বাঙালনামা

ড. শরীফ আস্‌-সাবের

মত-মতান্তর ১৫ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:০৪ অপরাহ্ন

আমরা বাঙাল! বড়াই করাটাই আমদের স্বভাব। আমাদের ধারণ করিয়া পৃথিবী ধন্য হইয়াছে, ধন্য হইয়াছে মানবকুল! কারণ, আমরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমরা বুদ্ধির ঢেঁকি এবং বিশ্বসংসারে আমাদের সমকক্ষ কেহই নাই।

আমরা অন্যের প্রশংসা করি না, কারন উহারা প্রশংসার যোগ্য নহে। বরঞ্চ, অন্যরা আমাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হইবে এবং উহাতে আমরা সন্তুষ্টচিত্তে হাত নাড়াইয়া কেতাদুরস্ত কায়দায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিব, ইহাই আমাদের একান্ত মনোবাঞ্ছা।  

শিক্ষা? কাহার কাছে শিখিব? আমরা তো সবজান্তা হইয়াই ধরায় ভুমিস্ট হইয়াছি। লজ্জা? লজ্জা তো মূর্খ, অপগন্ডের ভূষণ! উহা আমাদের মজ্জায় নাই! আমরা সবকিছুতেই প্রথম! দ্বিতীয় স্থান আমাদিগের জন্য নিতান্তই বেমানান। ইহা অর্জন করিবার মানসে আমরা ভালো মন্দ, ঠিক বেঠিক কিংবা ন্যায় অন্যায়ের তোয়াক্কা করি না এবং অন্যরা শত দোষে আমাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করিলেও আমরা উহাদের ধার ধারি না।

আমরা কখনো মিথ্যা বলি না, কারন মিথ্যাকে সত্যিতে পরিনত করিবার পদ্ধতি আমরা বেশ ভালো করিয়াই রপ্ত করিয়াছি। আমাদের এই জাতীয় সদাচরণ অপরের মনোবেদনার কারণ হইলে আমরা কীইবা করিতে পারি - নিজের কষ্টে আমাদের কষ্ট হইলেও অপরের অহেতুক কষ্টকে তো আমরা কষ্ট বলিয়া গণ্য করিতে পারি না!  

আমরা বাঙাল, কাঙ্গাল নহি! আমরা আপন অবস্থান এবং মর্যাদা কোন ভাবেই ক্ষুন্ন হইতে দেই না।
তাই আমরা নিজেদের দারিদ্র জাহির করিয়া অপরের করুণা ভিক্ষা করি না। আমাদেরই এক পূর্বসূরি মহাবাঙাল মরহুম এক লাটসাহেব এই প্রসঙ্গে এক সময় বলিয়াছিলেন, ‘ভাত না মিলিলে তোমরা তো পোলাও খাইতে পারো’! তাই আমরা প্রয়োজন হইলে হাতে ঘিয়ের গন্ধ মাখিয়া খালি পেটে পোলাও বিরিয়ানি খাইবার গল্প বলিতে বলিতে তৃপ্তির ঢেঁকুর পর্যন্ত তুলিতে পারি।    

আমরা সকলেই মনে মনে আঙ্গুল ফুলিয়া কলা গাছ হইবার খায়েস পোষণ করি। তবে চোখের উপর অন্য কাহারও আয় উন্নতি আমাদের সহ্য হয় না – একেবারে মাথা খারাপ করিয়া দেয়। তাই, আমরা নিজের নাক কাটিয়া পরের যাত্রা ভঙ্গে পিছপা হই না। ইদানিং ইহাতে তেমন কাজ হইতেছে  না - নিজের নাক কর্তিত হইতেছে ঠিকই, কিন্তু অপরের যাত্রায় অগ্রগতি তেমন থামিতেছে না। তাহাতে কি? আমাদের বাঙাল চরিত্র তো তাই বলিয়া জলাঞ্জলি দেওয়া যাইবে না?

