মিজান, এমন তো কথা ছিল না

মতিউর রহমান চৌধুরী

প্রথম পাতা ১৩ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

সবাইকে হতবাক করে দিয়ে মিজান চলে গেল। এখন সংসার তাকে ডাকবে না। ছেলেমেয়েরা জানাবে না কোনো আবদার। অফিস থেকে ফোন আসবে না। বলবে না, এই বিষয়ে লিখতে হবে। সতীর্থরা  প্রশংসা করে বলবে না, ‘তুই আমাদের গর্ব’। বন্ধুরা বলবে না, চল মিজান ঘুরে আসি। আদালত পাড়ায় তার লেখা নিয়ে কাড়াকাড়ি হবে না।
সমালোচকরা বলবেন না, মিজান কাউকে ছাড়ে না। মুক্তিযুদ্ধের গবেষকরা কি বলবেন? আমাদের যে বড় ক্ষতি হয়ে গেল। মুক্ত চিন্তার মানুষেরা বলবেন, দুর্ভাগ্য! ওকে ধরে রাখা গেল না। টকশো আয়োজনকারীরা তাকে ক্রমাগত ফোন দেবেন না। বলবেন না, প্লিজ! আমাদের শোতে আসুন। মিজান আর বলবে না দুঃখিত, অনুমতি নেই। আমি কি বলবো? আমি যে কিছুই বলতে পারছি না। আমার তো অনেক বলার ছিল। ২৮টা বছর এক সঙ্গে থাকলাম। অন্য পত্রিকায় চলে গেলেও এক মুহূর্তের জন্য ভাবিনি মিজান আমার সঙ্গে নেই। একবারও কথা হয়নি এমন দিন খুবই কম ছিল। এমনকি বিদেশে থাকলেও। ২৮ বছর আগের এক সকাল। অফিসে ঢোকার পর একটা স্লিপ পেলাম।  দেখা করতে চাই। আমি তখন বাংলাবাজার পত্রিকার সম্পাদক। গ্রীন রোডে আমাদের নিজেদের বাড়িতে অফিস। একজন অফিস সহকারীকে বললাম, আসতে বলো। শুরুতেই পরিচিত হওয়ার পর সরাসরি কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করলেন এই যুবক। দশ মিনিট কথা বলে মনে হলো, ওকে দিয়ে রিপোর্টিং হতে পারে। বললাম, ঠিক আছে। তবে এখনই চটজলদি একটা রিপোর্ট লিখে দেবেন। শুরু থেকে আপনি। শেষদিন পর্যন্ত আমি কোনোদিন তাকে তুমি বলে ডাকতে পারিনি। রিপোর্ট হাতে পেয়ে আমার ধারণা পাল্টে গেল। বললাম, চমৎকার। কালই কাজে যোগ দিতে পারেন। এরপর থেকে তো মিজান অপরিহার্য। অনুবাদেও পাকা। এরও একটি ইতিহাস আছে। একদিন রয়টার্সের একটি রিপোর্ট ধরিয়ে দিয়ে বললাম, এটা অনুবাদ করা কি সম্ভব? দেখি চেষ্টা করে। কিছু সময় পরে বার্তা সম্পাদক এসে বললেন, ছেলেটা ভালোই অনুবাদ করেছে। তাই নাকি! তাহলে কি তাকে ডেস্কে দেব? কিন্তু আমার মনে হলো- ও রিপোর্টিংয়ে ভালো করবে। আখেরে দেখা গেল, সে দেশের একজন সেরা রিপোর্টার হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গেল অল্পদিনের মধ্যেই। আসলে মিজান একজন সাচ্চা সাংবাদিক। ওর মধ্যে কোনো ভেজাল নেই। দলীয় তকমাবিহীন এই সাংবাদিককে নিয়ে হাজার পৃষ্ঠা লেখা যায়। ওর  সম্পর্কে এমন কিছু নেই, যা আমি জানি না। বিশ্বাস করুন, ওকে নিয়ে কি লিখবো বুঝতেই পারছি না। মিজানুর রহমান খান বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের এক বিস্ময়। এত অল্প সময়ে বড় কোনো পদে না থেকেও মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন তা বোধকরি আর কেউ পাননি। একটাই কারণ, তার মতো সাহসী আর নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকের সংখ্যা খুবই কম।  সমকাল  সম্পাদক সারওয়ার ভাই আজ বেঁচে নেই। প্রেস ক্লাবের এক আড্ডায় তিনি বলেছিলেন- মতি, আমাদের বরিশালের এই ছেলেটাকে কীভাবে আবিষ্কার করলেন? প্রয়াত মূসা ভাই বলতেন, মিজান যেকোনো সংবাদমাধ্যমের জন্য এক বড় সম্পদ। প্রথম আলো সম্পাদক মতি ভাইও তার লাশের সামনে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে বলেছেন, তার মৃত্যুতে পত্রিকার বড় ক্ষতি হলো। সত্যিই তাই। ঢাকায় একটা ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টও নেই তার। ভাবা যায়! তার মতো একজন সাংবাদিকের কোনো অ্যাপার্টমেন্ট নেই। সরকারি জমি বরাদ্দের তালিকায়ও তার নাম ওঠেনি কখনো। এটা কি দলভুক্ত না হওয়ার শাস্তি? এই মহামারির মধ্যে ছ’মাস আগে একটা পুরনো অ্যাপার্টমেন্ট অল্প দামে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কেনার ব্যাপারে আগ্রহী হয়েছিল মিজান। আমি নিজেই যুক্ত ছিলাম এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে। বেশ কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর এই প্রক্রিয়া মাঝপথে থেমে যায়। আরও অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে। টাকার অভাবে ছেলেটা ইংল্যান্ডে বার এট ল’ করতেও যেতে পারেনি।

হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে মিজান। খবরটি আসার পর একটি লিখা লিখলাম। ওর এবং পীর হাবিবের সুস্থতা চেয়ে। খবরটি প্রকাশের পর ঢাকার একটি বড় শিল্পগোষ্ঠী প্রস্তাব পাঠালো, মিজানের চিকিৎসার সব খরচ বহন করতে চায় তারা। দেশে বড় কোনো হাসপাতালে কিংবা বিদেশে। পরিবারের সঙ্গে যেহেতু আমি কোনো না কোনোভাবে যুক্ত তখন খবরটা আমার কাছে এলো। আমি শুধু বলেছিলাম, এটা নির্ভর করছে প্রথম আলোর ওপর। এটা আর এগোয়নি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেডে শুয়েও মিজান হোয়াটসঅ্যাপে  বার্তা পাঠিয়েছিল- ভালো আছি, শরীর দুর্বল লাগছে। এরপর অন্য হাসপাতালে। নিয়মিত খবর পেতাম। ওর ছোট ভাই মশিউর খবর দিতো সকাল-বিকাল। মশিউরও আমার সহকর্মী ছিল। মানবজমিনে কাজ করেছে। এখন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক। সোমবার দুপুরে মিজানের স্ত্রী’র ফোন পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লাম। একপ্রান্তে আমি কাঁদছি, অন্যপ্রান্তে মিজানের স্ত্রী। এক মিনিট কথা বলেই মেয়ের হাতে ফোন দিয়ে বললেন, এটা ওর কাছ থেকে শুনুন। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েটি সেও কথা বলতে পারলো না। সন্ধ্যায় যখন খবর এলো- মিজান আর নেই, তখন নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছিলো। একদিনও হাসপাতালে যেতে পারলাম না। বাসায় তার পরিবারের সঙ্গেও দেখা হলো না। সর্বনাশা করোনা যে আমাকে ঘরবন্দি করে রেখেছে। নিউ ইয়র্কের ওয়েল কর্নেল হাসপাতালের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘরে বন্দি আছি প্রায় দশ মাস। তাদের ভাষায়, আমি নাকি সেনসিটিভ রোগী। ওই হাসপাতালেই আমার ওপেন হার্ট হয়েছিল। অফিস সহকর্মীদের সঙ্গেও দেখা হয় না। বাড়িতে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাগজ চালাই। কী দুর্ভাগ্য দেখেন, আমি যখন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি তখন আমার দু’ব্যাগ রক্তের দরকার ছিল। অফিসের দু’জন সহকর্মী রক্ত দিলেন। মিজান হাসপাতালে পৌঁছেই আমার স্ত্রীকে বললো, আমিও রক্ত দিতে চাই। আমার শরীরের সব রক্ত। ভাগ্যের কী ফের দেখেন, মিজানই আগে চলে গেল। মিজান আমাকে ক্ষমা করবেন প্লিজ। মিজান একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক হওয়ার  প্রস্তাব পেয়েছিল। একজন স্বনামখ্যাত ব্যবসায়ী প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন।  কিন্তু কোথায় যেন গোলমাল হয়ে গেল। সে প্রস্তাব আর বাস্তবায়িত হয়নি। কতো পরিকল্পনা ছিল ওর সঙ্গে। দু’জনে মিলে একটা বই লিখবো। বাংলাদেশের রাজনীতি ও সাংবিধানিক সংকট নিয়ে। আমি লিখবো রাজনীতি। আর সে লিখবে সাংবিধানিক সংকট। সেটারও মৃত্যু হয়ে গেল। এভাবেই থেমে যায়। অনেক ইচ্ছের মৃত্যু হয়। পারিবারিক আড্ডাও মিস করবো। ঈদে আমাদের বাসায় বড় একটা আড্ডা হয়। মিজান পরিবার নিয়ে আসে। সে আড্ডায় মিজান থাকবে না। থাকবে শুধু মিজানের স্মৃতি। মিজান কি ছিল? এক কথায় বলতে গেলে, মিজান ছিল সাংবাদিকতার জাদুকর। শুধু আইনি সাংবাদিকতার বাতিঘর নয়। আমি তাকে চিনেছি একজন অলরাউন্ডার হিসেবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

