‘ক্রসফায়ারে’ সাংবাদিক

কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি

সাজেদুল হক

অনলাইন (১ মাস আগে) ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১, রোববার, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

জীবনটা কেবল শুরু হয়েছিল তার। নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করে যোগ দিয়েছিলেন সাংবাদিকতায়। দু’টি সংবাদমাধ্যমের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে শুরু করেছিলেন সাংবাদিকতা। যতোটা না পেশা, তার চেয়েও বেশি নেশা। ঢাকার অনেক সাংবাদিকের সঙ্গেই টুকটাক কথা হতো। বলতেন, নিজের স্বপ্নের কথা। এ পেশায় অনেক দূর যেতে চেয়েছিলেন বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির। কিন্তু হায়! ঘাতকের বুলেট অকালেই শেষ করে দিলো একটি জীবন, একটি স্বপ্ন।


কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তেজনা চলছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা নানা বক্তব্য আর কর্মসূচিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন সারা দেশেরই। বসেছিল না তার বিরোধীপক্ষও। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল এবং কাদের মির্জার সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণ করছিলেন মুজাক্কির। এসময় সংঘর্ষকারীদের ছোঁড়া গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। গত রাতে সেখানেই মারা যান ২৫ বছর বয়সী এ সাংবাদিক।
‘ক্রসফায়ারে’ এক সাংবাদিকের নির্মম মৃত্যু সমাজে, রাষ্ট্রে খুব বেশি আলোড়ন তুলবে- এমনটা আশা করা যায় না। এমনিতে এটা ভোগবাদী সময়। সবাই ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে। ফেসবুকে একটু লেখালেখি হয়। এর বেশি কিছু খুব একটা নয়। একটি জীবন, একটি পরিবার শেষ হয়ে গেলে কারইবা কি আসে যায়? সাংবাদিক সংগঠনগুলো রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বিভক্ত। শক্ত কোনো অবস্থান নিতে প্রায়শই তাদের দেখা যায় না।

নোয়াখালী অঞ্চলে অস্ত্রের রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। যেন জোর যার মুল্লুক তার। ধর্ষণের একাধিক ঘটনাও হয়েছে বিপুল আলোচিত। কোনো ঘটনা ঘটলে এসব নিয়ে কথা হয়। আবার ক’দিন পরেই পরিস্থিতি ফের আগের জায়গায় চলে যায়। দেখার যেন কেউ নেই।  এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নোয়াব আলী মাস্টার কি তার সন্তান হত্যার বিচার পাবেন? অস্ত্রবাজির রাজনীতির এই অধ্যায়ের কি শেষ হবে? স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কি পাওয়া যাবে? এক তরুণের এমন মৃত্যুতো কেবল ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু নয়। তার পরিবার কি হারিয়েছে তা এতোদূর বসে আমাদের জন্য অনুধাবন করা সত্যিই কঠিন। ন্যায় বিচারই কেবল হতে পারে এমন পরিবারের জন্য সামান্য সান্তনা।
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। আমরা এই দিনে স্মরণ করছি, ভাষা শহীদদের। আর এমনই একদিনে সহকর্মীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে লিখতে হচ্ছে আমাদের। দুর্ভাগা এই সময়ে স্মরণ করছি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর অমর কবিতা, কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Shahid ullah

২০২১-০২-২১ ১৪:১২:১৮

বিরোধী পক্ষ কোথায় ঘরোয়া বৈঠক করলে এমনকি আত্মীয় বাড়িতে দাওয়াতে গেলেও তাদের “নাশকতা”র অগ্রিম গন্ধ পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু অস্রধারী এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অনাগ্রহ কেন?

জিলানী, লন্ডন

২০২১-০২-২১ ০০:৪৬:২৩

"ছাড় দেওয়া হবে না"! কয়েকবার বলা হবে! তারপর শত অতীত ছাড়ের মত, ছাড়ের আস্তাকুলে ছাড় দিতে থাকবে, সব ছাড়ের ছড়া ছড়ি!

কাজী এনাম উদ্দীন

২০২১-০২-২১ ১২:১০:৫১

জাতির বিবেক আজ বিভক্ত। তাই ন্যায় বিচার দুঃস্বপ্নের কালো অধ্যায়।

Jamshed Patwari

২০২১-০২-২১ ১১:৩৫:০১

সাংবাদিকরাই সাংবাদিকতার দুশমন। বিভিন্ন সাংবাদিক বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেন বটে কিন্তু পেশা এক, এক মহৎ পেশা। শুধু পেশাকেই সামনে রেখে সাংবাদিকরা এক জোট হয়ে থাকতে পারতেন। কিন্তু না, এই সাংবাদিকরাই একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। স্বার্থের বিনিময়ে নিজেদের পেশাকে জলাঞ্জলি দেন। সাগর-রুনীর ছেলেটাকে দেখলে বুকের ভিতর কেমন জানি মোচড় দিয়ে উঠে, ছেলেটি যদিও এখন অনেকটা বড় হয়ে গেছে কিন্তু সে ছোট কাল থেকেই বাবা-মার আদর যত্ন থেকে বঞ্চিত। এক অদৃশ্য শক্তি এই লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের বিচারই হতে দিচ্ছেনা।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



রণক্ষেত্র বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র

শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ৫

করোনায় আক্রান্ত পুরো পরিবার

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

DMCA.com Protection Status