আমরা বুদ্ধির ঢেঁকি। নিজের বুদ্ধি আমরা অপরের কাছে বন্ধক দিয়াছি আর অপরের বুদ্ধি ধার করিয়া আমরা বাবুয়ানা হালে চলাফেরা করি। ইহাতে সুবিধা হইল, আমাদের বুদ্ধিটা বাঁচিয়া গেল, খরচ হইল না! সেই ক্ষেত্রে, পরের বুদ্ধিতে কাজ করিবার ফলাফল ভাল না হইলে সহজেই নন্দ ঘোষের উপর উহার দায় দায়িত্ব, দোষ ত্রুটি চাপাইয়া দেওয়ার সুযোগটিও বহাল থাকিয়া যায়।

আমরা বিশুদ্ধ বাঙাল। আমরা স্বার্থপর নই, স্বার্থসচেতন। আত্মস্বার্থের বিনিময়ে অপরের কাছে নতি স্বীকার করিতে আমাদের সময় লাগে না - এমন কি দেশ বিকাইয়া দিতেও আমরা দ্বিধান্বিত হই না! মীর জাফর, রায় দুর্লভ তো আমাদেরই লোক ছিলেন! এ বিষয়ে অবশ্য উপরওয়ালাই ভালো জানেন - আমরা কতটুকুই বা করিতে পারি? ইহা ছাড়া, খাল কাটিয়া  কুমির লইয়া আসাটাও আমাদের খান্দানি স্বভাব। ঘরের আঙ্গিনায় কুমিরকে আদর করিয়া নিজ হাতে ছাগল হরিন খাওয়াইব না, ইহা দেখিয়া সবাই হাত তালি দিবে না – তাহাই বা কি করিয়া সম্ভব? বাঙাল হিসাবে প্রবাদকুমীর লালন করিবার গুরুদায়িত্বটি তো আমাদের উপরেই বর্তায়।  

কোথাকার কোন কিসিঞ্জার সাহেব আমদের দেশকে একবার ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলিয়াছিলেন। কত বড় কথা - ধৃষ্টতার একটা সীমা তো থাকা উচিত! আমাদের ঝুড়ির তলা এখন যারপরনাই শক্ত। তবে ঝুড়িখানা বুদ্ধি করিয়া উল্টাইয়া রাখিয়াছি যাহাতে আমাদের কাজ আমরা যথাপূর্ব করিতে পারি এবং দুষ্ট কিসিঞ্জারি সমালোচনা কোন কাজে না লাগে। মোদ্দা কথায়, আমরা অপরের কথায় পরিবর্তন হইতে রাজি নহি। ইহা ছাড়া, কেহ আমাদের সমালোচনা করুক তাহাও আমরা পছন্দ করি না। তবে, অপরের ছিদ্রান্বেষণ করাকে আমরা আমাদের একটি পবিত্র দায়িত্ব বলিয়া জ্ঞান করি। আমরা ভূরিভোজনে সুপক্ক আর পরনিন্দা ভোজনের ইচ্ছাকে সর্বতোভাবে জাগ্রত করে।
আমরা কেহ দলান্ধ, কেহ ধর্মান্ধ, কেহ বা মতান্ধ। ইহার ফলে কষ্ট করিয়া যুক্তির ধার ধারিতে হয় না – কিছু একটা অকাট্য জ্ঞান করিয়া বসিয়া থাকিলেই চলে। তথাকথিত ‘সুসম’, সজ্ঞান’  কিংবা ‘সুষ্ঠু’ চিন্তাধারা শুনি‍য়া সময় নষ্ট করিতে আমরা আগ্রহী নহি। তাই বলিয়া ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ মনে করিয়া আমরা তো হাত পা গুটাইয়া বসিয়াও থকিতে পারি না! আমাদের অবস্থান পাকাপোক্ত এবং যুক্তিযুক্ত করিবার মানসে তাই আমরা ধোপদুরস্ত পোশাকে প্রগতিশীল সাজিয়া নানা বিতর্কে সুবিধামাফিক অংশ লইলেও সর্বশেষে ‘তাল গাছটি আমার’ বলিয়া দাবী করাটাই আমরা যথার্থ মনে করি। তাহা না হইলে বাঙাল হিসাবে আমাদের আভিজাত্য হানির সম্যক সম্ভাবনা বিদ্যমনা থাকে।   