এম এ মুনতাকিম

২০২১-০১-১৫ ১৪:৫৮:২৯

আপনার লিখা পড়ে খুবই আফসোস হচ্ছে আমরা দোয়া করছি মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে বেহেশতের সর্বোচ্চ স্হানে অধীষ্টিত করুণ আমিন

রায়হান আহমদ চৌধুরী

২০২১-০১-১৪ ২২:১৩:০৮

এক অসাধারণ ব্যাক্তিত্বের প্রয়াণ। এমন নির্লোভ, নিরহংকারী, নিরপেক্ষ ও সাদা মনের মহাপ্রাণ পৃথিবীতে কমই আসে। উনাকে খুব কাছেথেকে দেখার সৌভাগ্য আমারও হয়েছিল বিভিন্ন সময়ে। মতিভাই, আপনিও অসাধারণ। আপনার লেখা পড়ে আপ্লুত হলাম। আস্থা, বিশ্বাস ও ভালবাসার কী অনন্য সুন্দর প্রকাশ। দীর্ঘজীবী হোন সার্বিক সুস্থতা নিয়ে।

উবায়দুল্লাহ বাদল

২০২১-০১-১৫ ০০:৩৭:৩৭

বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের নক্ষত্রগুলো দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে! একেকজন এবিএম মুসা, গোলাম সারওয়ার, গিযাস কামাল চৌধুরী, আতাউস সামাদ ও মিজানুর রহমান খানেরা এক দিনেই হন না। শত বছরে একবারই আসেন। তাদের অভাব কখন্কেই পুরণ হবার নয়। তাদের যোগ্য উত্তরসূরির বড়ই অভাব। আমাদের সেই সব নক্ষত্র অভিভাবকদের মদ্যে আপনিও অন্যতম একজন মতিভাই। আপনিও ভাল থাকুন। শুভ কামনা .........

