মেঘনা নদীকে রক্ষা করতে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) জানুয়ারি ২৩, ২০২১, শনিবার, ৫:২৯ অপরাহ্ন

দখল, দূষণ এবং নাব্য সংকট থেকে মেঘনা নদীকে রক্ষা করতে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে সরকার। এতে ব্যায় হবে ১১ কোটি চার লাখ এক হাজার ৩১৬ টাকা। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ওয়াসার সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীতব্য  ’মেঘনা নদীর মাষ্টার প্ল্যান’ স্থানীয় সরকারের বিভাগ এবং আইডব্লিউএম-এর সহকারী পরিচালক সালেহ খান এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, মানুষের আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগ বেড়েছে আর এ কারণেই ময়লা আবর্জনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নদ-নদী, খালসমূহে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নিষ্কাশন হওয়ার ফলে পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে। যা আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয়। মেঘনা নদীর পানি দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের জন্য আজকের এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। মন্ত্রী বলেন, ওয়াসা থেকে দুই সিটি করপোরেশনকে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা এবং খালের দায়িত্ব দেয়ার পরেই দুই মেয়র অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দিয়েছেন এবং কার্যক্রম চলমান আছে।
খালসমূহ এবং নদীর দুই ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পরিকল্পিত ভাবে ঢাকাকে শুধু বাসযোগ্যই নয়, আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন এবং বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হবে।

তিনি বলেন,  ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দখলমুক্ত, দূষণরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ চলছে।  পদ্মা, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, বালু ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছে। এছাড়াও সরকার তুরাগসহ ঢাকার অদূরে বেশ কিছু নতুন শহর গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করার পর নদীরক্ষাসহ অনেক জাতীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। নদীপথ ব্যবহার করেই বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের চলাচলের পাশাপাশি পণ্য আনা নেয়া করা হতো।

তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এক সময় পিছিয়ে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত দূরদর্শী এবং গতিশীল নেতৃত্বের কারণে দেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ এ রূপান্তরিত হবে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ঢাকা ওয়াসা ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করতে পারে না। কারণ ওই পানিটা অত্যন্ত দূষিত। সে কারণে আমাদের পানি আনার জন্য যেতে হচ্ছে পদ্মা নদীতে, মেঘনা নদীতে। সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে এবং বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ রোধ কল্পে মাস্টার প্ল্যান তৈরি হয়েছে। এখন অ্যাকশন প্ল্যান চলছে। আমাদের মন্ত্রীর নেতৃত্বে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নদী উদ্ধারের কাজ চলছে। ঠিক সে রকমই মেঘনা নদী যা অত্যন্ত ভাল আছে। কিন্তু মেঘনা নদী যেন কোনো দিনও ওই অবস্থায় চলে না যায় সেজন্য মেঘনা নদীর একটা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা জরুরি বলে সরকার মনে করে।

তিনি আরো বলেন, মেঘনা নদীর মাষ্টার প্ল্যান প্রকল্পটির মেয়াদ ১৮ মাস। ২০২২ সালের আগস্টে মাস্টার প্ল্যানটির কাজ শেষ হবে। সরকার মেঘনা নদীর দখল, দূষণ এবং নাব্যতা সংকট রক্ষা করতে একটি মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করেছে। এ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ১১ কোটি চার লাখ টাকা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদে, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ওয়াসা এবং ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এর কর্মকর্তাগণ।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

রোহিঙ্গা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতই প্রধান চ্যালেঞ্জ

ক্যাম্পে নারী দিবস-২০২১ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা

৮ মার্চ ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



তালাকের পরও পাসপোর্টে রাকিবের নাম

পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে তামিমাকে

গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

সভাপতি-সম্পাদকসহ ৫ পদে বিএনপি বিজয়ী

DMCA.com Protection Status