আমরা সময়ের সহিত তাল মিলাইয়া চলিতে পছন্দ করি। সেই সুবাদে, যে কোন ধরনের পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমদের চেহারা ও লেবাস দ্রুততার সহিত পাল্‌টাইয়া এক শিবির হইতে অন্য শিবিরে চলিয়া যাই। আমদের নিজেদের লেজ না থাকায় এই ভাবেই আমরা অপরের লেজে চড়াও হইয়া লেজুড়বৃত্তি এবং সময় ও সুবিধামাফিক লম্ফ দিয়া লেজ পরিবর্তন করি। এক কথায়, আমাদের খান্দানি উদ্দেশ্য চরতার্থ করিবার মানসে আমরা পৃথিবীর আদি ও অকৃত্রিম ‘যখন যাহার তখন তাহার’ নীতিটি অভিনিবেশ সহকারে পালন করিয়া থাকি।  

বর্তমান সময়ে উৎকোচ, দুর্নীতি, অপরাধ, স্বজনপ্রীতিসহ ইত্যকার বিষয়গুলি সমাজের পরিবর্তন ও উন্নয়নের অপরিহার্য সহযোগী অংশ হইয়া গিয়াছে বিধায় আমরা এই জাতীয় শব্দের উত্তম গুণাবলি ভাবার্থসহ অভিধানে সন্নিবেশিত করিবার একটি মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছি। অভিধানে উহাদের নেতিবাচক উপস্থিতি অগ্রহণযোগ্য যাহা অহেতুক জনমনে এই ধরনের উন্নয়নবান্ধব শব্দাবলী সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করিতেছে।

আমরা অনুকরণপ্রিয়। বহুভাষাবিদ, গুণীজন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলিয়াছিলেন, ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নহে’ আর রোগের প্রাদুর্ভাব না হইলে তো উহার উপশমের চেষ্টা করা যাইবে না - উচ্চমূল্যে রোগ প্রতিষেধক কিংবা ওষুধ আমদানি করিয়া টুপাইস কামাই করা যাইবে না। তাই, যে যাহাই বলুক, ‘আসুক ব্যধি, আসুক জ্বরা/খোদার হাতে বাঁচা মরা’! একই উপদেশ অনুসরণ করিয়া আমরা মহা আনন্দে বলিউড, হলিউড, টালিউড হইতে বাছিয়া বাছিয়া নিকৃষ্ট প্রকৃতির আচরণাদি রপ্ত ও অনুকরণ করিয়া থাকি। সমাজে মন্দ ঘটনা না ঘটিলে আমাদের উত্তরসূরীরা ভাল মন্দের ফারাক কি করিয়া অনুধাবন করিবে? অন্ধকার না থাকিলে আলোর মূল্যইবা তাহারা কিভাবে উপলব্ধি করিবে?

কাজের তুলনায় আমরা কথায় অধিকতর পটু। আমরা ইচ্ছায় অনিচ্ছায়, কারনে অকারণে আত্মস্তুতি গাহিতে পছন্দ করি। গুণীজনেরা কহেন, নিজের ঢোল নিজেকেই পিটাইতে হয়। অপরে পিটাইলে এতো আস্তে পিটাইবে যাহা অন্য কেহ শুনিবে না, কিংবা এতো জোরে পিটাইবে যে ঢোল ফাটিয়া যাইতে পারে! তাই আমরা নিজেদের ঢোল নিজেরাই পিটাইতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ইহাতে অপরের কান ঝালাপালা হইল কিনা, তাহা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নহে।
আমরা যাহা খুশি তাহাই করি। আমরা আইন-কানুন, আদেশ-উপদেশ, বাঁধা-নিষেধ ইত্যাদির উর্ধে থাকিতে পছন্দ করি। কবিগুরু বলিয়াছেন, ‘পদে পদে ছোটো ছোটো নিষেধের ডোরে/বেঁধে বেঁধে রাখিয়ো না ভালো ছেলে করে।’  
আমরা গুরুদেবকে অনুসরন করতঃ অকর্মণ্য ও অকিঞ্চিৎকর ‘ভালো ছেলে’ হইয়া থাকিতে চাহি না, এবং কেহ মানুক আর নাই মানুক, আমরা বিপুল বিক্রমে সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করিয়া আমাদের বাঙাল স্ট্যাটাসটিকে যে কোন মুল্যে সংরক্ষন করিব – ইহা গোটা বিশ্বের কাছে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার!

