কক্সবাজারের ‘পাওয়ার আলী’

গৃহপরিচারক থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক

রাসেল চৌধুরী, কক্সবাজার থেকে

অনলাইন (১ মাস আগে) জানুয়ারি ১৮, ২০২১, সোমবার, ৩:০৭ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৫৫ অপরাহ্ন

৭০০ টাকা বেতনে ফুট-ফরমায়েশের কাজ করতেন কক্সবাজারের দিনমজুর পিতার সন্তান আলী। তাও মাত্র বছর দশেক আগে। এই এক দশকে তার উত্থান রূপকথা গল্পকেও হার মানিয়েছে। গৃহপরিচারক আলী এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। কি নেই তার? একাধিক আলীশান বাড়ি, ঢাকা-চট্টগ্রামে একাধিক ফ্ল্যাট, একাধিক দামী গাড়ি, শহর ও গ্রামে জমি, ইটভাটা, খামার, নামে-বেনামে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর এসব কিছুই করেছেন জালিয়াতি, প্রতারণা আর তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে।

আলীর প্রতারণার শিকার হয়েছেন কক্সবাজারের শতাধিক মানুষ। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন গৃহপরিচারকের চাকরিদাতা প্রবীণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী।
তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে।

অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, নামের মিল থাকায় জালিয়াতি করে আলী হাতিয়ে নিয়েছেন তার প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের বিশাল মার্কেট আর আট কোটি টাকা মূল্যের বসতভিটাও কৌশলে হাতিয়ে নিতে নানা ফন্দি-ফিকির করছেন। ভুয়া বন্ধকি দলিল বানিয়ে তার মার্কেটও দখলে নেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এমনকি প্রতারক মো. আলী তার আট কোটি টাকার বাড়ি দখলেরও চেষ্টা করেন।

উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার শহরের পূর্ব নতুন বাহারছড়া বিমানবন্দর সড়কের পাশে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা বিলাসবহুল বাড়ি, কক্সবাজার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কস্তুরাঘাটের এন্ডারসন রোডের ডুপ্লেক্স বাড়ি, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বেপারীপাড়ার ৩৭০ এক্সেস রোডের ১০ তলা ভবন, নিজ গ্রামে পাঁচ কোটি টাকার প্রাসাদোপম বাড়ি, কক্সবাজার শহরের কলাতলী ও বাইপাস সড়কে তিনটি এবং ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, কক্সবাজার পৌরসভা ও তার পিএম খালী ইউনিয়নে নামে-বেনামে ৩০ একর, চট্টগ্রামে ১০ একর জমি, কক্সবাজার সদরের ঈদগাহে মেসার্স এসএমএ ব্রিক ফিল্ড, কক্সবাজার সদরের গোলারপাড়া গ্রামে নিজ নামে আলী ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি ফার্ম, মেসার্স আলী এন্টারপ্রাইজ নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ নামে-বেনামে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

ইতিমধ্যে তার প্রতারণা নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর গণমাধ্যমে লিখিত বিবৃতি দেন মো. আলী । বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যে প্রণোদিত এবং অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোন সামঞ্জস্য নেই। তিনি বাংলাদেশ সরকারের আয়কর প্রদানকারী একজন সৎ ও পরিচ্ছন্ন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর পরিবার তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

