদাপন্নকে সাহায্য করা একটি বড়ো মাপের মানবিক মর্যাদার কাজ। হাদিসে কুদসীতে আল্লাহর ঘোষণা এসেছে এভাবেঃ "আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন বলবেন, হে বনি আদম! আমার অসুখ করেছিলো। অথচ তুমি তো আমার সেবা করোনি। সে বলবে, ওগো মনিব, আপনি তো নিখিল জাহানের রব, আমি কি করে আপনার সেবা করতে পারি? তিনি বলবেন, তোমার কি স্মরণ নেই যে, আমার ওমুক বান্দার অসুখ করেছিলো। কিন্তু, তুমি তার সেবা করোনি? তুমি কি জাননা, তুমি যদি তার সেবা করতে তাহলে অবশ্যই তার কাছে আমাকে পেতে? হে বনি আদম, তোমার কাছে আমি আহার্য চেয়েছিলাম, অথচ তুমি আমাকে খাবার দাওনি। সে বলবে, হে আমার রব। আপনি তো রব্বুল আলামীন! আপনাকে কেমন করে আমি আহার্য দান করতে পারি? তিনি বলবেন তোমার কি স্মরণ নেই, আমার ওমুক বান্দা তোমার নিকট আহার্য চেয়েছিলো। অথচ তুমি তাকে আহার্য দান করোনি? তুমি কি জানোনা তুমি যদি তাকে আহার্য দান করতে তাহলে অবশ্যই তার নিকট তুমি আমাকে পেতে? হে বনি আদম! আমি তোমার নিকট পানি পান করতে চেয়েছিলাম।অথচ তুমি আমাকে পানি পান করতে দাওনি। সে বলবে, ওগো প্রভু, তুমি তো রব্বুল আলামীন, তোমাকে পানি পান করানো কি আমার পক্ষে সম্ভব? তিনি বলবেন, আমার ওমুক বান্দা তোমার নিকট পানি পান করতে চেয়েছিলো, অথচ তুমি তাকে পানি পান করাওনি। তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে তবে এর পুরষ্কার অবশ্যই আমার নিকট পেতে।" সহীহ মুসলিম। এতিমকে গলাধাক্কা দেয়া ও অভাবিকে খাবার না দেয়াকে আল্লাহ তায়ালা অবিশ্বাসীর অন্তর্ভুক্ত করােছেন। তিনি বলেন, "তুমি কি তাকে দেখেছো, যে আখেরাতের পুরষ্কার ও শাস্তিকে মিথ্যা বলছে? সে-ই তো এতিমকে ধাক্কা দেয় এবং মিসকিনকে খাবার দিতে উদ্বুদ্ধ করেনা।" সূরা আল মাউনঃ১-৩। যারা আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসায় এবং ভয়ে অসহায় মানুষের সাহায্য সহযোগিতা করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও পুরষ্কার। ইরশাদ হচ্ছে, "যারা আল্লাহর মহব্বতে মিসকিন, ইয়াতিম ও বন্দীকে খাবার দান করে এবং (তাদেরকে বলে) আমরা কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যেই তোমাদের খেতে দিচ্ছি। আমরা তোমাদের কাছে এজন্য কোনো প্রতিদান কিংবা কৃতজ্ঞতা পেতে চাইনা। আমরাতো আমাদের রবের পক্ষ থেকে সেদিনের আজাবের ভয়ে ভীত, যা হবে কঠিন বিপদে ভরা দীর্ঘদিন। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সেদিনের অকল্যান থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে সজীবতা ও আনন্দ দান করবেন। আর তাদের সবরের বিনিময়ে তাদেরকে জান্নাত ও রেশমি পোশাক দান করবেন। তারা সেখানে উঁচু আসনের ওপরে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রোদের উত্তাপ কিংবা শীতের তীব্রতা তাদের কষ্ট দেবেনা।" সূরা আদ্ দাহরঃ৮-১৩। সমাজে অনেক দাতা আছেন। মানবিক ব্যক্তি আছেন। হজ্জ উমরাহ পালন করেন।মসজিদ তৈরি করে দেন। প্রচুর দান খয়রাত ও সাদকা করেন। এ জাতীয় দাতার নিয়তে কোনো ভেজাল নেই সত্য। কিন্তু, দান করা অর্থের উৎস যদি কারো অধিকার হরণের মাধ্যমে অবৈধ বা হারাম উপায়ে হয় তাহলে সেই দান কখনো আল্লাহ তায়ালা কবুল করেননা। "আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, কোনো বান্দা হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করবে; অতঃপর তা থেকে বৈধ ও নেক কাজে খরচ করবে, কিন্তু, তাতে বরকত দান করা হবে না। সে তা থেকে সদকা করবে, আর তা কবুল করা হবে না। বরং ওই ব্যক্তি সেই সম্পদ (মিরাছ হিসেবে) তার মৃত্যুর পর রেখে