ক্যাপিটলে হামলার নিন্দা জানিয়ে জেনারেলদের বিবৃতি

হেলাল উদ্দীন রানা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে

অনলাইন (৪ দিন আগে) জানুয়ারি ১৩, ২০২১, বুধবার, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৬:২৬ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট স্টাফের চেয়ারম্যান এবং সকল বাহিনীর প্রধানরা এক যৌথ বিবৃতিতে গত ৬ জানুয়ারি মার্কিন আইনসভায় সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সামরিক বাহিনীর শীর্ষ জেনারেলদের এই বিবৃতি খুবই বিরল ঘটনা। তারা বিবৃতিতে বাহিনীর সদস্যদেরকে সকল চরমপন্থা প্রত্যাখ্যান ও সংবিধানকে রক্ষা এবং সমুন্নত রাখার আহবান জানান। প্রত্যেক রাজ্যের গুরত্বপূর্ণ স্হাপনা রক্ষায় ব্যাপক নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। সর্বত্র নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যে কোন পরিস্হিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী সক্রিয় করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তার অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এক পত্রে তিনি হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে একথা জানান। স্পিকার পেলোসি তাকে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানিয়েছিলেন।
এখন অভিশংসনের বিল নিয়ে বুধবার আলোচনা হবে কংগ্রেসে।
সিনেটের মেজরিটি লিডার মিচ ম্যাকণেল তার সহকর্মীদের বলেছেন, ট্রাম্প অভিশংসনের অপরাধ করেছেন। ম্যাকনেল মনে করেন ট্রাম্পকে ইমপিচ করা গেলে রিপাবলিকান পার্টি থেকে ট্রাম্প ও তার ট্রাম্প-ইজমের প্রভাব ঝেড়ে ফেলা যেতে পারে।
এদিকে, ক্ষমতার বাকি মেয়াদে ট্রাম্পের উপর নিষেধাজ্ঞা বা সেন্সরশিপ আরোপ করতে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। পেনসেলভেনিয়ার কংগ্রেস সদস্য ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক এটি উত্থাপন করেন। তারা ইমপিচমেন্টের বিকল্প হিসাবে এই প্রস্তাব আনলেন।
হাউসের প্রভাবশালী রিপাবলিকান কংগ্রেস উইমেন লিজ চেনি সহ অন্তত ৪জন রিপাবলিকান সদস্য ইমপিচের পক্ষে ভোট দিবেন বলে প্রকাশ্য ঘোষণা  দিয়েছেন। ইমপিচমেন্টের পক্ষে সমর্থন বাড়ছে। তবে অনেক রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্পের সমালোচনা করলেও ইমপিচের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে, জয়েন্ট স্টাফের চেয়ারম্যন মার্ক মিলি, এয়ারফোর্স প্রধান জন হিতেন, আর্মি জেনারেল জেমস ম্যাকনভিল, মেরিন কোরের জেনারেল ডেভিড বার্গার, নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল মাইকেল গিলডে, এয়ারফোর্স জেনারেল জন চার্লস ব্রাউন জুনিয়র, স্পেইস ফোর্স প্রধান জেনারেল জন রেমন্ড ও ন্যাশনাল গার্ড প্রধান জেনারেল
ড্যানিয়েল হকারসন এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। বিবৃতে বলা হয়, মিলিটারি সদস্যরা সংবিধানকে রক্ষা করেই কাজ করবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সকল আইনানুগ নির্দেশ পালনে তারা সব সময় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমেরিকার জনগনের জানমাল রক্ষা করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
অপরদিকে, এফবিআই ক্যাপিটল হিলে সন্ত্রাসী ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ক্রিমিন্যাল মামলা দায়ের করেছে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আরো শত শত মামলা দায়ের হতে পারে। এফবিআই-এর এজেন্ট ও ফিল্ড অফিসাররা দেশব্যাপি অপরাধীদের খোঁজে চিরুনি অভিযান শুরু করেছেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতকিছুর পরও নির্বিকার। মঙ্গলবার টেক্সাসে তার নির্মিত বডারওয়াল
পরিদর্শনে যাবার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি শান্তিপ্রিয় মানুষ। ট্রাম্প বলেন, সহিংসতার বিরুদ্ধে তিনি চমৎকার বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সংবিধানের ২৫তম
সংশোধনিকে তার জন্য কোন ঝুঁকি মনে করছেন না। তার মাঝে কোন প্রকার অনুশোচনার চাপ বা পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Shahab

২০২১-০১-১৩ ০৩:৪৬:০৯

We are successful of our mission, our model export to America for trump...wow.

মামুন

২০২১-০১-১৩ ১১:৪৭:৪৮

আমেরিকা এখন আমাদেরকে ফলো করে। এটা আমাদের অহংকার।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status