ব্যাটিং সামর্থ্য দেখালেন ‘চার জিনিয়াস’

স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলা ২৬ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার

ব্যাট হাতে একসঙ্গে ঝলক দেখালেন বাংলাদেশের চার ‘জিনিয়াস’। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের ব্যাটিং সামর্থ্য দেখালো বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টসে জিতেও ব্যাটিং নিলেন না সফরকারী অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ। আর ফ্ল্যাট উইকেটে আগে ব্যাটিং পেয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ পান টাইগার ব্যাটসম্যানরা। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংসে অর্ধশতক হাঁকান বাংলাদেশের চার ‘জিনিয়াস’ ক্রিকেটার। এদিন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ করেন কাঁটায় কাঁটায় ৬৪ রান। আর ৫১ রানের ইনিংস খেলেন অপর সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। এতে ২৯৭/৬ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস শেষ করে বাংলাদেশ।
ওয়ানডেতে এক ম্যাচে বাংলাদেশের চারজনের পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস এই নিয়ে হলো মাত্র তৃতীয়বার। আর চার সিনিয়রের একসঙ্গে ফিফটি এই প্রথম। মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে টাইগাররা শুরুর দুই ওয়ানডেতে জয় নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছিল আগেই। তবে ওই  দুই ম্যাচে তেমন ব্যাটিংয়ের বিশেষ সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই আগে ব্যাটিং করেছিল সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এতে বল হাতে ক্যারিবীয়দের নাকাল করেন মোস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজরা। পরে যথাক্রমে ১২২ ও ১৪৮ রান তাড়া করে বাংলাদেশ জয় পায় হেসেখেলেই।
গতকাল সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ লিটন কুমার দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার লিটন। ব্যর্থতার গণ্ডি থেকে বেরোতে পারেননি শান্তও। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো অনেক আশা নিয়ে নাজমুলকে তিনে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেন। গতকাল শুরুটা ভালো করলেও ৩০ বলে ২০ রান করে কাইল মায়ার্সের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। ৩৮ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পরের গল্পটা অন্যরকম। বাংলাদেশের চার সিনিয়র তারকার পরিস্থিতির দাবি মেটানো ব্যাটিংয়ে তিনশ’র (২৯৭/৬) কাছে পৌঁছায় বাংলাদেশের ইনিংস। জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৯৩ রান যোগ করেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। দেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের দুই শীর্ষ রানসংগ্রাহক জুটি বেঁধে গড়েছেন দারুণ রেকর্ড। এদিন জুটিতে দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন দু’জন। ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটি তুলে নিয়ে বড় ইনিংস খেলার পথে ছিলেন তামিম। ৬৪ রানে ফেরেন অধিনায়ক। সাকিব আল হাসান খেলছিলেন রয়েসয়ে। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর প্রথম ও ক্যারিয়ারের ৪৮তম ফিফটি তুলে নেয়ার পরই সাজঘরের পথ ধরেন সাকিব (৫১ রান)। ক্যারিবীয় মিডিয়াম পেসার রেমন রেইফারের বলে পরিষ্কার বোল্ড হয়ে যান সাকিব। ৮১ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে সাকিব হাঁকান কেবল তিনটি চার। মুশফিকুর রহীম এসেই দ্রুত রান তোলায় মনোযোগী হন। সাকিব ফেরার পর ক্রিজে আসা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও হন ব্যাটহাতে ঝড় তোলায় মনোযোগী। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ ১০০ রান তুলতে পারে মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর কল্যাণেই। মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর জুটিই মূলত দলকে নিয়ে যায় তিনশর কাছে। জুটিতে ৬১ বলে ৭২ রান যোগ করেন দু’জন। মুশফিকের ৫৫ বলে ৬৪ রানের ইনিংস থামে ৪৭তম ওভারে। রেমন রেইফারের বলে আলজারি জোসেফের হাতে ক্যাচ দেন মুশফিক। ৫৫ বলের ইনিংসে মুশফিক হাঁকান চারটি বাউন্ডারি ও দুটি ছক্কা।  ৭ নম্বরের চ্যালেঞ্জে প্রথম সুযোগে ৮ বলে ৭ রান করে সৌম্য সরকার হন রান আউট। তবে মাহমুদুল্লাহ শেষটা করেন দারুণভাবে। ৩টি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত থেকে যান ৪৩ বলে ব্যক্তিগত ৬৪ রানে।

আপনার মতামত দিন

খেলা অন্যান্য খবর

পিসিবি সভাপতিকে শোয়েব

‘পিএসএল চালিয়ে আপনি পাকিস্তানের সুনাম নষ্ট করছেন’

৫ মার্চ ২০২১



খেলা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status