পরীক্ষা ছাড়া এইচএসসির ফল প্রকাশে বাধা নেই, সংসদে বিল পাস

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) জানুয়ারি ২৪, ২০২১, রোববার, ১২:৩৮ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৫:২৬ অপরাহ্ন

পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসির ফল প্রকাশ করতে আর কোনো বাধা নেই। পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসির ফল দিতে আজ আইন সংশোধন করে সংসদে বিল পাস করা হয়েছে। এরমধ্য দিয়ে গত বছরের এইচএসসির ফল প্রকাশের বাধা দূর হলো। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি রোববার সংসদে ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এছাড়া গত ১৯শে জানুয়ারি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংসদে বিল তিনটি তোলার সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের ফলাফল ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে, বিল পাস হলেই তা দ্রুত প্রকাশ করা যাবে। ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর এই শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এই বছরের শুরুতেই ফল প্রকাশের প্রস্তাব করা হয়েছিলো। কিন্তু সংসদ অধিবেশন বসার সময় হয়ে যাওয়ায় অধ্যাদেশের ঝামেলায় না গিয়ে একেবারে সংসদে বিল পাস করার পক্ষে মত দেয় মন্ত্রিসভা।
গত ১১ই জানুয়ারি ওই আইন তিনটি সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে সংসদে মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত আইনে বিশেষ পরিস্থিতে অতিমারী, মহামারী, দৈব, দুর্বিপাকের কারণে বা সরকার কর্তৃকসময় সময় নির্ধারিত কোনো অনিবার্য পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ এবং সনদ করা সম্ভব না হলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা কোনো বিশেষ বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ করে উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন এবং সনদ প্রদানের জন্য নির্দেশাবলি জারি করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির এমপি হারুন উর রশীদ ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা বিলটি পাস না করে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। হারুন উর রশীদ বলেন, আজ আমরা আইন পাস করে অটো পাশ দিয়ে দিলাম। এ সিদ্ধান্তের মাশুল দিবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। অটো পাশে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী। আমাদের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা থেকে ছিটকে পড়েছে। আমরা যদি পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করে অন্ততপক্ষে পরীক্ষার মাধ্যমে একটা ব্যবস্থা করতে পারতাম, তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েদের অন্তত পক্ষে বাড়িতে টেবিলে বসানোর ব্যবস্থা করতে পারতাম।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত থাকলেও কোভিড-১৯ এর কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই একই অবস্থা। আমরা যাদের উন্নত বিশ্ব বলি, আমরা যাদেরকে অনেক সময় ফলো করার চেষ্টা করি, সে সব জায়গাতেও কিন্তু একই পদ্ধতিতে অটো পাসের ফলাফল দেয়া হয়েছে। আমরা হঠাৎ করে কোনো ধরণের চিন্তাভাবনা ছাড়া এ সিদ্ধান্ত নেইনি। এতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, মেধাবীদের একটা ধারাবাহিকতা থাকে। আমরা পূর্বের দুটি পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি এবং জেএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে ফলাফল দেব। কারণ যারা মেধাবী তারা কিন্তু এই দুটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে। তারা তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে এসেছে। কাজেই শুধু মেধাবীরা কেন, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
উল্লেখ্য, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ১লা এপ্রিল থেকে। কিন্তু করোনাভাইসের প্রকোপ দেখা দিলে ১৭ই মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মত এইচএসসি পরীক্ষাও নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না বলে ওই সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানান শিক্ষা মন্ত্রী

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা-

আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আসামি করে চার্জশিট

৫ মার্চ ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



তালাকের পরও পাসপোর্টে রাকিবের নাম

পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে তামিমাকে

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা, পুলিশের বাধা

২৬শে মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি

DMCA.com Protection Status