বিঃ দ্রঃ পাঠশেষে যাহারা এই অধম প্রণীত ‘বাঙালনামা’র আওতাভুক্ত নহেন বলিয়া মনে করিবেন, তাহারা অনুগ্রহপূর্বক নিজেদেরকে ‘বাঙাল’ বলিয়া দাবি করিবেন না। ইহাতে আমাদের সনাতন বাঙাল সমাজের সম্মান এবং সংহতি ক্ষুণ্ণ হইতে পারে।


লেখক একজন প্রবাসী বাঙাল, শিক্ষক ও সাবেক আমলা

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

ড. শরীফ আস্-সাবের

২০২১-০১-১৮ ১৯:১১:৫৯

আমার পরম শ্রদ্ধেয় পাঠককুলকে বিনম্র সালাম। আপনাদের মূল্যবান মতামত আমার প্রেরণার উৎস। এই দু:সহ করোনাকালে সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন সব সময়। বিনয়াবনত, শরীফ আস্-সাবের

গাজী মিজানুর রহমান

২০২১-০১-১৮ ১৮:৩১:৫৬

বাঙালনামার শেষে লেখকের পরিচয় ড. শরীফ আস-সাবের এর ‘বাঙালনামা’ পড়ে বেশ ভালো লাগলো । এ লেখায় বাঙালি সমাজের নেতিবাচক দিকগুলির প্রতি বিদ্রুপাত্মক দৃষ্টি নিক্ষেপ ক’রে লেখক হাস্যরসাত্মকভাবে তাকে উপস্থাপন করেছেন । রচনার ভেতরের বিদ্রুপ অসন্তোষের আত্ম-বিদ্রুপরূপে পৌঁছে গেছে লেখার শেষ প্রান্ত অবধি যেখানে লেখক একজন ‘প্রবাসী বাঙাল , শিক্ষক ও সাবেক আমলা’ বলে নিজের পরিচয় দিয়েছেন । সব পেশায় ভালোমন্দ , নিষ্প্রভ এবং উজ্জ্বল মানুষ আগেও ছিল এবং এখনো আছে । সেই বৃটিশ আমলের কুখ্যাত সময়ের আমলাতন্ত্রের সাথে কাজ করেছেন এমন মানুষদের অনেকের উজ্জ্বলতার কথা আমরা জানি । গবেষক এলান অক্টেভিয়ান হিউম এবং সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি ভারতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন । কর্মবীর নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস আমলার চাকরি দিয়ে জীবন শুরু করেছিলেন । ভিনসেন্ট আর্থার স্মিথ , মাউন্ট স্টুয়ার্ট এলফিনস্টোন এবং উইলিয়াম আরভাইন ভারতবর্ষের ইতিহাস লিখেছেন । এরা সবাই বৃটিশ আমলের আমলা । এর পরের কথা নাই-বা বললাম । কেবল সরকারের নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নকাজে সরকারকে সহায়তাদান নয় , দেশের নানা স্থানে কাজ করে বিচিত্র মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে আমলাতন্ত্রে । গবেষণাধর্মী এবং সমাজ-বিশ্লেষণধর্মী রচনার ক্ষেত্রে আমলাদেরকে মাঠ-পর্যায়ের অভিজ্ঞতা একটা বাড়তি সুযোগ দেয় । ‘বাঙালনামা’ রচনার লেখক নিজে শুধু যে একজন একাডেমিশিয়ান নন , সরকারের ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কাজের ক্ষেত্রে হাতে-কলমে তার অভিজ্ঞতা আছে , ‘সাবেক আমলা’ এ কথাটা যুক্ত হওয়ায় তা স্পষ্ট হয়েছে ও সেদিকে পাঠকের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে । উল্লেখ্য , অন্যন্য বিষয়ের সাথে মাঠ-পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার নানা বিষয় এখানে আলোচিত হয়েছে । এই আত্মপরিচয়ের মধ্যে ‘আমলা’ শব্দের প্রতি লেখকের দুর্বলতা আর পক্ষপাতিত্ব আছে বলে মনে হয় না । সত্যের উপর কোনো রঙ না দেয়াটাই সবসময় আকর্ষণীয় । আবার সত্যকে লুকালে নিজের সাথে প্রতারণা করা হয় । লেখক ড. শরীফ আস-সাবেরকে অভিনন্দন ।

