সুশাসন, ‘জেলা শাসক’ ও ‘জেলা প্রশাসক’

ড. শরীফ আস্-সাবের

মত-মতান্তর ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৮ অপরাহ্ন

দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে একটি বিতর্ক বেশ চাউর হয়ে উঠেছে- জেলার প্রধান নির্বাহী অর্থাৎ ডেপুটি কমিশনার বা ডিসি’র পদবীটি বাংলায় কি হওয়া উচিত। এ নিয়ে জনগণের মধ্যেও একটি ধোঁয়াশা রয়েছে। এই ধরনের বিতর্ক দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা অবশ্য বলা মুশকিল। তবে বিষয়টির একটু গভীরে যাওয়া দরকার।

অনেকে মনে করেন, ‘প্রশাসক’ শব্দটিতে ঔপনিবেশিক কিংবা সামন্ততান্ত্রিক গন্ধ আছে। অনেকের কাছে এই শব্দের প্রয়োগ জেলা পর্যায়ের অপরাপর সরকারি কর্মকর্তার গুরুত্বকে খাটো করে দেয়। কেউ আবার এই পদে কর্মরত কতিপয় কর্মকর্তার উন্নাসিক, নীতিবিবর্জিত  ও দাম্ভিক আচরণের জন্য এই পদ এবং পদবী দু’টিরই অবসান চান!
যাই হোক, প্রতিটি জেলায় সরকারের একজন মুখ্য প্রতিনিধি থাকা আবশ্যক। ‘ডেপুটি কমিশনার’/‘জেলা প্রশাসক’ সেই দায়িত্বটি পালন করে থাকেন। জেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তিনি জেলা পর্যায়ের সকল বিভাগের সাথে সমন্বয় সাধন করেন।
জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সকল উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকান্ডের দেখভালের দায়িত্বও তাঁর উপর বর্তায়।

জেলার প্রধান নির্বাহী ও সমন্বয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের এই কর্মকর্তা একাধারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা রেভিনিউ কালেক্টর এবং বিভাগীয় কমিশনারের ডেপুটি (ডেপুটি কমিশনার) হিসাবেও কাজ করে থাকেন।
অনেকেই ‘প্রশাসক’ এবং  ‘শাসক’ শব্দ দু’টিকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেন। অভিধানে ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ শব্দের বেশ ক’টি অর্থের মধ্যে একটি হচ্ছে ‘শাসক’। সেই সুবাদে জেলা  ম্যাজিস্ট্রেটকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘জেলা শাসক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জেলা শাসক/প্রশাসক জেলায় সরকারের নির্বাহী বিভাগকে প্রতিনিধিত্ব করেন।

আবার, নির্বাহী বিভাগের আরেক নাম শাসন বিভাগ এবং ইংরেজি ‘গভর্নর’ ও ‘গভর্ন্যান্স’ শব্দ দুইটির অর্থ যথাক্রমে ‘শাসক’ ও ‘শাসন’। তবে, নির্বাহী বা শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন এই পদটির আভিধানিক অর্থ যাই হোক না কেন, আমি মনে করি, দুই বাংলায় ব্যবহৃত পদবীর (শাসক এবং প্রশাসক) প্রতিটিই এসেছে একেকটি প্যাকেজ হিসাবে, যা এই পদধারীদের বিবিধ সত্বা, ক্ষমতা ও দায়িত্বের একীভূত বা সামগ্রিক প্রতিফলন বৈ অন্য কিছু নয়।
এসবের আলোকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘শাসক’ শব্দের ব্যবহার রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পুরোপুরি অবান্তর বা অসাযুজ্যপূর্ণ না হলেও আমি মনে করি, এই শব্দটির মূলভাব তুলনামূলকভাবে কিছুটা অনমনীয় ও গুরুভার। গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে তাই  ‘শাসক’ কথাটির ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করার সময় হয়তো হয়ে এসেছে।