গেলে তা আরো বেশি করে তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা পাপ দ্বারা অপর পাপকে নির্মূল করেন না। তবে নেক আমল দ্বারা পাপকে নির্মূল করেন। নিশ্চয়ই অপবিত্র বস্তু অপর অপবিত্র বস্তুর অপবিত্রতা দূর করতে পারে না।" মুসনাদে আহমাদঃ৩৬৭২। "রাসুলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন , আল্লাহতায়ালা পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত সম্পদের সদকা কবুল করেন না।" সহিহ মুসলিমঃ২২৪। অর্থাৎ কয়লা দিয়ে যেমন ময়লা পরিষ্কার করা যায় না, তেমনি হারাম উপার্জন দিয়েও পাপ মোচন হয়না এবং নেকিও অর্জন করা যায় না। কেননা, অবৈধভাবে উপার্জন করতে গেলে অন্যের অধিকার ও সম্পদ আত্মসাৎ করে জুলুম করতে হয়। যা একেবারেই অমানবিক, অমর্যাদাকর এবং সুবিচার ও ইনসাফের পরিপন্থী। অর্থনৈতিক বৈষম্য রোধে আল্লাহ তায়ালা যাকাত ব্যবস্থা ব্যবস্থা বধ্যতামূলক করেছেন এবং ধনীর সম্পদে গরীবের অধিকারের তাগিদ দিয়েছেন। আর 'পড়া'র আহ্বান জানিয়ে কুরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয়েছে। সূরা মানবাধিকার সুরক্ষায় কুরআন ও হাদিসের ব্যপক আলোচনা থেকে এখানে কয়েকটিমাত্র উদাহরণ পেশ করা হয়েছে মাত্র। এতেই প্রতীয়মান হচ্ছে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে কুরআন ও হাদিসের দ্বারস্থ না হয়ে গত্যন্তর নেই। দেশের অর্থবহ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন মৌলিক অধিকার- খাদ্য, বস্র, বাসস্থান, উন্নত নৈতিক শিক্ষা ও সুচিকিৎসার নিশ্চয়তা। এর সঙ্গে নাগরিকদের জন্য ব্যাপক হারে গণতান্ত্রিক রীতিতে মত প্রকাশের অধিকার ভোগ করার সুযোগ ও স্বাধীনতা থাকাটাও জরুরি। মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে দরকার, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে ব্যাপক কর্মসংস্থান, জীবনমানের প্রকৃষ্ট উন্নতিসাধন এবং নাগরিক জীবনের নিরাপত্তাবোধ, মর্যাদা, শৃঙ্খলা, শান্তি, স্বস্তি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুব্যবস্থা ও পরিবহন খাতের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা আবশ্যক। প্রাণ ও পরিবেশের উন্নতি এবং সুরক্ষাও নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সর্বোপরি কারো প্রতি অনুরাগ বিরাগের বশবর্তী না হয়ে নাগরিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়নীতি ও ইনসাফপূর্ণ ফায়সালা নিশ্চিত করা গেলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। উন্নয়নের যে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, তার সাথে পবিত্র কুরআন মজিদ ও হাদিস শরীফের দিকনির্দেশনার দৃঢ় সংযোগ ঘটলে বৈষম্যমুক্ত সমতাভিত্তিক ও ইনসাফ পূর্ণ অর্থনৈতিক এবং মানবিক উন্নয়ন যথাযথ ভাবে নিশ্চিত করা যাবে ইনশাআল্লাহ।

Kazi

২০২১-০২-২১ ১১:৩৪:১৯

ভাষার চর্চা না করে বছরে একবার ঘটা করে দিবস পালন কি শ্রদ্ধা ?

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

পহেলা বৈশাখ আজ

১৪ এপ্রিল ২০২১

আরো ৬৯ জনের মৃত্যু

১৪ এপ্রিল ২০২১

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সেনা নামানোর পরামর্শ সিপিডি’র

১৩ এপ্রিল ২০২১

মহামারি করোনাভাইরাস রোধে আসন্ন লকডাউনে শিল্প-কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ...

ওয়াক্ত ও তারাবির নামাজে ২০ জনের বেশি মুসল্লি নয়

১৩ এপ্রিল ২০২১

মসজিদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ছাড়া ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status