কাজী হাবিবুল হোসেন

২০২১-০১-১৮ ০২:১৪:৪৯

কিছু জিনিস খুবই ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ। আপামর ভালো থাকতে চাওয়া মানুষকে নিয়ে আরো কিছু সত্য কথা লিখলে আরো সম্পূর্ণ মনে হত।

Rahima Akhter Kalpan

২০২১-০১-১৮ ১১:৪৪:৩১

''আমরা কখনো মিথ্যা বলি না, কারন মিথ্যাকে সত্যিতে পরিনত করিবার পদ্ধতি আমরা বেশ ভালো করিয়াই রপ্ত করিয়াছি। আমাদের এই জাতীয় সদাচরণ অপরের মনোবেদনার কারণ হইলে আমরা কীইবা করিতে পারি - নিজের কষ্টে আমাদের কষ্ট হইলেও অপরের অহেতুক কষ্টকে তো আমরা কষ্ট বলিয়া গণ্য করিতে পারি না!'' সমগ্র 'বাঙালনামা'টি পাঠ করিয়া আরও অধিক পাঠের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়া উঠিলো। আরো কতো কতো দিক উন্মোচনের অপেক্ষায় রহিয়াছে! উহাদের লিখিত অবয়ব দিন। রচনা খাসা হইয়াছে। আরও লিখুন। অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা রহিল।

s m shamsher zakaria

২০২১-০১-১৬ ১৮:১৪:০৮

Congratulations on a pure lifetime SATIRE, my dear দেশী !