পক্ষান্তরে, ‘প্রশাসক’ শব্দটি এসেছে ‘প্রশাসন’ থেকে যার উৎস ‘শাসন’ হলেও এর প্রচলিত ভাবার্থ খানিকটা আলাদা। চলমান পরিপ্রেক্ষিতে  জনগণের সেবক এবং জেলা প্রশাসনের প্রধান হিসাবে ‘প্রশাসক’ শব্দের ব্যবহারটি ভুল কিংবা অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, যা প্রচলিত বিধি-বিধান ও নিয়ম-নীতির বাস্তবায়ন বা প্রয়োগের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। ‘শাসক’ কথাটির সঙ্গে ‘ম্যাজিস্ট্রেসি’ শব্দটির  ব্যুৎপত্তিগত সম্পৃক্ততা থাকলেও ‘প্রশাসক’ শব্দটি এককভাবে ম্যাজিস্ট্রেট, কালেক্টর কিংবা ডেপুটি কমিশনারের সরাসরি প্রতিশব্দ নয়।

এই আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের সংস্থাপন  মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি বেশ প্রাসঙ্গিক এবং প্রণিধানযোগ্য। খুব বেশি দিন আগের কথা নয় যখন মাঠ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক  ‘সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়’। এ ছাড়া, ব্যবসা প্রশাসন থেকে শুরু করে ওষুধ প্রশাসন, লোক প্রশাসন কিংবা ভূমি প্রশাসন - সকল ক্ষেত্রেই ‘প্রশাসন’ শব্দটির যথাযথ প্রয়োগ ও ব্যবহার হচ্ছে নিঃসংকোচে। একই সূত্রে সরকারিভাবে জেলা ‘প্রশাসন’ ও  ‘প্রশাসক’ শব্দের ব্যবহারও বেমানান বা অগ্রহণযোগ্য নয়।

পরিশেষে, পৃথিবীর তাবৎ দেশের মত বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ভালো মন্দ দুইই আছে। জেলা প্রশাসকরাও এই ভালো মন্দের বাইরে নন। বিভিন্ন সময়ে কতিপয় জেলা প্রশাসকের দায়িত্বজ্ঞানহীন কীর্তিকলাপ জনসাধারণ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করে, যা এই পদ এবং পদবীর  মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলে।
তবে, পদ, পদবী কিংবা অবস্থান একজন সরকারি চাকুরের ব্যক্তিগত চরিত্র কিংবা আদব কায়দার নিয়ামক নয়। শেক্সপিয়র সাহেব বলেছিলেন, ‘নামে কি বা আসে যায়...?’ আর কথায় আছে, ‘জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো’। তাই, কিছুসংখ্যক পদধারীর ব্যক্তিগত চারিত্রিক দুর্বলতা, নৈতিক স্খলন অথবা অদক্ষতার কারণে কোন বিশেষ পদ কিংবা প্রাতিষ্ঠানের নাম ও কাঠামোকে দোষারোপ করার কোন সুযোগ নেই।

বরঞ্চ, গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের স্বার্থে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির পদ্ধতিসহ মেধা, দক্ষতা ও আচরণগত উৎকর্ষ সাধনের কোন বিকল্প নেই। আর যাঁরা জেলা প্রশাসনসহ দেশের নানা প্রান্তে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন, দেশ ও দশের স্বার্থে তাঁদের হতে হবে সৎ, নিরপেক্ষ, সংযমী, বিনয়ী এবং জনবান্ধব।

একই সাথে সরকারকেও রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা ও সুশাসনের স্বার্থে জেলা প্রশাসনসহ নির্বাহী বিভাগের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে রাজনৈতিক এবং অবৈধ হস্তক্ষেপ ও প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। এ ছাড়া, জেলা ও কেন্দ্রের মধ্যে সুষ্ঠু এবং কার্যকর জবাবদিহিতা ও  সমন্বয়ের নিমিত্তে প্রযোজ্য ‘চেইন অব কমান্ড’ বা ‘আদেশের পালাক্রম’ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। উপরন্তু, দেশের শাসনতন্ত্র অনুসারে নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের স্বাতন্ত্র ও স্বকীয়তা বজায় রেখে এই তিন বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, শ্রদ্ধাবোধ এবং সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

কৃতজ্ঞতা: আমাকে এই লেখাটির বিষয়ে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ্য তথ্য ও পরামর্শ দিয়েছেন,  তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

ড. শরীফ আস্-সাবের, একাডেমিক, প্রাক্তন আমলা ও লেখক; প্রেসিডেন্ট, গেইন ইন্টারন্যাশনাল।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Dr. Alamgir

