নায়িকা হতে গিয়ে অনেকের শয্যা সঙ্গী তমা

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) জানুয়ারি ১৫, ২০২১, শুক্রবার, ১২:১৫ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪৬ অপরাহ্ন

স্বপ্ন ছিলো নায়িকা হবেন। নায়িকা হতে গিয়ে তাকে সর্বস্ব দিতে হবে, এমনটি ভাবেননি মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণী তমা (ছদ্মনাম)। ড্যান্স বারে পারফর্ম করে সবাই মিলে যখন আড্ডা দিচ্ছেন তখনই ঘটে ঘটনাটি। আড্ডায় মগ্ন সবাই। বার সংলগ্ন হোটেল কক্ষের সোফায়, খাটে বসেছেন তিন তরুণী ও পাঁচ যুবক। এরমধ্যে অনুষ্ঠান আয়োজক ফরহাদ খানও রয়েছেন। টেবিলে সাজানো বিয়ার, হুইস্কি, শ্যাম্পাইন। রয়েছে  ফ্রাইড চিকেন, সালাত, চিপস ইত্যাদি।
কেউ মদ পান করছেন। কেউ সিগারেটে সুখ টান দিচ্ছেন। তমা নিরবে বসে আছেন। বারবার অনুরোধ করার পর বিয়ার হাতে নেন। কিন্তু বাধা দেন ফরহাদ। বিয়ার নয়, তাকে হুইস্কির গ্লাস এগিয়ে দেন। তমা পান করেন। এক-দুই করে কয়েক প্যাক। পান করতে করতে চোখ টলমল করছে। সোফায় ঢলে পড়বেন যেনো। ফরহাদ তাকে কাছে টেনে নেন। সবার সামনেই পাশে বসিয়ে জড়িয়ে ধরেন। অন্যরা এই দৃশ্য দেখে বেশ মজা নিচ্ছিলো।   
তারপর তাকে কোলে তোলে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান। মুহূর্তেই দরজাটা বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ভোর হতেই ঘুম ভাঙ্গে তমার। হতভম্ব হয়ে যান। কম্বলের নিচে বস্ত্রহীন তিনি। বুঝতে পারেন সর্বস্ব লুট হয়েছে তার। যেনো নিজের অজান্তেই ঘটেছে সবকিছু। নিঃশব্দে কাঁদছিলেন তমা। পাশে তখনও ঘুমাচ্ছেন ফরহাদ। চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি, পঞ্চাশ বছর বয়সী ফরহাদ। দীর্ঘদিন থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এখানে ব্যবসা রয়েছে তার। এছাড়া ব্যবসা রয়েছে মালয়েশিয়াতেও। হোটেল, বারের ব্যবসা।

নায়িকা হওয়ার ইচ্ছে নিয়েই নাচ শিখেছেন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী তমা। স্বপ্ন ছিলো নায়িকা হলে সারা দেশের মানুষ তাকে চিনবে। তাকে দেখলেই ভীড় করবে দর্শকরা। ছবি তোলবে। তাকে নিয়ে প্রায়ই সংবাদ প্রকাশ হবে গণমাধ্যমে। পাশাপাশি অর্থ উপার্জনও হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই নারায়ণগঞ্জের একটি নাচের স্কুলে ভর্তি হন। অল্প দিনেই নাচে পারদর্শী হয়ে উঠেন কলেজ পড়–য়া এই ছাত্রী। এরমধ্যেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রন আসতে থাকে। পরিচয় ঘটে শোবিজ জগতের তারকাদের সঙ্গে। পারফর্ম করেন দেশের বিভিন্নস্থানে। এরমধ্যেই মুন্না নামের একজনের সঙ্গে পরিচয়। বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ করার প্রস্তাব দেন তিনি। ফরহাদ তার বড় ভাই হন। প্রতি মাসে বেতন হবে ৭০ হাজার টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে তমা। বাবা ক্ষুদে ব্যবসা। দুই বোন, এক ভাই ও মা-বাবা নিয়ে তাদের পরিবার। অভাব লেগেই থাকে। মাসে এতগুলো টাকা পেলে মন্দ হয় না। ভেবেই রাজি হন।

বিদেশে যাওয়ার আগেই তাকে দেওয়া হয়েছিলো ৫০ হাজার টাকা। তারপরই তমাসহ একসঙ্গে আরও চার তরুণী দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। এটি কয়েক বছর আগের ঘটনা। ২০১২ সালের আগস্ট থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের পেশাজীবীদের ভিসা দেওয়া বন্ধ । পর্যটক ভিসা পাওয়াও সহজ নয়। কিন্তু এই চক্রের ভিসা পাওয়ার বিষয়ে তেমন প্রতিবন্ধকতা নেই। তিন মাসের পর্যটক ভিসা নিয়ে আরব আমিরাতে যান তারা। শারজায় একটি বারে নাচ করেন তমা। তারপরই ঘটে ঘটনাটি।

অনেক কিছু ভেবে ফরহাদকে মেন নেন তমা। একজন পুরুষ সঙ্গী থাকতেই পারে। কিন্তু তখনও বুঝতে পারেননি তার জন্য আরও খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে। পরের রাতে এক আরবিয়ানের বাসায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হয় তমাকে। আরব ওই ব্যবসায়ী, বাংলাদেশী ফরহাদসহ সেখানে ছিলো আরও দু’জন। বাসাতেই ছিলো নাচের আয়োজন। নাচ শেষে রাত গভীর। তখনই ফরহাদ বুঝিয়ে দেন আজ রাতটা সবার সঙ্গেই কাটাতে হবে তাকে। তমা অনুনয় করেন। ফরহাদ ছাড়া কারও শয্যাসঙ্গী হতে চান না তিনি। ফরহাদ জানান, শুধু নাচ করে থাকা-খাওয়ার টাকাও আসবে না। এসবই করতে হবে তাকে।

