পর্ব-৫৩

আমি জানি কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়

কাজল ঘোষ

এক্সক্লুসিভ ২৬ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

নাইনন্থ সার্কিট আদালতের প্রশংসা করার যথেষ্ট কারণ আছে। নিম্ন আদালতের রায়কেই বহাল রেখেছে তিন বিচারকের প্যানেল। যেখানে বলা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায় সমলিঙ্গের যুগলদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে প্রপ-৮। এই প্রস্তাবনা ৮ উত্থাপনকারীদের আপিল করার অধিকারকে আদালত আমলে নেয়নি। পক্ষান্তরে এ বিষয়ের রুলিংয়ের ব্যাপারে একটি ‘স্টে’ অর্ডার দিয়েছে এবং তাদেরকে আরো একবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

আমি সুপ্রিম কোর্টে এ ইস্যুতে বসে মৌখিক যুক্তিতর্ক শুনে যাচ্ছিলাম। বিচারক স্টিফেন ব্রেয়ার জানতে চেয়েছেন, এই প্রপ-৮ এর উত্থাপনকারীরা পাঁচজনের বেশি মানুষের একটি গ্রুপ কিনা যারা বাস্তবেই নিজেদেরকে শক্তিশালী হিসেবে ভাবতে পারে। বিচারক সোনিয়া সতমেয়র জানতে চেয়েছিলেন যে, এই প্রস্তাবনা উত্থাপনকারীরা নিম্ন আদালতের রায়ে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন? যদি প্রতিজন আইকরদাতা আইন মানতে বাধ্য থাকেন তাহলে এই প্রস্তাব উত্থাপনকারী কীভাবে আলাদাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন? কিন্তু যখন যুক্তিতর্ক শেষ হয়ে গেল তখনও বুঝা যাচ্ছিল না সিদ্ধান্ত কি আসতে যাচ্ছে।


আমি যখন সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ত্যাগ করছি তখন সেখানে শত শত মানুষের জমায়েত ছিল। তারা রংধনু পতাকা দোলাচ্ছিলেন, তাদের হাতে ছিল নানারকমের চিহ্ন। উদ্বিগ্ন হয়ে তারা ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই দৃশ্য দেখে আমি হাসলাম। এসব মানুষের কারণে প্রথমত আমি একজন আইনজীবী হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি আদালত কক্ষে আপনি এইসব মানুষের এই আকাঙ্ক্ষাকে কর্মে এবং আইনে পরিণত করতে পারেন।

আমার তাদের মুখাবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল একই কারণে সকলেই দাঁড়িয়ে আছেন। স্কুলে সন্তানদের আলাদা করে রাখা হয় এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ অভিভাবকরা অপেক্ষা করছেন। যুবতীরা মিছিল করছে এবং  স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের হাতে একটি স্লোগান লেখা ছিল, তা হলো ‘কিপ অ্যাবরশন লিগ্যাল’ গর্ভপাত বৈধ করো। নাগরিক অধিকার কর্মীরা নির্বাচনী করের বিরুদ্ধে, সমকামী বিবাহবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলেন।   

প্রাত্যহিক জীবনে তাদের কাছে নতুন কিছু নয় এরকম প্রতিবাদ। কিন্তু এইসব পদক্ষেপের মধ্যে কিছু বিষয় জোরালো করে তোলে সেটা এক রূপ থেকে আরেক রূপে নিয়ে যায়। সমতা বিষয়ক মূল নীতির সরাসরি বিরোধিতার শিকার হয়েছে তারা। একবার একথাই বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি আরল ওয়ারেন।

তারা বিশ্বাস করে যে, সংবিধান তাদের এ সমস্যা থেকে মুক্ত করতে পারে। তারা ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের কথাটিই মনে করে। রুজভেল্ট বলেছিলেন, এটা পুরনো নয় কিন্তু এটা সবসময় সবুজ। যারা একে জীবিত করে রাখে এটা তাদের বিশ্বাসের বিষয়। এই ধারাটি চলতে থাকবে এখন এবং সামনের দিনগুলোতে।’ তাই তারা বিক্ষোভ করেছে। তাই তারা লড়াই করেছে এবং তারা অপেক্ষা করেছে।
আমি জানি কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। সুপ্রিম কোর্ট এর আগেও ভয়ানক সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৮৮৯ সালে তারা একটি আইন সমুন্নত রাখে যেটা এখনো পাল্টে দেয়া হয়নি।  বিশেষ করে এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদেরকে অভিবাসী হিসেবে বাদ দেয়া হয়। ১৮৯৬ সালে আরো বলা হয় যে, বর্ণবাদী বিচ্ছিন্নকরণ সংবিধান লঙ্ঘন করে না। ১৯৪৪ সালে বলা হয় জাপানি বংশোদ্ভূত মার্কিনিদের যুক্তরাষ্ট্রে আত্মীকরণ অসাংবিধানিক নয়। ১৯৮৬ সালে আবার বলা হয় সমকামী সম্পর্ক অপরাধ হতে পারে। ১৯১০ সালে রাজনীতিতে কালো অর্থের যুগে একটি রায় দেয়া হয় ‘সিটিজেনস ইউনাইটেড’। আমাদের মামলার রায়টি হয়তো একদিন আগে শুনতে পেতাম। আদালতের রক্ষণশীল বিচারকরা ‘ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট’-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ অবৈধ করে দেন। ফলে কি হবে তার কিছুই নির্দিষ্ট ছিল না। কিন্তু ২০১৩ সালের ২৬শে জুন সকাল বেলা চমৎকার একটি খবর পেলাম আমরা। তা হলো সুপ্রিম কোর্ট সম্মত হয়েছে যে প্রপ-৮ এর প্রস্তাবনাকারীরা আপিল করবেন এবং এতে ৫-৪ ভোটের ব্যবধানে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। এর অর্থ দাঁড়ায় নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকবে। এর অর্থ হলো শেষ পর্যন্ত  ক্যালিফোর্নিয়াতে বিয়ের ক্ষেত্রে সমঅধিকারের আইন আবার ফিরে এলো।
   কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি
‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status