২০২১-০৫-০৫ ২২:৫৮:০৫

সাবেক আমলা.... তাই, সতীর্থদের পদবীর যথার্থতা প্রমাণের চেষ্টা। "জেলা নির্বাহী কর্মচারী " হওয়া উচিত জেলা প্রশাসনের প্রধান ব্যক্তির পদবী।

Tofail Ahmed

২০২১-০৩-০১ ১৪:২২:২৯

পদবি শাসক, প্রশাসক, সেবক ,সমন্বয়ক যাই হোক এটি কোন বিতর্ক নয়। বিতর্ক হ্উক কাজ নিয়ে। আর জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসন নিয়ে আগে লেখা হয়নি সেটিও ঠিক নয়। কথা হচ্ছে সকল লেখা সবার চোখে পড়বে এমন কোন কারণ নেই। শুধু জেলা প্রশাসক নয়, স্থানীয প্রশাসন বা মাঠ প্রশাসন নিয়ে আমি নিজে বেশ কিছু লেখালেখি করেছি। মাঠ প্রশাসন বললে ইউনিয়ন থেকে বিভাগ পর্যন্ত সাধারণ প্রশাসন(বিভাগীয় কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, ইউএনও), সেবা প্রশাসন (শিক্ষা, স্বাস্থ‌্য, সমাজসেবা প্রভৃতি), উন্নয়ন প্রশাসন (এলজিইডি, ডিপিএইচই, রোডুস,গণপূতৃ প্রভৃতি) রেগুলেটরি বিভাগ সমূহ (ভূমি, পুলিশ, নিবন্ধন, ট‌্যাক্স) প্রভৃতিকে যেমন বুঝাবে। তেমনি বুঝাবে স্থানীয সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরে আমরা প্রশাসনকে লক্ষ‌্যাভিমূখি , সুনিদিস্ট, ফলাফল অভিমূখি করিনি।যা চলছে তাকে চুনকাম করেছি। ১৭৭০ এ যে প্রয়োজন ও উদ্দেশ‌্যে সর্বময় ক্ষমতাধর ’জেলা ম‌্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর’ পদ সৃস্টি এখন ২০২১ সালেও কি সে প্রয়োজন সেভাবে বিরাজ করে? জেলা প্রশাসন নিয়ে যে কথা ও লেখা তার মধ‌্যে একধরনের একটি স্বতসিদ্ধতার ভাব াাছে। যারা বিশুদ্ধ একডেমিক তারা কোন ইতিবাচকতাই দেখেন না। তারা ধরাবাধা আমলাতন্তের সমালোচনা করে শেয় করেন। এক ধরনের ইএুটোপিয়ান জনপ্রতিনিধির শাসনের কথা বলে শেষ করেন। সরকারি চাকুরির পটভূমির যে সব লেখক-গবেষক তারা ব‌্যবস্থার মধ্রে শুধু ভাল বিষয়টা দেখেন, বাকি সব বিষয়ে যা আছে তা ভাল ও কার্যকর ্কএ রকম যৌক্তিকতা দাড় করান। আমি আমার স্টাডিতে দেখকে পেলাম ডেপুটি কমিশনারের কাজের সুনিদিস্টতা খুব কম। ভুমি প্রশাসন তার একটি সুনিদিস্ট কাজ। এ কাজে যত গোজামিল। কিন্তু তাকে অপরের কাজে বেশী ব‌্যস্ত দেখা যায়। যেমন শিক্ষার নিজস্ব এটি রিরাট প্রশাসন। ডিসিগণ পরীক্সা,স্কুল , কলেজ নিয়ে মহা ব‌্যস্ত। আবার প্রোটোকল ডিসি সাহেবদের একটি অতি প্রিয় কাজ। একাজ যখন আসে তখন অন‌্য আর কোন কাজের প্রাধিকার থাকে না। ডিসিদের কাজে বেসুমার। সর্বশেষ কেবিনেট ডিভিশনের সার্কুলার অনুযায়ী ৫২২টি কাজ ডিসির বিধিবদ্ধ। কম-বেশী ১৩০টি কমিটির সভাপতি।আধুনিক প্রশাসনে এটি একটি অবিশ্বাস‌্য ও হাস‌্যকর রীতি।এখানে শিক্ষা, স্বাস্থ‌্য, কৃষি, মৎস‌্য, পশু,সমাবসেবা,পুলিশ,আনসার,সাথানীয় সরকার সবার কাজ এক ডিসির কাজের অধিভূক্ত। তার উপর আছে সীমিত বিচারিক দায়িত্ব। রাস্ট্রের অনেক সেবা ও উন্নয়ন কাজ এখন প্রাইভেট সেক্টর করে। আছে এনজিও। ডিসির নেই কোন অর্থ বা বাজেট । আমি যেটি বলতে চাই বাইরে থেকে ডিসি অফিস কে যত গ্লোরিফাই করুন সত‌্যিকার জনসেবামূরক কাজের সক্ষমতা,দক্ষতা, সামর্থ কোনটাই ঐ অফিসের নেই। তাদের দক্ষতা ও প্রয়োজন যেখানে আছে তাদের সেখানে সুনিদ্ইট দায়িত্ব দিন। তারপর যে নামে খুশি ডাকুন। আমাদের মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনোর সংস্কার বা পরিবর্তন প্রয়োজন। আমি আমার ২০১৬ সালে প্রকাশিত Reform Agenda for Local Governance বইটিতে একটি বিস্তারিত বর্ণনআ এবং পরিবর্তনের ছক দিয়েছিলাম, কিন্তু কোথাও কোন ভাল আলোচনা পেলাম না। তা’ছাড়া প্রথম আলোতে এসব বিষয়ে অনেক লিখেছি। ঐ পর্যন্তই। এখন নতুন করে আলোচনাটা আসাতে খুশি হলাম। আরও গভীরে গিয়ে বিষয়গুলো দেখুন। আলোচনায় অংশ নেয়া এবং আলোচনাটাকে উস্কে দেয়ার জন‌্য শলীফ ভাইকে ধন‌্যবাদ।