আলম রবি

২০২১-০১-১৩ ০৭:৪৫:২২

মিজানুর রহমান খান এর শুন্যতা পূরনের নয়। চামচাদের ভিরে আর একজন মিজান হতে হয়তো কয়েক যুগ লাগবে। আমরা সাধারণ জনগণ প্রতিদিন মিজান কে মিস করবো। আর তার পুনঃজন্মের জন্য অপেক্ষা করব। আল্লাহ এই সৎ ভালো অসাধারণ মানুষটি কে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।

রিমন রহমান

২০২১-০১-১৩ ০৪:৪৭:৩৮

মৃত্য অনিবার্য। তবে কোন কোন মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি, ক্ষতের সৃষ্টি করে। তবুও মেনে নিতে হয়। মতিভাই আপনি ভালো থাকবেন।

Nabil Nizam

২০২১-০১-১৩ ১৩:৫২:১২

বিশিষ্ট সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে গণমাধ্যমের জন্য বিশাল ক্ষতি হয়ে গেল। সমকালীন সময়ে শিক্ষিত ,পড়াশুনা জানা সাংবাদিকের বড়ই অভাব। তেলবাজ আর চামচাদের এ যুগে মিজান ভাই যেভাবে নিরপেক্ষ এবং সাহসের সঙ্গে যে কোন বিষয়ে বিশ্লেষণ করতেন তা এক কথায় অসাধারণ। বিশেষ করে আইনের মত একটি জটিল বিষয় তিনি অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করেন যা খুবই অতুলনীয়। গণমাধ্যমের জন্য তিনি ছিলেন একটা বড় সম্পদ। মতি ভাই আপনার লেখাটি অনেক ভাল লাগল। ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন। ১৩.০১.২১

মাহবুবুর রহমান শিশির

২০২১-০১-১৩ ১২:০৭:৩৪

তিনি দলকানা ছিলেন না। কোনো পক্ষ নিয়ে অনেকের মত নির্লজ্জ দলবাজিও করতেন না। সত্যিকার খাঁটি একজন মানুষ যিনি সত্য আর নিরপেক্ষতাকেই সবসময় ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। সহজ-সরল, সদা হাসি মুখের এক অসম সাহসী প্রোফাইল... সত্যিই অতুলনীয়! দুর্ভাগ্য, তাঁকে ধরে রাখা গেল না। মহান আল্লাহ তাঁকে চির শান্তিতে রাখুন। আমিন।

মোঃ আসলাম হোসেন

২০২১-০১-১৩ ১১:৫৯:৩৮

খুবই আবেগময় লেখা, পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না, গড়িয়ে পড়ে গেল। ওনার টক শোর আলোচনা আমি শুনতাম। ভাল লাগত। আমার জ্ঞান সীমিত তাই কিছুই লিখতে পারলাম না। তবে ভাল মানুষরা বেশি দিন দুনিয়ায় থাকেন না। আল্লাহ্‌ তাঁর কাছে নিয়ে যান।

রবিউল আলম লিটন

২০২১-০১-১২ ২০:৫০:৩৯

আল্লাহ যেন উনাকে বেহেস্ত দান করেন।

ম নাছিরউদ্দীন শাহ

২০২১-০১-১২ ২০:০৮:০৫

পৃথিবী বড়ই নিষ্ঠুর নিজের অজান্তেই চুখের কোনে পানি এলো। নির্লোভ সৎ সাংবাদিকতার বাতিঘর মিজানুর রহমান খান চলে গেলেন বাংলাদেশের সৎ নিরাপেক্ষ সাহসিকতার কলম সৈনিকের মৃত্যু আমাদের খতি হলো। আল্লাহর দরবার দোয়া প্রার্থনা জনাব মিজানুর রহমান খান কে আল্লাহ্ যেন জান্নাতুল ফেরদৌসের মর্যাদাবান পবিত্র স্থান দান করুন। আমিন আমিন। আপনি মতিভাই সৎ সাংবাদিকতার বাতিঘর আপনাদের মাঝে মিজানুর রহমান খানরা বেচে থাকবে যুগের পর যুগ শতাব্দীর পর শতাব্দী। আপনার মুল‍্যবান লিখার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আবুল কাসেম