আনিস উল হক

২০২১-০১-১৬ ০৩:১১:৩৪

কৈফিয়ত: জনাব মৃণাল কান্তি বিশ্বাস কে। আমলা শব্দটি এসেছে সম্ভবত আরবি ভাষা থেকে।।যার ইংরেজি প্রতিশব্দ বুরোক্রেট।এ শব্দটিও এসেছে ফরাসি BUREAU শব্দ থেকে।সেটিও সেখানে satire শব্দ হিসেবে প্রথম চালু হয়।আমাদের দেশে আমলাতন্ত্রের বিস্তার ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হতে সচিবালয়ের সচিব অবধি বিস্তৃত।আমরা যারা মফস্বলের মানুষ আমাদের বলাই বাহুল্য যে দেশের কনিষ্ঠ আমলা, মদ্ধ(য্ ফলা না আসায় বানানটি ভুল হোল ),জেষ্ঠ আমলা কারো দপ্তর বিষয়েই আমাদের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন করা, ভুমি অফিসে নামজারী করা,ডিসি অফিসে জমির খতিয়ান তোলা,সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে জমি কেনার দলিল করা,সেটেলমেন্ট অফিসে জমির খতিয়ান তৈরী করা বা আইন সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে কোন প্রতিকার চাইতে যাওয়া - এই বিষয়গুলোতে সাধারণ মানুষ যে অভিজ্ঞতার সম্মূখীন হয় তা আমরা পত্রিকার পাতা থেকে জানছি।অতীতেও কি আমলাতন্ত্র বিষয়ে জন অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল? আমলা বঙ্কিম চন্দ্রের অনেক রচনায় তা পাওয়া যায়।যা নেতিবাচক। ঈশ্বর চন্দ্র আদালতের চাকুরি পেয়ে করেননি।রাম মোহন তা ছেড়ে দিয়েছেন।হাল আমলের বাংলাদেশও পাওয়া যাবে যারা আমলার চাকুরী ছেড়ে দিয়েছেন।সেই ১৯২০ সালে পণ্ডিত জওহর লাল নেহেরু তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শনী কে সেই আইসিএস বিষয়ে জানাচ্ছেন- এই আইসিএস প্রজার দ্বারা নিযুক্ত নয়,তাদের কাছে এদের জবাবদিহিও নেই...এরা অত্তন্ত দুর্বিনীত কতৃত্বভাবাপন্ন--এদের দৃষ্টি ছিল সীমাবদ্ধ ও সংকীর্ণ; কাজেই এরা মনে করল যে এদের চেয়ে বিজ্ঞ লোক আর পৃথিবীতে নেই।এদের কাছে ভারতের কল্লাণ বলতে বোঝাত প্রধানত এদের নিজেদের চাকুরিরীর কল্লাণ।এই ছিল সেইই সিভিল সার্ভিস ( Glimpses of world history থেকে)আজকের বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিস কি এই চরিত্রের বাইরে আসতে পেরেছে। শিক্ষকগণও সুপথে নেই।তারাও নৈতিকতা বিবর্জিত হয়ে পড়েছে।যার নজির হোল নিম্নশিক্ষালয়ের শিক্ষকদের কোচিং বৃত্তি উচ্চ শিক্ষালয়ের শিক্ষকদের সাদা নীল গোলাপী ইত্যাদি রং প্রীতি দলবাজী লেজুর বৃত্তি। রাষ্ট্রকাঠামোর মূল আমলাতন্ত্রীয় অংশটি যদি সুপথে চলত তবে তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রের বাকী অংশ গুলোও নিয়ন্ত্রিত ভাবেই চলত।সার্বিক অর্থেই দেশে আমলা শব্দটি এখন একটি নেতিবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছ। আপনাকে ধন্যবাদ।

অন্তরা

২০২১-০১-১৫ ২২:৪০:২৬

না স্যার, বাঙাল এর চেয়ে অনেক বেশী খারাপ। ইদানিং ওদের আসল চেহারা আগের চে আরো হিংস্র ও বিভৎস হয়েছে। আপনি বাইরে থেকে তা মোটেই অনুধাবন করতে পারবেন না। সরি।

মিনার হোসেন

২০২১-০১-১৫ ০৭:১৪:০৬

মুজতবা আলী গৌর কিশোর ঘোষকেও ছাডিয়ে গেছেন মনে হচ্ছে। অসাধারণ!

Hasan Mahmud

২০২১-০১-১৫ ১৯:৩৭:০০

Excellent pragmatic satire. Writing such pleasant intellectual satire is much harder than writing love stories. Please write more and publish a book - Bangla satire-literature has been victim of chronic constipation since decades.

মৃনাল কান্তি বিশ্বাস

২০২১-০১-১৫ ০৬:২০:০১

জনাব আনিস উল হকের কাছে জানতে চাই, সব শিক্ষক কি শ্রদ্ধেয় আর সব আমলাই কি খারাপ?