Sultana Begum

২০২১-০২-১৫ ০৩:৪৫:০৪

লেখাটির মধ্য অনেক ভালো তথ্য আছে। লেখক জেলার মূল সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিত্বকারী হিসাবে ডিসি’র বাংলা নাম নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই দৃষ্টিকোন থেকে এই ধরনের আলোচনা এই প্রথম দেখলাম। তবে নাম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে কর্মকর্তাদের দক্ষতা, গনমুখিতা কিভাবে বাড়ানো যায় সেটাই আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত। আমি লেখকের সঙ্গে মোটামুটি একমত যে জেলা প্রশাসক পদবী দায়িত্বের নিরিখে অশুদ্ধ নয় এবং তা আপাতত: পরিবর্তন করার দরকার নাই। লেখককে ধন্যবাদ।

Atique

২০২১-০২-১৪ ২০:০৬:১৫

জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা is the perfect & nearest translation of D.C.

মোঃ আবু তোহা

২০২১-০২-১৪ ১০:১৩:৩৯

জেলা প্রশাসক/জেলা শাসক /ডেপুটি কমিশনার কোনোটাই সঠিক বলে মনে হয় না কারণ যিনি সমন্বয়ের কাজ করছেন তার পদবি হবে সমন্বয়কারী।

Nam প্রকাশে অনিচ্ছুক

২০২১-০২-১৩ ২৩:৩২:৩১

কমিশনার এর বাংলা কখনোই কোন অভিধানে জেলা প্রশাসক হয়না ।সেই বিবেচনায় এই নাম টি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, এখানে আমলাতান্ত্রিক গন্ধ আছে ,এই গন্ধটা জনগণের সেবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

অব্দুল করিম খান

২০২১-০২-১৩ ১৬:০৩:৩৬

পদ পদবী বড় কথা না। কি নাম ধরে ডাকবেন ওইটাও বড় কথা না। কাজটা ঠিকমত হইতেছে কি না, এইটাই আসল। জেলা প্রশাসকের নাম চেইন্জ করলেই কি সব সমস্যার সমাধান হইবে?