MD.NASRUL ISLAM RIPO

২০২১-০১-১৯ ১৮:০৬:৫৬

একজন দুর্নীতিবাজ বা অন্য কোনো অপকর্মকারী নাগরিকরা দেদারসে জমি, বাড়ি, গাড়ি, ফ্লাট, সোনা দানা–কিনছেন, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একাধিক হিসাব খুলছেন, ফিক্সড ডিপোজিট করছেন । আজব ব্যাপার ক্রেতার আয়ের উৎস নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা প্রশ্ন করছে না....। এই সুযোগে একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ বা অন্য কোনো অপকর্মকারী নাগরিকরা দুর্নীতি-লুটপাট-বা অন্য কোনো অপকর্ম করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন । দুর্নীতি, বেআইনি ব্যবসা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বিপুল সম্পদ। দুর্নীতি-লুটপাট করে তা এতো শান্তিতে ভোগ করা পৃথিবীর অন্য কোথাও সম্বভ বলে মনে হয় না...। অবৈধ অর্থের জোরে সমাজসেবী বা সংস্কৃতিসেবী হিসেবেও তকমা মিলতে দেরি হচ্ছে না এদের অনেকের । দেশে দুর্নীতিবাজদের ধরা হচ্ছে , বিচারের ব্যাবস্তা হচ্ছে -এটা ঠিক , কিন্তু দুর্নীতি যেনো করতে না পারে সে লক্ষে তেমন কোনো জোরালো উদ্যোগ রাষ্ট্রর পক্ষে থেকে চোখে পড়ছে না | যে কোনো সম্পদ ক্রয়ের আগে রাষ্ট্রের কোনো সংস্থার নিকট থেকে আর্থিক সামর্থের অনুমোদন নেয়ার বিধান করলে দুর্নীতি কিছুটা হলেও কমবে । দুদককে এ ব্যাপারে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে । দেশের প্রতিটি থানাতে দুদকের ব্যবস্থাপনাতে একটি করে দুর্নিতী সত্ত্বানুসন্দান কমিটি গঠন করলে ভালো হয় | কমিটির প্রধান হবেন দুদকের জেলা প্ৰধান | সদস্য হবেন এলাকার দল নিরেপক্ষ , নীতি ও আদর্শবান, দেশপ্রেমিক, শিক্ষিত ও সৎ মানুষরা (অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, শিক্ষক, মওলানা বা সমাজের সৎ ও শিক্ষিত ভালো যে কোনো নাগরিক) | যাদের কাজ হবে জমি, বাড়ি, গাড়ি, ফ্লাট, সোনা (৫ ভৰির বেশি) কিনলে বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ফিক্সড ডিপোজিট রাখলে -এই সম্পদ কেনার সামর্থ বেক্তির আয়ের সাথে মিলছে কিনা , অর্থের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী সন্ধান করে দেখা | দুর্নীতি সত্ত্বানুসন্দান কমিটি সম্পদ ক্রয়ের আর্থিক সামর্থের অনুমোদন দেবে | এলাকাতে দুর্নীতি করে কাহারা সম্পদ গড়েছেন এলাকাবাসী তা জানেন, হয়তো বলেননা | দুর্নীতি সত্ত্বানুসন্দান কমিটি তথ্য বক্স রাখতে পারে । সেখানে সাধারণ মানুষ এলাকার দুর্নীতি তথ্য জানিয়ে দেবেন । দুর্নীতি সত্ত্বানুসন্দান কমিটি সত্যতা যাচাই করবে | এটা করতে পারলে দুর্নীতি করে ত্রিনিমূলে বাড়ি- গাড়ি-জমি কেনা অনেকটাই অসম্বভ হয়ে পড়বে | সরকারের সকল দপ্তর ও মন্ত্রলায়ে একজন সচিবের নেতৃত্বে সুশাসন কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করতে হবে | কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ কেনার পূর্বে সুপারভাইজারের/অফিস প্রধানের ও সুশাসন কমিটির নিকট থেকে অনুমোদন নিতে হবে| কেউ এই বিধান উপেক্ষা করলে তাকে চাকুরিচ্যুত করা হবে -এমন বিধান করতে হবে | যেহেতু দেশে দুর্নীতি জেঁকে বসেছে তাই এর প্রতিরোদে নুতন স্পেয়াসিয়াল ট্রাইবুনাল গঠন করলে ভালো হবে যাহাতে দুর্নীতির দ্রুত দৃশ্যমান বিচার সম্ভব হয় | দুর্নীতি বন্ধ করতে আরো অভিনব ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে | ন্যাশনাল ID কার্ডে প্রতিটি নাগরিকের নিম্নোক্ত তথ্য থাকলে দুর্নীতির তথ্য মিলবে খুব সহজে : ১| ব্যাংক একাউন্টের নম্বর (কতগুলো ব্যাঙ্ক একাউন্ট রয়েছে) ২| মোবাইল সিমের নম্বর (কতগুলো মোবাইলের সিম রয়েছে) ৩| সরকারি বা বেসরকারি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ফিক্সড ডিপোজিট হিসাব নম্বর| ৪| গাড়ি, বাড়ি, ফ্লাট, মার্কেট, জমি রয়েছে তাহার বিবরণ | সরকার নিয়ম করবে সকল স্থাবর সম্পদ কেউ কিনলে সে তথ্য ন্যাশনাল ID কার্ডে সংযুক্ত হবে |

N.M Humayun Kabir Ch

২০২১-০১-১৮ ২৩:৫৫:১৪

আসলে কিভাবে এত তাড়াতাড়ি ধনী হওয়া যায় জানি না।তবে বৈধভাবে ধনী হওয়া সম্ভব না সেটা একশত ভাগ সত্য। তার ক্ষমতার কারণে তার ভাইয়েরা এলাকায় এাসের রাজত্ব কায়েম করেছ । গত কয়েক দিন আগে এক সমভ্রান্ত পরিবারের সন্তানকে কথিত আলীর ভাই আক্তার মুন্সী দিনদুপুরে সনত্রাসী কায়দায় মারধর করে । বর্তমানে তাঁর পৈত্রিক বসতভিটা দখল করার জন্য পায়তারা করতেছে । এ বিষয়ে উক্ত ভুক্তভোগী প্রসাশনের সুদৃষ্টি কামনা করছে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

কনসার্টে ভেঙে পড়লো গাছ, নিহত ২

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মুশতাকের আইনজীবীর স্ট্যাটাস

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status