ইরফান সেলিমকে কেন জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চান হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (৪ সপ্তাহ আগে) জানুয়ারি ২৭, ২০২১, বুধবার, ৬:৩৩ অপরাহ্ন

ফাইল ছবি
নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধরের ঘটনায় ঢাকা-৭ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের  জামিন না মঞ্জুর করে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে ইরফানকে কেন জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বুধবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীব সাঈদ আহমেদ রাজা। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।

পরে অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা জানান, ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৫টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ৪টি মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে মারধর করার অভিযোগের মামলায় জামিন আবেদন করা হয়েছে।
যেসব অভিযোগে মামলা হয়েছে তা জামিনযোগ্য। আদালত জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছেন।

গতবছর ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ধানমন্ডির কলাবাগান ক্রসিংয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়েছিল ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের গাড়ি। ঘটনার সময় সাংসদ হাজী সেলিম গাড়িতে ছিলেন না। তার ছেলে ইরফান ও নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। এরপর নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তা মোটরসাইকেল থামান এবং নিজের পরিচয় দেন। এসময় হাজী সেলিমের গাড়ী থেকে দুই জন ব্যক্তি নেমে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে মারধর করে। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এসময় ওয়াসিফের স্ত্রীকেও লাঞ্চিত করা হয়। ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো গেলে সংসদ সদস্যের গাড়ি ফেলে মারধরকারীরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ এসে গাড়ি ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ঘটনায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গতবছর ২৬ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় ‘মারধর ও হত্যা চেষ্টা’ মামলা করেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ। দ-বিধির ১৪৩, ৩০৭, ৩২৫, ৩৩২, ৩৪১, ৩৫৩, ৩৫৪ ও ৫০৬ নম্বর ধারায় এ মামলা করা হয়। ওই দিন চকবাজারের দেবীদাস লেনে হাজী সেলিমের বাসায় দিনভর অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। বাসায় অবৈধভাবে মদ ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুইজনকে এক বছর করে কারাদ- দেন। পরে মাদক ও অস্ত্র আইনে তাদের বিরুদ্ধে দুটি করে মোট চারটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। যার দুই মাস পর অস্ত্র ও মাদক মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলো পুলিশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলায় ইরফান সেলিমকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, তার কাছে কোনো অস্ত্র ও মাদক ছিল না। তার সহযোগী জাহিদের কাছ থেকে এই অস্ত্র ও মাদক পাওয়া যায়।
 

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২১-০১-২৭ ০৮:০৩:৩৪

পথের ধারে নাম না জানা কতো ফুল ফোটে। পথ ধরে হেঁটে যায় মানুষ। ভুলেও তাকায় না সেদিকে। কখনো কখনো দলিত মথিত করে চলে যায় পথিক। ওরা যে কোনো বাগানের ফুল নয়। কোনো সুরম্য অট্টালিকার সামনে কতো যত্নে ফোটানো হয় কতো ফুল। মালিদের হাড়ভাঙা খাটুনি। যত্নের শেষ নেই। বাহারি ফুলের চোখ জুড়ানো দৃশ্য মানুষকে মুগ্ধ করে। কিন্তু, প্রকৃতির কোলে লালিত রোদ বৃষ্টি ঝড়ো হাওয়ার হামলায় আহত হয়ে পথের ধারে অনাদরে ফোটা ফুলের কদর কারো কাছে তেমন নেই। তেমনি, কতো নাম না জানা বিখ্যাত নয়, কিন্তু অখ্যাত লোক বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে জেল খেটে যাচ্ছে। সাংবাদিকের অনুসন্ধানী কলমের খোঁচায় মাঝে মধ্যে এমন খবর আমাদের সামনে আসে। তখন কর্তৃপক্ষের নজরেও আসে। তাঁরা তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করেন। বিনা বিচারে এখনো কোনো লোক জেলের ভেতর আছে কিনা তা কারো জানা নেই। কারণ, এদের বড়ো কোনো পরিচয় নেই। তাই পথের ধারে নাম না জানা অনাদরে ফোটা ফুলের মতো এদেরকে কেউ চেনেনা, এদের দিকে কেউ তাকায় না এবং এদের খবরও কেউ রাখার প্রয়োজন বোধ করেনা। হয়তোবা কোর্ট কাছারিতে দৌড়ানোর মতো এবং কাকে ধরে কি ব্যবস্থা করতে হবে সেই শিক্ষাগত বুদ্ধি-জ্ঞান এদের নাও থাকতে পারে। খরচের মতো পর্যাপ্ত টাকাও এদের না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরা সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর অংশ। বিড়ম্বনাই বুঝি এদের নিয়তি! দেশের সব কারাগারে একটা অনুসন্ধান চালানো যেতে পারে। সেজন্যে একটা কমিটি গঠন করা যায়। বিনা দোষে ও বিনা বিচারে কেউ জেল খেটে যাচ্ছে কিনা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের খুঁজে বের করে মুক্তির ব্যবস্থা করা উচিত। এদিকে নৌ বাহিনীর লেফটেনেন্ট ওয়াসিফ -কে মারধর এবং নিজ বাড়িতে বিভিন্ন ব্রান্ডের বিদেশি মদ, অবৈধ অস্ত্র ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে সাংসদ হাজী সেলিমের পুত্র ইরফানের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছিলো। চারটিতেই তার জামিন হয়েছে। বাকি একটির ব্যপারে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। সব মামলাই নাকি জামিন যোগ্য। অথচ তার বিষয়টা নিয়ে দেশে ব্যপক হৈচৈ পড়ে গিয়েছিলো। হাজী সেলিমের অবৈধভাবে দখল করা জায়গাও উদ্ধার করা হয়েছে। যাই হোক, আদালতের রায়ের প্রশ্নে কারো দ্বিমত পোষণ করার কিছু নেই। কিন্তু ইরফানের ঘটনায় যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে তা তো দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