২০২১-০১-১২ ১৯:১৮:৩১

বাংলাদেশের প্রথিতযশা একজন সংবাদকর্মী মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজে, রাজনৈতিক অঙনে এবং পাঠক সমাজেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমি একজন পাঠক হিসেবে প্রথম আলো- তে তাঁর লেখা পড়ে মনের খোরাক পেয়েছি। মুগ্ধ হয়েছি তাঁর চিন্তাশীল বিশ্লেষণধর্মী লেখা পড়ে। লেখার বিষয় বস্তুর গভীরে চলে যেতেন তিনি। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। অনেক সময় বন্ধুত্বের, সহ কর্মীর ও লেখকের সাথে পাঠকের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্ককে উতরে যায়। প্রিয়জনের বিচ্ছেদের যন্ত্রণা বড়োই কঠিন। এ যন্ত্রণা বুকের ভেতরটা এমনভাবে দুমড়ে মুচড়ে দেয় এর সবটুকু অভিব্যক্তি মুখে প্রকাশ করা অসম্ভব। তবুও আমরা প্রিয়জনের বিচ্ছেদে শোকগাথা প্রকাশ করি। এতে ক্ষণিকের তরে বুকটা হয়তো কিছুটা হালকা হয়। কিন্তু, বুকের ভেতরের ক্ষতটা যেমন সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে তুলতে পারা যায় না, তেমনি বুকের ভেতরের যন্ত্রণাটাও পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায় না। বিচ্ছেদের স্মৃতি আজীবন তাড়া করে। যন্ত্রণার বহু স্মৃতির সঙ্গী হয়েই আমাদের পথ চলতে হয়। সবাইকে কাঁদিয়ে মিজানুর রহমান খানের চলে যাওয়ার অভিব্যক্তি বিভিন্ন জন যাঁর যাঁর ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। মতিউর রহমান চৌধুরী মিজানুর রহমান খানের সাথে তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেদনা বিদুর মনে প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছেন, 'মিজান, এমন তো কথা ছিল না!' প্রতিবেদনের উপসংহারে তিনি মিজানুর রহমান খানকে বিশেষায়িত করেছেন এভাবে, 'মিজান কি ছিল? এক কথায় বলতে গেলে, মিজান ছিল সাংবাদিকতার জাদুকর। শুধু আইনি সাংবাদিকতার বাতিঘর নয়। আমি তাকে চিনেছি একজন অলরাউন্ডার হিসেবে।' ফরহাদ মজহার বলেছেন, 'এভাবে চলে যাওয়ায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি।' মঞ্জরুল আহসান বুলবুল বলেছেন, 'মেনে নেয়া কঠিন।' নূরুল কবীর বলেছেন, 'সাংবাদিকতা মিজানুর রহমান খানকে বাঁচিয়ে রাখবে।' আসিফ নজরুল বলেছেন, 'এমন ভালোবাসায় মৃত্যু হয় কতো বড়ো মানুষের।' শামীমুল হক বলেছেন, 'ওপারেও এমন হাসিখুশি থাকুন মিজান ভাই।' সাঈদ চৌধুরী লিখেছেন, "মিজানুর রহমান খান আমার কাছে বৃটিশ মূলধারার সাংবাদিকদের মতো মনে হতো। আমি বলতাম, বাংলাদেশের রবার্ট ফিস্ক। পশ্চিমা বিশ্বের ঝানু সংবাদিক রবার্ট ফিস্ক ছিলেন আমার একজন অনুপ্রেরণা।" সকলের কথায় মমতার নিবিড় একটা বন্ধনের সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। মিজানুর রহমান খান ছিলেন সদা হাস্যেজ্জ্বল। এই প্রতিবেদনের সাথে সংযুক্ত ছবিটার দিকে তাকিয়ে মনটা সত্যিই ভরে গেছে। এমন নির্মল বিনয়ী হাসি ক'জন হাসতে পারে! ওপারেও এমন হাসিখুশি থাকতে বলেছেন শামীমুল হক। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা হয়ে হাসিখুশি থাকতে দিন। এটাই আমাদের প্রার্থনা। কিন্তু কথা হলো, আমরাও তো এ নশ্বর জগতে চিরকাল থাকতে পারবো না। আমরা যখন এ জগত ছেড়ে চলে যাবো, আমরাও কি হাসিখুশি থাকতে পারবো? জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা হতে পারবো? এ জগতে আমাদের কর্মফলই বলে দেবে আমরা পরপারে হাসিখুশি থাকতে পারবো কি পারবোনা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন এজন্য যে, তিনি দেখতে চান কর্মের দিক থেকে কে কতোটা উত্তম। পবিত্র কুরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আমি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছি, কাজের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। আর তিনি পরাক্রমশালী এবং ক্ষমাশীল।" সূরা আল মুলক্ঃ২। সুতরাং, আল্লাহ তায়ালার দরবারে একটাই প্রার্থনা, তিনি যেনো আমাদের এ জীবনের কাজ কর্মগুলোকে পরকালে জান্নাতুল ফেরদৌস পাওয়ার এবং হাসিখুশি থাকার উপযোগী করে দেন। আমরা যেনো চলতে পারি সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে। আমিন।।

