তেলের বাজারে তেলেসমাতি

আলতাফ হোসাইন

প্রথম পাতা ১৬ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২০ অপরাহ্ন

তেল নিয়ে তেলেসমাতি থামছেই না। লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে ভোজ্য তেলের দাম। রেকর্ড ভেঙে খুচরা বাজারে বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে লিটার প্রতি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। যা কিছুদিন আগেও ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। যদিও বাজারে তেল সরবারহে ঘাটতির অজুহাত দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে তেল নিয়ে ভয়াবহ সিন্ডিকেট চলছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সরকার খোলা তেলের মূল?্য নির্ধারণ করে দিলেও মালিকরা তা মানছেন না।
এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারে। পাইকারি বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খুচরা বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। গত এক সপ্তাহে খুচরা বাজারে লিটারে ৪-৫ টাকা বেড়েছে। আর গত পাঁচ মাসে বেড়েছে লিটারে ২২ থেকে ২৫ টাকা।
জানা যায়, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত ২২শে অক্টোবর সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৈঠক করেন তেল ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে ভোজ্যতেলের দাম প্রতি লিটার ২ টাকা কমানোর ঘোষণাও দেন ব্যবসায়ীরা। সে সময় সয়াবিন ৯২ থেকে ২ টাকা কমিয়ে ৯০ টাকা, পামওয়েল ৮২ থেকে ২ টাকা কমিয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। ওই মূল্য অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। তবে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি করেননি ব্যবসায়ীরা। বরং বিভিন্ন অজুহাতে দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে দাম।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, বর্তমানে খোলাবাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১২ থেকে ১১৫ টাকা লিটারে। এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১০৭ থেকে ১১০ টাকায় ও এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে শতকরা ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এক বছর আগে পামওয়েল বিক্রি হতো ৯১ থেকে ৯৩ টাকা লিটার। বছর ব্যবধানে পামওয়েলের দাম বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। টিসিবি’র তথ্য বলছে, সয়াবিন তেল প্রতি পাঁচ লিটার এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৫৪০ থেকে ৫৮০ টাকা এবং এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৫১০ থেকে ৫৪০ টাকায়। মাসের ব্যবধানে প্রতি পাঁচ লিটারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর এক বছর আগে প্রতি পাঁচ লিটার বোতলের সয়াবিন ৪৭০ থেকে ৫১৫ টাকায় বিক্রি হতো। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে প্রতি পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলে দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। টিসিবি বলছে, প্রতি লিটার বোতলের সয়াবিন তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। সপ্তাহ খানেক আগেও একই দাম ছিল। তবে এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি। আর এক বছর আগে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হতো ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। বছর ব্যবধানে সয়াবিনের প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশের বেশি। আর পামওয়েল এখন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে তা ৮০ থেকে ৮৮ টাকায় বিক্রি হতো। বছর ব্যবধানে পামওয়েলের দাম বেড়েছে ১৮ থেকে ২৪ শতাংশ।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল গেট থেকে তারা যে দামে তেল কিনছেন, সেই তুলনায় খুবই সামান্য লাভে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। তবে মিল গেটে তেল কেনার পর পরিবহন সমস্যার কারণে তেল আনতে ৪-৫ দিন সময় লাগে। এতেও বাজারে তেলের দামের ওপর প্রভাব পড়ে। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তি। সরবারহেও ঘাটতি রয়েছে তাই দেশের বাজারে দাম বাড়ছে বলে দাবি পাইকারি ব্যবসায়ীদের।
রাজধানীর হাতিরপুলের মুদি দোকানি আজহার আলী বলেন, পাইকার ও তেল কোম্পানিগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়াচ্ছেন। প্রতি বছর শীত এলেই দাম বাড়ায়। তবে এবার বেশি বেড়েছে। সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে তারা বাজারে সংকট তৈরি করছে। তাছাড়া মিল মালিকরা যদি কম দামে তেল বাজারে না ছাড়েন, তাহলে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কিছু করার নেই। বেশি দামে কিনলে বেশি দামেই বিক্রি করতে হবে।
কাওরান বাজারের সোনালী ট্রেডার্সেও স্বত্বাধিকারী আবুল কাশেম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়তি। দেশে কোম্পানির রেট অনুযায়ী দাম বেশি। আগের রেটে কেনা যে তেল ছিল সেগুলো আগের দামেই বিক্রি করছি। তিনি বলেন, দুই তিন মাসে লিটারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। দাম আরো বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১১০ টাকা ও পামওয়েল ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দাম অন্যান্য খুচরা বাজারে গিয়ে আরো বাড়ছে। এই কয়েক দিনে লিটারে সবধরণের তেলের দাম অন্তত ১০ টাকা করে বেড়েছে। আগে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণে খোলা সয়াবিন বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪০০ টাকায়।
সিন্ডিকেটের বিষয় অস্বীকার করে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম মাওলা মানবজমিনকে বলেন, সিন্ডিকেট কথাটি আমাদের দেশে খুবই সস্তা হয়ে গেছে। কোনো সিন্ডিকেট আমাদের নজরে পড়েনি। মূলত সয়াবিন তেলের বাজার বিশ্ববাজারেও চাড়া। আর আমরা বিশ্ববাজারের ওপর ১০০ পার্সেন্ট নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম চড়া তাই আমাদের এখানেও বেড়েছে। করোনার সময় বিশ্ববাজারে সয়াবিনের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সেই অবস্থা এখনো চলছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পামওয়েল ও সয়াবিন তেল উভয়ের দাম যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় আমাদের এখানে এখনো দাম অনেক কম। যেখানে ভারতেও প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৪০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Shahid

২০২১-০১-১৬ ১০:৪৪:০৭

চলতি রবি মৌসুমে সুর্যমুখী ও সরিষার ব্যাপক চাষ হয়েছে। উন্নতমানের তেল ব্যবহারে যাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। আমদানীকৃত সয়াবিন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেরি হবে না।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

পরীক্ষা নিয়ে তালগোল

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সেই দুই ভাইয়ের ৫৭০৬ বিঘা জমি জব্দের নির্দেশ

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বহুল আলোচিত ফরিদপুরের দুই ভাইয়ের ৫ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি ও তাদের মালিকানাধীন ৫৫টি বাস ক্রোকের ...

অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধতা দিতে বাইডেন প্রশাসনের প্রতি মোমেনের আহ্বান

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

অবৈধ অভিবাসীদের পর্যায়ক্রমে বৈধতা প্রদানের সহনশীল উদ্যোগের জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা ...

বিক্ষোভ আল্টিমেটাম

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

টিকার পর আরো দুই জনের করোনা

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের দিনভর বিক্ষোভ

পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ব্যভিচারের অভিযোগ, মামলা

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পরীক্ষা বন্ধ করা হলো কেন?

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



দূতাবাসের ই-মেইল বার্তা

চীনের টিকার অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ

সাক্ষাৎকারে জোনায়েদ সাকি

বৃহত্তর ঐক্যের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি

৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের দিনভর বিক্ষোভ

পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

পরীক্ষা নিয়ে তালগোল

DMCA.com Protection Status