কেন রাজধানীতে জরুরী অবস্থা জারি করলেন ট্রাম্প?

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (২ সপ্তাহ আগে) জানুয়ারি ১৩, ২০২১, বুধবার, ৯:৫২ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪০ অপরাহ্ন

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে দেশটির আইনসভা ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকরা হামলা চালানোর পর জরুরি অবস্থা জারির আহ্বান জানান ওয়াশিংটনের মেয়র।
ক্যাপিটল হিলের ওই হামলার পর থেকেই ওয়াশিংটনজুড়ে সহিংসতার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায় স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করতে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউজার জরুরি অবস্থা জারি করতে ট্রাম্পকে এক চিঠিতে এমন নির্দেশনা জারির আহ্বান জানান। তার আহ্বানেই সাড়া দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুসারে, ২৪শে জানুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সংস্থাগুলোকে সহায়তা করতে পারবে ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফইএমএ)। বিশেষ করে, এই সময়ের মধ্যে জরুরি অবস্থার প্রভাব প্রশমন করতে এফইএমএ কর্তৃপক্ষ তাদের এখতিয়ারে থাকা সরঞ্জাম ও সম্পদ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারবে।

জরুরি অবস্থা কী?
কোথাও জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে ওই এলাকায় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। জরুরি অবস্থা বেশ কয়েকটি কারণে ঘোষণা করা হতে পারে। যেমন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে চলমান করোনা ভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণের জন্য।
আবার নাগরিক বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণেও।

জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার মানে
কোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে সরকার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে জাতীয় পর্যায়েও জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। এমনটা হলে, দেশজুড়ে ৫০০ ফেডারেল আইন কার্যকর হবে। আবার রাজ্যের গভর্নর ও মেয়ররাও তাদের শাসনাধীন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন।
একেক দেশে জরুরি অবস্থা জারির প্রভাব একেক রকম। নানা কারণেই বিশেষ এ নির্দেশনা জারি করা হতে পারে: পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের কাজ করতে বাধ্য করার জন্য; দক্ষ নাগরিকদের জরুরি ব্যবস্থাপনার কাজে লাগানোর জন্য; জরুরি ব্যবস্থাপনার সহায়ক সরঞ্জাম ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য; আক্রান্ত অঞ্চলের মানুষজনের কাছে পণ্য ও সম্পদ বিতরণের জন্য; পণ্য ও সেবার মূল্য নির্ধারণের জন্য, যাতে মূল্য বৃদ্ধি না হয়; আক্রান্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের উপর কারফিউ জারির জন্য; কোনো স্থানে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা বা সীমিত করার জন্য; জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের জন্য; পরোয়ানা ছাড়াই কোনো ভবনে প্রবেশের জন্য; কোনো এলাকা থেকে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য।

জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ কবে?
আগামী ২০শে জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন গত নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।
গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেস তার জয় চূড়ান্ত করার দিন অধিবেশন চলাকালীন সময়ে ট্রাম্পের এক ভাষণে উদ্ধুদ্ধ হয়ে ক্যাপিটলে হামলা চালায় তার সমর্থকরা। ওই হামলার পর থেকে বাইডেনের শপথ গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পরিকল্পনা শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
ইতিমধ্যে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শুরু করেছে। এছাড়া, শপথ গ্রহণের দিন রাজধানীতে ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে ডিসি ন্যাশনাল গার্ডের।

(দ্য সান থেকে অনূদিত)

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২১-০১-১৩ ০১:২৩:২৯

চক্রান্ত আছে । বিগত চার বছরে একটি দিন ও আমি তাকে বিশ্বাস করিনি । সন্ত্রাসির মত আচরণ গদিতে বসার শুরু থেকেই।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

করোনার নতুন লক্ষণ!

২৭ জানুয়ারি ২০২১

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর শোক

আই অ্যাম ডিপলি সরি

২৭ জানুয়ারি ২০২১

বৃটেনে এক বাংলাদেশির ছলনা!

২৭ জানুয়ারি ২০২১

কি কথা কানে-কানে!

২৭ জানুয়ারি ২০২১



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status