আনিস উল হক

২০২১-০১-১২ ১২:১৮:০২

মৃতূ পরবর্তী জীবন শুধুই বিশ্বাস কিন্তু বাস্তবতা হোল মিজান আর নেই।সংবিধানের বিধান গুলোকে সাধারণ মানুষকে সহজ বোধগম্য ভাষায় বুঝানোর মতো আপাতত আর কেউ রইল না দেশ।মিজানের প্রতি শ্রদ্ধা রইল।

দীন ইসলাম

২০২১-০১-১২ ১১:৩৪:০১

অনেক ইমোশনাল লেখা। আমি জানি কাছ থেকে দেখেছি, মিজান ভাইয়ের সাথে আপনার সম্পর্কটা কেমন ছিল মতি ভাই। আপনি অনেক ভাল থাকুন।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

নারী দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

অধিকার আদায় করে নিতে হবে

৯ মার্চ ২০২১

মুক্তির মেয়াদ বাড়লেও বিদেশ যেতে পারবেন না

৯ মার্চ ২০২১

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ডের কার্যকারিতা আরো ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মতিসূচক মতামত ...

আক্রান্ত সাড়ে ৫ লাখ, ৮৪৬২ জনের মৃত্যু

মহামারির এক বছর

৮ মার্চ ২০২১

বিশ্ব নারী দিবস আজ

এসিডদগ্ধ এক নারীর লড়াইয়ের গল্প

৮ মার্চ ২০২১

জিয়া কি ফোন করেছিলেন? তাহের নিজেই হয়তো গুল মাইরা দিছে

৮ মার্চ ২০২১

তাহের কিন্তু ফেঁসেছেন জেলখানায় দেয়া তার স্টেটমেন্টের কারণে। তখন তারা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি, আওয়ামী ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



ট্রানজিট পয়েন্ট টেকনাফ

ভয়ঙ্কর মাদক ‘ক্রিস্টাল আইস’

সতর্কতার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

করোনার ঝুঁকি কমেনি

DMCA.com Protection Status