কামাল আহমেদ

২০২১-০২-১৩ ১৪:০২:১৯

হুমায়ুন কবীর সাহেব। আপনি লেখাটি একটু ভালো করে পড়ুন। লেখক তো পরিস্কার করে বলেছেন যে লেখাটি ডিসি পদবীর বাংলা অনুবাদ প্রসঙ্গে। বাংলা একমাত্র বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভাষা।

সৈকত রুশদী

২০২১-০২-১৪ ০২:৪৪:৫৮

গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অনেক দিনের। এনিয়ে আরও বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা প্রয়োজন। কেবল পদের নাম নয়, সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের কর্ম পরিধিও বিবেচনা এবং পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন আছে। কেননা, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে ঔপনিবেশিক শাসন পদ্ধতির ধারাবাহিকতা বিগত ৭৪ বছরে সামান্য পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করেই বহাল রাখা হয়েছে। এই জোড়াতালি ধরণের পরিবর্তন দিয়ে একটি উন্নয়নকামী স্বাধীন দেশের শাসন ব্যবস্থা নাগরিকদের জন্য মানবাধিকার, গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ও সুশাসন যে নিশ্চিত করতে পারে না, তা' ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। অন্ততঃ বাংলাদেশে। আর প্রশাসনের কর্মকর্তারা আত্মমর্যাদা নিয়ে বিকশিত হতে পারেন না। কানাডা ও ব্রিটেনে তিন স্তরের সরকারই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত হয়। নেতৃত্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকেন। কার্যক্রম চালান কর্মকর্তারা। অনুমান করছি অস্ট্রেলিয়াতেও একই ব্যবস্থা। এসব দেশে জেলা শাসক বা প্রশাসক ধরণের কোনো পদ নেই। সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। উন্নত দেশগুলোর আলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে, বিশেষ করে বাংলাদেশকে, প্রযুক্তি নির্ভর একবিংশ শতাব্দীতে এগিয়ে যেতে হলে কী ধরণের প্রশাসনিক কাঠামো এবং কর্ম পরিধির প্রয়োজন, তা' গবেষণা, কর্মশালা এবং মতামত ও সুপারিশ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুপারিশ আকারে তুলে ধরা আবশ্যক বলে আমি মনে করি। ধন্যবাদ।

মইনুল সুলতান

২০২১-০২-১৩ ১০:৩৮:৪৮

কিছু বন্ধুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমি জেলা প্রশাসকের কাজ বুঝতে চেষ্টা করেছি । যখন শাসক মানেই দন্ডধর বুঝাতো তখনও জেলা প্রশাসকদের হাতেই কল্যাণ মূলক কাজের সূচনা হতো। আমি দেখেছি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জেলার প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা জেলা প্রশাসকের হাতেই হয়েছে। এ ধরণের অনেক উদাহরণ দেয়া যাবে। দুয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া আজকের জেলা প্রশাসক অনেক বেশি জনমুখী এবং জনবান্ধব । সমন্বয়ের কাজটি যিনি করবেন তার জন্য ক্ষমতার প্রয়োজন আছে । অথচ গোষ্ঠী স্বার্থে জেলা প্রশাসকের উৎপাটন চান অনেকেই । এ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে আছে জেলা প্রশাসকের নাম

হুমায়ুন কবির

২০২১-০২-১৩ ০৬:২৫:২৫

আপনার দৃষ্টিভঙ্গি তথা লেখার মধ্যে সামন্তবাদী চিন্তা-চেতনার প্রকাশ বিদ্যমান। অল্প পরিসরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা দুরূহ বিষয়। তাছাড়া গণতান্ত্রিক সংবিধানের উপমা শুধু 'ভারত'-ই এমনটি ভাবা ঠিক নয়।

Moni Sangma

২০২১-০২-১৩ ০৫:২৭:৩১

জেলা প্রশাসক পদবী ঠিক আছে। মানুষটা ভালো হইলেই ভালো। একইভাবে পুলিশের ওসির পদবীও ঠিক আছে। কিন্তু মানুষটা খারাপ হইলেই বিপদ।

Sudhir Kumar Das

২০২১-০২-১৩ ০৪:৫৩:১২

সুলিখিত। সময়োপযোগী। তথ্যসমৃদ্ধ।

Aswini K Datta

২০২১-০২-১৩ ০৪:৫১:৫৭

এত পরিস্কার করে জেলা শাসক ও জেলা প্রসাশক বিসয়ে এর আগে কেউ লিখেননি। ধন্যবাদ লেখককে। আমি তো মনে করি দু’টোই একদম ঠিক আছে। উঁচু পদে বসে কাজ করতে হলে তো ক্ষমতা লাগবেই। নাকি? পিঠে হাত বুলিয়ে কি কাজ হয়? বড় দায়িত্বের জন্য বড় পদবী না হলে চলবে কেন? লোকজন মানবেই বা কেন? পুলিশের কনস্টেবল দেখলেই তো অনেকের খবর হয়ে যায়। তবে জেলার ওই পদে ভালো এবং শক্ত লোকের নিয়োগ দিতে হবে। শাসক প্রশাসক বদলে হাবিজাবি বাংলা শব্দ দিয়ে পদবী বানালে লোকে বুঝবে না, মানবেও না। তাতে জনগনই সাফার করবে।