আনিস উল হক

২০২১-০১-১৫ ০৫:৩২:১৯

পড়িয়া যারপরনাই আনন্দ পাইলাম।বহুদিন পুর্বে পঠিত দুইটি বইয়ের কথা মনে পড়িয়া গেল।বই দুইটি তে বাঙ্গালী চরিত্রের চমৎকার বর্ণনা রহিয়াছে।একটি হইল হুতোম প্যাঁচার নকশা ও অন্যটি হইল পালামৌ।যাহা হউক আরও আনন্দিত হইলাম আপনার বাঙাল শিক্ষক পরিচয়ের সাথে জ্বলজ্বলে ' সাবেক আমলা ' পরিচয়টা দেখিয়া। নিজ পরিচয় অংশে সন্মানিত ' শিক্ষক ' পরিচয়টি উল্লেখ করিবার পরও 'আমলা'পরিচয়টিও সগর্বে প্রকাশ করিয়াছেন।শিক্ষক না আমলা কোন পরিচয়টি দেওয়া উত্তম?সৈয়দ মুজতবা আলীর কথা মনে পড়িয়া গেল যে সেই পণ্ডিত এর পরিবারটির সন্মানের চাইতে সাহেবের ত্রিপদ সারমেয়টির সন্মান অধিক ছিল কি ন?

Shahan

২০২১-০১-১৫ ০৫:০৭:২১

পীত হইলাম, ধন্যবাদ।

Saiful

২০২১-০১-১৫ ০১:৪৯:২৫

খুব খুব মজা পাইলাম ভাই। তারপর আয়নায় নিজেরে দেখলাম। আমি মনে হয় ভেজাল বাঙাল। তার পরেও নিজেরে এখন খবিশ খবিশ লাগতাছে।

ঊর্মি

২০২১-০১-১৫ ১৩:২৫:৪৩

মীর জাফর, রায় দুর্লভ, রাজভল্লব, জগতশেঠ, উমিচাঁদ, আলিবর্দী খান, ঢাকার নবাবদের, বারোভুঁইয়াদের, ইত্যাদি কারো পারিবারিক ভাষা বাংলা ছিলনা আর এদের কেউই বাঙ্গালী ছিলেন না। আসলে প্রাচীণ বংগ এলাকাতে বহুজাতিক প্রাকৃতিকীকরণ প্রক্রীয়ায় সৃষ্ট মিশ্র গোষ্টিটি ক্রমে বাঙ্গালী জাতী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে। মুঘাল, পাঠান, শক, হুন, আর্য্য, দ্রাবিড়, গারো, লেপচা, ইত্যাদি জাতীর মত কোনো আদি জাতি বাঙ্গালী নয়

Ashil Biswas

২০২১-০১-১৪ ২২:৪৪:২৩

অনবদ্য লেখা....এতদিন কোথায় ছিলেন?

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০১-১৫ ১১:০২:০৫

মহাকাব্য বাঙালনামা! পড়া শেষে বুঝিতে পারিলাম ইহা তার "খন্ডিত অংশ"। কারন দম পুরাইলো না বাঙালনামা পুরাইয়া গেল। এই যে বালিশকান্ড, পর্দার বেসাতি, বইয়ের মূল্য বিভ্রাট, ব্যাংক লুন্ঠন, বিসমিল্লায় গলদ, হলমার্কের মার্কা মারা প্রতারনা,পিকে হালদারের শতসখীসনে লীলাখেলা, পুকুর বা খাল কাটা বা খিচুড়ি রান্না শিখিতে সরকারি আমলাকুলের বিদেশ ভ্রমনের ক্লেশ সহ্যকরার ত্যাগী অভিপ্রায় আরো কত কি অব্যক্ত থাকিয়া গেল। তাহাজ্জুদের সময়ে সিল মারার গল্পটি বাদ থাকায় যারপরনায় খুশি হইয়াছি কারন খানিক পরেই তো সুবহে সাদেক- আলোকোজ্জল প্রভাতের সুভসংবাদ।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

পর্যালোচনা

'বীরত্বসূচক পদক' বাতিল করা যায় না

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পরামর্শক সেবা বা কনসালটেন্সি

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত



হাজী সেলিমপুত্র ইরফানকাণ্ড

আল্লাহর মাইর, দুনিয়ার বাইর

ড্রাইভার মালেকের বালাখানা

দরজা আছে, দরজা নেই

আইন পেশায় বিরল এক মানুষ ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে বেতন নেননি, লড়েছেন দু'নেত্রীর মামলা নিয়ে

DMCA.com Protection Status