আরব আমিরাতের বারে ঢুকতে গেলে ৫০ দিরহাম দিয়ে একটি টোকেন ক্রয় করতে হয়। নাচ দেখতে হলে পছন্দের তরুণীকে এই টোকেন দিতে হয়। এই টোকেন তরুণী হয়ে জমা হয় বার কর্তৃপক্ষের কাছে। কোন তরুণী ক’টা টোকেন জমা দিলো তা লিখে রাখা হয়। মাসে অন্তত তিন শ টোকেন সংগ্রহ হলে টোকেন সংগ্রহকারী তরুণীর বেতন হয় ৫০ হাজার টাকা। টোকেন কম হলে বেতন কমে যায়।

এক পর্যায়ে ইচ্ছের বিরুদ্ধেই নিরবে ওই রাতে শয্যা সঙ্গী হন একে একে চার জনের। তারপর থেকেই প্রায় প্রতি রাতেই কারও না কারও সঙ্গী হন তমা। তমা জানান, ২০১৯ সালে দুবাই পুলিশ চার জনকে একটি নাইটক্লাব থেকে আটক করেছিলো তাদের বয়স কম ছিলো। ওই ক্লাবে নিয়মিত নাচ করতেন তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ক্লাবে নাচ করেছেন তিনি। তিন মাস পর দেশে ফিরেন, আবার যান। তমা বলেন, মূলত টাকা উপার্জনের জন্যই ছুটে যান সেখানে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন যাবত দেশে রয়েছেন তিনি।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

শামীম

২০২১-০১-১৫ ০৫:৩২:৪৫

যেমন কর্ম তেমন ফল ।

Mobin

২০২১-০১-১৫ ০৩:১৬:২৭

There are two ways in life to achieve your goals (1) right path (Halal), -cumbersome/hardship & patience require (2) Wrong path (Haram)-shortcut/easy way. Choice is yours.!!

Hossain

২০২১-০১-১৫ ০২:৫৭:৫৫

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কার নজরে পড়লে আপনি হয়তো নায়িকা হতে পারতেন। এখানে ও নায়িকা হতে গিভ এন্ড টেক প্রথা আছে। ফরহাদের মত অনেক ফরহাদ বাংলাদেশে ও আছে। উদাহরণ সরূপ জি কে শামীম। কতজন নায়িকা কে দিয়ে শামীমের ব‍্যাবসার ফাঁদ। এটা আমার কথা নয় নিউজে পড়ছিলাম। এরকম হাজার শামীম বাংলাদেশে আছে। ওরা হয়তো নাটক অথবা সিনেমার নায়িকা হয়েছেন। খবরে শিরোনাম ও হয়েছেন । আপনি হয়তো নায়িকা হিসাবে শিরোনাম হতে পারেন নি অন‍্য রকম শিরোনাম হয়েছেন। দুঃখ করোনা বোন এটাই বাস্তব এটাই সত্যিই।

আনিস উল হক

২০২১-০১-১৫ ০২:০১:১৪

এই আরব দেশটি থেকে তাহলে সুশীতল বাতাস বিদায় নিয়েছে।

Wadud

২০২১-০১-১৫ ০১:৫৭:৪৪

এখন আপনি ভালো পারফর্মার।চালিয়ে যান বাকি দিন হয় একই গতিতে নতুবা তীব্র গতিতে।কারণ আপনি হুট করে কোনো বিপদের সম্মুখীন হননি, হয়েছেন পরিবেশগত ভাবেই।দেশের মানুষকে জানান দিবেন, সফলতা অর্জন করবেন সেটা নর্তকীর বেশে কেনো?আর কি কোনো পন্থা নেই? আপনি তো জানেনই পরিবেশগত প্রভাব এর কথা। প্রথমেই যখন লক্ষস্থির করতে পারেন নি হোক সেটা নিজের জন্য বা পরিবারের জন্য এখন দুঃখ না করে চালিয়ে যান।সমাজ এর এমন কোন দায়ভার নেই যেখানে আমার ভুল ইচ্ছের দায়ভার,,,,,

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০১-১৫ ১৪:২৮:০০

এতে অনুভূতিশীল দরদী হৃদয় কুপিত হলেই বা তমাদের কিছু যায় আসে কি! তমাদের মতো নয় এমন লাখো তরুনীরা সূচকণ্যা হয়ে তাদের পরিবারের ভাগ্য বদল করেছে শততায় ও নিষ্ঠায়। দেশকে করেছে উন্নত। তমা হয়ে উঠার সিড়িটি খুব আকর্ষনীয় হলেও নিচে পড়ার পরিনতী খুব ভয়ংকর। তমারা সেটা জেনেই পা বাড়ায়। অবশ্য প্রগতিবাদিরা সখেদে বলবেন শতফুল ফুটতে দাও- কেবল ভ্রমরগুলি তাতে না বসলেই হয়।

Kazi

২০২১-০১-১৫ ০০:০২:৩২

Whiskey beers wine is not Bangladesh drink or allowed for muslims Male or female whoever touched spoiled the life. Son of rich organize with parents evils earning and daughters of middle class families become victims Parents don't control

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আটক ২

২ মার্চ ২০২১

সাভারের আশুলিয়ার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ইউনিয়নের ৬ ...



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



বিদায় সংবর্ধনায় বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার-

বাস্তবে বিচার বিভাগ কতটুকু স্বাধীন, তা আমরা সকলেই জানি

তিন বছর পর রহস্য উদঘাটন

এক প্রেমিকের প্রতারণার বলি দুই বোন

DMCA.com Protection Status