M Eliash Malik

২০২১-০১-২৭ ০৭:৫৩:৪১

এমন একজন সনমানী রবীন্দ্রনাথের মতো সশিখ্খিত জনদরদি নির্লোভ নেতার বিদেশ ফেরত ইংরেজি বলা আদরের শন্তানের এই বেইজ্জতির উপযুক্ত বিচার হওয়া দরকার। মাননীয় হাই কোর্ট অনতি বিলম্বে ওনার জামিন মঞ্জুর করে জাতিকে কলঙ্কের হাত থেকে মুক্তি দেবেন এই নিবেদন করছি।

আবুল কাসেম

২০২১-০১-২৭ ০৭:৪৮:২৯

পথের ধারে নাম না জানা কতো ফুল ফোটে। পথ ধরে হেঁটে যায় মানুষ। ভুলেও তাকায় না সেদিকে। কখনো কখনো দলিত মথিত করে চলে যায় পথিক। ওরা যে কোনো বাগানের ফুল নয়। কোনো সুরম্য অট্টালিকার সামনে কতো যত্নে ফোটানো হয় কতো ফুল। মালিদের হাড়ভাঙা খাটুনি। যত্নের শেষ নেই। বাহারি ফুলের চোখ জুড়ানো দৃশ্য মানুষকে মুগ্ধ করে। কিন্তু, প্রকৃতির কোলে লালিত রোদ বৃষ্টি ঝড়ো হাওয়ার হামলায় আহত হয়ে পথের ধারে অনাদরে ফোটা ফুলের কদর কারো কাছে তেমন নেই। তেমনি, কতো নাম না জানা বিখ্যাত নয়, কিন্তু অখ্যাত লোক বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে জেল খেটে যাচ্ছে। সাংবাদিকের অনুসন্ধানী কলমের খোঁচায় মাঝে মধ্যে এমন খবর আমাদের সামনে আসে। তখন কর্তৃপক্ষের নজরেও আসে। তাঁরা তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করেন। বিনা বিচারে এখনো কোনো লোক জেলের ভেতর আছে কিনা তা কারো জানা নেই। কারণ, এদের বড়ো কোনো পরিচয় নেই। তাই পথের ধারে নাম না জানা অনাদরে ফোটা ফুলের মতো এদেরকে কেউ চেনেনা, এদের দিকে কেউ তাকায় না এবং এদের খবরও কেউ রাখার প্রয়োজন বোধ করেনা। হয়তোবা কোর্ট কাছারিতে দৌড়ানোর মতো এবং কাকে ধরে কি ব্যবস্থা করতে হবে সেই শিক্ষাগত বুদ্ধি-জ্ঞান এদের নাও থাকতে পারে। খরচের মতো পর্যাপ্ত টাকাও এদের না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরা সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর অংশ। বিড়ম্বনাই বুঝি এদের নিয়তি! দেশের সব কারাগারে একটা অনুসন্ধান চালানো যেতে পারে। সেজন্যে একটা কমিটি গঠন করা যায়। বিনা দোষে ও বিনা বিচারে কেউ জেল খেটে যাচ্ছে কিনা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের খুঁজে বের করে মুক্তির ব্যবস্থা করা উচিত।

ওয়াদুদ

২০২১-০১-২৭ ০৬:০৪:০১

লে: ওয়াসিফ,আমাদের ক্ষমা করবেন প্লিজ।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

দেশে ফিরলেন ফখরুল

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

টিকা নিয়েছেন সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status