মুহাম্মাদ আনিসুর রহম

২০২১-০২-১৩ ০৪:০৯:০৩

।। বদলে যাক পদবি।। পদবিটা বদলে হোক 'জেলা কর্মবিধায়ক'/ এ দেশে আছে যত 'জেলা প্রশাসক '।/ ডিসি শব্দের অর্থ 'ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার '/ অনুবাদ ভুল, তার জানা আছে ক'জনার (?)/ 'জেলা কর্মবিধায়ক' বাংলায় লেখা যায়/ কৃতি মান শিক্ষাবিদ দিয়েছেন এতে সায়/ 'কমিশনার 'শব্দের 'প্রশাসক' অর্থ নেয়/ বাংলা বিশেষজ্ঞরা এমন কথাই কয়েক/ পাবেন খুঁজে বিষয়টির সহজ সমাধান / খুলে দেখুন যেকোনো বাংলা অভিধান। / প্রশাসক শব্দের মাঝে ক্ষমতার গন্ধ আছে / আশা করি বিষয়টি পরিষ্কার সবার কাছে। / বাংলা ভাষার অধ্যাপক দু'বাংলায় আছেন যারা/ ভিন্নমত কারও নেই, জানিয়েছেন সবাই তারা / অধ্যাপক আব্দুল্লাহ্ আবু সাঈদ গুরু সবার / যোগাযোগ তার সাথে করেছি বেশ কা'বার/ জেলা প্রশাসকেরা এদেশে আছেন যত / ক্ষমতা প্রদর্শনে রসূনের চামড়ার মতো/ জনগণের সাথে তাদের নেই কোনো যোগাযোগ / হার হামেশা শোনা যায় এমনতর অভিযোগ / প্রশাসক শব্দের বলে দেখায় তারা ক্ষমতা/ জনগণের প্রতি এদের নেই কারও মমতা।/ সুচরিতা ব্যাণার্জি, যিনি বাংলার অধ্যাপক / অভিধান সংকলনে অভিজ্ঞতা আছে ব্যাপক/ কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন বর্তমান / বাংলা ভাষা বিভাগেরও বিভাগীয় প্রধান / একই কথা বলেছেন তিনি যেমন লিখেছি/ জেলা কর্ম বিধায়ক তো তার কাছেই শিখেছি।

Sushanta Saha

২০২১-০২-১৩ ০১:০৯:২৪

ঠিক বলেছেন। শাসক নয়। তবে প্রশাসক ঠিক আছে। আর পদবীধারীদের নিয়োগ এবং ব্যক্তিগত ক্রীয়াকর্মের মান উন্নয়ন দরকার।

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০২-১৩ ১২:৪৪:৫৫

'শাসক বা প্রশাসক' পদবীগুলির অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য হলো উভয় ক্ষেত্রে শাসিতের উপর কর্তাব্যক্তি নির্দেশক কেহ একজন। এখানে উভয় ক্ষেত্রে কতৃপক্ষীয় বিষয়টা সমষ্টিক অর্থে গৌন এবং ব্যাষ্টিক অর্থে ব্যক্তিই মূখ্য । সে বিবেচনায় জেলা শাসক বা প্রশাসক মনস্তাতিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ও সংবিধিবদ্ধ শাসনকার্যে নিযুক্ত ব্যক্তি। এটা একটা স্বাধীন জনগোষ্ঠির উপর চাপানো উপনোবেসিক পদ ও পদবী। 'উপ- জেলা নির্বাহী' পদবীটি বেশ মানান সই। জেলার ক্ষেত্রে "জেলা নির্বাহী অফিসার" পদবীটি ভাবা যেতে পারে।

আহমেদ সেলিম

২০২১-০২-১২ ২২:৪৫:১০

Excellent write up - informative and thought provoking! Yes, ‘what’s in a name?’

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত



দেখা থেকে তাৎক্ষণিক লেখা

কোটিপতিদের শহরে তুমি থাকবা কেন?

DMCA.com Protection Status